সংবাদ শিরোনাম ::
ঘোড়াঘাটে প্রাথমিক বৃত্তি প্রাপ্ত ৭৬ জন শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা ঝালকাঠিতে ডোপ টেস্টেপজেটিভ আসায় ২ মাদকসেবী আটক মামলা তেঁতুলিয়ায় পল্লী উন্নয়ন বোর্ডে জনবল সংকট ছয় পদের বিপরীতে দায়িত্বে একজন জুলহাস উদ্দীন, তেঁতুলিয়ায় ড্রেজারকাণ্ডে মৃত ৫ জনসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা মামলা দাবীতে ৩ ঘণ্টা সড়ক অবরোধ মামরা প্রত্যারের দাবী উজিরপুরে উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে দুদকে আভিযোগ চুয়াডাঙ্গায় ভোরে নামাজ পড়ে ফেরার পথে সাপে কামড়ে এক মুসুল্লির মৃত্যু অভাবের সংসারে অসমাপ্ত ঘর, রেহানার পাশে হারুন মোল্লা ফাউন্ডেশন। বাবুগঞ্জে সালিশ বৈঠকে হামলার অভিযোগ, আহত একই পরিবারের ৩ কাঠালিয়ায় কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত ঘোড়াঘাটে মাদক সেবলের বিস্তার ৬ মাদক সেবীর কারাদন্ড উদ্বিগ্ন এলাকাবাসী

গভীর রাতে গাড়ি থামাতে পুলিশের সিগন্যাল, গাড়ি থেকে নেমে হতবাক চালক। আজকের ক্রাইম-নিউজ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৪২:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২০ ৩০৫ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

এম.এ.আর নয়ন:

ঘড়ির কাঁটায় রাত তখন তিনটা। পুলিশ সদস্যরা বেছেবেছে নৈশকোচ এবং লং রুটের ট্রাকগুলোকে দাঁড় করাচ্ছেন একের পর এক। এরপর গাড়ি থেকে নামানো হচ্ছে চালক ও তার সহকারীকে। বেশিরভাগ চালকই হয়তো এটাকে পুলিশের চাঁদাবাজির নয়া কৌশল ভেবে বিভিন্ন অজুহাতে নামতে চাচ্ছেন না। অনেকে আবার টাকা-পয়সা দিয়ে পার পেয়ে চলে যাওয়ার রাস্তা খুঁজছেন। কিন্তু পরে যখন দেখছেন কেটলি হাতে চা-কফি নিয়ে এগিয়ে আসছেন পুলিশসদস্যরা, তখনই ভুল ভাঙে তাদের।

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং যানজট ও সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস করতে গত বেশ কিছুদিন ধরেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (রাউজান-রাঙ্গুনিয়া সার্কেল) মো. আনোয়ার হোসেন শামীম। এবার রাত্রিকালীন সড়ক দুর্ঘটনার প্রধানতম কারণ চালকদের ঘুমঘুম চোখে গাড়ি চালানো বন্ধে তিনি চালু করলেন নতুন এক সচেতনতামূলক উদ্যোগ ‘রিফ্রেশমেন্ট কর্নার’। নৈশ কোচ ও ট্রাক চালকদেরকে এই অস্থায়ী বিশ্রামাগারে থামিয়ে গরম পানিতে মুখ ধোয়া, চা-বিস্কুট খাওয়ানোর পাশাপাশি চোখে ঘুম জড়ানো অবস্থায় গাড়ি চালানোর বিপদ সম্পর্কে উপদেশ দিচ্ছেন সার্কেল এএসপি।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মূলত গত ১ মাস ধরেই উত্তর চট্টগ্রামের প্রাণ খ্যাত চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়ক এবং চট্টগ্রাম -রাঙ্গামাটি আঞ্চলিক মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্ট জুড়ে এই ব্যতিক্রমী কার্যক্রম পরিচালনা করছে পুলিশ। জনৈক এক ব্যক্তি এই প্রতিবেককে জানান, গত শুক্রবার দিবাগত রাত তিনটার সময় ওই সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি দেখতে পান যে, রাউজান পাহাড়তলী বাজার সংলগ্ন এলাকায় রাস্তার পাশে তৈরি হয়েছে পুলিশের এই বিশেষ অস্থায়ী বিশ্রামাগার। গাড়ি থেকে নামানোর পর বেশ কিছুক্ষণ চালক ও সহকারীদের সঙ্গে গল্প জুড়ছেন সার্কেল এএসপিসহ অন্য পুলিশসদস্যরা। ঝিমুনি প্রতিরোধে সেখানে রাখছেন হাত-মুখ ও ঘাড়ে পানি দিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থাও। তারপর ওয়ানটাইম কাপে চা, সঙ্গে বিস্কুট খাইয়ে, সাবধানে গাড়ি চালানোর পরামর্শ দিয়ে তবেই গন্তব্যস্থলের দিকে রওনা করিয়ে দিচ্ছেন তাদেরকে।

