বাকেরগঞ্জের গোমা খেয়াঘাটে ভাড়া নিয়ে নৈরাজ্য প্রতিবাদ করলে চাঁদাবাজী মালার হুমকি
- আপডেট সময় : ০১:৫২:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২২ ৯৬ বার পড়া হয়েছে

( প্রশাসনকে বকরা দিয়েই চলছে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, নৈরাজ্যের হাত থেকে মুক্তি চায় সাধারণ জনগণ)
মোঃ বশির আহাম্মেদ
বাকেরগঞ্জ প্রতিনিধি
বরিশালের বাকেরগঞ্জের গোমা খেয়াঘাটে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার থেকে দুই তিন গুন বেশি ভাড়া আদায় করছেন ইজারাদার ফারুক সিকদার ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী । বাড়তি এই ভাড়া নেওয়া নিয়ে প্রতিবাদ কিংবা অভিযোগ করলে চাঁদাবাজী মামলার হুমকি দিয়ে কন্ঠ রোধ করে এই ফারুক বাহিনী।
এর ফলে জনভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইচ্ছে মতো ভাড়া আদায়ের গোমা খেয়াঘাটে এমন নৈরাজ্য চলছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
জানা যায়, এ-ই খেয়া পারাপার হওয়া সকল যাত্রীরাই বাড়তি ভাড়া আদায় নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।
সরেজমিনে গোমা খেয়াঘাটে গিয়ে দেখা যায়, জেলা পরিষদ নির্ধারিত তালিকার চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন ইজারাদাররা। জেলা পরিষদের নির্ধারিত খেয়া পারাপারের ভাড়ার তালিকার সাইনবোর্ড রাতের আঁধারে উঠিয়ে নেয়া হয়েছে।
বর্তমানে খেয়ায় নদী পারাপার হতে জনপ্রতি নেওয়া হচ্ছে ১০ টাকা এবং মোটরসাইকেল প্রতি ৫০ টাকা।
প্রতিদিন খেয়া পারাপার হওয়ায় একাধিক যাত্রীরা বলেন বাড়তি ভাড়া আদায় করার কারণে তারা চরম বিপাকে পড়েন। এ ছাড়াও কেহ বাড়তি ভাড়া দিতে না চাইলে অনেক সময় ইজারাদারের লোক জনের কাছে অপমান অপদস্থ ও লাঞ্চিত হতে হয় বলেও জানান তাঁরা।
গোমা খেয়াঘাটের ইজারাদার মোঃ ফারুক সিকদার হুংকার দিয়ে বলেন, জন প্রতি ভাড়া ১০টাকা ও মোটরসাইকেল প্রতি ৫০ টাকা নিয়ে থাকি আপনারা আপনারা যা খুশি করতে পারেন তাতে আমার কিছু যায় আসেনা। এবং
ইজারাদারের সহযোগী
সোহেল সিকদার বলেন প্রতিমাসে বাকেরগঞ্জ থানায় ৫ হাজার টাকা, চরামদ্দি পুলিশ ফাঁড়িতে ৩ হাজার ও মাঝে মাঝে মোবাইলে পুলিশ কে টাকা লোড-দি এমনকি এসিল্যান্ড অফিসে ৫ হাজার টাকা করে মাসহারা দিয়ে থাকি।
আমাদের নামে উল্টা পাল্টা কিছু করলে ওসিরে ১০হাজার টাকা দিয়ে, চাঁদাবাজী মামলায দিয়ে দিবো বলে হুমকি দেয়।
নলালুয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা জুয়েল হোসেন, কবাই ইউনিয়নের বারেক খান দুধল ইউনিয়নের মসিউর রহমান জানান এখানে ভাড়া কম হওয়া উচিত আমরা ইজারাদারের অত্যাচারে অতিষ্ঠ এ-ই নৈরাজ্যের একটা সমাধান হওয়া উচিৎ । এছাড়াও নলুয়া, কবাই,দূগাপাশা, ফরিদপুর গারুড়িয়া ইউনিয়ন সহ পটুয়াখালীর বাউফলের উপজেলার সাধারণ জনগণ এ-ই খেয়াঘাটে জিম্মি।
মানুষ জন প্রতি ১০ টাকা মোটরসাইকেল প্রতি ৪০/৫০ টাকা এমনকি হাতে একটা পোটলা থাকলেই ২০০ টাকা দিতে হয়। এই ভাড়া রাতে আবার দ্বিগুণ তিনগুণ হয়ে যায় বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।’
এবিষয়ে বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আলাউদ্দিন মিলন জানান বাকেরগঞ্জ থানায় টাকা দেয়ার কোন ঘটনা আমার জানা নেই, ভিত্তিহীন কল্পকাহিনী সাজিয়ে নিজেদের নৈরাজ্য ও অপকর্ম ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা মাত্র।
এ বিষয়ে বাকেরগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার ভূমি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবুজর মোঃ ইজাজুল হক সংবাদ মাধ্যম কে জানান, ‘খেয়াঘাটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে আমরা ইতিপূর্বে বিভিন্ন সময়ে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানা করেছি। যদি এখনো হয়ে থাকে তাহলে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছি। আমার জানা মতে আমার অফিসের কাউকে টাকাপয়সা দেয়ার বিষয় কখনও ঘটেনি, আমি দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা মানিকুর রহমান জানান ,
‘আমাদের জেলা পরিষদের খেয়াঘাটগুলো সব সময় মনিটরিং করা হয়। এ ছাড়াও খেয়াঘাটে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হলে আমরা সব সময় ব্যবস্থা নিয়ে আসছি। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলে আবারো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
















