সংবাদ শিরোনাম ::
চুয়াডাঙ্গার বালিকা বিদ্যালয়ের সামনের দেয়ালে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান!লিখন,পরে মুছন ঝালকাঠিতে ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন ড.জিয়াউদ্দিন হায়দার দামুড়হুদা মডেল থানা পুলিশের হাতে ইয়াবাসহ ৭ আসামী গ্রেফতার শিক্ষার্থীদের শুধু সনদ অর্জন নয়, দক্ষ ও মানবিক মানুষ হতে হবে: জিয়াউদ্দিন হায়দার উজিরপুরে শ্রমিকদল নেতার নেতৃত্বে সরকারি রাস্তার চার কিলোমিটার এলাকার গাছ লুটের মহোৎসব ঝালকাঠিতে ৩০ পিস ইয়াবাসহ দুই যুবক আটক আলমডাঙ্গার স্বপন ফেসবুকে রাজনৈতিক পোস্ট দেয়ায় যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার বাবুগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রশিক্ষণ শুরু। প্রবাসীর ৬৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ দুলাভাইয়ের বিরুদ্ধে, বাড়ি থেকেও উচ্ছেদের হুমকি ডিসেম্বরে আপা আসবে তাই চলে যাচ্ছি বিদায় বাংলাদেশ আসিফ মাহমুদ

মরদেহকে মাটি বানিয়ে দিচ্ছে এই যন্ত্র, বাড়ি নিয়ে লাগানো হচ্ছে গাছ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৩:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ ১০৯ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এ ধরনের ক্যাপসুলের মাধ্যমে মরদেহকে পরিণত করা হয় মাটিতে।
লরা মাকেনহোপট, নিজের ২২ বছর বয়সী ছেলে মাইলের মরদেহ ট্রাকে করে নিয়ে আসেন। তবে এটি যে তার ছেলে তা বোঝার উপায় নেই। কারণ তার মরদেহটি মাটি বানিয়ে ফেলা হয়েছে। ওয়াশিংটনের একটি প্রতিষ্ঠান তার ছেলের নিথর দেহকে প্রায় দেড়শ কেজি মাটিতে পরিণত করে দিয়েছে। আর এই মাটি নিয়ে তিনি বাড়ি ফেরেন। পরবর্তীতে সেগুলো বাড়ির আঙ্গিনায় রেখে সেখানে ফুলের গাছ লাগান তিনি।

‘আর্থ ফানারেল’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান এই কাজটি করছে। এটির সিইও টম হ্যারিস বলেছেন, মৃতদেহ কবরস্থ করার পর যেভাবে ধীরে ধীরে মাটিতে পরিণত হয়। ঠিক সেভাবেই এটি হচ্ছে। তবে আমরা শুধু বিষয়টিকে ত্বরান্বিত করছি। বিষয়টি জলবায়ু ও পৃথিবীর জন্য অনুকূল। কারণ মরদেহ দাহ করলে যে কার্বন নিঃসরণ হয়, এটি করলে তার তুলনায় কম হয়। অপরদিকে কবরস্থ করার জন্য যে রাসায়নিক ব্যবহার করতে হয়। এক্ষেত্রে সেটি করতে হচ্ছে না।

মাইলের মরদেহ থেকে তৈরি করা মাটি রাখা হয়েছে তার বাড়ির বাগানে। সেই মাটিতে লাগানো হয়েছে একটি গোলাপ গাছ। আর বেশিরভাগ মাটি রাখা হয়েছে মাইলের প্রিয় চেয়ারটির পাশে।

মাইল (সর্ববামে) ও তার পরিবার
তার মা মাকেনহোপট বলেন, “যতবারই গোলাপ ফুলটির কুঁড়ি বের হয়। তখনই আমি এটি বেশ আগ্রহ নিয়ে দেখি। এটি একটি উপহার। মনে হয় মাইল যেন অল্প সময়ের জন্য এসেছে। বিষয়টি অসাধারণ।”

“মরদেহ দাহ বা কবরস্থ করার চেয়ে এ বিষয়টি ভিন্ন। ওইগুলোর ক্ষেত্রে আপনি শেষকৃত্যের আয়োজন করেন। এরপর সব শেষ। আর মরদেহ মাটিতে পরিণত করার মাধ্যমে নতুন গল্পের শুরু হয়।”— যোগ করেন মাকেনহোপট।

