বাবুগঞ্জে আমনের ফলন ভালো হলেও ন্যায্যমূল্য নিয়ে শঙ্কা
- আপডেট সময় : ১১:১৭:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২১ ৭২ বার পড়া হয়েছে

মোহাম্মদ আলী, বাবুগঞ্জ ঃ চলতি মৌসুমে বরিশালের বাবুগঞ্জে আমনের ভালো ফলন হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকাই আশানুরূপ ফলনের কারণ বলে জানা গেছে। তবে ধানের ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় আমন চাষিরা। তাছাড়া আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে মানুষ ব্যস্ত থাকায় কিছু এলাকায় শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে ধান কাটতে বিলম্ব হচ্ছে। এতে জমিতে পাকা ধান ঝরে পড়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন চাষিরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন ফসলের মাঠে আমন ধান কাটার ধুম পড়েছে। সোনালি ধান কাটা, মাড়াই ও ঘরে তোলায় ব্যস্ত সময় পার করছেন বাবুগঞ্জের কৃষকেরা। কেউ কেউ কাটা ধান আঁটি বেঁধে মাথায় করে, কেউবা পরিবহনে করে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, চলতি মৌসুমে বাবুগঞ্জ উপজেলায় ৯ হাজার ৫৫৫ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। আমনের আবাদ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছে।
চলতি আমন মৌসুমে সরকার ভর্তুকির মাধ্যমে বাবুগঞ্জ উপজেলায় কৃষকদের ১টি কম্বাইন্ড হারভেস্টর বরাদ্দ দেওয়া হলেও সেটি বিতরণ হচ্ছে না। জমি সমতল না থাকার কারণে কৃষকরা কম্বাইন্ড হারভেস্টর নিতে চাচ্ছেন না।
এবছর আমন মৌসুমে বাবুগঞ্জ উপজেলায় ৭০০জন কৃষককে বিনা মূল্যে উন্নত জাতের বীজ ও রাসায়নিক সার দেওয়া হয়েছে বলে কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে।
দেহেরগতি ইউনিয়নের দক্ষিণ রাকুদিয়া গ্রামের কৃষক ওবায়দুল্লাহ বলেন, ‘নিয়মিত পরিচর্যা ও সময়মতো সার প্রয়োগের ফলে ফলন ভালো হয়েছে। তবে শ্রমিক সংকট থাকায় জমি থেকে ধান কাটতে সময় বেশি লাগছে। ব্যয়ও বেড়েছে। যাঁরা হারভেস্টর মেশিন দিয়ে ধান কাটতে পারছেন,তারা কম সময় ও অল্প খরচে ফলন ঘরে তুলতে পারছেন।
চাঁদপাশা ইউনিয়নের কালিকা পুর গ্রামের কৃষক মোঃ মকবুল হোসেন ফকির বলেন, আবহাওয়া অনুকূল থাকায় এবং পোকার আক্রমণ ও রোগ-বালাই কম হওয়ায় ফলন বেশি হয়েছে। এবছর উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান লাগিয়েছি। ফলনও ভালো হয়েছে। যদি ধানের ভালো দাম পাওয়া যায়, তাহলে লাভ জনক অবস্থানে থাকবেন বলে জানান তিনি।
বাবুগঞ্জ উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, এবছর ৯ হাজার ৫৫৫ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। তবে আবাদ হয়েছে ৯ হাজার ৬ শ হেক্টর জমিতে।
ইতিমধ্যে বাবুগঞ্জ উপজেলায় ২৫ ভাগ ধান কাটা হয়েছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা শাহ মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, উপজেলা কৃষি অফিস থেকে সার্বক্ষণিক কৃষকদের সার, কীটনাশক প্রয়োগে সচেতন করাসহ আলোক ফাঁদ তৈরি করে পোকামাকড় দমনে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। ফলে এবছর আমনের আবাদ ভালো হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ নাসির উদ্দিন বলেন, এবছর আমনের জন্য আবহাওয়া অনুকূলে ছিল। উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাগন স্থানীয় কৃষকদের উন্নত জাতের বীজ ও নতুন নতুন কৃষি প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা দিয়েছেন। চলতি আমন মৌসুমে সরকার ভর্তুকির মাধ্যমে বাবুগঞ্জ উপজেলায় কৃষকদের ১টি কম্বাইন্ড হারভেস্টর বরাদ্দ দিয়েছেন। এতে অল্প খরচে ধান কাটা, মাড়াই এবং মাঠ থেকে ধান আনা সহজ হবে। পর্যায়ক্রমে কৃষকেরা যান্ত্রিক নির্ভরশীল হলে, শ্রমিক সংকট কেটে যাবে এবং ফসল উৎপাদন বাড়বে।

