এ প্রসঙ্গে এএসপি মো. আনোয়ার হোসেন শামীম জানান, “শীতের রাতে গাড়ি চালাতে চালাতে অনেক চালকেরই ঘে চোখ বন্ধ হয়ে আসে। অসাবধানতায় প্রায়ই ঘটে যায় ছোট-বড় দুর্ঘটনা। এ প্রেক্ষিতে চালকদের সচেতন করার লক্ষ্যেই মূলত মুখ ধোয়ার জন্য গরম পানি এবং চা-বিস্কিটের ব্যবস্থা সহযোগে আমাদের এই রিফ্রেশমেন্ট কর্নার। কিন্তু আমাদের পক্ষে তো সকল চালকের মুখোমুখি হওয়া বা সবার সাথে কথা বলা সম্ভব নয়। তাই যাদেরকে পাচ্ছি, তাদেরকেই অনুরোধ করছি তারা যেন তাদের সকল সহকর্মীর নিকট আমাদের বার্তটি পৌঁছে দেন।”

এই গভীর রাতে চোখেমুখে পানি দেওয়ার পর হাতে গরম চা ও বিস্কুট পেয়ে স্বাভাবিকভাবেই হাসি ফুটছে চালকদের মুখে। তাঁরা জানান, “এটা পুলিশের খুবই ভালো উদ্যোগ। অনেক সময়ই ঘুম চলে আসে গাড়ি চালানোর সময়। পুলিশ যে আমাদের জন্য এতটা ভাবছে এটা সত্যিই গর্বের ব্যাপার”। দেশের সকল গুরুত্বপূর্ণ সড়ক- মহাসড়কে স্থায়ীভাবে এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন বলেও মত তাদের।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

গভীর রাতে গাড়ি থামাতে পুলিশের সিগন্যাল, গাড়ি থেকে নেমে হতবাক চালক। আজকের ক্রাইম-নিউজ

আপডেট সময় : ০৯:৪২:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২০

এম.এ.আর নয়ন:

ঘড়ির কাঁটায় রাত তখন তিনটা। পুলিশ সদস্যরা বেছেবেছে নৈশকোচ এবং লং রুটের ট্রাকগুলোকে দাঁড় করাচ্ছেন একের পর এক। এরপর গাড়ি থেকে নামানো হচ্ছে চালক ও তার সহকারীকে। বেশিরভাগ চালকই হয়তো এটাকে পুলিশের চাঁদাবাজির নয়া কৌশল ভেবে বিভিন্ন অজুহাতে নামতে চাচ্ছেন না। অনেকে আবার টাকা-পয়সা দিয়ে পার পেয়ে চলে যাওয়ার রাস্তা খুঁজছেন। কিন্তু পরে যখন দেখছেন কেটলি হাতে চা-কফি নিয়ে এগিয়ে আসছেন পুলিশসদস্যরা, তখনই ভুল ভাঙে তাদের।

