উপকূলীয় জীবন ও জীবিকার নিরাপত্তায় আইন শৃঙ্খলা বিষয়ক বিশেষ মতবিনিময় সভা
- আপডেট সময় : ০৮:১৭:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২১ ১১০ বার পড়া হয়েছে

আজকের ক্রাইম ডেক্স
১। সাম্প্রতিক সময়ে পাথরঘাটা, বরগুনা ও পটুয়াখালী সংলগ্ন উপক‚লীয় এলাকার ৩০ থেকে ৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে দূরবর্তী বঙ্গোপসাগরের অভ্যন্তরে বেশ কয়েকটি দস্যুতার ঘটনা ঘটে। যেখানে দস্যুরা মাছ ধরার ট্রলারে হামলা করে জেলেদের অপহরণ, লুণ্ঠন ও মুক্তিপণ দাবী করেছে বলে জানা যায়। এছাড়া সুন্দরবনে পার্শ্ববর্তী দেশের সাথে সীমান্তবর্তী এলাকায় গুলিতে একজনের নিহতের ঘটনা ঘটে।
২। গত নভেম্বরের মাঝামাঝিতে পিরোজপুর, পটুয়াখালী ও বরগুনা হতে ভিকটিমরা তাদের সহকর্মীসহ মাছ ধরার উদ্দেশ্যে গভীর সমুদ্রে গমণ করে। গত ২০ নভেম্বর ২০২১ তারিখ সকাল ০৭০০ ঘটিকা হতে রাত ২২০০ ঘটিকার মধ্যে পাথরঘাটা, বরগুনা ও পটুয়াখালী (বলেশ্বর ও পায়রা মোহনা) বঙ্গোপসাগরের তৎসংলগ্ন ৩০-৫০ কিঃ মিঃ অভ্যন্তরে অপহরণের স্বীকার হয়। ভিকটিমরা স্ব স্ব নৌকা নিয়ে বিচ্ছিন্নভাবে অবস্থান করছিল। জলদস্যুরা ক্রমান্বয়ে একটির পর একটি নৌকায় ডাকাতি করে। অতঃপর জলদস্যুরা ভিকটিমদের সহকর্মীদের মুক্তিপণের অর্থ জানিয়ে দিয়ে ভিকটিমদের নৌকাযোগে ফেরত পাঠায়। কিন্তু দস্যুরা ভিকটিমদের একটি নৌকা রেখে দেয়, যা ডাকাতির কাজে ব্যবহার করে। এছাড়া ভিকটিমদের নিকট হতে লুন্ঠনকৃত মাছ, জাল এবং তৈল ডাকাতদের নৌকার মাধ্যমে নিয়ে যাওয়া হয়। মোবাইলসহ মূল মাঝি ও কয়েকজন সদস্যকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। অতঃপর ভিকটিদের মোবাইল নম্বর হতে তাদের পরিবারের সদস্যদের সাথে যোগাযোগ করে ভয়ভীতি দেখিয়ে মুক্তিপণ দিতে চাপ প্রয়োগ করে জলদস্যুরা।
৩। বর্ণিত ঘটনাগুলোর গুরুত্ব অনুধাবন পূর্বক র্যাব চতুর্মূখী অভিযানের উদ্যোগ নেয়। র্যাব আভিযানিক ও গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে। র্যাব-৮ এর আভিযানিক দল বঙ্গোপসাগরের অভ্যন্তরে ও সমুদ্রের নিকটবর্তী চরাঞ্চল যেমন; ডাল চর, সোনার চর, চর মন্তাজসহ বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশী অভিযান পরিচালনা করে। এছাড়াও হেলিকপ্টারযোগে টহল পরিচালনা করে র্যাব। একপর্যায়ে র্যাবের গতিবিধি ও তৎপরতা আঁচ করতে পেরে গত ২৩ নভেম্বর ২০২১ তারিখ অপহৃতদের নৌকায় রেখে ডাকাতরা চলে যায়। অতঃপর কিছুক্ষণ পরে ভিকটিমদেরকে ডাকাত সন্দেহে ঘিরে ফেলে হামলা চালানো হয়। মূলত উক্ত ডাকাতরা অন্যান্য নৌকা দলের লোকদের মিথ্যা তথ্য দিয়ে নিয়ে এসে এ হামলা চালিয়ে কৌশলে স্থান ত্যাগ করে বলে ভুক্তভোগীরা জানায়।
৪। এতদসংক্রান্ত বিষয়ে ইতোমধ্যে পাথরঘাটা থানায় ০২টি মামলা রুজ্জু হয়। মামলা নং ১৬ এবং ১৭ তারিখ ২৭ নভেম্বর ২০২১। ধারা ৩৯৫/৩৯৭/৩৬৫/৩৮৫/৩৮৬ পেনাল কোড।
