সংবাদ শিরোনাম ::
জুলাই আন্দোলনের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে বাবুগঞ্জে জামায়াতের সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল বাবুগঞ্জে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত মাদারীপুরে ড্রাম বিস্ফোরণে শিশু শ্রমিকের করুণ মৃত্যু চাঞ্চল্যকর ঘটনা: চোরের আঙুল কামড়ে ছিঁড়ে ফেললেন গৃহবধূ, মোবাইল নিয়ে চম্পট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে ঝালকাঠিতে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও স্মারক সংবর্ধনা বরিশালে প্রবাসীর স্ত্রীর ঘর থেকে জামায়াতকর্মী আটক সভাপতি-আব্দুস সালাম, সাধারণ সম্পাদক- মনোয়ার হোসেন। বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি বাবুগঞ্জ উপজেলা শাখার ৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা সবুজ বাংলাদেশ গড়তে ঝালকাঠিতে ১ হাজার ৫শ গাছের চারা বিতরণ করেন জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট শাহাদাৎ হোসেন ৮২ নং পূর্ব চাঁদপাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি মনোনীত হলেন আইটি বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষানুরাগী ইঞ্জিনিয়ার তৌহিদুল ইসলাম মেমনগর বি.ডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পুনরায় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেলেন প্রভাষক মো. মশিউর রহমান

শেবাচিমে দেড় বছর ধরে তালাবদ্ধ বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৯:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২১ ৯২ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আজকের ক্রাইম ডেক্স ॥ বরিশাল শেরেবাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের প্রধান ফটকটি শুক্রবার বেলা দেড়টায় তালাবদ্ধ দেখা গেছে। তালা ও গেটে ধুলাবালুর স্তূপ দেখা বোঝা যায়— অনেকদিন সেটি খোলা হয়নি।

এসময় হাসপাতালের তৃতীয় ও পঞ্চম তলায় নারী ও পুরুষ সার্জারি বিভাগ এবং শিশু বিভাগে ৭০ জনেরও বেশি অগ্নিদগ্ধ রোগী চিকিৎসার অভাবে কাতরাচ্ছিলেন। ঢাকা থেকে বরগুনাগামী অভিযান-১০ লঞ্চের যাত্রী ছিলেন তারা। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে ঝালকাঠীর সুগন্ধা নদীতে লঞ্চটিতে অগ্নিকাণ্ড হলে দগ্ধ হন এ যাত্রীরা।

দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান চিকিৎসা কেন্দ্র শেবাচিম হাসপাতালের বার্ন ইউনিট দেড় বছর যাবত বন্ধ এবং বার্ন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় সুচিকিৎসা পাচ্ছেন না লঞ্চে অগ্নিদ্বদ্ধ যাত্রীরা। শেবাচিম হাসপতালের সার্জারি বিভাগের চিকিৎসকরা অগ্নিদগ্ধ রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন। রোগীর স্বজনরা জানান, এখানে চিকিৎসা বলতে শুধুমাত্র পোড়া জায়গায় মলমের প্রলেপ দেওয়া। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চিকিৎসক না থাকায় শেবাচিম হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগটি ২০২০ সালের ১৫ মে বন্ধ করে দেওয়া হয়।

হাসপাতালের নিচতলায় পূর্ব ব্লকে ১২টি শয্যা নিয়ে বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগ চালু হয় ২০১৫ সালের ১২ মার্চ। রোগীর চাপ থাকায় পরে সেটি ৩০ শয্যায় উন্নীত হয়। প্রতিদিন সেখানে অর্ধশতাধিক রোগী ভর্তি থাকতো। এ বিভাগে চিকিৎসকের ৮টি ও নার্সের ১৬টি পদ থাকলেও শুরু থেকে বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত মাত্র একজন চিকিৎসক দিয়ে বিভাগটি কার্যক্রম পরিচালিত হতো। একমাত্র চিকিৎসক সিনিয়র কনসালট্যন্ট ডা. এ এম সজল আজাদ ২০২০ সালের ২৮ এপ্রিল রহস্যজনকভাবে মারা যান। নগরীর মমতা স্পেশাইলজ হাসপাতালের লিফটের নিচে তার লাশ পাওয়া যায়।

