সংবাদ শিরোনাম ::
ঘোড়াঘাটের সিংড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্ল্যাণ কেন্দ্রটি ৪ বছর ধরে পরিত্যক্ত ,’অস্থায়ী’ ভবনে স্বাস্থ্যসেবা চুয়াডাঙ্গায় মাথাভাঙ্গা নদী থেকে মরদেহ উদ্ধার, পিবিআইয়ের সহায়তায় মিললো পরিচয় ঝালকাঠিতে রেড ক্রিসেন্টের পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও ডেঙ্গু সচেতনতা কর্মসূচি বরিশালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী বাস পুকুরে: কাঁচামাল ব্যবসায়ী নিহত বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ পরিচ্ছন্ন রাখতে কাঠালিয়া পাইলট বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রাণবন্ত পরিচ্ছন্নতা অভিযান তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটময় অবস্থায় পৌঁছেছে ঝালকাঠিতে অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল চুয়াডাঙ্গায় ইয়াবাসহ সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আ.লীগ নেতা আটক ভান্ডারিয়ায় নাম্বারপ্লেটবিহীন মোটরসাইকেলে মোবাইল কোর্ট, ৭ মামলায় ৩২ হাজার টাকা জরিমানা ঢাকা রেঞ্জের নবগত ডিআইজি কে নিয়ে অপপ্রচারের মেতে উঠেছে কুচক্রী মহল নারীসহ ফ্ল্যাটে ওসি আটক, ‘ষষ্ঠ স্ত্রী’র বিস্ফোরক অভিযোগ

মীরগঞ্জ ফেরিঘাটে আটকা পরে নবজাতক সন্তানের মৃত্যু

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৮:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ অগাস্ট ২০২২ ১১৩ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাবুগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ বরিশাল সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পরে আনন্দে পুরো পরিবার ছিল উদ্বেলিত। হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার পরে এ্যাম্বুলেন্সে করে বাড়িতে ফিরছিলেন তারা। মাঝপথে আঁড়িয়াল খা নদী পার হতে ফেরিঘাট।

ফেরিঘাট তত্বাবধায়নের লোকদের স্বেচ্ছাচারীতায় টানা দুই ঘন্টা আটকা থেকে শেষে মৃত্যুর কোলে ঢলে পরে ৮দিন বয়সী শিশুটি। মারা যাওয়া ওই শিশুর পিতা বরিশাল জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাব্বির হোসেন লিমন। সন্তান হারানোর শোকাহত লিমন কিছুতেই ভুলতে পারছেন না ফেরিঘাটে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক স্বেচ্ছাচারিতার ঘটনা।

রোববার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার মীরগঞ্জ ফেরিঘাটে এই ঘটনা ঘটে।

লিমন বলেন, ১৪ আগস্ট বরিশালের একটি হাসপাতালে আমাদের ছেলে সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়। হাসপাতাল থেকে ২১ আগস্ট ছাড়পত্র দিলে এ্যাম্বুলেন্স যোগে গ্রামের বাড়ি মুলাদীতে রওয়ানা দেই।

ওই এ্যাম্বুলেন্সে আমার পরিবার, শ্বশুড় বাড়ির আত্মীয়-স্বজন সকলেই ছিলেন। আগে থেকেই জানতাম মীরগঞ্জ ফেরিঘাটে সন্ধ্যার ফেরি ছেড়ে যায় ৬টা ৪০ মিনিটে। আমরা নির্ধারিত সময়ের দুই একমিনিট আগে পৌঁছে দেখি ফেরি আসেনি।

কিছুক্ষণ পরে ফেরি এলে এ্যাম্বুলেন্সসহ ফেরিতে উঠি। কিন্তু ফেরিটি ছাড়ছিল না। বারবার অনুরোধ করা সত্যেও ফেরিঘাটে থাকা ইজারাদারের লোক সাইফুল ইসলাম আমাদের শাসিয়ে যাচ্ছিলেন। ফেরিটি ৮টা ২০ মিনিটে ঘাট ত্যাগ করে।

সাব্বির হোসেন লিমন বলেন, দীর্ঘক্ষণ ফেরিতে গাড়ি থাকায় অস্বাভাবিক গরমে চোখের সামনে আমার সন্তান মারা গেছে। তখন অসহায় হয়ে পরেছিলাম।

