সংবাদ শিরোনাম ::
আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুজনকে গুলি করে হত্যা ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিজয় নগরে ১২২ কেজি গাজা সহ গ্রেপ্তারে ১জন চুয়াডাঙ্গা গার্লস স্কুলে প্রশ্ন ফাঁসের তদন্তের মাঝপথে ভর্তি জালিয়াতি, স্বাক্ষর জালসহ নানা অপকর্মের হোতা অফিস সহায়ক আটক রাজাপুরে খাল থেকে উদ্ধার মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করল সিআইডি বরিশালে হাফেজ শিক্ষার্থীদের স্পোকেন ইংলিশ কোর্স সম্পন্নের পর সনদ ও বই বিতরণ ঘোড়াঘাটের কোটি টাকার রানীগঞ্জ হাটসহ প্রতিটি হাটে সড়কের ওপর দোকান! বাবুগঞ্জে ভি-ডব্লিউ-বি কর্মসূচির চাল বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন ঘোড়াঘাটে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ যুবদলের ৫ শতাধিক তাল বীজ রোপন ঘোড়াঘাটে ৪ পদজয়ী ও বৃত্তিপ্রাপ্ত ৫২ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা বিরামপুরে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে র‍্যালী ও আলোচনা সভা‎‎ অনুষ্ঠিত

বানারীপাড়ায় ইউপি সদস্যের নেতৃত্বে মসজিদের ইমামকে এক ব্যক্তির পা ধরিয়ে ক্ষমা চাওয়ানোর প্রতিবাদে মুসল্লীদের বিক্ষোভ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৫২:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২০ ১৭৮ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাহাদ সুমন,বিশেষ প্রতিনিধি॥
বানারীপাড়ায় গাভা পেশকার বাড়ি জামে মসজিদের ইমামকে স্থানীয় ইউপি সদস্যের
নেতৃত্বে এক ব্যক্তির পা ধরিয়ে অসম্মানিত করায় মুসল্লী ও এলাকাবাসীর মাঝে
চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ন্যাক্কারজনক এ ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার বিকালে
মসজিদ এলাকায় মুসল্লী ও এলাকার সর্বস্তরের মানুষ বিক্ষোভ প্রদর্শণ করে
ইউপি সদস্য আমির হোসেন সহ ইমামকে অসমান্মিত করার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির
দাবী জানিয়েছেন। ওই বিক্ষোভে মুসল্লীদের পরিবারের নারী সদস্যরাও অংশ নেন।
পরে সন্ধ্যায় তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ আব্দুল্লাহ সাদীদের
বাসায় গিয়ে বিষয়টি তার কাছে জানিয়ে এর বিচার দাবী করেন। উপজেলার সদর
ইউনিয়নের গাভা পেসকার বাড়ি জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ মোহাম্মদ ইসমাইল
জানান ওই এলাকার জামাল মুন্সী সম্প্রতি তার স্ত্রীকে মৌখিকভাবে তিন তালাক
দিয়ে আজ থেকে তুই আমার মা বলে সম্মোধন করেন। কিন্তু পরে আবার সেই
স্ত্রীকে নিয়ে সে ঘর করছেন। বিষয়টি জেনে মসজিদের মুসল্লীরা এ বিষয়ে
শর্ষিনা পীরের বাড়ি থেকে জেনে আসেন তালাক দেওয়া স্ত্রীকে নিয়ে ঘর করা
ইসলামী শরিয়ত সম্মত নয়। এছাড়া জামাল মুন্সী বাড়ি বাড়ি গিয়ে মসজিদের মাসিক
চাঁদা ও মুষ্টির চাল সংগ্রহ করে সঠিক হিসাব দিতেন না। এসব বিষয়ে মসজিদ
কমিটি ও মুসল্লীরা আপত্তি করলে সে মসজিদে আসা বন্ধ করে দেয়। এনিয়ে জামাল
মুন্সী মসজিদের ইমামকে দোষারোপ করে তার ওপর ক্ষুদ্ধ হয়ে তাকে নাজেহাল
করার অপতৎপরতায় লিপ্ত হন এবং তাকে পথেঘাটে গালাগাল করেন। রোববার জামাল
মুন্সী এলাকায় প্রচার করেন মসজিদের ইমাম তাকে পাঠার পো বলে গালমন্দ
করেছেন।এর জের ধরে রোববার বাদ এশা ইমাম হাফেজ মোহাম্মদ ইসমাইলকে মসজিদ
সংলগ্ন সৈয়দ সিকদারের চায়ের দোকান থেকে স্থানীয় ইউপি সদস্য আমির হোসেনের
নেতৃত্বে বিএনপি নেতা বাবুল হাওলাদার,শহিদ সিকদার,সোবাহান মোল্লা,মতিউর
রহমান,নুরুজ্জামান,হারুণ ঢালী,রফিকুল ইসলাম মাহারুন ঢালী ও ইমাম হোসেন সহ
বেশ কয়েকজন ডেকে নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে জামাল মুন্সীর পা ধরে মাফ চাইতে
বাধ্য করেন। অপমান ও লাঞ্চনায় মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়া ইমাম হাফেজ
মোহাম্মদ ইসমাইল বিষয়টি তার পরিবার ও মসজিদ কমিটির নেতৃবৃন্দকে জানান।
বিষয়টি জেনে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন মুসল্লী ও এলাকার সর্বস্তরের মানুষ। এ
প্রসঙ্গে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য আমির হোসেন জানান জামাল মুন্সীকে পাঠার পো
বলায় অর্ধশত লোকের উপস্থিতিতে শালিস বৈঠকে ইমামকে তার পা ধরিয়ে নয় হাত
ধরিয়ে মাফ চাওয়ানো হয়েছে। এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ
আব্দুল্লাহ সাদীদ জানান এলাকার বিক্ষুদ্ধ মুসল্লীদের কাছ থেকে বিষয়টি
জেনে ওই এলাকার ইউপি চেয়ারম্যান আ.জলিল ঘরামীকে এ বিষয়ে সরেজমিন তদন্ত
করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। ###