তার মৃত্যুর পর থেকে বার্ন ইউনিটে অচলবস্থা নেমে আসে। চিকিৎসাসেবা স্বাভাবিক রাখতে ডা. শাখাওয়াত হোসেনকে দায়িত্ব দেওয়া হলেও প্রথমে তিনি ৬ মাসের ছুটিতে যান এবং পরে বদলি হয়ে যান। ফলে চিকিৎসক সংকটে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিভাগটি বন্ধ করে দেয়। এরপর থেকে শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা গুরুতর দগ্ধ রোগীদের ঢাকায় পাঠানো হয়। শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. সাইফুল ইসলাম শুক্রবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে সমকালকে জানান, অভিযান-১০ লঞ্চে অগ্নিকাণ্ড দগ্ধ ৭৮ জনকে শেবাচিম হাসপাতালে অনা হয়েছে।

এদের মধ্যে ৭ জন শিশু। ৮০ ভাগের ওপরে দগ্ধ হওয়া ৭ জনকে ঢাকায় শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে। শেবাচিম হাসপাতালের তথ্য প্রদানে দায়িত্বরত জাকারিয়া খান স্বপন বিকেল ৫টার দিকে জানান, অভিযান-১০ লঞ্চে অগ্নিদগ্ধ মোট ৭৮ জনকে ভর্তি করা হয়।

এদের মধ্যে ৭ জনকে উন্নত চিকিৎসকার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। এছাড়া দুপুরে এক শিশুর মৃত্যু হয়। বর্তমানে ৭০ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। স্বপন জানান, চিকিৎসার সুবিধার্তে দুপুরের পর দগ্ধ রোগীদের হাসপাতালের নাক-কান-গলা বিভাগের একটি কক্ষে নেওয়া হয়েছে। বিকেলে বিমানে ঢাকা থেকে ৫ জন বার্ন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বরিশালে পৌঁছেছেন।

বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপি বিকেল ৩টায় হেলিকপ্টারে বরিশালে পৌঁছে শেবাচিম হাসপতালে এসে দগ্ধ রোগীদের খোঁজখবর নেন। এসময় স্বাস্থ্য সচিব তার সঙ্গে ছিলেন। তারা দ্রুত বার্ন ইউনিট চালু করার নির্দেশ দিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

শেবাচিমে দেড় বছর ধরে তালাবদ্ধ বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগ

আপডেট সময় : ০৪:৩৯:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২১

আজকের ক্রাইম ডেক্স ॥ বরিশাল শেরেবাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের প্রধান ফটকটি শুক্রবার বেলা দেড়টায় তালাবদ্ধ দেখা গেছে। তালা ও গেটে ধুলাবালুর স্তূপ দেখা বোঝা যায়— অনেকদিন সেটি খোলা হয়নি।

এসময় হাসপাতালের তৃতীয় ও পঞ্চম তলায় নারী ও পুরুষ সার্জারি বিভাগ এবং শিশু বিভাগে ৭০ জনেরও বেশি অগ্নিদগ্ধ রোগী চিকিৎসার অভাবে কাতরাচ্ছিলেন। ঢাকা থেকে বরগুনাগামী অভিযান-১০ লঞ্চের যাত্রী ছিলেন তারা। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে ঝালকাঠীর সুগন্ধা নদীতে লঞ্চটিতে অগ্নিকাণ্ড হলে দগ্ধ হন এ যাত্রীরা।

দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান চিকিৎসা কেন্দ্র শেবাচিম হাসপাতালের বার্ন ইউনিট দেড় বছর যাবত বন্ধ এবং বার্ন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় সুচিকিৎসা পাচ্ছেন না লঞ্চে অগ্নিদ্বদ্ধ যাত্রীরা। শেবাচিম হাসপতালের সার্জারি বিভাগের চিকিৎসকরা অগ্নিদগ্ধ রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন। রোগীর স্বজনরা জানান, এখানে চিকিৎসা বলতে শুধুমাত্র পোড়া জায়গায় মলমের প্রলেপ দেওয়া। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চিকিৎসক না থাকায় শেবাচিম হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগটি ২০২০ সালের ১৫ মে বন্ধ করে দেওয়া হয়।

হাসপাতালের নিচতলায় পূর্ব ব্লকে ১২টি শয্যা নিয়ে বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগ চালু হয় ২০১৫ সালের ১২ মার্চ। রোগীর চাপ থাকায় পরে সেটি ৩০ শয্যায় উন্নীত হয়। প্রতিদিন সেখানে অর্ধশতাধিক রোগী ভর্তি থাকতো। এ বিভাগে চিকিৎসকের ৮টি ও নার্সের ১৬টি পদ থাকলেও শুরু থেকে বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত মাত্র একজন চিকিৎসক দিয়ে বিভাগটি কার্যক্রম পরিচালিত হতো। একমাত্র চিকিৎসক সিনিয়র কনসালট্যন্ট ডা. এ এম সজল আজাদ ২০২০ সালের ২৮ এপ্রিল রহস্যজনকভাবে মারা যান। নগরীর মমতা স্পেশাইলজ হাসপাতালের লিফটের নিচে তার লাশ পাওয়া যায়।

তার মৃত্যুর পর থেকে বার্ন ইউনিটে অচলবস্থা নেমে আসে। চিকিৎসাসেবা স্বাভাবিক রাখতে ডা. শাখাওয়াত হোসেনকে দায়িত্ব দেওয়া হলেও প্রথমে তিনি ৬ মাসের ছুটিতে যান এবং পরে বদলি হয়ে যান। ফলে চিকিৎসক সংকটে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিভাগটি বন্ধ করে দেয়। এরপর থেকে শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা গুরুতর দগ্ধ রোগীদের ঢাকায় পাঠানো হয়। শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. সাইফুল ইসলাম শুক্রবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে সমকালকে জানান, অভিযান-১০ লঞ্চে অগ্নিকাণ্ড দগ্ধ ৭৮ জনকে শেবাচিম হাসপাতালে অনা হয়েছে।

এদের মধ্যে ৭ জন শিশু। ৮০ ভাগের ওপরে দগ্ধ হওয়া ৭ জনকে ঢাকায় শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে। শেবাচিম হাসপাতালের তথ্য প্রদানে দায়িত্বরত জাকারিয়া খান স্বপন বিকেল ৫টার দিকে জানান, অভিযান-১০ লঞ্চে অগ্নিদগ্ধ মোট ৭৮ জনকে ভর্তি করা হয়।

এদের মধ্যে ৭ জনকে উন্নত চিকিৎসকার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। এছাড়া দুপুরে এক শিশুর মৃত্যু হয়। বর্তমানে ৭০ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। স্বপন জানান, চিকিৎসার সুবিধার্তে দুপুরের পর দগ্ধ রোগীদের হাসপাতালের নাক-কান-গলা বিভাগের একটি কক্ষে নেওয়া হয়েছে। বিকেলে বিমানে ঢাকা থেকে ৫ জন বার্ন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বরিশালে পৌঁছেছেন।

বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপি বিকেল ৩টায় হেলিকপ্টারে বরিশালে পৌঁছে শেবাচিম হাসপতালে এসে দগ্ধ রোগীদের খোঁজখবর নেন। এসময় স্বাস্থ্য সচিব তার সঙ্গে ছিলেন। তারা দ্রুত বার্ন ইউনিট চালু করার নির্দেশ দিয়েছেন।