সংবাদ শিরোনাম ::
চুয়াডাঙ্গার বালিকা বিদ্যালয়ের সামনের দেয়ালে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান!লিখন,পরে মুছন ঝালকাঠিতে ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন ড.জিয়াউদ্দিন হায়দার দামুড়হুদা মডেল থানা পুলিশের হাতে ইয়াবাসহ ৭ আসামী গ্রেফতার শিক্ষার্থীদের শুধু সনদ অর্জন নয়, দক্ষ ও মানবিক মানুষ হতে হবে: জিয়াউদ্দিন হায়দার উজিরপুরে শ্রমিকদল নেতার নেতৃত্বে সরকারি রাস্তার চার কিলোমিটার এলাকার গাছ লুটের মহোৎসব ঝালকাঠিতে ৩০ পিস ইয়াবাসহ দুই যুবক আটক আলমডাঙ্গার স্বপন ফেসবুকে রাজনৈতিক পোস্ট দেয়ায় যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার বাবুগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রশিক্ষণ শুরু। প্রবাসীর ৬৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ দুলাভাইয়ের বিরুদ্ধে, বাড়ি থেকেও উচ্ছেদের হুমকি ডিসেম্বরে আপা আসবে তাই চলে যাচ্ছি বিদায় বাংলাদেশ আসিফ মাহমুদ

বিড়িতে সুখটান’ দিয়ে দাঁড়িপাল্লায় ভোট চাইলে আল্লাহ ‘গুনাহ মাফ’ করতে পারেন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৩১:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬ ১৩৪ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অনলাইন ডেস্ক

‎ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ড. ফয়জুল হকের একটি বক্তব্য ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা।

‎বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাতে ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় একটি নির্বাচনী উঠান বৈঠকে বক্তব্য দিতে গিয়ে ড. ফয়জুল হক বলেন, ‘এমনও হইতে পারে আমার ভাই হয়তো জীবনে কোনোদিন ইবাদত করার সুযোগ পায় নাই। তবে ওই সুখটান দেওয়া বিড়ির মধ্যেও যদি সে দাঁড়িপাল্লার দাওয়াত দিয়ে আল্লাহর দরবারে কবুল হয়ে যায়, আল্লাহ চাইলে তার আগের সবকিছু মাফ করে দিতে পারেন। আমি গল্পের ছলে বলি আপনাদের আনন্দ লাগছে। কিন্তু এটা হতেও তো পারে।’

‎‎ওই বক্তব্য তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে আপলোড করা হয়। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাতে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ভাইরাল হয়।

‎‎ভিডিওতে ড. ফয়জুল হককে বলতে শোনা যায়, ‘আপনারা দৈনিক ৫-১০টা বিড়ি খান না? যে দোকান থেকে খাবেন, সেখানে গিয়ে বিড়ি অর্ডার দেবেন। বিড়ি ধরিয়ে একটা সুখটান দিয়ে গল্পের ছলে বলবেন—দেশের অবস্থা দেখছো? দাঁড়িপাল্লা ছাড়া এ দেশে তো মানুষ দেখি না।’

‎পুরুষ ভোটারদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘এখন থেকে ৫ টাকার চা খাবেন, আর ১৫ টাকার গল্প করবেন। দোকানে বসে বলবেন—সব জায়গায় ড. ফয়জুলের দাঁড়িপাল্লার জয়জয়কার।’

‎নারীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘এতদিন উঠানে বসে গপ্পো মারছেন, চুলের বিনি বেঁধে দিচ্ছেন। আজ থেকে একটা মাথাও ফ্রি আঁচড়াবেন না। দাঁড়িপাল্লার কথা দিয়েই শুরু করবেন। অন্তত ২০ জন মা-বোন আত্মীয়কে ফোন দিয়ে ভোট দেওয়ার কথা বলবেন।’

‎এছাড়া নির্বাচনের দিন সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের রাতে ঘুমাবেন না। ১১ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত জেগে থাকবেন। ভালো খাবার রান্না করে সবাইকে নিয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেবেন। ভোট গণনা শেষে বিজয় মিছিল করে ঘুমাবেন।’

‎

‎ড. ফয়জুল হকের এই বক্তব্য ঘিরে ঝালকাঠিতে রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ একে ধর্মীয় অনুভূতি ব্যবহার করে ভোট চাওয়ার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকে বিষয়টিকে রূপক ও গল্পের ছলে দেওয়া বক্তব্য বলে মনে করছেন।

‎‎বক্তব্য নিয়ে বিতর্কের পর নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে ড. ফয়জুল হক বলেন, ‘আমার বক্তব্যটি মিসলিডিং করা হয়েছে। একজন এমপি প্রার্থী হিসেবে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের উদ্দেশ্যে কথা বলতে হয়। সমাজে দাড়িওয়ালা, দাড়ি ছাড়া মানুষ, বিড়ি বা সিগারেট খায় এমন মানুষ আছেন। আমি বিশেষ করে দোকানে বসে বিড়ি খাওয়া মানুষদের উদ্দেশ্যে বলেছি—আপনারা বিড়ি টানতে টানতেই দাঁড়িপাল্লায় একটি ভোট চাইবেন।’

