স্কুলছাত্রকে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া প্রতিশ্রুতির পায়রাগঞ্জ সেতু নির্মাণ শুরু।
- আপডেট সময় : ০৬:৪০:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১২৮ বার পড়া হয়েছে

আজকের ক্রাইম ডেক্স
প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি লিখে পটুয়াখালীর স্কুলছাত্রের আবেদনের জবাবে সেতুর নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে সেতু বিভাগ। জমি অধিগ্রহণ, পরামর্শক ও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান নিয়োগ শেষ পর্যায়ে।
২০১৬ সালে পটুয়াখালী সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির ছাত্র শীর্ষেন্দু বিশ্বাস প্রধানমন্ত্রী বরাবর পত্র প্রেরণ করে মির্জাগঞ্জ হতে পটুয়াখালী যাওয়ার জন্য পায়রা নদীর উপর সেতু নির্মাণের অনুরোধ জানায়। শীর্ষেন্দু বিশ্বাসের পত্রের জবাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মির্জাগঞ্জের পায়রা নদীতে একটি সেতু নির্মাণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে মর্মে তাকে আশ্বস্ত করেন। প্রস্তাবিত এই সেতুটি নির্মাণের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পত্র মারফত সেতু বিভাগকে অনুরোধ জানানো হয়।
বর্তমানে ডিপিপি অনুসারে ১০ একর জমি অধিগ্রহণের প্রশাসনিক অনুমোদন শেষে অধিগ্রহণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অতিরিক্ত জমি ডিপিপি সংশোধনপূর্বক অধিগ্রহণ করা হবে। গত ১২ আগস্ট ঠিকাদার নিয়োগের দরপত্র জমা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে দরপত্র মূল্যায়ন চলমান রয়েছে।
বুধবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সেতু এলাকা পরিদর্শনে যান বাংলাদেশ সেতু কতৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক ও সেতু বিভাগের সচিব মো. আবু বকর ছিদ্দীক।
তিনি বলেন, এটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব উপহার। একজন স্কুল ছাত্রের চিঠিতে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের সে মোতাবেক নির্দেশনা দিয়েছেন। তখনই আমরা কাজ শুরু করেছি। জমি অধিগ্রহণ শেষে পায়রাগঞ্জ সেতুর মূল কনস্ট্রাকশনের কাজ শুরু হবে।
এ সময় জেলা জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, সেতু কর্তৃপক্ষ ও সেতু বিভাগের কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
কচুয়া-বেতাগী-পটুয়াখালী-লোহালিয়া-কালাইয়া সড়কের ১৭ কিলোমিটারে (জেড ৮০৫২) পায়রা নদীর উপর পায়রাকুঞ্জ নামক স্থানে ১৬৯০.০০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের মাধ্যমে মির্জাগঞ্জ উপজেলার সাথে পটুয়াখালী সদর এবং ঢাকার সরাসরি ও নিরবচ্ছিন্ন এবং ব্যয় সাশ্রয়ী সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা করা।
পায়রা নদীর উপর প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হলে মির্জাগঞ্জ উপজেলার সাথে পটুয়াখালী সদরের ভ্রমণ সময় প্রায় দেড় ঘণ্টা হ্রাস পাবে এবং লেবুখালী ও পদ্মা সেতুর মাধ্যমে মির্জাগঞ্জ উপজেলার সাথে ঢাকার সরাসরি ও নিরবচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হবে।
সেতুর প্রাথমিক ডিজাইন অনুযায়ী বিআইডব্লিউটিএ এর শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী, এই রুটটি ১ম শ্রেণির হওয়ায় নৌযান চলাচলের সুবিধার্থে সেতুর ভার্টিক্যাল ক্লিয়ারেন্স ধরা হয়েছে ১৮.৩ মিটার। সেতুর মোট দৈর্ঘ্য ১,৬৯০ মিটার। এর মধ্যে মাঝের ১০০ মিটার দৈর্ঘ্যের ৯টি স্প্যান এবং উভয় প্রান্তে ৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের ২টি স্প্যান ও ৩০ মিটার দৈর্ঘ্যের ২৩টি স্প্যান রয়েছে। সেতুটি নির্মাণে প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ৪২ কোটি টাকা।
প্রকল্প বাস্তবায়নকালীন প্রকল্প এলাকার জনগণের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। তাছাড়া নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পরও সেতুর রক্ষণাবেক্ষণেও নতুন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। উক্ত এলাকায় নতুন নতুন শিল্প কারখানা প্রতিষ্ঠিত হবে। এতে কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ ঐ এলাকার জনগণের আয় বৃদ্ধি পাবে। যা জিডিপিতে অবদান রাখবে।
সেতু বিভাগের তথ্য মতে, পায়রা নদীর উপর সেতু নির্মাণে প্রকল্পের ডিপিপি ২০২০ সালে মার্চে একনেক সভায় অনুমোদিত হয়। ২০২৫ সালের মধ্যে সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ হবার কথা রয়েছে। শীর্ষেন্দু বর্তমানে সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষায় নবম শ্রেণি অধ্যয়রত।

