৫। অপহৃতদের ছেড়ে দেওয়ার পরেও র্যাব জলদস্যুদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রেখে চলেছে। র্যাব মোবাইল ব্যাংকিং ট্রান্সফারের মাধ্যমে মুক্তিপণের অর্থ প্রবাহের উপর গোয়েন্দা নজরদারী অব্যাহত রাখে। র্যাব গোয়েন্দারা নারায়ণগঞ্জসহ আরো কয়েকটি স্থানে এ সংক্রান্ত ফুটপ্রিন্ট শনাক্ত করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব গোয়েন্দা শাখা ও র্যাব-৮ এর অভিযানে গত ৩০ নভেম্বর ২০২১ তারিখ রাতে নারায়নগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকা হতে বঙ্গোপসাগরের সমুদ্রসীমায় জেলেদের নৌকায় ডাকাতির মূল মুক্তিপণ সংগ্রাহক মোঃ ইলিয়াস হোসেন মৃধা (২৮), পিতাঃ মোঃ দেলোয়ার হোসেন, গলাচিপা, পটুয়াখালী’কে মুক্তিপণের অর্থসহ গ্রেফতার করে। উদ্ধার করা হয় মুক্তিপণের পাঁচ লক্ষাধিক টাকা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত ইলিয়াস বর্ণিত ডাকাতির সাথে জড়িত থাকার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট জলদস্যুদের সম্পর্কে তথ্য দেয়। ফলশ্রæতিতে র্যাব তথ্য যাচাই বাছাই ও গোয়েন্দা অনুসন্ধান বৃদ্ধি করে।
৬। পরবর্তীতে র্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র্যাব-৮ এর আভিযানে যথাক্রমে গত ০৩ ডিসেম¦র ২০২১ তারিখে রাতে পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা এলাকা হতে উক্ত জলদস্যু দলের মূল সমন্বয়কারী (১) মোঃ খলিল জমাদ্দার (৫০), পিতাঃ মৃত কদম আলী জমাদ্দার, তালতলী, বরগুনা (২) মোঃ মাহাতাব পেদা (৩৩), পিতাঃ মৃত জালাল পেদা, কলাপাড়া, পটুয়াখালী (৩) মোঃ জামাল আকন্দ (৩৬), পিতাঃ আব্দুল জলিল আকন্দ, কলাপাড়া, পটুয়াখালী (৪) মোঃ মাছুম @ মানছুর খলিফা (৪৬), পিতাঃ নওয়াব আলী খলিফা, কলাপাড়া, পটুয়াখালী (৫) মোঃ মিনাজ খাঁ, পিতাঃ সিদ্দিক খাঁ, গলাচিপা, পটুয়াখালীদের’কে গ্রেফতার অভিযানে গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। ঘটনায় ডাকাত দলের কয়েকজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। উক্ত অভিযানে উদ্ধারকৃত দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্রসহ থানায় মামলা রুজু করে গ্রেফতারকৃতদেরকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়।
৭। মতবিনিময় সভা। এরই ধারাবাহিকতায় নিম¥বর্ণিত কর্মকর্তা, ভিকটিম, জেলে, স্থানীয় প্রশাসন এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে বরগুনা জেলার পাথর ঘাটা উপজেলায় অদ্য ১২ ডিসেম¦র ২০২১ তারিখে এই অঞ্চলের উপকুলীয় জীবন ও জীবিকার নিরাপত্তায় আইন শৃংখলা বিষয়ক একটি বিশেষ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়ঃ
উক্ত সভায় মত প্রকাশ করে বলেন “এই উপক‚লীয় অঞ্চলের সার্বিক নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জকে মাথায় রেখে ইতেমধ্যে র্যাব ফোর্সেস ত্রিমাত্রিক টহলের ব্যবস্থা করেছে। ভবিষ্যতে সাগরে যাতে কেউ কোন প্রকার অস্থিরতা তৈরী করতে না পারে সে ব্যাপারে র্যাব অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। এ ব্যাপারে র্যাব ফোর্সেস কোন ব্যক্তি/বাহিনী কাউকে একচুলও ছাড় দিবেনা। আপনারা জানেন গত মাসে সাগরে এই অঞ্চলে একটি খুনসহ অপহরনের ঘটনা ঘটে। বিষয়টি র্যাব তাৎক্ষনিকভাবে আমলে নিয়ে দ্রততম সময়ের ভিতরে এই চক্রটিকে সনাক্ত করে এবং ১০ জন জলদস্যুকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। এ ব্যাপারে আপনাদেরকে আরও জানাতে চাই, এই চক্রের বাহিরেও অন্য কোন গ্রæপ যদি জড়িত থাকে তাদেরকেও যথাযথ আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। জেলে ভাইদের আশ্বস্ত করতে চাই আপনারা নির্ভয়ে সাগরে যাবেন এবং আপনারা যেকোন সময়ে আমাদের সহযোগীতা পাবেন”।

























