সংবাদ শিরোনাম ::
ঘোড়াঘাটে প্রাথমিক বৃত্তি প্রাপ্ত ৭৬ জন শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা ঝালকাঠিতে ডোপ টেস্টেপজেটিভ আসায় ২ মাদকসেবী আটক মামলা তেঁতুলিয়ায় পল্লী উন্নয়ন বোর্ডে জনবল সংকট ছয় পদের বিপরীতে দায়িত্বে একজন জুলহাস উদ্দীন, তেঁতুলিয়ায় ড্রেজারকাণ্ডে মৃত ৫ জনসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা মামলা দাবীতে ৩ ঘণ্টা সড়ক অবরোধ মামরা প্রত্যারের দাবী উজিরপুরে উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে দুদকে আভিযোগ চুয়াডাঙ্গায় ভোরে নামাজ পড়ে ফেরার পথে সাপে কামড়ে এক মুসুল্লির মৃত্যু অভাবের সংসারে অসমাপ্ত ঘর, রেহানার পাশে হারুন মোল্লা ফাউন্ডেশন। বাবুগঞ্জে সালিশ বৈঠকে হামলার অভিযোগ, আহত একই পরিবারের ৩ কাঠালিয়ায় কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত ঘোড়াঘাটে মাদক সেবলের বিস্তার ৬ মাদক সেবীর কারাদন্ড উদ্বিগ্ন এলাকাবাসী

ঘুমন্ত স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা, স্বামীর যাবজ্জীবন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:০৬:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ মার্চ ২০২৩ ৯১ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আজকের ক্রাইম ডেক্স
লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলায় ঘুমন্ত স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার দায়ে সুমন উদ্দিন (৩৭) নামে এক যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

সোমবার (৬ মার্চ) দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. রহিবুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। লক্ষ্মীপুর জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) জসিম উদ্দিন বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, আসামির বিরুদ্ধে তার স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়েছে। রায়ের সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। ঘটনার পরদিন গ্রেফতারের পর থেকেই তিনি কারাগারে ছিলেন।

হত্যা মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত সুমন রামগতি উপজেলার বড়খেরী ইউনিয়নের চরলক্ষ্মী গ্রামের নাছির উদ্দিনের ছেলে ও পেশায় চা দোকানি ছিলেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হত্যার ঘটনার প্রায় সাত বছর আগে সুমন নরসিংদী জেলা সদরে একটি কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। সে সময় নরসিংদীর শিলমাদ্রী ইউনিয়নের বাগহাটা গ্রামের ওমর আলীর মেয়ে নীলার সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পালিয়ে বিয়ে করে সুমন তাকে নিজ বাড়িতে নিয়ে যান।

আদালত ও মামলার এজাহার সূত্র জানায়, ২০২১ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকা যাওয়ার জন্য বাস ভাড়া চাওয়ায় সুমনের সঙ্গে নীলার ঝগড়া হয়। এ নিয়ে সুমন তাকে মারধর করেন। নীলা বায়না ধরেন তাকে টাকা দিতেই হবে। ঘুমের মধ্যে নীলাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন সুমন। পরে পরনের কাপড় খুলে বৈদ্যুতিক পাখার সঙ্গে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখেন। স্ত্রী আত্মহত্যা করেছে বলে প্রচারণা চালানো হয়।

ঘটনার পরদিন নীলার ভাই মাহবুব মিয়া বাদী হয়ে রামগতি থানায় মামলা করেন। একইদিন সুমনকে গ্রেফতারের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে জানা যায়, নীলাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে গলায় কাপড় পেছানো হয়েছে। তদন্তকালে ঘটনাটি প্রমাণিত হয়েছে। একই বছর ২৭ জুলাই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও রামগতি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অলি উদ্দিন আদালতের সুমনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ঘুমন্ত স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা, স্বামীর যাবজ্জীবন

আপডেট সময় : ১০:০৬:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ মার্চ ২০২৩

আজকের ক্রাইম ডেক্স
লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলায় ঘুমন্ত স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার দায়ে সুমন উদ্দিন (৩৭) নামে এক যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

সোমবার (৬ মার্চ) দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. রহিবুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। লক্ষ্মীপুর জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) জসিম উদ্দিন বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, আসামির বিরুদ্ধে তার স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়েছে। রায়ের সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। ঘটনার পরদিন গ্রেফতারের পর থেকেই তিনি কারাগারে ছিলেন।

হত্যা মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত সুমন রামগতি উপজেলার বড়খেরী ইউনিয়নের চরলক্ষ্মী গ্রামের নাছির উদ্দিনের ছেলে ও পেশায় চা দোকানি ছিলেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হত্যার ঘটনার প্রায় সাত বছর আগে সুমন নরসিংদী জেলা সদরে একটি কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। সে সময় নরসিংদীর শিলমাদ্রী ইউনিয়নের বাগহাটা গ্রামের ওমর আলীর মেয়ে নীলার সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পালিয়ে বিয়ে করে সুমন তাকে নিজ বাড়িতে নিয়ে যান।

আদালত ও মামলার এজাহার সূত্র জানায়, ২০২১ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকা যাওয়ার জন্য বাস ভাড়া চাওয়ায় সুমনের সঙ্গে নীলার ঝগড়া হয়। এ নিয়ে সুমন তাকে মারধর করেন। নীলা বায়না ধরেন তাকে টাকা দিতেই হবে। ঘুমের মধ্যে নীলাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন সুমন। পরে পরনের কাপড় খুলে বৈদ্যুতিক পাখার সঙ্গে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখেন। স্ত্রী আত্মহত্যা করেছে বলে প্রচারণা চালানো হয়।

ঘটনার পরদিন নীলার ভাই মাহবুব মিয়া বাদী হয়ে রামগতি থানায় মামলা করেন। একইদিন সুমনকে গ্রেফতারের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে জানা যায়, নীলাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে গলায় কাপড় পেছানো হয়েছে। তদন্তকালে ঘটনাটি প্রমাণিত হয়েছে। একই বছর ২৭ জুলাই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও রামগতি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অলি উদ্দিন আদালতের সুমনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।