সংবাদ শিরোনাম ::
রডের বদলে বাঁশের কঞ্চি: ভেঙ্গে দিয়েছে প্রাশাসন ​ঝালকাঠিতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে ‘জাতীয় ফল মেলা-২০২৬’ অনুষ্ঠিত তেঁতুলিয়ায় ইউএনওকে মিথ্যা অপবাদে ফাঁসানোর চেষ্টার প্রতিবাদে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিবাদ সমাবেশ, চান নিরাপদ কর্ম পরিবেশ উজিরপুরের গুঠিয়া ব্রিজে উড়ছে “রহস্যময়” সাদা পতাকা বানারীপাড়ার ছাত্রলীগ নেতা ফজলে রাব্বী ঢাকায় গ্রেপ্তার আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকের কোটি টাকা আত্মসাৎ করে উধাও ব্যাংক ক্যাশিয়ার ঝালকাঠিতে মৎস্য আইন রক্ষায় অভিযান: জব্দ ২৭টি চায়না দুয়ারী জাল ধ্বংস বাবুগঞ্জে আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত ঝালকাঠি জেলা যুবলীগের আহবায়ক রেজাউল করিম জাকির কারাগারে প্রেরণ চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা

রডের বদলে বাঁশের কঞ্চি: ভেঙ্গে দিয়েছে প্রাশাসন

আজকের ক্রাইম ডেক্স
  • আপডেট সময় : ০৬:১৭:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬ ২৩ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রডের পরিবর্তে বাঁশের কঞ্চি! রূপকথার গল্প মনে হলেও এমনই এক অবিশ্বাস্য জালিয়াতির সত্যতা মিলেছে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায়। উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নে নির্মাণাধীন একটি আয়রন ব্রিজ পরিদর্শনে গিয়ে খোদ প্রশাসনই এই অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে ব্রিজের একটি অংশ ভাঙতেই বেরিয়ে আসে রডের জায়গায় লুকিয়ে রাখা বাঁশের কঞ্চি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রত্নপুর ইউনিয়নে প্রায় ৪৫ ফুট দীর্ঘ একটি আয়রন ব্রিজ নির্মাণের কাজ চলছিল। প্রকল্পের সরকারি নকশা অনুযায়ী, ব্রিজটিতে নির্ধারিত পরিমাণ রড এবং ৫ ইঞ্চি পুরু কংক্রিট ঢালাই দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কাজ শুরু হতেই স্থানীয়দের খটকা লাগে। তাদের অভিযোগ ছিল, ঢালাইয়ের পুরুত্ব অনেক কমিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং ভেতরে প্রয়োজনীয় রডের বদলে ব্যবহার করা হচ্ছে বাঁশের কঞ্চি।

অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে গত সোমবার (২৯ জুন) বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিখন বণিক এবং উপজেলা প্রকৌশলী রবীন্দ্র চক্রবর্তী। প্রশাসনের উপস্থিতিতে ব্রিজের একটি অংশ ভেঙে পরীক্ষা করা হলে স্থানীয়দের অভিযোগের শতভাগ সত্যতা মেলে।

সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী জানান, “ভেঙে ফেলা অংশে রডের পাশাপাশি বাঁশের কঞ্চি পাওয়া গেছে, যা কোনোভাবেই নির্মাণ কাঠামোর নিয়মের মধ্যে পড়ে না এবং এটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ।”

অনিয়ম প্রমাণিত হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে ব্রিজের ত্রুটিপূর্ণ অংশটি আংশিক ভেঙে ফেলা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন আশ্বস্ত করেছে যে, এই জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

এই ঘটনার পর পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, জননিরাপত্তাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে যারা এই ধরনের জঘন্য অপরাধ করেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

এদিকে সচেতন মহল মনে করছেন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এবং এমন অনিয়ম রুখতে নিয়মিত তদারকি ও কঠোর নজরদারি আরও জোরদার করা এখন সময়ের দাবি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

রডের বদলে বাঁশের কঞ্চি: ভেঙ্গে দিয়েছে প্রাশাসন

আপডেট সময় : ০৬:১৭:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

রডের পরিবর্তে বাঁশের কঞ্চি! রূপকথার গল্প মনে হলেও এমনই এক অবিশ্বাস্য জালিয়াতির সত্যতা মিলেছে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায়। উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নে নির্মাণাধীন একটি আয়রন ব্রিজ পরিদর্শনে গিয়ে খোদ প্রশাসনই এই অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে ব্রিজের একটি অংশ ভাঙতেই বেরিয়ে আসে রডের জায়গায় লুকিয়ে রাখা বাঁশের কঞ্চি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রত্নপুর ইউনিয়নে প্রায় ৪৫ ফুট দীর্ঘ একটি আয়রন ব্রিজ নির্মাণের কাজ চলছিল। প্রকল্পের সরকারি নকশা অনুযায়ী, ব্রিজটিতে নির্ধারিত পরিমাণ রড এবং ৫ ইঞ্চি পুরু কংক্রিট ঢালাই দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কাজ শুরু হতেই স্থানীয়দের খটকা লাগে। তাদের অভিযোগ ছিল, ঢালাইয়ের পুরুত্ব অনেক কমিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং ভেতরে প্রয়োজনীয় রডের বদলে ব্যবহার করা হচ্ছে বাঁশের কঞ্চি।

অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে গত সোমবার (২৯ জুন) বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিখন বণিক এবং উপজেলা প্রকৌশলী রবীন্দ্র চক্রবর্তী। প্রশাসনের উপস্থিতিতে ব্রিজের একটি অংশ ভেঙে পরীক্ষা করা হলে স্থানীয়দের অভিযোগের শতভাগ সত্যতা মেলে।

সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী জানান, “ভেঙে ফেলা অংশে রডের পাশাপাশি বাঁশের কঞ্চি পাওয়া গেছে, যা কোনোভাবেই নির্মাণ কাঠামোর নিয়মের মধ্যে পড়ে না এবং এটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ।”

অনিয়ম প্রমাণিত হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে ব্রিজের ত্রুটিপূর্ণ অংশটি আংশিক ভেঙে ফেলা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন আশ্বস্ত করেছে যে, এই জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

এই ঘটনার পর পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, জননিরাপত্তাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে যারা এই ধরনের জঘন্য অপরাধ করেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

এদিকে সচেতন মহল মনে করছেন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এবং এমন অনিয়ম রুখতে নিয়মিত তদারকি ও কঠোর নজরদারি আরও জোরদার করা এখন সময়ের দাবি।