মরদেহ কীভাবে মাটিতে পরিণত করা হয়

‘আর্থ ফানারেল’-এর সিইও টম হ্যারিস অন্তোষ্টিক্রিয়া প্রতিষ্ঠানে বহু বছর কাজ করেছেন। তবে নিজের মৃত্যুর চিন্তা থেকে তিনি মরদেহকে মাটিতে পরিণত করার বিষয়টি উদ্ভাবন করেন। কারণ তিনি চান না তার মৃত্যুর পর তার মরদেহ পুড়িয়ে ফেলা বা কবরস্থ করা হোক।

যুক্তরাষ্ট্রে এখন সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় পন্থা হলো মরদেহ দাহ করা (প্রায় ৬০ শতাংশ)। কারণ কবরস্থ করার চেয়ে এটি বেশি সাশ্রয়ী।

কিন্তু মরদেহ দাহ করলে এটি পরিবেশের ক্ষতি করে। অপরদিকে কবরস্থ করলে বিভিন্ন রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়। এটিও পরিবেশের জন্য ক্ষতি।

কাঠের খণ্ড, বনফুল এবং গাছের শিকরের ভেজা খড় ও পাতা মরদেহকে মাটিতে পরিণত করতে সহায়তা করে।
কীভাবে মরদেহটি মাটিতে পরিণত করা হয় সেটি জানান টম হ্যারিস। তিনি বলেন, এটি খুবই কম সময় নেয়। মরদেহটিকে জীবাণুবিয়োজ্য কাফনে মোড়ানো হয়। এবং এটিকে লম্বা লোহার ক্যাপসুলে রাখা হয়। মরদেহটির সঙ্গে দেওয়া হয় কাঠের খণ্ড, গাছের শিকরের পাশে থাকা ভেজা খড় ও পাতা এবং বনফুল। যখন মরদেহটি মাটিতে পরিণত হওয়া শুরু করে তখন এটি নাইট্রোজেন নিঃসরণ করে। অপরদিকে কাঠ, গাছের শিকর এগুলো থেকে বের হয় কার্বন। যেহেতু ক্যাপসুলটি একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় রাখা হয়, এতে মরদেহটি মাটিতে পরিণত হয়। যা সম্পন্ন হতে লাগে ৪৫ দিন। এরপর প্রায় দেড়শ কেজি মাটিতে পরিণত হয়। হ্যারিস জানিয়েছেন, পরিবারের সদস্যরা যতটুকু খুশি ততটুক মাটি নিতে পারেন। আর বাকিটা ওয়াশিংটন এবং ক্যালিফোর্নিয়ার প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ স্থলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। যেখানে বেড়ে ওঠে গাছপালা।

সূত্র: সিএনএন

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

মরদেহকে মাটি বানিয়ে দিচ্ছে এই যন্ত্র, বাড়ি নিয়ে লাগানো হচ্ছে গাছ

আপডেট সময় : ০৪:৩৩:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এ ধরনের ক্যাপসুলের মাধ্যমে মরদেহকে পরিণত করা হয় মাটিতে।
লরা মাকেনহোপট, নিজের ২২ বছর বয়সী ছেলে মাইলের মরদেহ ট্রাকে করে নিয়ে আসেন। তবে এটি যে তার ছেলে তা বোঝার উপায় নেই। কারণ তার মরদেহটি মাটি বানিয়ে ফেলা হয়েছে। ওয়াশিংটনের একটি প্রতিষ্ঠান তার ছেলের নিথর দেহকে প্রায় দেড়শ কেজি মাটিতে পরিণত করে দিয়েছে। আর এই মাটি নিয়ে তিনি বাড়ি ফেরেন। পরবর্তীতে সেগুলো বাড়ির আঙ্গিনায় রেখে সেখানে ফুলের গাছ লাগান তিনি।

