ঘোড়াঘাটে যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ
- আপডেট সময় : ১১:৩৬:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২১ ১৪৬ বার পড়া হয়েছে

ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) থেকে মাহতাব উদ্দিন আল মাহমুদঃ
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ্অভিযোগ উঠেছে। নিজ শয়নকক্ষ থেকে গলায় ওড়না পেচানো ঝুলন্ত অবস্থায় মমিনুর রহমান (২০) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে ঘোড়াঘাট থানা পুলিশ।
তবে এটি হত্যা না আত্মহত্যা এ নিয়ে এলাকায় না না গুঞ্জন উঠেছে। এলাকাবাসীর ধারনা তাকে হত্যা করে গলায় উড়না পেঁচিয়ে ফাঁস দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল।নিহত মমিনুর ঘোড়াঘাট উপজেলার পদুমহার গ্রামের মিস্টার আলীর ছেলে।
নিহত মমিনুরের বাবা মিস্টার আলী জানান,মিস্টার আলীর সাথে মমিনুরের মায়ের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটলে মমিনুরের মায়ের ঘোড়াঘাট উপজেলার সোনামুখি গ্রামে বিয়ে হয়।মমিনুর সে তার মায়ের সাথে থাকত।
সোনামুখি গ্রামের মহাসড়কের পাশে বাড়িতে থাকত। মমিনুর বড় হলে মমিনুর সহ আরও ২/৩ জন তার সৎ ফুফা আঃ সালামের সাথে ঢাকায় থাকত। তারা ঢাকায় রিক্সা চালাত এবং ফুফা আঃ সালাম তাদের নামে ঢাকায় লোন তুলে আত্মসাৎ করত।
তারা রিক্সা চালিয়ে ওই লোন পরিশোধ করত। ফুফা আঃ সালাম মমিনুর ওই ছেলেদের টাকা পয়সা দিতনা। রিক্সা না চালালে আঃ সালাম মমিনুরসহ ছেলেদের মারধর করত।
তারা আঃ সালামের নির্যাতনে অতিষ্ট হয়ে বাড়িতে চলে আসে। আঃ সালাম ঢাকা থেকে বাড়িতে এসে মমিনুরকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে এবং মমিনুরকে হাত পা বেঁধে শারীরিকভাবে নির্যাতন চালায়।
নিহতের মামাতো ভাই রুবেল ইসলাম জানান, নিহত হওয়ার ২ দিন আগে থেকে মমিনুরকে হাত পা বেঁধে মারধর করে মমিনুরের সৎ ফুপা আব্দুস সালাম। আব্দুস সালাম ও সৎ দাদি আমেনা বেগম গত মঙ্গলবার দুপুরে জোরপূর্বক ভাবে মমিনুরকে তার নিজ বাড়িতে আটকে রেখে পাশ্ববর্তী গ্রাম শৌলাতে খেলা দেখতে যান।
পরে রাত ১ টায় রুবেল তার মামাতো ভাইকে দেখতে এসে দেখেন যে, ঘরের দরজা জানালা সব বন্ধ। এ সময় সে ডাক চিৎকার দিয়ে গ্রামবাসীর সহযোগীতায় ঘরের দরজা ভেঙ্গে দেখেন ঘরের তীরের সাথে গলায় উড়না পেঁচানো অবস্থায় মমিনুরের দেহ ঝুলে থাকতে দেখতে পান।
স্থানীয় লোকজন থানায় খবর দিলে ২৯ ডিসেম্বর বুধবার দুপুর ১২টায় উপজেলার সোনামুখি গ্রামের মহাসড়কের পাশে নিজ বাড়ি থেকে মমিনুরের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ময়না তদন্তের জন্য মৃতদেহ বহস্পতিবার দিনাজপুর এম. আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু হাসান কবির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা করা হয়েছে। ময়না তদন্তের জন্য মৃতদেহ বহস্পতিবার দিনাজপুর এম. আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্ত রিপোর্ট আসলেই বোঝা যাবে এটি আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যা।তার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

