পিতার চোখের সামনে সন্তান মারা গেছে, এর থেকে মর্মান্তিক কিছু হতে পারে না। আমি কিছু করতে পারিনি। এ নিয়ে ওই ফেরির দেখভাল যে করে সাইফুলকে ফেরি দুই ঘন্টার অধিক সময় আটকে রাখার কারন জানতে চাইলে আমাকে সে তার দলবল নিয়ে এসে মারধর করতে আসেন। শেষে উপস্থিত লোকজন আমাকে এম্বুলেন্স উঠিয়ে দেন। তখনো সে আমাকে মারতে আসেন।

লিমন বলেন, ফেরিঘাট ইজারা নিয়েছেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র ও বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম খোকনের স্ত্রী। স্ত্রীর নামে ইজারা থাকলেও লোকদিয়ে নিজেই দেখভাল করেন তিনি। আমি তার সাথেও দীর্ঘদিন রাজনীতি করেছি। তার তত্ত্ববধায়নে থাকা একটি জনসেবামূলক ফেরিঘাটে অবহেলায় আর স্বেচ্ছাবারিতায় মানুষের মৃত্যু হবে এটা মেনে নেওয়া যায় না।

আমি বর্তমানে খুবই মানসিক বিপর্যয়ের মধ্যে রয়েছি। একটু স্বাভাবিক হতে পারলে অবশ্যই আইনের আশ্রয় নিব। আমার সন্তানের মৃত্যুর জন্য দায়ীদের বিচার আমি চাই।

তিনি আরো বলেন, আমি ছাত্রলীগ নেতা-আমার সাথে এই আচরণ হয়েছে। সাধারণ মানুষ ওখানে কি ভোগান্তির শিকার হন তা অনুমান করে দেখুন। এসময়ে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম খোকন বলেন, যে কারো মৃত্যু দুঃখজনক। একটি বিষয় হলো যার মারা যায় তিনি অনেকের বিরুদ্ধেই বলতে পারেন। তাপরপরও ঘাটে কারো কোন গাফিলতি থাকলে আমি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।

বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, ফেরিঘাটে অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যু এমন কোন তথ্য আপনার (প্রতিবেদক) আগে কেউ আমাকে জানায়নি।

বিষয়টি আমি খোঁজ খবর নিব। তাছাড়া প্রকৃতপক্ষে ফেরিঘাট দেখার দায়িত্ব সড়ক ও জনপথ বিভাগের। আপনি (প্রতিবেদেক) সড়ক ও জনপথ বিভাগের সাথে যোগাযোগ করবেন আশা করি। এর বাইরে কেউ যদি আমার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন আমি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বরিশালের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও অতিরিক্ত প্রকৌশলীর সরকারি মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তারা রিসিভ না করায় বক্তব্য সংযুক্ত করা সম্ভব হয়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

মীরগঞ্জ ফেরিঘাটে আটকা পরে নবজাতক সন্তানের মৃত্যু

আপডেট সময় : ০৪:৩৮:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ অগাস্ট ২০২২

বাবুগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ বরিশাল সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পরে আনন্দে পুরো পরিবার ছিল উদ্বেলিত। হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার পরে এ্যাম্বুলেন্সে করে বাড়িতে ফিরছিলেন তারা। মাঝপথে আঁড়িয়াল খা নদী পার হতে ফেরিঘাট।

ফেরিঘাট তত্বাবধায়নের লোকদের স্বেচ্ছাচারীতায় টানা দুই ঘন্টা আটকা থেকে শেষে মৃত্যুর কোলে ঢলে পরে ৮দিন বয়সী শিশুটি। মারা যাওয়া ওই শিশুর পিতা বরিশাল জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাব্বির হোসেন লিমন। সন্তান হারানোর শোকাহত লিমন কিছুতেই ভুলতে পারছেন না ফেরিঘাটে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক স্বেচ্ছাচারিতার ঘটনা।

রোববার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার মীরগঞ্জ ফেরিঘাটে এই ঘটনা ঘটে।

