সংবাদ শিরোনাম ::
ঘোড়াঘাটে প্রাথমিক বৃত্তি প্রাপ্ত ৭৬ জন শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা ঝালকাঠিতে ডোপ টেস্টেপজেটিভ আসায় ২ মাদকসেবী আটক মামলা তেঁতুলিয়ায় পল্লী উন্নয়ন বোর্ডে জনবল সংকট ছয় পদের বিপরীতে দায়িত্বে একজন জুলহাস উদ্দীন, তেঁতুলিয়ায় ড্রেজারকাণ্ডে মৃত ৫ জনসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা মামলা দাবীতে ৩ ঘণ্টা সড়ক অবরোধ মামরা প্রত্যারের দাবী উজিরপুরে উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে দুদকে আভিযোগ চুয়াডাঙ্গায় ভোরে নামাজ পড়ে ফেরার পথে সাপে কামড়ে এক মুসুল্লির মৃত্যু অভাবের সংসারে অসমাপ্ত ঘর, রেহানার পাশে হারুন মোল্লা ফাউন্ডেশন। বাবুগঞ্জে সালিশ বৈঠকে হামলার অভিযোগ, আহত একই পরিবারের ৩ কাঠালিয়ায় কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত ঘোড়াঘাটে মাদক সেবলের বিস্তার ৬ মাদক সেবীর কারাদন্ড উদ্বিগ্ন এলাকাবাসী

বাংলাদেশের পেঁয়াজের বাজার নিয়ে খেলছে ভারত! আজকের ক্রাইম-নিউজ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৫:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২০ ১১৮ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অনলাইন ডেস্ক
বাংলাদেশের বার্ষিক পেঁয়াজের চাহিদার ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ আমদানি নির্ভর। প্রায় ৮ থেকে ৯ লাখ টন পেঁয়াজ আমদানির বড় উৎস পাশের দেশ ভারত। আর এই নির্ভরতাকে পুঁজি করেই বিভিন্ন সময় পেঁয়াজের রপ্তানি মূল্য বাড়ানো, এমনকি রপ্তানি বন্ধের মত সিদ্ধান্ত নিতে দেখা যায় ভারত সরকারকে। এসবের জেরে গত বছরই বাংলাদেশের জনগণ ৩০০ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ কিনেছে, এবারও কোন পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই ১৪ সেপ্টেম্বর পেঁয়াজের রপ্তানি বন্ধ করলে কয়েকদিনের ব্যবধানে খুচরা পর্যায়ে পেঁয়াজের কেজি ছাড়ায় ১০০ টাকা। ভালো দাম পাওয়ার আশায় তখন দেশের কৃষকরা শীতকালিন মুরিকাটা পেঁয়াজ চাষে জোর দেয়। বর্তমানে সে পেঁয়াজ বাজারে আসতেও শুরু করেছে।

