স্কুল সভাপতিকে জুতাপেটা করলেন আয়া
- আপডেট সময় : ০৭:৫২:২৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ নভেম্বর ২০২১ ৯৪ বার পড়া হয়েছে

আজকের ক্রাইম ডেক্স
যশোরের মনিরামপুরে আয়া পদে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক স্কুল সভাপতির বিরুদ্ধে; চাকরি কিংবা টাকা কোনওটাই ফেরতা না দেওয়ায় সভাপতিকে জুতা দিয়ে পিটিয়েছেন ওই প্রার্থী।
উপজেলার মনোহরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সিরাজুল ইসলামকে এমন লাঞ্ছনা করা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য, স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতিসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, সম্প্রতি মনোহরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আয়া ও দপ্তরিসহ মোট চারজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল। সে অনুযায়ী আয়া পদে কুলসুম বেগম, দপ্তরি পদে সভাপতির চাচাত ভাই মোহাম্মদ আলীসহ চার পদে মোট ১৬ জন প্রার্থী আবেদন করেন। আবেদনপত্র যাচাবাছাই শেষে নিয়োগবোর্ডে অংশ নিতে সবাইকে চিঠি দেওয়া হয়।
কুলসুম বেগমের অভিযোগ, আয়া পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ছয়মাস আগে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এমদাদুল হক দুই দফায় ঘুষ বাবদ তার কাছ থেকে অগ্রিম মোট ছয়লাখ টাকা নেন। অলিখিত চুক্তি অনুযায়ী চাকরির পর সভাপতিকে আরও দুই লাখ টাকা দেওয়ার কথা ছিল।
গত বৃহস্পতিবার সকালে মনিরামপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে আয়োজন করা হয় নিয়োগ বোর্ডের।
কুলসুম বেগম জানান, নিয়োগ বোর্ডের আগের রাতে সভাপতি তাকে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সরবরাহ করেন। কুলসুম বেগমসহ সব প্রার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। কিন্তু চার পদের মধ্যে আয়া পদে তাকে চাকরি দেওয়া হয়নি।
তার অভিযোগ, ১১ লাখ টাকার বিনিময়ে আয়া পদে চাকরি দেওয়া হয়েছে স্থানীয় সংরক্ষিত ওয়ার্ড মেম্বর আসমা খাতুনকে। অন্যদিকে দপ্তরি পদে ১০ লাখ টাকা নিয়ে চাকরি দেওয়া হয়েছে সভাপতির আপন চাচতভাই মোহাম্মদ আলীকে।
আসমা খাতুন এবং মোহাম্মদ আলী চাকরি পাবার পর ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি কালিপদ মন্ডল জানান, চার পদে নিয়োগ দিয়ে সভাপতি প্রায় অর্ধকোটি টাকা ঘুষবাণিজ্য করেছেন। একই অভিযোগ করেন অভিভাবক সদস্য ওয়াজেদ আলীসহ অনেকেই।
এদিকে আয়াপদে চাকরি না পেয়ে কুলসুম বেগম গত শুক্রবার সকালে মনোহরপুর কাঁচারীবাড়ি বাজারে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সিরাজুল ইসলামের কাছে ঘুষের ছয়লাখ টাকা ফেরত চান। প্রত্যক্ষদর্শী আবদুস সাত্তারসহ অনেকেই জানান, সিরাজুল ইসলাম টাকা ফেরত দিতে অস্বীকার করলে দুজনের মধ্যে ব্যাপক কথাকাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে কুলসুম বেগম তাকে লাঞ্চিত করাসহ জুতাপেটা করেন। এ সময় সিরাজুল ইসলামকে রক্ষা করতে কেউ এগিয়ে আসেনি।
এছাড়া চার কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে প্রায় অর্ধকোটি টাকা ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগে শনিবার বিকেলে স্কুল মাঠে বিক্ষোভ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন কুলসুম বেগমের স্বামী আবদুল ওয়াদুদ, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি কালিপদ মন্ডল, সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক সিদ্দিকুর রহমান, অভিভাবক সদস্য ওয়াজেদ আলী সরদার, আলী আযম বাচ্চু, আবদুস সাত্তার প্রমুখ।
সভায় বক্তরা সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগের নামে প্রায় অর্থকোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ধরে চার কর্মচারী কথিত নিয়োগ বাতিল করা সহ তার বিচারের দাবি করেন।
তবে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ অস্বীকার করে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, সমাজে তাকে হেয় প্রতিপন্ন করতে তার দলের প্রতিপক্ষরা ষড়যন্ত্র করে বিভিন্ন কুৎসা রটাচ্ছেন।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এমদাদুল হকও ঘুষের টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বিকাশ চন্দ্র সরকার জানান, চকুরি দেওয়ার জন্য ঘুষ নেওয়া হয়েছে কি-না তা তার জানা নেই।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দ জাকির হাসান জানান, লিখিত অভিযোগ করা হলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

