লিমন বলেন, ১৪ আগস্ট বরিশালের একটি হাসপাতালে আমাদের ছেলে সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়। হাসপাতাল থেকে ২১ আগস্ট ছাড়পত্র দিলে এ্যাম্বুলেন্স যোগে গ্রামের বাড়ি মুলাদীতে রওয়ানা দেই।

ওই এ্যাম্বুলেন্সে আমার পরিবার, শ্বশুড় বাড়ির আত্মীয়-স্বজন সকলেই ছিলেন। আগে থেকেই জানতাম মীরগঞ্জ ফেরিঘাটে সন্ধ্যার ফেরি ছেড়ে যায় ৬টা ৪০ মিনিটে। আমরা নির্ধারিত সময়ের দুই একমিনিট আগে পৌঁছে দেখি ফেরি আসেনি।

কিছুক্ষণ পরে ফেরি এলে এ্যাম্বুলেন্সসহ ফেরিতে উঠি। কিন্তু ফেরিটি ছাড়ছিল না। বারবার অনুরোধ করা সত্যেও ফেরিঘাটে থাকা ইজারাদারের লোক সাইফুল ইসলাম আমাদের শাসিয়ে যাচ্ছিলেন। ফেরিটি ৮টা ২০ মিনিটে ঘাট ত্যাগ করে।

সাব্বির হোসেন লিমন বলেন, দীর্ঘক্ষণ ফেরিতে গাড়ি থাকায় অস্বাভাবিক গরমে চোখের সামনে আমার সন্তান মারা গেছে। তখন অসহায় হয়ে পরেছিলাম।

পিতার চোখের সামনে সন্তান মারা গেছে, এর থেকে মর্মান্তিক কিছু হতে পারে না। আমি কিছু করতে পারিনি। এ নিয়ে ওই ফেরির দেখভাল যে করে সাইফুলকে ফেরি দুই ঘন্টার অধিক সময় আটকে রাখার কারন জানতে চাইলে আমাকে সে তার দলবল নিয়ে এসে মারধর করতে আসেন। শেষে উপস্থিত লোকজন আমাকে এম্বুলেন্স উঠিয়ে দেন। তখনো সে আমাকে মারতে আসেন।

লিমন বলেন, ফেরিঘাট ইজারা নিয়েছেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র ও বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম খোকনের স্ত্রী। স্ত্রীর নামে ইজারা থাকলেও লোকদিয়ে নিজেই দেখভাল করেন তিনি। আমি তার সাথেও দীর্ঘদিন রাজনীতি করেছি। তার তত্ত্ববধায়নে থাকা একটি জনসেবামূলক ফেরিঘাটে অবহেলায় আর স্বেচ্ছাবারিতায় মানুষের মৃত্যু হবে এটা মেনে নেওয়া যায় না।

আমি বর্তমানে খুবই মানসিক বিপর্যয়ের মধ্যে রয়েছি। একটু স্বাভাবিক হতে পারলে অবশ্যই আইনের আশ্রয় নিব। আমার সন্তানের মৃত্যুর জন্য দায়ীদের বিচার আমি চাই।

তিনি আরো বলেন, আমি ছাত্রলীগ নেতা-আমার সাথে এই আচরণ হয়েছে। সাধারণ মানুষ ওখানে কি ভোগান্তির শিকার হন তা অনুমান করে দেখুন। এসময়ে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম খোকন বলেন, যে কারো মৃত্যু দুঃখজনক। একটি বিষয় হলো যার মারা যায় তিনি অনেকের বিরুদ্ধেই বলতে পারেন। তাপরপরও ঘাটে কারো কোন গাফিলতি থাকলে আমি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।

বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, ফেরিঘাটে অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যু এমন কোন তথ্য আপনার (প্রতিবেদক) আগে কেউ আমাকে জানায়নি।

বিষয়টি আমি খোঁজ খবর নিব। তাছাড়া প্রকৃতপক্ষে ফেরিঘাট দেখার দায়িত্ব সড়ক ও জনপথ বিভাগের। আপনি (প্রতিবেদেক) সড়ক ও জনপথ বিভাগের সাথে যোগাযোগ করবেন আশা করি। এর বাইরে কেউ যদি আমার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন আমি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বরিশালের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও অতিরিক্ত প্রকৌশলীর সরকারি মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তারা রিসিভ না করায় বক্তব্য সংযুক্ত করা সম্ভব হয়নি।