সংবাদ শিরোনাম ::
বাগেরহাটে সরকারি খাল দখলমুক্তের দাবি, জলাবদ্ধতা নিয়ে ক্ষোভ বানারীপাড়ার সেই অদম্য মেধাবী তাওহীদের লেখাপড়ার দায়িত্ব নিলেন অ্যাডভোকেট পলাশ বাবুগঞ্জে খাসজমি দখলের অভিযোগ ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে ঝালকাঠীতে সদর হাসপাতাল থেকে তুলে নিয়ে অন্ধ বৃদ্ধার ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদে মানববন্ধন দৈনিক করতোয়ার ৫১ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে ঘোড়াঘাটে কেক কাটা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত বাহেরচর ক্ষুদ্রকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন কমিটি গঠন সভাপতি মো. রাজিব, সহ-সভাপতি হারুন অর রশিদ মৃধা বরিশাল বাকেরগঞ্জ থানার সাবেক সার্কেল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরহাদ সরদার কে নিয়ে কুচক্রী মহলের অপপ্রচার বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, পায়রাসহ সব সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত ঝালকাঠিতে পরীক্ষার রেজাল্টে ৭ বিষয়ে ফেল করে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা ১১৬ জনে ফেল ৭৪: ওসমানপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ধারাবাহিক ফল বিপর্যয়, দায় নিচ্ছে না কেউ

বাগেরহাটে সরকারি খাল দখলমুক্তের দাবি, জলাবদ্ধতা নিয়ে ক্ষোভ

বাগেরহাটে সরকারি খাল দখলমুক্তের দাবি, জলাবদ্ধতা নিয়ে ক্ষোভ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৫৮:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬ ২৬ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

এস. এম. সাইফুল ইসলাম কবির, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার, বাগেরহাট :
বাগেরহাটের রামপালে সরকারি রেকর্ডভুক্ত সব খাল অবৈধ দখলমুক্ত করে সংরক্ষণ এবং খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে উপজেলা উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদ ও যুবদল। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বেলা ১১টায় রামপাল উপজেলা বিএনপির আঞ্চলিক কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মল্লিক জিয়াউল হক।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, নদী, খাল ও জলাশয় অবৈধ দখলমুক্ত করে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকারের সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকলেও রামপাল উপজেলার বিভিন্ন সরকারি রেকর্ডভুক্ত খাল দীর্ঘদিন ধরে দখলদারদের কবলে রয়েছে। খাল দখলের কারণে পানি নিষ্কাশনের পথ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে এবং জনজীবনে নেমে আসছে দুর্ভোগ।

তিনি বলেন, খাল দখলের প্রভাব শুধু জলাবদ্ধতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এতে কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং স্থানীয় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। সরকারি সম্পত্তি রক্ষা এবং জনগণের স্বার্থে অবিলম্বে দখলদারদের উচ্ছেদ করে খালগুলো পুনরুদ্ধারের দাবি জানান তিনি।

পাঁচ দফা দাবি

সংবাদ সম্মেলন থেকে রামপালের সরকারি খাল রক্ষায় প্রশাসনের কাছে পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো—
১. উপজেলার সব সরকারি রেকর্ডভুক্ত খাল দ্রুত চিহ্নিত করা।
২. খালের সঠিক সীমানা নির্ধারণ করে সরকারি খুঁটি স্থাপন করা।
৩. অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে খাল দখলমুক্ত করা।
৪. খালের নাব্যতা ও স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনতে খনন ও সংস্কার করা।
৫. ভবিষ্যতে খাল দখল রোধে নিয়মিত তদারকি এবং কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

বক্তারা বলেন, খাল শুধু পানি নিষ্কাশনের পথ নয়; কৃষি, পরিবেশ ও জনজীবনের সঙ্গে এর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। সরকারি খাল দখল হয়ে গেলে একদিকে জলাবদ্ধতা বাড়ে, অন্যদিকে কৃষি ও পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই কোনো প্রভাবশালী মহলের চাপ বা বাধাকে উপেক্ষা করে জনস্বার্থে খালগুলো উদ্ধার করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কাজী অজিয়ার রহমান, উপজেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. এহতেশামুল আলম মুন্সী, উপজেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক মোসা. জয়নব বেগম, বিএনপি নেতা মো. ওবায়েদুল্লাহ শিকদার, মো. জাকির হোসেন, যুবদল নেতা মো. ইমরান হোসেনসহ স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

