সংবাদ শিরোনাম ::
ঝালকাঠি প্রেস ক্লাবের দাতা সদস্য কুদ্দুস খান বাংলাদেশ বক্সিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় প্রেসক্লাবের সভাপতি শুভেচ্ছা রাজাপুরে টিসিবি ডিলার নিয়োগে অনিয়মের সত্যতা, পুনঃতদন্তে প্রশাসন রাজাপুরে বেহাল সড়ক পুনঃনির্মাণ ও সংস্কারের দাবিতে মানববন্ধন: দুই যুগের দুর্ভোগে ২০ হাজার মানুষ চুয়াডাঙ্গায় রাইচ কুকারের সুইচ দেবার কালে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে গৃহবধূর মৃত্যু রহমতপুর সমিতি ঢাকা আহ্বায়ক কমিটি গঠন বিজয়নগরে লুডু খেলাকে কেন্দ্র করে নিহত ১ আহত ৫ ঝালকাঠির ভীমরুলির ভাসমান পর্যটন কেন্দ্রে অতিরিক্ত ভাড়া ও উচ্চশব্দে সাউন্ড বক্স বাজানোর দায়ে অভিযান দর্শনায় বিজিবির অভিযানে ১৩ কোটি টাকার স্বর্ণসহ এক পাচারকারী আটক বিজয়নগর উপজেলা আমতলী বাজারের vision এর নতুন শো রুমের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে, বাবুগঞ্জে নদী ভাঙন প্রতিরোধে জরুরি কাজের উদ্বোধন

বাকেরগঞ্জে শ্রেণিকক্ষের সংকটে বারান্দায় চলছে পাঠদান

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৪:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২২ ২৭৭ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মোঃ বশির আহাম্মেদ
চিপ রিপোর্টার

বরিশালের বাকেরগঞ্জের কলসকাঠী ইউনিয়নের ৯০ নম্বর দক্ষিণ সাদিশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের
শ্রেণিকক্ষের সংকটে বারান্দায় পাঠদান চলছে। বাইরে মানুষজনের কলহ । বিভিন্ন শব্দে পেছনের শিক্ষার্থীরা শুনছে না শিক্ষকের পাঠদান।

শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, দীর্ঘ দিন ধরে বারান্দায় প্রায় শতাধিক কোমলমতি শিক্ষার্থীর পাঠদান চলে আসলেও নতুন ভবন নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

সরেজমিনে দেখাযায়, ২০২১ সালে পান্ডব নদী ভাঙনের কবলে পড়লে বিদ্যালয়টি স্থানান্তর নিশ্চিত জেনে কর্তৃপক্ষ বিদ্যালয় ভবনটি নিলামে বিক্রি করে। এরপর নতুন একটা জায়গায় বিদ্যালয় ভবনটি টিন দিয়ে ৩টি রুম তৈরি করে। কিন্তু কক্ষের অভাবে ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে বারান্দায় কিংবা খোলা আকাশের নিচে শ্রেণিকার্যক্রম সম্পন্ন করতে হচ্ছে। দুই শিফটে ক্লাস নিতে হচ্ছে।
দেখা যায়, শিক্ষকদের রুমসহ দরকার ৬ টি রুম। কিন্তু আছে ৩টি। এ ক্ষেত্রে প্রতি শিফটে একটি শেণির ক্লাস বাইরে করতে হয়। এ ছাড়া স্কুলটিতে দরজা জানালা না থাকায় স্কুলের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র শিক্ষকদের বাড়িতে নিয়ে যেতে হয়। রাতে বন্যপ্রাণীর আনাগোনায় পাঠদানের পরিবেশ নষ্ট হয় প্রতিনিয়ত। তা-ছাড়া কোনো টয়লেট নেই।

এদিকে দীর্ঘ সময় ধরে বারান্দায় কিংবা খোলা আকশের নিচে পাঠদান করায় অনেক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। এতে অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টিসহ শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া এক ছাত্রীর অভিভাবক কামরুল ইসলাম বলে, ‘আগে স্কুলের পরিবেশ ভালো ছিল। কিন্তু নতুন জায়গায় স্কুল স্থানান্তরিত হওয়ার পর দেখা গেছে আমার বাড়ির কয়েকজন শিক্ষার্থীরই স্কুলে যাওয়ার মন নেই। আবার পরিবারের চাপে কেউ বই নিয়ে স্কুলের উদ্দেশে গেলেও সেখানে না গিয়ে এদিক-সেদিক ঘোরাঘুরি করে স্কুলের সময় শেষে বাড়ি ফিরে আসছে।’
স্কুলের পরিচালনা কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি এইচ.এম.জাফর আহমেদ বলেন, ‘দীর্ঘ দিন ধরে এই বিদ্যালয়ে ভবন সংকটসহ শ্রেণিকক্ষের স্বল্পতা দৃশ্যমান। পাকা ভবন নির্মাণ এবং শ্রেণিকক্ষ স্বল্পতা নিরসনে যথাযথ কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।’
এ ব্যাপারে ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক গাজী কবিরুল ভবন ও টয়লেট সংকট, শ্রেণিকক্ষ স্বল্পতার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘ভাঙনের কবলে পড়ে বিদ্যালয় স্থানান্তরের পরে যাবতীয় কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। নদীর তীরবর্তী এলাকা হিসাবে দ্রুত এ বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন জরুরি।’
এ ব্যাপারে বাকেরগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘৯০ নম্বর দক্ষিণ সাদিশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণসহ সার্বিক সমস্যা সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ অব্যাহত আছে। নিয়মানুযায়ী তালিকা প্রেরণ করা হয়েছে। আশা করি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিলেই দ্রুত এ সমস্যার সমাধান হবে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বাকেরগঞ্জে শ্রেণিকক্ষের সংকটে বারান্দায় চলছে পাঠদান