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বানারীপাড়ায় ইউপি সদস্যের নেতৃত্বে মসজিদের ইমামকে এক ব্যক্তির পা ধরিয়ে ক্ষমা চাওয়ানোর প্রতিবাদে মুসল্লীদের বিক্ষোভ

আপডেট সময় : ০৪:৫২:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২০

রাহাদ সুমন,বিশেষ প্রতিনিধি॥
বানারীপাড়ায় গাভা পেশকার বাড়ি জামে মসজিদের ইমামকে স্থানীয় ইউপি সদস্যের
নেতৃত্বে এক ব্যক্তির পা ধরিয়ে অসম্মানিত করায় মুসল্লী ও এলাকাবাসীর মাঝে
চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ন্যাক্কারজনক এ ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার বিকালে
মসজিদ এলাকায় মুসল্লী ও এলাকার সর্বস্তরের মানুষ বিক্ষোভ প্রদর্শণ করে
ইউপি সদস্য আমির হোসেন সহ ইমামকে অসমান্মিত করার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির
দাবী জানিয়েছেন। ওই বিক্ষোভে মুসল্লীদের পরিবারের নারী সদস্যরাও অংশ নেন।
পরে সন্ধ্যায় তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ আব্দুল্লাহ সাদীদের
বাসায় গিয়ে বিষয়টি তার কাছে জানিয়ে এর বিচার দাবী করেন। উপজেলার সদর
ইউনিয়নের গাভা পেসকার বাড়ি জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ মোহাম্মদ ইসমাইল
জানান ওই এলাকার জামাল মুন্সী সম্প্রতি তার স্ত্রীকে মৌখিকভাবে তিন তালাক
দিয়ে আজ থেকে তুই আমার মা বলে সম্মোধন করেন। কিন্তু পরে আবার সেই
স্ত্রীকে নিয়ে সে ঘর করছেন। বিষয়টি জেনে মসজিদের মুসল্লীরা এ বিষয়ে
শর্ষিনা পীরের বাড়ি থেকে জেনে আসেন তালাক দেওয়া স্ত্রীকে নিয়ে ঘর করা
ইসলামী শরিয়ত সম্মত নয়। এছাড়া জামাল মুন্সী বাড়ি বাড়ি গিয়ে মসজিদের মাসিক
চাঁদা ও মুষ্টির চাল সংগ্রহ করে সঠিক হিসাব দিতেন না। এসব বিষয়ে মসজিদ
কমিটি ও মুসল্লীরা আপত্তি করলে সে মসজিদে আসা বন্ধ করে দেয়। এনিয়ে জামাল
মুন্সী মসজিদের ইমামকে দোষারোপ করে তার ওপর ক্ষুদ্ধ হয়ে তাকে নাজেহাল
করার অপতৎপরতায় লিপ্ত হন এবং তাকে পথেঘাটে গালাগাল করেন। রোববার জামাল
মুন্সী এলাকায় প্রচার করেন মসজিদের ইমাম তাকে পাঠার পো বলে গালমন্দ
করেছেন।এর জের ধরে রোববার বাদ এশা ইমাম হাফেজ মোহাম্মদ ইসমাইলকে মসজিদ
সংলগ্ন সৈয়দ সিকদারের চায়ের দোকান থেকে স্থানীয় ইউপি সদস্য আমির হোসেনের
নেতৃত্বে বিএনপি নেতা বাবুল হাওলাদার,শহিদ সিকদার,সোবাহান মোল্লা,মতিউর
রহমান,নুরুজ্জামান,হারুণ ঢালী,রফিকুল ইসলাম মাহারুন ঢালী ও ইমাম হোসেন সহ
বেশ কয়েকজন ডেকে নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে জামাল মুন্সীর পা ধরে মাফ চাইতে
বাধ্য করেন। অপমান ও লাঞ্চনায় মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়া ইমাম হাফেজ
মোহাম্মদ ইসমাইল বিষয়টি তার পরিবার ও মসজিদ কমিটির নেতৃবৃন্দকে জানান।
বিষয়টি জেনে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন মুসল্লী ও এলাকার সর্বস্তরের মানুষ। এ
প্রসঙ্গে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য আমির হোসেন জানান জামাল মুন্সীকে পাঠার পো
বলায় অর্ধশত লোকের উপস্থিতিতে শালিস বৈঠকে ইমামকে তার পা ধরিয়ে নয় হাত
ধরিয়ে মাফ চাওয়ানো হয়েছে। এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ
আব্দুল্লাহ সাদীদ জানান এলাকার বিক্ষুদ্ধ মুসল্লীদের কাছ থেকে বিষয়টি
জেনে ওই এলাকার ইউপি চেয়ারম্যান আ.জলিল ঘরামীকে এ বিষয়ে সরেজমিন তদন্ত
করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। ###