সংবাদ শিরোনাম ::
তেঁতুলিয়ায় আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা কাঠালিয়ায় আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উদযাপিত: বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত তেঁতুলিয়ায় বাবার স্মরণে শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ করলেন ছেলে বরিশালে পুলিশ সদস্যের বাড়িতে অস্ত্রের মুখে ডাকাতি জীবননগর উথলী ঘর থেকে পঁচা দুর্গন্ধময় ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার ঘোড়াঘাটে ৫৩ পরিবারের জন্য বরাদ্দকৃত বিল ব্যক্তির হাতে: শর্ত ভেঙে তৃতীয় পক্ষকে ইজারা ঝালকাঠিতে দুর্নীতিবিরোধী বিতর্ক, রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত বাবুগঞ্জে গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ১ কাঁঠালিয়ায় খেলাধুলা কেন্দ্রিক বিরোধে ছাত্রীদের ওপর হামলার অভিযোগ: ইউএনও’র কাছে বিচারের দাবি দামুড়হুদায় দু’পরিবারের মারামারিতে আহত ফরিদের হাসপাতালে মৃত্যু

ঘোড়াঘাটে ৫৩ পরিবারের জন্য বরাদ্দকৃত বিল ব্যক্তির হাতে: শর্ত ভেঙে তৃতীয় পক্ষকে ইজারা

ঘোড়াঘাটে ৫৩ পরিবারের জন্য বরাদ্দকৃত বিল ব্যক্তির হাতে: শর্ত ভেঙে তৃতীয় পক্ষকে ইজারা

মাহাতাব উদ্দিন আল মাহমুদ ঘোড়াঘাট, (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট সময় : ০৩:০৬:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪৪ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার বুলাকীপুর ইউনিয়নের ভেলাইন আয়মারা বিল আদর্শগ্রাম আশ্রয়ণ প্রকল্পের সরকারি বিল নিয়ম উপেক্ষা করে ১৫ লাখ টাকায় পাঁচ বছর মেয়াদে আশরাফুল নামে এক ব্যক্তির কাছে লিজ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিলটি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৫৩টি উপকারভোগী সদস্যদের সমিতির নামে ডি.সি.আর মূলে মাছ চাষ ও জীবিকা নির্বাহের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উপকারভোগীরা নিজেরা মাছ চাষ না করে ভেলাইন আদর্শগ্রাম সমবায় সমিতি লিমিটেডের মাধ্যমে বিলটি আওয়ামীলীগ নেতা মোঃ আশরাফুল আলম নামে এক ব্যক্তির কাছে প্রায় ১৫ লাখ টাকায় পাঁচ বছর মেয়াদী লিজ দিয়েছে। এতে প্রকৃত উপকারভোগীরা সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি সরকারও সম্ভাব্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৫৩টি পরিবারকে মাছ চাষের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করার উদ্দেশ্যে উপজেলার বুলাকীপুর ইউনিয়নের ভেলাইন মৌজার ৫.৮৭ একর পরিমানের বিলটি পাঁচ বছরের জন্য সমিতির নামে ডি.সি.আর দেওয়া হয়। সমবায় ভিত্তিতে মাছ চাষ করে উপকারভোগীদের আর্থিক অবস্থার উন্নয়ন করাই ছিল এর মূল লক্ষ্য। তবে অভিযোগ রয়েছে, সেই উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন না করে বিলটি তৃতীয় পক্ষের (থার্ড পার্টি) কাছে লিজ দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের এক বাসিন্দা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বিলটি ইজারা দেওয়া হলে সরকার উল্লেখযোগ্য রাজস্ব পেতে পারতো। একই সঙ্গে ডি.সি.আর- এর শর্ত ভঙ্গ করে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া অন্য ব্যক্তির কাছে সাব-লিজ দেওয়ার অভিযোগও তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, আয়মারা বিলটি উপকারভোগীরা নিজেরা ব্যবহার করলে ৫৩টি পরিবারই লাভবান হতো। তাই দ্রুত তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

ভেলাইন আদর্শগ্রাম সমবায় সমিতি লিমিটেডের সদস্য আমিন ও মাহফুজসহ অন্যান্য সদস্যরা বলেন আমাদের সদস্যদের মাছ চাষের জন্য অর্থ না থাকায় মৎস্য চাষে আশরাফুলের সাথে আমরা শেয়ারে মাছ চাষ করছি। এ মাছ চাষের মুনাফা এ সমিতির সদস্যরা প্রতিবছর সমভাবে বন্টন করে নিই। তবে গত কয়েক বছর ধরে আশরাফুলের মাধ্যমে মাছ চাষ করছেন বলে সমিতির সদস্যরা স্বীকার করেন।

মৎস্যচাষী আশরাফুল আলম বলেন, পুকুরটি তিনি কোনোভাবেই লিজ নেননি। আশ্রয়ণ প্রকল্পের সমিতির সদস্যরাই পুকুরটির দেখাশোনা ও মাছ চাষের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তিনি শুধু মাছের পোনা ও খাদ্য দিয়ে তাদের সহযোগিতা করছেন। পুকুরটি লিজ নেওয়ার বিষয়ে তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে, তা সঠিক নয় বলেও তিনি দাবি করেন।

এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল আল মামুন কাওছার শেখ জানান, আশ্রয়ণ প্রকল্পের উপকারভোগীদের স্বাবলম্বী করার উদ্দেশ্যে সরকারি খাস বিল বরাদ্দ দেওয়া হয়। ইজারার শর্ত ভঙ্গ করে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া তৃতীয় পক্ষের কাছে সাব-লিজ দেওয়া সম্পূর্ণ অবৈধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া ইজারাকৃত সরকারি সম্পত্তি অন্যের কাছে সাব-লিজ দিতে পারে না।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ঘোড়াঘাটে ৫৩ পরিবারের জন্য বরাদ্দকৃত বিল ব্যক্তির হাতে: শর্ত ভেঙে তৃতীয় পক্ষকে ইজারা

ঘোড়াঘাটে ৫৩ পরিবারের জন্য বরাদ্দকৃত বিল ব্যক্তির হাতে: শর্ত ভেঙে তৃতীয় পক্ষকে ইজারা

আপডেট সময় : ০৩:০৬:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার বুলাকীপুর ইউনিয়নের ভেলাইন আয়মারা বিল আদর্শগ্রাম আশ্রয়ণ প্রকল্পের সরকারি বিল নিয়ম উপেক্ষা করে ১৫ লাখ টাকায় পাঁচ বছর মেয়াদে আশরাফুল নামে এক ব্যক্তির কাছে লিজ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিলটি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৫৩টি উপকারভোগী সদস্যদের সমিতির নামে ডি.সি.আর মূলে মাছ চাষ ও জীবিকা নির্বাহের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উপকারভোগীরা নিজেরা মাছ চাষ না করে ভেলাইন আদর্শগ্রাম সমবায় সমিতি লিমিটেডের মাধ্যমে বিলটি আওয়ামীলীগ নেতা মোঃ আশরাফুল আলম নামে এক ব্যক্তির কাছে প্রায় ১৫ লাখ টাকায় পাঁচ বছর মেয়াদী লিজ দিয়েছে। এতে প্রকৃত উপকারভোগীরা সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি সরকারও সম্ভাব্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৫৩টি পরিবারকে মাছ চাষের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করার উদ্দেশ্যে উপজেলার বুলাকীপুর ইউনিয়নের ভেলাইন মৌজার ৫.৮৭ একর পরিমানের বিলটি পাঁচ বছরের জন্য সমিতির নামে ডি.সি.আর দেওয়া হয়। সমবায় ভিত্তিতে মাছ চাষ করে উপকারভোগীদের আর্থিক অবস্থার উন্নয়ন করাই ছিল এর মূল লক্ষ্য। তবে অভিযোগ রয়েছে, সেই উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন না করে বিলটি তৃতীয় পক্ষের (থার্ড পার্টি) কাছে লিজ দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের এক বাসিন্দা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বিলটি ইজারা দেওয়া হলে সরকার উল্লেখযোগ্য রাজস্ব পেতে পারতো। একই সঙ্গে ডি.সি.আর- এর শর্ত ভঙ্গ করে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া অন্য ব্যক্তির কাছে সাব-লিজ দেওয়ার অভিযোগও তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, আয়মারা বিলটি উপকারভোগীরা নিজেরা ব্যবহার করলে ৫৩টি পরিবারই লাভবান হতো। তাই দ্রুত তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

ভেলাইন আদর্শগ্রাম সমবায় সমিতি লিমিটেডের সদস্য আমিন ও মাহফুজসহ অন্যান্য সদস্যরা বলেন আমাদের সদস্যদের মাছ চাষের জন্য অর্থ না থাকায় মৎস্য চাষে আশরাফুলের সাথে আমরা শেয়ারে মাছ চাষ করছি। এ মাছ চাষের মুনাফা এ সমিতির সদস্যরা প্রতিবছর সমভাবে বন্টন করে নিই। তবে গত কয়েক বছর ধরে আশরাফুলের মাধ্যমে মাছ চাষ করছেন বলে সমিতির সদস্যরা স্বীকার করেন।

মৎস্যচাষী আশরাফুল আলম বলেন, পুকুরটি তিনি কোনোভাবেই লিজ নেননি। আশ্রয়ণ প্রকল্পের সমিতির সদস্যরাই পুকুরটির দেখাশোনা ও মাছ চাষের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তিনি শুধু মাছের পোনা ও খাদ্য দিয়ে তাদের সহযোগিতা করছেন। পুকুরটি লিজ নেওয়ার বিষয়ে তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে, তা সঠিক নয় বলেও তিনি দাবি করেন।

এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল আল মামুন কাওছার শেখ জানান, আশ্রয়ণ প্রকল্পের উপকারভোগীদের স্বাবলম্বী করার উদ্দেশ্যে সরকারি খাস বিল বরাদ্দ দেওয়া হয়। ইজারার শর্ত ভঙ্গ করে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া তৃতীয় পক্ষের কাছে সাব-লিজ দেওয়া সম্পূর্ণ অবৈধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া ইজারাকৃত সরকারি সম্পত্তি অন্যের কাছে সাব-লিজ দিতে পারে না।