ঠিক এমন সময়ে, ভারতের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রণালয় পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিচ্ছে, পহেলা জানুয়ারি থেকে আবারো শুরু করা যাবে রপ্তানি। এক টুইট বার্তায় সরকারের এ সিদ্ধান্তকে ‘কৃষক বান্ধব’ বলে উল্লেখ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী পিযুস গয়াল। কিন্তু ভারতের কৃষকদের লাভ নিশ্চিতে নেওয়া রপ্তানির এই সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের কৃষকরা লোকসানে পড়বেন বলে আশঙ্কা পাইকারি ব্যবসায়ীদের।
মঙ্গলবার (২৯ ডিসেম্বর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারের এক আড়তদার বলেন, নতুন পেঁয়াজ আসা শুরু হয়েছে, পেঁয়াজের মানও ভালো,আকারেও বড়। এসব পেঁয়াজ এখন বিক্রি হচ্ছে মানভেদে ৩০ থেকে ৩৮-৪০ টাকা কেজিতে। সামনের সপ্তাহের মধ্যে পুরোদমে উঠবে দেশী মুরিকাটা পেঁয়াজ। তাই এখন ভারত থেকে আমদানির কোনো প্রয়োজন নেই। আরেকজন বলেন যে দাম এখন কৃষকরা পাচ্ছে, আমদানি হলে দাম ২০-২৫ টাকায় নেমে যেতে পারে। তখন কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে, আর পেঁয়াজ চাষে উৎসাহ পাবে না। তখন আমদানি নির্ভরতা বাড়বে।
বর্তমানে রাজধানীর খুচরা বাজারে ৪০ থেকে ৪৮ টাকা কেজি দরে নতুন পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। এ দামকে যৌক্তিক বলছেন ক্রেতারাও। তাদের মতে, বাজারে সবজির যে দাম তাতে পেঁয়াজের বর্তমান দাম স্বাভাবিক বলা যায়। এতে ক্রেতা ও কৃষক উভয়ই লাভবান হবেন। কৃষকের লোকসান যাতে না হয় সেটাও নীতি নির্ধারকদের মাথায় রাখার আহ্বান করেন ক্রেতারা। শ্যামবাজারের এক আড়ৎদার বলেন, আমাদের দেশের কৃষকরা যখন মাঠ থেকে নতুন পেঁয়াজ তুলে তখন ভারত রপ্তানি করে, আবার যখন কৃষকের কাছে পেঁয়াজ থাকেনা, তখন পেঁয়াজ পাঠানো বন্ধ করে দেয়। ‘প্রতিবছর হয়’ উল্লেখ করে তিনি বলেন এটা ভারতের একরকম খেলা।
তবে এখন বাজারে ওঠা শীতকালীন মুরিকাটা পেঁয়াজ বেশিদিন সংরক্ষণ করা যায়না, তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন ভারত থেকে আমদানি নির্ভরতা কমাতে বা বন্ধ করতে জোর দিতে হবে গ্রীষ্মকালিন পেঁয়াজের আবাদে। কৃষি বিশেষজ্ঞ নজরুল ইসলাম বলেন, সরকার যদি কৃষকের পেঁয়াজের একটা দাম নির্ধারণ করে দেয়, এবং তা বাজারে নিশ্চিত করে, সেটা ২৫-২৭ টাকা কেজি হতে পারে। উৎপাদন খরচের সাথে লাভ যোগ করে। এতে কৃষকরা উৎসাহ পাবে, আর ভবিষ্যতে ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ করতে সারকারি প্রণোদনা, সার, বীজ, স্বল্পসুদে ঋণ নিশ্চিত করে বিপণন ব্যবস্থাপকদের আরো শক্তিশালী করতে পারলে লক্ষ্য পূরণ করা যাবে। এমনকি রপ্তানির আশাও দেখেন তিনি।
এবছর ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করলে শুল্কমুক্ত পেঁয়াজ আমদানির সুযোগে ব্যবসায়ীরা তুরস্ক, চীন, মিয়ানমার ও মিশর থেকে আমদানি করে। এতে ১০০ টাকা পার হওয়া পেঁয়াজের কেজি কমে ৫০ টাকার নিচে নামে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বাংলাদেশের পেঁয়াজের বাজার নিয়ে খেলছে ভারত! আজকের ক্রাইম-নিউজ

আপডেট সময় : ০৯:৪৫:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২০

অনলাইন ডেস্ক
বাংলাদেশের বার্ষিক পেঁয়াজের চাহিদার ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ আমদানি নির্ভর। প্রায় ৮ থেকে ৯ লাখ টন পেঁয়াজ আমদানির বড় উৎস পাশের দেশ ভারত। আর এই নির্ভরতাকে পুঁজি করেই বিভিন্ন সময় পেঁয়াজের রপ্তানি মূল্য বাড়ানো, এমনকি রপ্তানি বন্ধের মত সিদ্ধান্ত নিতে দেখা যায় ভারত সরকারকে। এসবের জেরে গত বছরই বাংলাদেশের জনগণ ৩০০ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ কিনেছে, এবারও কোন পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই ১৪ সেপ্টেম্বর পেঁয়াজের রপ্তানি বন্ধ করলে কয়েকদিনের ব্যবধানে খুচরা পর্যায়ে পেঁয়াজের কেজি ছাড়ায় ১০০ টাকা। ভালো দাম পাওয়ার আশায় তখন দেশের কৃষকরা শীতকালিন মুরিকাটা পেঁয়াজ চাষে জোর দেয়। বর্তমানে সে পেঁয়াজ বাজারে আসতেও শুরু করেছে।

