সংবাদ শিরোনাম ::
বাস-মাহিন্দ্রার মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১, ববি শিক্ষার্থীসহ আহত ৫ ঝালকাঠি জেলায় কোনো বৈধ বালু মহল নেই। এরপরও যারা অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত, তারা যে-ই হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে জেলা প্রশাসক মোরেলগঞ্জে ৯ হাজার ৭৩০ পিস ইয়াবা উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১ জীবননগর সীমান্তে ৩ নারী-পুরষের পুশইনের চেষ্টা, রুখে দিল বিজিবি চুয়াডাঙ্গায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মাসিক সভা অনুষ্ঠিত দামুড়হুদায় স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে তরুণীর অনশন,গাজীপুরে একই গার্মেন্টসে চাকুরীকালে বিয়ে ঝালকাঠি জেলা ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটির শপথগ্রহণ সম্পন্ন বাবুগঞ্জে নিখোঁজের এক মাসেও সন্ধান মেলেনি গৃহবধূ আসমার। খুলনায় ৩ হাজার ৯৫৮ ইয়াবাসহ মোরেলগঞ্জের দম্পতিসহ গ্রেপ্তার ৪ রাজাপুরে ২২ পিস ইয়াবাসহ তিন মাদক কারবারি আটক

মোরেলগঞ্জে ৯ হাজার ৭৩০ পিস ইয়াবা উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১

মোরেলগঞ্জে ৯ হাজার ৭৩০ পিস ইয়াবা উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১

এস. এম. সাইফুল ইসলাম কবির, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : ১২:৩৯:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনসংলগ্ন বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে র‌্যাব-৬। উপজেলার বারইখালী গ্রামে অভিযান চালিয়ে ৯ হাজার ৭৩০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ জাহিদুল ইসলাম ওরফে কালাম (৩৭) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রোববার (৯ আগস্ট) ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান

র‌্যাব-৬ জানায়, মোরেলগঞ্জ উপজেলার বারইখালী গ্রামে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ একজন মাদক কারবারি অবস্থান করছে—এমন গোপন তথ্য তাদের কাছে আসে। তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-৬-এর একটি আভিযানিক দল রোববার ভোরে ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানের একপর্যায়ে জাহিদুল ইসলাম ওরফে কালামকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার কাছ থেকে ৯ হাজার ৭৩০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার জাহিদুল ইসলাম ওরফে কালাম পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার বেতমোর রাজপাড়া এলাকার রতন হাওলাদারের ছেলে।

বিপুল ইয়াবা উদ্ধারে নতুন প্রশ্ন

একজন ব্যক্তির কাছ থেকে প্রায় ১০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় মাদক সরবরাহের নেপথ্য নেটওয়ার্ক নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এত বিপুল পরিমাণ মাদক কীভাবে মোরেলগঞ্জে পৌঁছাল, এর উৎস কোথায় এবং কোথায় সরবরাহের উদ্দেশ্যে এটি আনা হয়েছিল—এসব বিষয় এখন তদন্তের আওতায় আসতে পারে।

বিশেষ করে মাদকদ্রব্যের চালান পরিবহনে কারা জড়িত, এর পেছনে কোনো আন্তঃজেলা চক্র রয়েছে কি না এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তির সঙ্গে আরও কেউ সংশ্লিষ্ট কি না—তদন্তে এসব তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে এসব বিষয়ে এখনই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে যাওয়ার সুযোগ নেই; আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত ও আদালতের প্রক্রিয়াতেই প্রকৃত তথ্য নিশ্চিত হবে।

আগেও মাদক মামলা থাকার দাবি

র‌্যাব-৬-এর দাবি, গ্রেপ্তার জাহিদুল ইসলাম ওরফে কালামের বিরুদ্ধে কক্সবাজারের টেকনাফ এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যাত্রাবাড়ী থানায় মাদক-সংক্রান্ত তিনটি মামলা রয়েছে।

র‌্যাবের এ তথ্য সত্যতা যাচাই ও মামলাগুলোর বর্তমান অবস্থা সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়। তবে যদি আগের মামলাগুলোর তথ্য সঠিক হয়ে থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ ও বর্তমান ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

সাক্ষীদের সামনে ইয়াবা জব্দ

র‌্যাব জানায়, অভিযানে উদ্ধার করা ইয়াবা ট্যাবলেট উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে বিধি অনুযায়ী জব্দ করা হয়েছে। পরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে উদ্ধার করা মাদকসহ আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

মোরেলগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার

মোরেলগঞ্জ সুন্দরবনসংলগ্ন একটি গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা। এ অঞ্চলে মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। একসঙ্গে ৯ হাজার ৭৩০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনা মাদক সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদারের প্রয়োজনীয়তাও সামনে এনেছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, শুধু চালান উদ্ধার বা বহনকারীদের গ্রেপ্তার করলেই মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। মাদকের উৎস, সরবরাহকারী, অর্থদাতা এবং নেপথ্যের মূল হোতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি।

