সংবাদ শিরোনাম ::
বাবুগঞ্জের দুর্গাসাগর থেকে হরিণ চুরির অভিযোগে কেয়ারটেকার ও মালী গ্রেপ্তার ঝালকাঠি প্রেস ক্লাবের দাতা সদস্য কুদ্দুস খান বাংলাদেশ বক্সিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় প্রেসক্লাবের সভাপতি শুভেচ্ছা রাজাপুরে টিসিবি ডিলার নিয়োগে অনিয়মের সত্যতা, পুনঃতদন্তে প্রশাসন রাজাপুরে বেহাল সড়ক পুনঃনির্মাণ ও সংস্কারের দাবিতে মানববন্ধন: দুই যুগের দুর্ভোগে ২০ হাজার মানুষ চুয়াডাঙ্গায় রাইচ কুকারের সুইচ দেবার কালে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে গৃহবধূর মৃত্যু রহমতপুর সমিতি ঢাকা আহ্বায়ক কমিটি গঠন বিজয়নগরে লুডু খেলাকে কেন্দ্র করে নিহত ১ আহত ৫ ঝালকাঠির ভীমরুলির ভাসমান পর্যটন কেন্দ্রে অতিরিক্ত ভাড়া ও উচ্চশব্দে সাউন্ড বক্স বাজানোর দায়ে অভিযান দর্শনায় বিজিবির অভিযানে ১৩ কোটি টাকার স্বর্ণসহ এক পাচারকারী আটক বিজয়নগর উপজেলা আমতলী বাজারের vision এর নতুন শো রুমের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে,

যাত্রী বাগাতে কমেছে লঞ্চ ভাড়া, ডেকে ১০০ টাকা কেবিনে ৬০০

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৩০:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩ অগাস্ট ২০২২ ১০৬ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আজকের ক্রাইম ডেক্স: পদ্মা সেতু চালুর পর ঢাকা-বরিশাল নৌরুটের লঞ্চগুলোতে ব্যাপক যাত্রী সংকট দেখা দিলেও ধীরে ধীরে যাত্রীসংখ্যা বাড়ছে এই রুটের বিলাসবহুল লঞ্চগুলোতে।

আগের রূপে ফিরেছে বরিশাল নদীবন্দরও। তবে যাত্রী বাগাতে ভাড়া কমিয়েছে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ। লঞ্চ ছাড়ার সময় যত ঘনিয়ে আসে ভাড়াও ধীরে ধীরে কমতে থাকে। রোববার ও সোমবার রাতে বরিশাল নদীবন্দরে নোঙর করা মোট ১৪টি লঞ্চেই যাত্রী ছিল।

আগের হিসাব অনুযায়ী, রোব ও সোমবার যাত্রী চাপ না থাকার কথা থাকলেও প্রতিটি লঞ্চেই এই দিন ডেক ছিল পরিপূর্ণ। স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে আরও কিছু দিন সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন লঞ্চ মালিকরা।

রোববার সুরভী-৮ লঞ্চের সামনে গিয়ে ডেকের ভাড়া ১৫০ টাকা করে নেওয়ার চিত্র দেখা যায়। এ ছাড়া পারাবত-১২ লঞ্চের সামনে ডেকের ভাড়া ১৫০ টাকা করে যাত্রীদের ডাকা হয়। তবে লঞ্চ ছাড়ার ১০ মিনিট আগে থেকেই পারাবত লঞ্চের কলম্যানরা ১০০ টাকা করে ডেকের ভাড়া ঘোষণা দিয়ে যাত্রী তুলতে থাকে।

এদিকে লঞ্চে যাত্রী ধরে রাখতে ইতোমধ্যে ভাড়া কমিয়ে ফেলেছে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ। সিঙ্গেল কেবিনের ভাড়া ছিল ১৩০০ থেকে ১৫০০ টাকা। সেই ভাড়া এখন নেওয়া হচ্ছে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা। আর ডাবল কেবিনের ভাড়াও কমিয়ে নেওয়া হচ্ছে ১৫০০ থেকে ২০০০ হাজার টাকা।

অপর দিকে ভিআইপি কেবিনগুলোর ভাড়াও কমানো হয়েছে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা করে। সুরভী-৮ লঞ্চের কলম্যান মোরশেদ হাসান বলেন, তিনজন লোক এসে কেবিন চাইছে ডাবল।

২২০০ টাকার কেবিন অনেক অনুরোধ কইরা ১৫০০ টাকায় দেওয়া হইছে। ডাবল কেবিনে তো দুজনের ভাড়া রাখা হয়, কিন্তু বাকি একজনের ভাড়া বাকি ছিল সেটাও ফ্রি করে দেওয়া হইছে।

কীর্তণখোলা ১০ লঞ্চের স্টাফ মাইনুল বলেন, আগের থেকে যাত্রী বাড়তেছে। স্বাভাবিক হইয়া যাইবে শিগগিরই। লঞ্চের কেবিন সব বিক্রি হয় নাই, তাই সিঙ্গেল কেবিন ৬০০ টাকা করে বিক্রির জন্য লঞ্চ ঘাটে ঘুরতেছি।