‘আর্থ ফানারেল’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান এই কাজটি করছে। এটির সিইও টম হ্যারিস বলেছেন, মৃতদেহ কবরস্থ করার পর যেভাবে ধীরে ধীরে মাটিতে পরিণত হয়। ঠিক সেভাবেই এটি হচ্ছে। তবে আমরা শুধু বিষয়টিকে ত্বরান্বিত করছি। বিষয়টি জলবায়ু ও পৃথিবীর জন্য অনুকূল। কারণ মরদেহ দাহ করলে যে কার্বন নিঃসরণ হয়, এটি করলে তার তুলনায় কম হয়। অপরদিকে কবরস্থ করার জন্য যে রাসায়নিক ব্যবহার করতে হয়। এক্ষেত্রে সেটি করতে হচ্ছে না।

মাইলের মরদেহ থেকে তৈরি করা মাটি রাখা হয়েছে তার বাড়ির বাগানে। সেই মাটিতে লাগানো হয়েছে একটি গোলাপ গাছ। আর বেশিরভাগ মাটি রাখা হয়েছে মাইলের প্রিয় চেয়ারটির পাশে।

মাইল (সর্ববামে) ও তার পরিবার
তার মা মাকেনহোপট বলেন, “যতবারই গোলাপ ফুলটির কুঁড়ি বের হয়। তখনই আমি এটি বেশ আগ্রহ নিয়ে দেখি। এটি একটি উপহার। মনে হয় মাইল যেন অল্প সময়ের জন্য এসেছে। বিষয়টি অসাধারণ।”

“মরদেহ দাহ বা কবরস্থ করার চেয়ে এ বিষয়টি ভিন্ন। ওইগুলোর ক্ষেত্রে আপনি শেষকৃত্যের আয়োজন করেন। এরপর সব শেষ। আর মরদেহ মাটিতে পরিণত করার মাধ্যমে নতুন গল্পের শুরু হয়।”— যোগ করেন মাকেনহোপট।

মরদেহ কীভাবে মাটিতে পরিণত করা হয়

‘আর্থ ফানারেল’-এর সিইও টম হ্যারিস অন্তোষ্টিক্রিয়া প্রতিষ্ঠানে বহু বছর কাজ করেছেন। তবে নিজের মৃত্যুর চিন্তা থেকে তিনি মরদেহকে মাটিতে পরিণত করার বিষয়টি উদ্ভাবন করেন। কারণ তিনি চান না তার মৃত্যুর পর তার মরদেহ পুড়িয়ে ফেলা বা কবরস্থ করা হোক।

যুক্তরাষ্ট্রে এখন সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় পন্থা হলো মরদেহ দাহ করা (প্রায় ৬০ শতাংশ)। কারণ কবরস্থ করার চেয়ে এটি বেশি সাশ্রয়ী।

কিন্তু মরদেহ দাহ করলে এটি পরিবেশের ক্ষতি করে। অপরদিকে কবরস্থ করলে বিভিন্ন রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়। এটিও পরিবেশের জন্য ক্ষতি।

কাঠের খণ্ড, বনফুল এবং গাছের শিকরের ভেজা খড় ও পাতা মরদেহকে মাটিতে পরিণত করতে সহায়তা করে।
কীভাবে মরদেহটি মাটিতে পরিণত করা হয় সেটি জানান টম হ্যারিস। তিনি বলেন, এটি খুবই কম সময় নেয়। মরদেহটিকে জীবাণুবিয়োজ্য কাফনে মোড়ানো হয়। এবং এটিকে লম্বা লোহার ক্যাপসুলে রাখা হয়। মরদেহটির সঙ্গে দেওয়া হয় কাঠের খণ্ড, গাছের শিকরের পাশে থাকা ভেজা খড় ও পাতা এবং বনফুল। যখন মরদেহটি মাটিতে পরিণত হওয়া শুরু করে তখন এটি নাইট্রোজেন নিঃসরণ করে। অপরদিকে কাঠ, গাছের শিকর এগুলো থেকে বের হয় কার্বন। যেহেতু ক্যাপসুলটি একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় রাখা হয়, এতে মরদেহটি মাটিতে পরিণত হয়। যা সম্পন্ন হতে লাগে ৪৫ দিন। এরপর প্রায় দেড়শ কেজি মাটিতে পরিণত হয়। হ্যারিস জানিয়েছেন, পরিবারের সদস্যরা যতটুকু খুশি ততটুক মাটি নিতে পারেন। আর বাকিটা ওয়াশিংটন এবং ক্যালিফোর্নিয়ার প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ স্থলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। যেখানে বেড়ে ওঠে গাছপালা।

সূত্র: সিএনএন