সংবাদ শিরোনাম ::
বাবুগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধ, নির্মাণকাজে বাধা ও ভাঙচুরের অভিযোগ চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের ১০টি মসজিদে সাংসদ রুহুল আমিন কতৃক অনুদানের চেক হস্তান্তর জীবননগরে ২৩১ বোতল ইসকাপ সিরাপসহ আটক২ জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে ঝালকাঠিতে বিশেষ সভা: ১৮ জুলাই সর্ববৃহৎ সমাবেশের ঘোষণা ঝালকাঠিতে পৌর প্রশাসক ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬-এর সফল সমাপ্তিতে সম্মাননা প্রদান দর্শনায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের মাঝে উপহার সামগ্রী বিতরণ ৩ সন্তানকে ফেলে মসজিদের ইমামের সঙ্গে পালালেন প্রবাসীর স্ত্রী তেঁতুলিয়া ইউএনও’র বিরুদ্ধে মিথ্যে অভিযোগে নারীর ফেসবুকে লাইভ সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা ​ঝালকাঠিতে সাংস্কৃতিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মাঝে ১৬ লাখ ২৩ হাজার টাকার চেক বিতরণ বাবুগঞ্জে গাঁজাসহ আটক ১, ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদণ্ড

যুবদল নেতা রিয়াজ মাহমুদের হস্তক্ষেপে আলোচিত রাইসা হত্যা মামলার অভিযুক্ত বাবা-ছেলের থানায় আত্মসমর্পণ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:২৪:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬ ২৯ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাবুগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি :
বরিশালের বাবুগঞ্জে আলোচিত রাইসা মনি হত্যা মামলার অভিযুক্ত পিতা-পুত্র অবশেষে থানায় আত্মসমর্পণ করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) ভোর আনুমানিক ৬টার দিকে তারা বাবুগঞ্জ থানায় হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করেন।

জানা গেছে, ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত বাবা জালাল শিকদার (৪৫) ও তার ছেলে সিফাত শিকদার (১৫) পলাতক ছিলেন। তারা পার্শ্ববর্তী উজিরপুর উপজেলায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে আত্মগোপনে ছিলেন। সেখান থেকেই তারা বাবুগঞ্জ উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ রিয়াজ হোসেনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেন। এ সময় তারা দাবি করেন, তারা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন এবং স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করতে চান।

পরবর্তীতে রিয়াজ হোসেনের হস্তক্ষেপে এবং তার মাধ্যমে যোগাযোগের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার ভোরে তারা বাবুগঞ্জ থানায় এসে আত্মসমর্পণ করেন।
বাবুগঞ্জ থানা সূত্রে জানা গেছে, আত্মসমর্পণের পর তাদেরকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এদিকে যুবদলের ওই নেতা জানান, রাইসা আক্তারের ঘরে একটি চিরকুট পাওয়া গেছে, যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে—বাবার সঙ্গে অভিমান করে সে নিজেই গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ১৪ মার্চ ২০২৬ বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের উত্তর রাকুদিয়া গ্রামে অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ১০ বছর বয়সী কিশোরী রাইসা আক্তারকে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৫ মার্চ তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় ১৭ মার্চ নিহতের বাবা নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে বাবুগঞ্জ থানায় পিতা জালাল শিকদার ও ছেলে সিফাত শিকদারকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দেয়।

এ বিষয়ে বাবুগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মোহাম্মদ এহতেশামুল ইসলাম সাংবাদিকদের আত্মসমর্পণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, যাচাই-বাছাই শেষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়াও উদ্ধার হওয়া চিরকুটের বিষয়ে তিনি বলেন, এর সত্যতা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

যুবদল নেতা রিয়াজ মাহমুদের হস্তক্ষেপে আলোচিত রাইসা হত্যা মামলার অভিযুক্ত বাবা-ছেলের থানায় আত্মসমর্পণ

আপডেট সময় : ০৯:২৪:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬

বাবুগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি :
বরিশালের বাবুগঞ্জে আলোচিত রাইসা মনি হত্যা মামলার অভিযুক্ত পিতা-পুত্র অবশেষে থানায় আত্মসমর্পণ করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) ভোর আনুমানিক ৬টার দিকে তারা বাবুগঞ্জ থানায় হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করেন।

জানা গেছে, ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত বাবা জালাল শিকদার (৪৫) ও তার ছেলে সিফাত শিকদার (১৫) পলাতক ছিলেন। তারা পার্শ্ববর্তী উজিরপুর উপজেলায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে আত্মগোপনে ছিলেন। সেখান থেকেই তারা বাবুগঞ্জ উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ রিয়াজ হোসেনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেন। এ সময় তারা দাবি করেন, তারা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন এবং স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করতে চান।

পরবর্তীতে রিয়াজ হোসেনের হস্তক্ষেপে এবং তার মাধ্যমে যোগাযোগের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার ভোরে তারা বাবুগঞ্জ থানায় এসে আত্মসমর্পণ করেন।
বাবুগঞ্জ থানা সূত্রে জানা গেছে, আত্মসমর্পণের পর তাদেরকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এদিকে যুবদলের ওই নেতা জানান, রাইসা আক্তারের ঘরে একটি চিরকুট পাওয়া গেছে, যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে—বাবার সঙ্গে অভিমান করে সে নিজেই গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ১৪ মার্চ ২০২৬ বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের উত্তর রাকুদিয়া গ্রামে অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ১০ বছর বয়সী কিশোরী রাইসা আক্তারকে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৫ মার্চ তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় ১৭ মার্চ নিহতের বাবা নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে বাবুগঞ্জ থানায় পিতা জালাল শিকদার ও ছেলে সিফাত শিকদারকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দেয়।

এ বিষয়ে বাবুগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মোহাম্মদ এহতেশামুল ইসলাম সাংবাদিকদের আত্মসমর্পণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, যাচাই-বাছাই শেষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়াও উদ্ধার হওয়া চিরকুটের বিষয়ে তিনি বলেন, এর সত্যতা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।