এই সিঙ্গেল কেবিনে যদি দুজন ওঠে তাহলে একজনের ভাড়াও ফ্রি। মানে শুধু ৬০০ টাকাই ভাড়া নেওয়া হবে, এক্সট্রা কোনো ভাড়া দেওয়ার দরকার নেই।

পারাবত লঞ্চের স্টাফ শহীদুল ইসলাম বলেন, ১৫০ টাকা করে আমরা সন্ধ্যা থেকে যাত্রী তুলছি। লঞ্চ ছাড়ার আগে ১০০ টাকা করে যাত্রী তুলছি। যা ভাড়া পাই তাই লাভ। যাত্রী ছাইড়া দিয়া তো লাভ নাই।

সুরভী লঞ্চ কোম্পানির ম্যানেজার রাশেদুল ইসলাম বলেন, পদ্মা সেতু চালুর পর লঞ্চে যাত্রী সংকট ছিল প্রচুর। অনেক সময় লোকসানও হয়েছে। তবে দিন যত যাচ্ছে তত ভিড় বাড়ছে। কেননা বৃহস্পতি ও শুক্রবার বাদে ঢাকা বরিশালের লঞ্চে এমনিতেই তেমন চাপ থাকে না।

তবে রোববার সে তুলনায় সব লঞ্চেই যাত্রী ভালো ছিল। ডেক ভরা ছিল সব লঞ্চেই। তবে কয়েকটি লঞ্চে কেবিন খালি থাকতে পারে। তিনি বলেন, সরকার নির্ধারিত ডেক অর্থাৎ তৃতীয় শ্রেণির ভাড়া ৩৫২ টাকা হলেও আমরা ১৫০ টাকা করে ডেকে ভাড়া নিচ্ছি এখন।

অন্য অনেক লঞ্চেই ভাড়া নিচ্ছে ২০০ টাকা করে। সিঙ্গেল কেবিন ৮০০ আর ডাবল ২০০০ টাকা। আশা করছি লঞ্চে যাত্রী আগামী এক মাসের মধ্যে স্বাভাবিক হবে।

কেন্দ্রীয় লঞ্চ মালিক সমিতির সহসভাপতি ও সুন্দরবন লঞ্চ কোম্পানির চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, দক্ষিণাঞ্চলবাসীর স্বপ্নের পদ্মা সেতু চালুর পর ঢাকা-বরিশাল রুটের লঞ্চে যাত্রী অনেকটা কম ছিল। অনেকে সেতু দেখতে বা প্রথম প্রথম সড়কপথে ঢাকা গেছেন। যাদের জরুরি তারা তো সড়কপথেই যাবেন।

আর যারা বিলাসী, তারা কিন্তু বিলাসবহুল লঞ্চগুলোতে চরেই ঢাকায় যান। ভাড়া কমানো হয়েছে অনেক। বাসের ভাড়ার সঙ্গে লঞ্চের ভাড়ার একটা ভালো গ্যাপ তৈরি হয়েছে। আশা করছি, খুব দ্রুতই লঞ্চে সেই আগের মতো যাত্রী হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

যাত্রী বাগাতে কমেছে লঞ্চ ভাড়া, ডেকে ১০০ টাকা কেবিনে ৬০০

আপডেট সময় : ০৭:৩০:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩ অগাস্ট ২০২২

আজকের ক্রাইম ডেক্স: পদ্মা সেতু চালুর পর ঢাকা-বরিশাল নৌরুটের লঞ্চগুলোতে ব্যাপক যাত্রী সংকট দেখা দিলেও ধীরে ধীরে যাত্রীসংখ্যা বাড়ছে এই রুটের বিলাসবহুল লঞ্চগুলোতে।

আগের রূপে ফিরেছে বরিশাল নদীবন্দরও। তবে যাত্রী বাগাতে ভাড়া কমিয়েছে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ। লঞ্চ ছাড়ার সময় যত ঘনিয়ে আসে ভাড়াও ধীরে ধীরে কমতে থাকে। রোববার ও সোমবার রাতে বরিশাল নদীবন্দরে নোঙর করা মোট ১৪টি লঞ্চেই যাত্রী ছিল।

আগের হিসাব অনুযায়ী, রোব ও সোমবার যাত্রী চাপ না থাকার কথা থাকলেও প্রতিটি লঞ্চেই এই দিন ডেক ছিল পরিপূর্ণ। স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে আরও কিছু দিন সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন লঞ্চ মালিকরা।

রোববার সুরভী-৮ লঞ্চের সামনে গিয়ে ডেকের ভাড়া ১৫০ টাকা করে নেওয়ার চিত্র দেখা যায়। এ ছাড়া পারাবত-১২ লঞ্চের সামনে ডেকের ভাড়া ১৫০ টাকা করে যাত্রীদের ডাকা হয়। তবে লঞ্চ ছাড়ার ১০ মিনিট আগে থেকেই পারাবত লঞ্চের কলম্যানরা ১০০ টাকা করে ডেকের ভাড়া ঘোষণা দিয়ে যাত্রী তুলতে থাকে।

