সংবাদ শিরোনাম ::
জুলাই আন্দোলনের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে বাবুগঞ্জে জামায়াতের সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল বাবুগঞ্জে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত মাদারীপুরে ড্রাম বিস্ফোরণে শিশু শ্রমিকের করুণ মৃত্যু চাঞ্চল্যকর ঘটনা: চোরের আঙুল কামড়ে ছিঁড়ে ফেললেন গৃহবধূ, মোবাইল নিয়ে চম্পট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে ঝালকাঠিতে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও স্মারক সংবর্ধনা বরিশালে প্রবাসীর স্ত্রীর ঘর থেকে জামায়াতকর্মী আটক সভাপতি-আব্দুস সালাম, সাধারণ সম্পাদক- মনোয়ার হোসেন। বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি বাবুগঞ্জ উপজেলা শাখার ৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা সবুজ বাংলাদেশ গড়তে ঝালকাঠিতে ১ হাজার ৫শ গাছের চারা বিতরণ করেন জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট শাহাদাৎ হোসেন ৮২ নং পূর্ব চাঁদপাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি মনোনীত হলেন আইটি বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষানুরাগী ইঞ্জিনিয়ার তৌহিদুল ইসলাম মেমনগর বি.ডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পুনরায় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেলেন প্রভাষক মো. মশিউর রহমান

বিচ্ছেদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পালিয়ে বিয়ে করলেন সেই বর-কনে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:০৫:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ অক্টোবর ২০২১ ৭৯ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আজকের ক্রাইম ডেক্স

চুয়াডাঙ্গায় বিয়েবাড়িতে মাংস বেশি খাওয়াকে কেন্দ্র করে বিতণ্ডার জেরে বিচ্ছেদ হয়েছিল দম্পতির। পরে সেই বর-কনে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আবার পালিয়ে নিজেরা বিয়ে করেছেন।

দুই বছর আগে সুমি খাতুনের সঙ্গে সৌদি আরব প্রবাসী সবুজ আলীর বিয়ে হয়। সেই সময় সৌদি আরবে টেলিফোনের মাধ্যমে তাদের বিয়ে হয়। দুই বছর আগে বিয়ে হলেও চুয়াডাঙ্গার সদর উপজেলার দশমী গ্রামে গত রোববার কনে সুমি খাতুনকে তুলে দেয়ার অনুষ্ঠান চলছিল। সেখানে বরপক্ষের মাংস বেশি খাওয়া নিয়ে কনেপক্ষের মধ্যে প্রথমে বাগবিতণ্ডা, পরে সংঘর্ষ বাধে। এরপর সালিশ বৈঠকে বর-কনের মধ্যে বিচ্ছেদ হয়।

কনের পিতা নজরুল ইসলাম বলেন,’ বরপক্ষের লোকজন খাবারে অনেক মাংস নষ্ট করেছে। এরপরও ভাত না খেয়ে আরও মাংস আরও বেশি চাইলে এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে মারামারি শুরু হয়ে যায়। এছাড়া তারা গায়ে হলুদের উপহারও ফেরত নিয়ে এসেছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন। সেদিন রাতেই দুই পক্ষের সালিশে বিয়ে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘তিনজন নিয়ে গ্যাঞ্জাম। সবাই খেয়ে উঠে গেছে, বরের সাথে তিনজন ছিল, ওই তিনজনকে নিয়ে গ্যাঞ্জাম। তারা বলতেছিল, আরও মাংস দেও। গ্যাঞ্জাম করে মারামারি করল।’

তবে বর সবুজ আলীর দাবি, ”মাংস নিয়ে না, হাত ধোয়া নিয়ে কথাবার্তার জের ধরে ঘটনাটা ঘটেছে। তারপর কী থেকে কী হয়ে গেল, বুঝলাম না। যাদের কারণে ঝামেলা হয়েছে, তারা ঘনিষ্ঠ কোন স্বজন নন।’