ঠিক এমন সময়ে, ভারতের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রণালয় পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিচ্ছে, পহেলা জানুয়ারি থেকে আবারো শুরু করা যাবে রপ্তানি। এক টুইট বার্তায় সরকারের এ সিদ্ধান্তকে ‘কৃষক বান্ধব’ বলে উল্লেখ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী পিযুস গয়াল। কিন্তু ভারতের কৃষকদের লাভ নিশ্চিতে নেওয়া রপ্তানির এই সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের কৃষকরা লোকসানে পড়বেন বলে আশঙ্কা পাইকারি ব্যবসায়ীদের।
মঙ্গলবার (২৯ ডিসেম্বর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারের এক আড়তদার বলেন, নতুন পেঁয়াজ আসা শুরু হয়েছে, পেঁয়াজের মানও ভালো,আকারেও বড়। এসব পেঁয়াজ এখন বিক্রি হচ্ছে মানভেদে ৩০ থেকে ৩৮-৪০ টাকা কেজিতে। সামনের সপ্তাহের মধ্যে পুরোদমে উঠবে দেশী মুরিকাটা পেঁয়াজ। তাই এখন ভারত থেকে আমদানির কোনো প্রয়োজন নেই। আরেকজন বলেন যে দাম এখন কৃষকরা পাচ্ছে, আমদানি হলে দাম ২০-২৫ টাকায় নেমে যেতে পারে। তখন কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে, আর পেঁয়াজ চাষে উৎসাহ পাবে না। তখন আমদানি নির্ভরতা বাড়বে।
বর্তমানে রাজধানীর খুচরা বাজারে ৪০ থেকে ৪৮ টাকা কেজি দরে নতুন পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। এ দামকে যৌক্তিক বলছেন ক্রেতারাও। তাদের মতে, বাজারে সবজির যে দাম তাতে পেঁয়াজের বর্তমান দাম স্বাভাবিক বলা যায়। এতে ক্রেতা ও কৃষক উভয়ই লাভবান হবেন। কৃষকের লোকসান যাতে না হয় সেটাও নীতি নির্ধারকদের মাথায় রাখার আহ্বান করেন ক্রেতারা। শ্যামবাজারের এক আড়ৎদার বলেন, আমাদের দেশের কৃষকরা যখন মাঠ থেকে নতুন পেঁয়াজ তুলে তখন ভারত রপ্তানি করে, আবার যখন কৃষকের কাছে পেঁয়াজ থাকেনা, তখন পেঁয়াজ পাঠানো বন্ধ করে দেয়। ‘প্রতিবছর হয়’ উল্লেখ করে তিনি বলেন এটা ভারতের একরকম খেলা।
তবে এখন বাজারে ওঠা শীতকালীন মুরিকাটা পেঁয়াজ বেশিদিন সংরক্ষণ করা যায়না, তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন ভারত থেকে আমদানি নির্ভরতা কমাতে বা বন্ধ করতে জোর দিতে হবে গ্রীষ্মকালিন পেঁয়াজের আবাদে। কৃষি বিশেষজ্ঞ নজরুল ইসলাম বলেন, সরকার যদি কৃষকের পেঁয়াজের একটা দাম নির্ধারণ করে দেয়, এবং তা বাজারে নিশ্চিত করে, সেটা ২৫-২৭ টাকা কেজি হতে পারে। উৎপাদন খরচের সাথে লাভ যোগ করে। এতে কৃষকরা উৎসাহ পাবে, আর ভবিষ্যতে ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ করতে সারকারি প্রণোদনা, সার, বীজ, স্বল্পসুদে ঋণ নিশ্চিত করে বিপণন ব্যবস্থাপকদের আরো শক্তিশালী করতে পারলে লক্ষ্য পূরণ করা যাবে। এমনকি রপ্তানির আশাও দেখেন তিনি।
এবছর ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করলে শুল্কমুক্ত পেঁয়াজ আমদানির সুযোগে ব্যবসায়ীরা তুরস্ক, চীন, মিয়ানমার ও মিশর থেকে আমদানি করে। এতে ১০০ টাকা পার হওয়া পেঁয়াজের কেজি কমে ৫০ টাকার নিচে নামে।