থানায় হস্তান্তর

র‌্যাব-৬ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার জাহিদুল ইসলাম ওরফে কালামের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উদ্ধার করা ইয়াবাসহ তাকে মোরেলগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

এখন তদন্তে বেরিয়ে আসার অপেক্ষা—এই বিপুল পরিমাণ ইয়াবা কোথা থেকে এসেছিল, এর গন্তব্য কোথায় ছিল এবং এর সঙ্গে আরও কোনো ব্যক্তি বা মাদকচক্র জড়িত কি না।”ছবি সংযুক্ত আছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

মোরেলগঞ্জে ৯ হাজার ৭৩০ পিস ইয়াবা উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১

মোরেলগঞ্জে ৯ হাজার ৭৩০ পিস ইয়াবা উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১

আপডেট সময় : ১২:৩৯:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনসংলগ্ন বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে র‌্যাব-৬। উপজেলার বারইখালী গ্রামে অভিযান চালিয়ে ৯ হাজার ৭৩০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ জাহিদুল ইসলাম ওরফে কালাম (৩৭) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রোববার (৯ আগস্ট) ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান

র‌্যাব-৬ জানায়, মোরেলগঞ্জ উপজেলার বারইখালী গ্রামে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ একজন মাদক কারবারি অবস্থান করছে—এমন গোপন তথ্য তাদের কাছে আসে। তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-৬-এর একটি আভিযানিক দল রোববার ভোরে ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানের একপর্যায়ে জাহিদুল ইসলাম ওরফে কালামকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার কাছ থেকে ৯ হাজার ৭৩০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার জাহিদুল ইসলাম ওরফে কালাম পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার বেতমোর রাজপাড়া এলাকার রতন হাওলাদারের ছেলে।

বিপুল ইয়াবা উদ্ধারে নতুন প্রশ্ন

একজন ব্যক্তির কাছ থেকে প্রায় ১০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় মাদক সরবরাহের নেপথ্য নেটওয়ার্ক নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এত বিপুল পরিমাণ মাদক কীভাবে মোরেলগঞ্জে পৌঁছাল, এর উৎস কোথায় এবং কোথায় সরবরাহের উদ্দেশ্যে এটি আনা হয়েছিল—এসব বিষয় এখন তদন্তের আওতায় আসতে পারে।

বিশেষ করে মাদকদ্রব্যের চালান পরিবহনে কারা জড়িত, এর পেছনে কোনো আন্তঃজেলা চক্র রয়েছে কি না এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তির সঙ্গে আরও কেউ সংশ্লিষ্ট কি না—তদন্তে এসব তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে এসব বিষয়ে এখনই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে যাওয়ার সুযোগ নেই; আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত ও আদালতের প্রক্রিয়াতেই প্রকৃত তথ্য নিশ্চিত হবে।

আগেও মাদক মামলা থাকার দাবি

র‌্যাব-৬-এর দাবি, গ্রেপ্তার জাহিদুল ইসলাম ওরফে কালামের বিরুদ্ধে কক্সবাজারের টেকনাফ এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যাত্রাবাড়ী থানায় মাদক-সংক্রান্ত তিনটি মামলা রয়েছে।

র‌্যাবের এ তথ্য সত্যতা যাচাই ও মামলাগুলোর বর্তমান অবস্থা সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়। তবে যদি আগের মামলাগুলোর তথ্য সঠিক হয়ে থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ ও বর্তমান ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

সাক্ষীদের সামনে ইয়াবা জব্দ

র‌্যাব জানায়, অভিযানে উদ্ধার করা ইয়াবা ট্যাবলেট উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে বিধি অনুযায়ী জব্দ করা হয়েছে। পরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে উদ্ধার করা মাদকসহ আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

মোরেলগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার

মোরেলগঞ্জ সুন্দরবনসংলগ্ন একটি গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা। এ অঞ্চলে মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। একসঙ্গে ৯ হাজার ৭৩০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনা মাদক সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদারের প্রয়োজনীয়তাও সামনে এনেছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, শুধু চালান উদ্ধার বা বহনকারীদের গ্রেপ্তার করলেই মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। মাদকের উৎস, সরবরাহকারী, অর্থদাতা এবং নেপথ্যের মূল হোতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি।

থানায় হস্তান্তর

র‌্যাব-৬ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার জাহিদুল ইসলাম ওরফে কালামের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উদ্ধার করা ইয়াবাসহ তাকে মোরেলগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

এখন তদন্তে বেরিয়ে আসার অপেক্ষা—এই বিপুল পরিমাণ ইয়াবা কোথা থেকে এসেছিল, এর গন্তব্য কোথায় ছিল এবং এর সঙ্গে আরও কোনো ব্যক্তি বা মাদকচক্র জড়িত কি না।”ছবি সংযুক্ত আছে।