আপডেট সময় : ০৪:৪৪:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২২

মোঃ বশির আহাম্মেদ
চিপ রিপোর্টার

বরিশালের বাকেরগঞ্জের কলসকাঠী ইউনিয়নের ৯০ নম্বর দক্ষিণ সাদিশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের
শ্রেণিকক্ষের সংকটে বারান্দায় পাঠদান চলছে। বাইরে মানুষজনের কলহ । বিভিন্ন শব্দে পেছনের শিক্ষার্থীরা শুনছে না শিক্ষকের পাঠদান।

শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, দীর্ঘ দিন ধরে বারান্দায় প্রায় শতাধিক কোমলমতি শিক্ষার্থীর পাঠদান চলে আসলেও নতুন ভবন নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

সরেজমিনে দেখাযায়, ২০২১ সালে পান্ডব নদী ভাঙনের কবলে পড়লে বিদ্যালয়টি স্থানান্তর নিশ্চিত জেনে কর্তৃপক্ষ বিদ্যালয় ভবনটি নিলামে বিক্রি করে। এরপর নতুন একটা জায়গায় বিদ্যালয় ভবনটি টিন দিয়ে ৩টি রুম তৈরি করে। কিন্তু কক্ষের অভাবে ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে বারান্দায় কিংবা খোলা আকাশের নিচে শ্রেণিকার্যক্রম সম্পন্ন করতে হচ্ছে। দুই শিফটে ক্লাস নিতে হচ্ছে।
দেখা যায়, শিক্ষকদের রুমসহ দরকার ৬ টি রুম। কিন্তু আছে ৩টি। এ ক্ষেত্রে প্রতি শিফটে একটি শেণির ক্লাস বাইরে করতে হয়। এ ছাড়া স্কুলটিতে দরজা জানালা না থাকায় স্কুলের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র শিক্ষকদের বাড়িতে নিয়ে যেতে হয়। রাতে বন্যপ্রাণীর আনাগোনায় পাঠদানের পরিবেশ নষ্ট হয় প্রতিনিয়ত। তা-ছাড়া কোনো টয়লেট নেই।

এদিকে দীর্ঘ সময় ধরে বারান্দায় কিংবা খোলা আকশের নিচে পাঠদান করায় অনেক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। এতে অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টিসহ শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া এক ছাত্রীর অভিভাবক কামরুল ইসলাম বলে, ‘আগে স্কুলের পরিবেশ ভালো ছিল। কিন্তু নতুন জায়গায় স্কুল স্থানান্তরিত হওয়ার পর দেখা গেছে আমার বাড়ির কয়েকজন শিক্ষার্থীরই স্কুলে যাওয়ার মন নেই। আবার পরিবারের চাপে কেউ বই নিয়ে স্কুলের উদ্দেশে গেলেও সেখানে না গিয়ে এদিক-সেদিক ঘোরাঘুরি করে স্কুলের সময় শেষে বাড়ি ফিরে আসছে।’
স্কুলের পরিচালনা কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি এইচ.এম.জাফর আহমেদ বলেন, ‘দীর্ঘ দিন ধরে এই বিদ্যালয়ে ভবন সংকটসহ শ্রেণিকক্ষের স্বল্পতা দৃশ্যমান। পাকা ভবন নির্মাণ এবং শ্রেণিকক্ষ স্বল্পতা নিরসনে যথাযথ কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।’
এ ব্যাপারে ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক গাজী কবিরুল ভবন ও টয়লেট সংকট, শ্রেণিকক্ষ স্বল্পতার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘ভাঙনের কবলে পড়ে বিদ্যালয় স্থানান্তরের পরে যাবতীয় কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। নদীর তীরবর্তী এলাকা হিসাবে দ্রুত এ বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন জরুরি।’
এ ব্যাপারে বাকেরগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘৯০ নম্বর দক্ষিণ সাদিশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণসহ সার্বিক সমস্যা সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ অব্যাহত আছে। নিয়মানুযায়ী তালিকা প্রেরণ করা হয়েছে। আশা করি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিলেই দ্রুত এ সমস্যার সমাধান হবে।’