‎তিনি আরও বলেন, ‘ভালো কাজের সঙ্গে থাকতে থাকতে মানুষ ভালো হয়ে যেতে পারে। আল্লাহ চাইলে তাকে মাফ করতেও পারেন। আমাদের আলেমরা ওয়াজ মাহফিলে ‘সৎ সঙ্গে স্বর্গবাস, অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ’—এ ধরনের উদাহরণ দেন। আমি বলেছি আল্লাহ তাকে মাফ করলেও করতে পারেন।’

‎ড. ফয়জুল হক আরও বলেন, ‘আমার সম্পূর্ণ ভিডিও আমার ফেসবুক পেজে আছে। পুরোটা দেখলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

বিড়িতে সুখটান’ দিয়ে দাঁড়িপাল্লায় ভোট চাইলে আল্লাহ ‘গুনাহ মাফ’ করতে পারেন

আপডেট সময় : ০২:৩১:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

অনলাইন ডেস্ক

‎ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ড. ফয়জুল হকের একটি বক্তব্য ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা।

‎বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাতে ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় একটি নির্বাচনী উঠান বৈঠকে বক্তব্য দিতে গিয়ে ড. ফয়জুল হক বলেন, ‘এমনও হইতে পারে আমার ভাই হয়তো জীবনে কোনোদিন ইবাদত করার সুযোগ পায় নাই। তবে ওই সুখটান দেওয়া বিড়ির মধ্যেও যদি সে দাঁড়িপাল্লার দাওয়াত দিয়ে আল্লাহর দরবারে কবুল হয়ে যায়, আল্লাহ চাইলে তার আগের সবকিছু মাফ করে দিতে পারেন। আমি গল্পের ছলে বলি আপনাদের আনন্দ লাগছে। কিন্তু এটা হতেও তো পারে।’

‎‎ওই বক্তব্য তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে আপলোড করা হয়। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাতে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ভাইরাল হয়।

‎‎ভিডিওতে ড. ফয়জুল হককে বলতে শোনা যায়, ‘আপনারা দৈনিক ৫-১০টা বিড়ি খান না? যে দোকান থেকে খাবেন, সেখানে গিয়ে বিড়ি অর্ডার দেবেন। বিড়ি ধরিয়ে একটা সুখটান দিয়ে গল্পের ছলে বলবেন—দেশের অবস্থা দেখছো? দাঁড়িপাল্লা ছাড়া এ দেশে তো মানুষ দেখি না।’

‎পুরুষ ভোটারদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘এখন থেকে ৫ টাকার চা খাবেন, আর ১৫ টাকার গল্প করবেন। দোকানে বসে বলবেন—সব জায়গায় ড. ফয়জুলের দাঁড়িপাল্লার জয়জয়কার।’

‎নারীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘এতদিন উঠানে বসে গপ্পো মারছেন, চুলের বিনি বেঁধে দিচ্ছেন। আজ থেকে একটা মাথাও ফ্রি আঁচড়াবেন না। দাঁড়িপাল্লার কথা দিয়েই শুরু করবেন। অন্তত ২০ জন মা-বোন আত্মীয়কে ফোন দিয়ে ভোট দেওয়ার কথা বলবেন।’

‎এছাড়া নির্বাচনের দিন সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের রাতে ঘুমাবেন না। ১১ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত জেগে থাকবেন। ভালো খাবার রান্না করে সবাইকে নিয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেবেন। ভোট গণনা শেষে বিজয় মিছিল করে ঘুমাবেন।’

‎

‎ড. ফয়জুল হকের এই বক্তব্য ঘিরে ঝালকাঠিতে রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ একে ধর্মীয় অনুভূতি ব্যবহার করে ভোট চাওয়ার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকে বিষয়টিকে রূপক ও গল্পের ছলে দেওয়া বক্তব্য বলে মনে করছেন।

‎‎বক্তব্য নিয়ে বিতর্কের পর নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে ড. ফয়জুল হক বলেন, ‘আমার বক্তব্যটি মিসলিডিং করা হয়েছে। একজন এমপি প্রার্থী হিসেবে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের উদ্দেশ্যে কথা বলতে হয়। সমাজে দাড়িওয়ালা, দাড়ি ছাড়া মানুষ, বিড়ি বা সিগারেট খায় এমন মানুষ আছেন। আমি বিশেষ করে দোকানে বসে বিড়ি খাওয়া মানুষদের উদ্দেশ্যে বলেছি—আপনারা বিড়ি টানতে টানতেই দাঁড়িপাল্লায় একটি ভোট চাইবেন।’

‎তিনি আরও বলেন, ‘ভালো কাজের সঙ্গে থাকতে থাকতে মানুষ ভালো হয়ে যেতে পারে। আল্লাহ চাইলে তাকে মাফ করতেও পারেন। আমাদের আলেমরা ওয়াজ মাহফিলে ‘সৎ সঙ্গে স্বর্গবাস, অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ’—এ ধরনের উদাহরণ দেন। আমি বলেছি আল্লাহ তাকে মাফ করলেও করতে পারেন।’

‎ড. ফয়জুল হক আরও বলেন, ‘আমার সম্পূর্ণ ভিডিও আমার ফেসবুক পেজে আছে। পুরোটা দেখলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে।’