এদিকে লঞ্চে যাত্রী ধরে রাখতে ইতোমধ্যে ভাড়া কমিয়ে ফেলেছে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ। সিঙ্গেল কেবিনের ভাড়া ছিল ১৩০০ থেকে ১৫০০ টাকা। সেই ভাড়া এখন নেওয়া হচ্ছে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা। আর ডাবল কেবিনের ভাড়াও কমিয়ে নেওয়া হচ্ছে ১৫০০ থেকে ২০০০ হাজার টাকা।

অপর দিকে ভিআইপি কেবিনগুলোর ভাড়াও কমানো হয়েছে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা করে। সুরভী-৮ লঞ্চের কলম্যান মোরশেদ হাসান বলেন, তিনজন লোক এসে কেবিন চাইছে ডাবল।

২২০০ টাকার কেবিন অনেক অনুরোধ কইরা ১৫০০ টাকায় দেওয়া হইছে। ডাবল কেবিনে তো দুজনের ভাড়া রাখা হয়, কিন্তু বাকি একজনের ভাড়া বাকি ছিল সেটাও ফ্রি করে দেওয়া হইছে।

কীর্তণখোলা ১০ লঞ্চের স্টাফ মাইনুল বলেন, আগের থেকে যাত্রী বাড়তেছে। স্বাভাবিক হইয়া যাইবে শিগগিরই। লঞ্চের কেবিন সব বিক্রি হয় নাই, তাই সিঙ্গেল কেবিন ৬০০ টাকা করে বিক্রির জন্য লঞ্চ ঘাটে ঘুরতেছি।

এই সিঙ্গেল কেবিনে যদি দুজন ওঠে তাহলে একজনের ভাড়াও ফ্রি। মানে শুধু ৬০০ টাকাই ভাড়া নেওয়া হবে, এক্সট্রা কোনো ভাড়া দেওয়ার দরকার নেই।

পারাবত লঞ্চের স্টাফ শহীদুল ইসলাম বলেন, ১৫০ টাকা করে আমরা সন্ধ্যা থেকে যাত্রী তুলছি। লঞ্চ ছাড়ার আগে ১০০ টাকা করে যাত্রী তুলছি। যা ভাড়া পাই তাই লাভ। যাত্রী ছাইড়া দিয়া তো লাভ নাই।

সুরভী লঞ্চ কোম্পানির ম্যানেজার রাশেদুল ইসলাম বলেন, পদ্মা সেতু চালুর পর লঞ্চে যাত্রী সংকট ছিল প্রচুর। অনেক সময় লোকসানও হয়েছে। তবে দিন যত যাচ্ছে তত ভিড় বাড়ছে। কেননা বৃহস্পতি ও শুক্রবার বাদে ঢাকা বরিশালের লঞ্চে এমনিতেই তেমন চাপ থাকে না।

তবে রোববার সে তুলনায় সব লঞ্চেই যাত্রী ভালো ছিল। ডেক ভরা ছিল সব লঞ্চেই। তবে কয়েকটি লঞ্চে কেবিন খালি থাকতে পারে। তিনি বলেন, সরকার নির্ধারিত ডেক অর্থাৎ তৃতীয় শ্রেণির ভাড়া ৩৫২ টাকা হলেও আমরা ১৫০ টাকা করে ডেকে ভাড়া নিচ্ছি এখন।

অন্য অনেক লঞ্চেই ভাড়া নিচ্ছে ২০০ টাকা করে। সিঙ্গেল কেবিন ৮০০ আর ডাবল ২০০০ টাকা। আশা করছি লঞ্চে যাত্রী আগামী এক মাসের মধ্যে স্বাভাবিক হবে।

কেন্দ্রীয় লঞ্চ মালিক সমিতির সহসভাপতি ও সুন্দরবন লঞ্চ কোম্পানির চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, দক্ষিণাঞ্চলবাসীর স্বপ্নের পদ্মা সেতু চালুর পর ঢাকা-বরিশাল রুটের লঞ্চে যাত্রী অনেকটা কম ছিল। অনেকে সেতু দেখতে বা প্রথম প্রথম সড়কপথে ঢাকা গেছেন। যাদের জরুরি তারা তো সড়কপথেই যাবেন।

আর যারা বিলাসী, তারা কিন্তু বিলাসবহুল লঞ্চগুলোতে চরেই ঢাকায় যান। ভাড়া কমানো হয়েছে অনেক। বাসের ভাড়ার সঙ্গে লঞ্চের ভাড়ার একটা ভালো গ্যাপ তৈরি হয়েছে। আশা করছি, খুব দ্রুতই লঞ্চে সেই আগের মতো যাত্রী হবে।