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং যানজট ও সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস করতে গত বেশ কিছুদিন ধরেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (রাউজান-রাঙ্গুনিয়া সার্কেল) মো. আনোয়ার হোসেন শামীম। এবার রাত্রিকালীন সড়ক দুর্ঘটনার প্রধানতম কারণ চালকদের ঘুমঘুম চোখে গাড়ি চালানো বন্ধে তিনি চালু করলেন নতুন এক সচেতনতামূলক উদ্যোগ ‘রিফ্রেশমেন্ট কর্নার’। নৈশ কোচ ও ট্রাক চালকদেরকে এই অস্থায়ী বিশ্রামাগারে থামিয়ে গরম পানিতে মুখ ধোয়া, চা-বিস্কুট খাওয়ানোর পাশাপাশি চোখে ঘুম জড়ানো অবস্থায় গাড়ি চালানোর বিপদ সম্পর্কে উপদেশ দিচ্ছেন সার্কেল এএসপি।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মূলত গত ১ মাস ধরেই উত্তর চট্টগ্রামের প্রাণ খ্যাত চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়ক এবং চট্টগ্রাম -রাঙ্গামাটি আঞ্চলিক মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্ট জুড়ে এই ব্যতিক্রমী কার্যক্রম পরিচালনা করছে পুলিশ। জনৈক এক ব্যক্তি এই প্রতিবেককে জানান, গত শুক্রবার দিবাগত রাত তিনটার সময় ওই সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি দেখতে পান যে, রাউজান পাহাড়তলী বাজার সংলগ্ন এলাকায় রাস্তার পাশে তৈরি হয়েছে পুলিশের এই বিশেষ অস্থায়ী বিশ্রামাগার। গাড়ি থেকে নামানোর পর বেশ কিছুক্ষণ চালক ও সহকারীদের সঙ্গে গল্প জুড়ছেন সার্কেল এএসপিসহ অন্য পুলিশসদস্যরা। ঝিমুনি প্রতিরোধে সেখানে রাখছেন হাত-মুখ ও ঘাড়ে পানি দিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থাও। তারপর ওয়ানটাইম কাপে চা, সঙ্গে বিস্কুট খাইয়ে, সাবধানে গাড়ি চালানোর পরামর্শ দিয়ে তবেই গন্তব্যস্থলের দিকে রওনা করিয়ে দিচ্ছেন তাদেরকে।

এ প্রসঙ্গে এএসপি মো. আনোয়ার হোসেন শামীম জানান, “শীতের রাতে গাড়ি চালাতে চালাতে অনেক চালকেরই ঘে চোখ বন্ধ হয়ে আসে। অসাবধানতায় প্রায়ই ঘটে যায় ছোট-বড় দুর্ঘটনা। এ প্রেক্ষিতে চালকদের সচেতন করার লক্ষ্যেই মূলত মুখ ধোয়ার জন্য গরম পানি এবং চা-বিস্কিটের ব্যবস্থা সহযোগে আমাদের এই রিফ্রেশমেন্ট কর্নার। কিন্তু আমাদের পক্ষে তো সকল চালকের মুখোমুখি হওয়া বা সবার সাথে কথা বলা সম্ভব নয়। তাই যাদেরকে পাচ্ছি, তাদেরকেই অনুরোধ করছি তারা যেন তাদের সকল সহকর্মীর নিকট আমাদের বার্তটি পৌঁছে দেন।”

এই গভীর রাতে চোখেমুখে পানি দেওয়ার পর হাতে গরম চা ও বিস্কুট পেয়ে স্বাভাবিকভাবেই হাসি ফুটছে চালকদের মুখে। তাঁরা জানান, “এটা পুলিশের খুবই ভালো উদ্যোগ। অনেক সময়ই ঘুম চলে আসে গাড়ি চালানোর সময়। পুলিশ যে আমাদের জন্য এতটা ভাবছে এটা সত্যিই গর্বের ব্যাপার”। দেশের সকল গুরুত্বপূর্ণ সড়ক- মহাসড়কে স্থায়ীভাবে এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন বলেও মত তাদের।