সংবাদ শিরোনাম ::
ঘোড়াঘাটের পাশা ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী মোফাজ্জল হোসেনের চালক ও শ্রমিকদের সঙ্গে মতবিনিময় নাগরিক সেবা ও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি চুয়াডাঙ্গার সকল সরকারী দপ্তরের প্রধানদের সঙ্গে বিনিময় সভা, বাবুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের আয়োজনে মাদকবিরোধী ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রুমিন ফারহানাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা, বিএনপির ঝাড়ু মিছিল পরিচ্ছন্নতা শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়, এটি সবার দায়িত্ব’: বাবুগঞ্জে এমপি জয়নুল আবেদীন। তেঁতুলিয়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ কর্মসূচি ভার্চ্যুয়ালি উদ্বোধন ও বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান চুয়াডাঙ্গায় প্রাইভেট থেকে ফেরার পথে এএসআই’র শিশু কন্যা নিখোঁজ চুয়াডাঙ্গার জীবননগর লাইসেন্স বিহীন ক্লিনিকের মালিককে জরিমানা পরে ক্লিনিকে সিলগালা অগ্রিম সতর্কতা: শুরু হওয়ার আগেই ৭,০০০ রিংগিতের নতুন ‘ভিসা ফাঁদ’ পাকাচ্ছে সিন্ডিকেট বরিশালে সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার”

২৪ ঘন্টা পর সাগর নন্দিনী ২ জাহাজ থেকে একজনের মৃতদেহ উদ্ধার নিখোঁজ ৩

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:১৭:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ জুলাই ২০২৩ ৩১ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মোঃ মনির হোসেন ঝালকাঠি :ঝালকা‌ঠি‌র সুগন্ধা নদীতে তে‌লবাহী জাহাজে (ট্যাংকার) বিস্ফোরণের ঘটনায় নিখোঁজ চারজনকে উদ্ধারে উদাসীনতার অভিযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে গ্রীজার মো. হৃদয়ের মরদেহ।

বিস্ফোরণের এক দিন পর রোববার বেলা পৌনে ৩টার দিকে হৃদয়ের পোড়া মরদেহ উদ্ধার করে কোস্ট গার্ড। ২৭ বছর বয়সী হৃদয় পিতা মৃত :রমজান আলী মাধবপুর হবিগঞ্জ।

কোস্ট গার্ডের কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট শাফায়েত হোসেন বলেন, ‘জাহাজের পেছনে নিচের দিকে পানি বোঝাই। সেই পানি কিছুটা অপসারণ করার পর আমাদের দুই ডুবুরি মাজা পর্যন্ত পানিতে নেমে সন্ধান চালিয়ে একজনের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে । উদ্ধারকৃত ব্যক্তির নাম হৃদয় বলে জানিয়েছে স্বজনরা।

ঝালকাঠি সদর থানার ওসি নাসির উদ্দিন সরকার বলেন, ‘মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। যাবতীয় কার্য শেষে নিহতের মামা শফিকুল ইসলামের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।’

এদিকে জাহাজ দুর্ঘটনায় এখ‌নও সুপারভাইজার বেল্লাল ,মাস্টার রুহুল আমিন, ড্রাইভার সরোয়ার খান (আকরাম) নি‌খোঁজ র‌য়ে‌ছেন।

ট‌্যাংকার বি‌স্ফোরণের ঘটনার ২৪ ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও নিখোঁজদের উদ্ধা‌রে কর্তৃপক্ষের যথাযথ তৎপরতা নেই বলে অভিযোগ করেছেন নিখোঁজদের স্বজনরা, তবে তাদের উদ্ধারে তৎপরতা চলছে বলে দাবি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষের।

শনিবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে পদ্মা অয়েল কোম্পানির জ্বালানি তেলবাহী ট্যংকার ‘ওটি সাগর নন্দিনী-২’ বিস্ফোরিত হয়ে আগুন ধরে যায়। দুর্ঘটনায় জাহাজের পেছনের তিন
তলাবিশিষ্ট চালকের কক্ষ ও কেবিনের অংশ উড়ে গিয়ে পানিতে নিমজ্জিত হয়।

এর পর থেকে জাহাজের সুপারভাইজার বেল্লাল , মাস্টার রুহুল আমিন, ড্রাইভার মো ছরোয়ার খান (আকরাম) ও গ্রীজার মো. হৃদয় নিখোঁজ ছিলেন।

ট্যংকারের নিখোঁজ ড্রাইভার মাসুদুর রহমান বেল্লালের ভাই শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ভাইয়ের সন্ধানে সকাল থেকে বসে আছি। জাহাজের নিমজ্জিত অংশ উদ্ধারকারী ক্রেন দিয়ে ওপরে তুলে আনলেই কেবিনে থাকা সকলের মরদেহ পাওয়া যেত, কিন্তু সে কাজের কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।’

নিখোঁজ মাস্টার রুহুল আমিন বাকেরগঞ্জ এলাকার মজিদ খানের ছেলে। নিখোঁজ রুহুল আমিনের ভাই আব্দুর রহমান বলেন সবাই তেল অপসারণ নিয়ে ব্যস্ত আছে । নিখোঁজদের সন্ধানে কোন কাজ করছেন না। আমি আমার ভাইয়ের শেষবারের মতো মুখখানা দেখতে চাই। আমার ভাইয়ের মৃতদেহ না নিয়ে এখান থেকে আমরা যাব না।

নিখোঁজ ড্রাইভার মোঃ ছরোয়ার খান( আকরাম) পিরোজপুর তুষখালী মঠবাড়িয়া এলাকায় মৃত মন্নান খানের ছেলে।
নিখোঁজ সরোয়ারের ভাই মাসুম খান বলেন দুর্ঘটনার দিন বিকেল থেকে আমরা এখানে অপেক্ষা করছি এখন পর্যন্ত আমার ভাইয়ের কোন সন্ধান পায়নি।
উদ্ধার কাজে যারা আছেন তারা বলেছেন হামজা না আসা পর্যন্ত উদ্ধার কাজ করা সম্ভব নয়। আমরা আমার ভাইয়ের মৃতদেহ নিয়ে এখান থেকে চলে যাব। তাতে যে কয়দিন সময় লাগে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ঝালকাঠির স্টেশন কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা উদ্ধারকাজ শুরু করেছি। ডুবে যাওয়া জাহাজের বিধ্বস্ত অংশ শনাক্ত করতে সময় লেগেছে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

২৪ ঘন্টা পর সাগর নন্দিনী ২ জাহাজ থেকে একজনের মৃতদেহ উদ্ধার নিখোঁজ ৩

আপডেট সময় : ০২:১৭:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ জুলাই ২০২৩

মোঃ মনির হোসেন ঝালকাঠি :ঝালকা‌ঠি‌র সুগন্ধা নদীতে তে‌লবাহী জাহাজে (ট্যাংকার) বিস্ফোরণের ঘটনায় নিখোঁজ চারজনকে উদ্ধারে উদাসীনতার অভিযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে গ্রীজার মো. হৃদয়ের মরদেহ।

বিস্ফোরণের এক দিন পর রোববার বেলা পৌনে ৩টার দিকে হৃদয়ের পোড়া মরদেহ উদ্ধার করে কোস্ট গার্ড। ২৭ বছর বয়সী হৃদয় পিতা মৃত :রমজান আলী মাধবপুর হবিগঞ্জ।

কোস্ট গার্ডের কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট শাফায়েত হোসেন বলেন, ‘জাহাজের পেছনে নিচের দিকে পানি বোঝাই। সেই পানি কিছুটা অপসারণ করার পর আমাদের দুই ডুবুরি মাজা পর্যন্ত পানিতে নেমে সন্ধান চালিয়ে একজনের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে । উদ্ধারকৃত ব্যক্তির নাম হৃদয় বলে জানিয়েছে স্বজনরা।