নেতৃবৃন্দ দ্রুত সরকারি খালগুলোর তালিকা প্রণয়ন, সরেজমিনে সীমানা নির্ধারণ এবং দখলমুক্ত করতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। একই সঙ্গে খাল রক্ষার বিষয়টি জনস্বার্থের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে গণমাধ্যমে তুলে ধরতে সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

বাগেরহাটে সরকারি খাল দখলমুক্তের দাবি, জলাবদ্ধতা নিয়ে ক্ষোভ

বাগেরহাটে সরকারি খাল দখলমুক্তের দাবি, জলাবদ্ধতা নিয়ে ক্ষোভ

আপডেট সময় : ০১:৫৮:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

এস. এম. সাইফুল ইসলাম কবির, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার, বাগেরহাট :
বাগেরহাটের রামপালে সরকারি রেকর্ডভুক্ত সব খাল অবৈধ দখলমুক্ত করে সংরক্ষণ এবং খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে উপজেলা উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদ ও যুবদল। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বেলা ১১টায় রামপাল উপজেলা বিএনপির আঞ্চলিক কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মল্লিক জিয়াউল হক।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, নদী, খাল ও জলাশয় অবৈধ দখলমুক্ত করে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকারের সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকলেও রামপাল উপজেলার বিভিন্ন সরকারি রেকর্ডভুক্ত খাল দীর্ঘদিন ধরে দখলদারদের কবলে রয়েছে। খাল দখলের কারণে পানি নিষ্কাশনের পথ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে এবং জনজীবনে নেমে আসছে দুর্ভোগ।

তিনি বলেন, খাল দখলের প্রভাব শুধু জলাবদ্ধতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এতে কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং স্থানীয় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। সরকারি সম্পত্তি রক্ষা এবং জনগণের স্বার্থে অবিলম্বে দখলদারদের উচ্ছেদ করে খালগুলো পুনরুদ্ধারের দাবি জানান তিনি।

পাঁচ দফা দাবি

সংবাদ সম্মেলন থেকে রামপালের সরকারি খাল রক্ষায় প্রশাসনের কাছে পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো—
১. উপজেলার সব সরকারি রেকর্ডভুক্ত খাল দ্রুত চিহ্নিত করা।
২. খালের সঠিক সীমানা নির্ধারণ করে সরকারি খুঁটি স্থাপন করা।
৩. অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে খাল দখলমুক্ত করা।
৪. খালের নাব্যতা ও স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনতে খনন ও সংস্কার করা।
৫. ভবিষ্যতে খাল দখল রোধে নিয়মিত তদারকি এবং কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

বক্তারা বলেন, খাল শুধু পানি নিষ্কাশনের পথ নয়; কৃষি, পরিবেশ ও জনজীবনের সঙ্গে এর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। সরকারি খাল দখল হয়ে গেলে একদিকে জলাবদ্ধতা বাড়ে, অন্যদিকে কৃষি ও পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই কোনো প্রভাবশালী মহলের চাপ বা বাধাকে উপেক্ষা করে জনস্বার্থে খালগুলো উদ্ধার করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কাজী অজিয়ার রহমান, উপজেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. এহতেশামুল আলম মুন্সী, উপজেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক মোসা. জয়নব বেগম, বিএনপি নেতা মো. ওবায়েদুল্লাহ শিকদার, মো. জাকির হোসেন, যুবদল নেতা মো. ইমরান হোসেনসহ স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

নেতৃবৃন্দ দ্রুত সরকারি খালগুলোর তালিকা প্রণয়ন, সরেজমিনে সীমানা নির্ধারণ এবং দখলমুক্ত করতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। একই সঙ্গে খাল রক্ষার বিষয়টি জনস্বার্থের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে গণমাধ্যমে তুলে ধরতে সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান তারা।