বিজিবি সোর্স হযরত আলী নিহত::-
- আপডেট সময় : ০৭:২৯:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২১ ৯৫ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার ::-
চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় গভীর রাতে হযরত আলী (৫২) নামের এক কৃষককে ঘুমন্ত অবস্থায় গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
মঙ্গলবার (২৮ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত একটার দিকে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা থানাধীন পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়নের নাস্তিপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গুলির শব্দে পরিবারের সদস্যদের ঘুম ভাঙলে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হযরত আলীকে দ্রুত উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়া হয়। এরপর চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত পৌনে তিনটার দিকে তার মৃত্যু হয়। নিহত হযরত আলী নাস্তিপুর গ্রামের পশ্চিমপাড়ার মৃত রইস উদ্দীনের ছেলে। তিনি পেশায় কৃষক হলেও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি’র) সোর্স হিসেবে কাজ করতেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
নিহত হযরত আলীর ছেলে নাঈম হাসান তৌফিক বলেন, রাতের খাবার খেয়ে বাবা ও মা আমার পাশের ঘরেই ঘুমিয়ে পড়েন। এর কিছুক্ষণ পরে আমিও ঘুমিয়ে পড়ি। মাঝরাতে হঠাৎ গুলির বিকট শব্দে আমার ঘুম ভেঙে যায়। এসময় মায়ের চিৎকারে পাশের ঘরে ছুটে যেয়ে দেখি, বাবার মাথা দিয়ে প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছে। এসময় রাস্তার ধারের জানালাটাও খোলা অবস্থায় ছিল। আমাদের চিৎকার শুনে আমার চাচাত ভাই মুকুলসহ প্রতিবেশীরাও ছুটে আসেন। মুকুল ভাই ও আমি দ্রুত বাবাকে মোটর সাইকেলযোগে প্রথমে দর্শনার একটি ক্লিনিকে নিয়ে যাই। কিন্তু ক্লিনিকের কেউ দরজা না খুললে আমরা সেখান থেকে দ্রুত চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাই।
নিহত হযরত আলীর ছোট ভাইয়ের ছেলে মুকুল বলেন, ‘আমার চাচার সঙ্গে কারো কোনো বিরোধ ছিল না। তিনি কৃষিকাজসহ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি’র) লাইন ম্যান (সোর্স) হিসেবেও কাজ করতেন। কেন তাকে এভাবে গুলি করা হল আর কে-ই বা করল আমরা বুঝতে পারছি না।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সোহরাব হোসেন বলেন, রাত সোয়া দুইটার দিকে রক্তাক্ত অবস্থায় হযরত আলী নামের এক ব্যক্তিকে জরুরি বিভাগে নেয়া হয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, তার মাথায় গুলি করা হয়েছে। মাথা থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হওয়ায় প্রথমেই আমরা রক্ত বন্ধ করার চেষ্টা করেছি। তবে জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত পৌন তিনটার দিকে তার মৃত্যু হয়। ধারণা করা হচ্ছে, গুলিটি এখনও তার মাথার মধ্যেই রয়েছে।
এবিষয়ে দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এএইচএম লুৎফুল কবীর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাটি জানার পর রাতেই আমি ও দামুড়হুদা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুন্না বিশ্বাস ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। নিহত ওই কৃষক বিজিবির সোর্স হিসেবে কাজ করতেন বলে জানতে পেরেছি। তবে ঠিক কী কারণে কে বা কারা তাকে গুলি করেছে সে সম্পর্কে এখন পর্যন্ত কিছুই জানা যায়নি। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে বলেও তিনি জানান।
এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে আজ বুধবার সকালে হত্যা মামলা দায়ের করা হবে বলে জানা গেছে।

