ঝালকাঠি সদর থানার ওসি নাসির উদ্দিন সরকার বলেন, ‘মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। যাবতীয় কার্য শেষে নিহতের মামা শফিকুল ইসলামের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।’

এদিকে জাহাজ দুর্ঘটনায় এখ‌নও সুপারভাইজার বেল্লাল ,মাস্টার রুহুল আমিন, ড্রাইভার সরোয়ার খান (আকরাম) নি‌খোঁজ র‌য়ে‌ছেন।

ট‌্যাংকার বি‌স্ফোরণের ঘটনার ২৪ ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও নিখোঁজদের উদ্ধা‌রে কর্তৃপক্ষের যথাযথ তৎপরতা নেই বলে অভিযোগ করেছেন নিখোঁজদের স্বজনরা, তবে তাদের উদ্ধারে তৎপরতা চলছে বলে দাবি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষের।

শনিবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে পদ্মা অয়েল কোম্পানির জ্বালানি তেলবাহী ট্যংকার ‘ওটি সাগর নন্দিনী-২’ বিস্ফোরিত হয়ে আগুন ধরে যায়। দুর্ঘটনায় জাহাজের পেছনের তিন
তলাবিশিষ্ট চালকের কক্ষ ও কেবিনের অংশ উড়ে গিয়ে পানিতে নিমজ্জিত হয়।

এর পর থেকে জাহাজের সুপারভাইজার বেল্লাল , মাস্টার রুহুল আমিন, ড্রাইভার মো ছরোয়ার খান (আকরাম) ও গ্রীজার মো. হৃদয় নিখোঁজ ছিলেন।

ট্যংকারের নিখোঁজ ড্রাইভার মাসুদুর রহমান বেল্লালের ভাই শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ভাইয়ের সন্ধানে সকাল থেকে বসে আছি। জাহাজের নিমজ্জিত অংশ উদ্ধারকারী ক্রেন দিয়ে ওপরে তুলে আনলেই কেবিনে থাকা সকলের মরদেহ পাওয়া যেত, কিন্তু সে কাজের কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।’

নিখোঁজ মাস্টার রুহুল আমিন বাকেরগঞ্জ এলাকার মজিদ খানের ছেলে। নিখোঁজ রুহুল আমিনের ভাই আব্দুর রহমান বলেন সবাই তেল অপসারণ নিয়ে ব্যস্ত আছে । নিখোঁজদের সন্ধানে কোন কাজ করছেন না। আমি আমার ভাইয়ের শেষবারের মতো মুখখানা দেখতে চাই। আমার ভাইয়ের মৃতদেহ না নিয়ে এখান থেকে আমরা যাব না।

নিখোঁজ ড্রাইভার মোঃ ছরোয়ার খান( আকরাম) পিরোজপুর তুষখালী মঠবাড়িয়া এলাকায় মৃত মন্নান খানের ছেলে।
নিখোঁজ সরোয়ারের ভাই মাসুম খান বলেন দুর্ঘটনার দিন বিকেল থেকে আমরা এখানে অপেক্ষা করছি এখন পর্যন্ত আমার ভাইয়ের কোন সন্ধান পায়নি।
উদ্ধার কাজে যারা আছেন তারা বলেছেন হামজা না আসা পর্যন্ত উদ্ধার কাজ করা সম্ভব নয়। আমরা আমার ভাইয়ের মৃতদেহ নিয়ে এখান থেকে চলে যাব। তাতে যে কয়দিন সময় লাগে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ঝালকাঠির স্টেশন কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা উদ্ধারকাজ শুরু করেছি। ডুবে যাওয়া জাহাজের বিধ্বস্ত অংশ শনাক্ত করতে সময় লেগেছে।’