বর সবুজ আলী বলেন,”সেখানে যা ঘটেছে, তাতে আমাদের দুইজনের তো কোন অন্যায় নেই। বিয়ে বাড়িতে একদুই কথা হয়। কিন্তু সেটা যে এতদূর চলে যাবে, তা ভাবি নাই। আমরা বিয়ে করেছি, ভালো আছি।’

তিনি আরও জানান, সেই ঝামেলার পর যখন দুই পরিবারের মুরুব্বি, গ্রামের মাতবর মিলে বৈঠকে বসেন, সেই সময়েও তিনি চেয়েছেন যে, তার স্ত্রীকে তিনি বাড়িতে নিয়ে যাবেন। কিন্তু তার শ্বশুর রাজি হননি। তবে সেদিন রাতে তিনি ঘুমাতে পারেননি।

তিনি বলেন, ‘ঝগড়ার সময় আমার কথা কেউ শোনেনি। আমি তখনি বলছিলাম, আমার বউকে আমি নিয়ে যাব।’

‘আমি অনলাইনে, ফেসবুকে এরকম ঘটনার কথা শুনেছি, কিন্তু আমার জীবনেই যে এরকম একটা ঘটনা ঘটবে, কখনো ভাবি নাই। এখন মেয়ের পক্ষেও সবাই ভালো আছে, আমরাও ভালো আছি।’ বলেন সবুজ আলী

কনে সুমি খাতুন জানান, সেদিন তার খুব খারাপ লাগছিল। সারারাত কান্নাকাটি করছিলেন। স্বজনরা তাকে বোঝাচ্ছিলেন যে, যা হওয়ার হয়েছে। তখন তার অভিমানও হয়েছিল, কিন্তু তিনি বারবার বলেছেন, আমি ওর (সবুজ আলী) কাছে যাব। পরে সন্ধ্যায় এক কাপড়ে তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে চলে আসেন বলে জানান।

এ বিষয়ে কনে সুমির বাবা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সে চলে গেছে তার ভাগ্য নিয়ে, এখন আমি আর কি বলবো। সে বড়দের কথা শুনলো না। একদিক থেকে অবশ্য ভালোই হয়েছে। যার সাথে বিয়ে হয়েছিল, তার সাথেই আবার বিয়ে হইছে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বিচ্ছেদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পালিয়ে বিয়ে করলেন সেই বর-কনে

আপডেট সময় : ০২:০৫:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ অক্টোবর ২০২১

আজকের ক্রাইম ডেক্স

চুয়াডাঙ্গায় বিয়েবাড়িতে মাংস বেশি খাওয়াকে কেন্দ্র করে বিতণ্ডার জেরে বিচ্ছেদ হয়েছিল দম্পতির। পরে সেই বর-কনে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আবার পালিয়ে নিজেরা বিয়ে করেছেন।

দুই বছর আগে সুমি খাতুনের সঙ্গে সৌদি আরব প্রবাসী সবুজ আলীর বিয়ে হয়। সেই সময় সৌদি আরবে টেলিফোনের মাধ্যমে তাদের বিয়ে হয়। দুই বছর আগে বিয়ে হলেও চুয়াডাঙ্গার সদর উপজেলার দশমী গ্রামে গত রোববার কনে সুমি খাতুনকে তুলে দেয়ার অনুষ্ঠান চলছিল। সেখানে বরপক্ষের মাংস বেশি খাওয়া নিয়ে কনেপক্ষের মধ্যে প্রথমে বাগবিতণ্ডা, পরে সংঘর্ষ বাধে। এরপর সালিশ বৈঠকে বর-কনের মধ্যে বিচ্ছেদ হয়।

কনের পিতা নজরুল ইসলাম বলেন,’ বরপক্ষের লোকজন খাবারে অনেক মাংস নষ্ট করেছে। এরপরও ভাত না খেয়ে আরও মাংস আরও বেশি চাইলে এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে মারামারি শুরু হয়ে যায়। এছাড়া তারা গায়ে হলুদের উপহারও ফেরত নিয়ে এসেছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন। সেদিন রাতেই দুই পক্ষের সালিশে বিয়ে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘তিনজন নিয়ে গ্যাঞ্জাম। সবাই খেয়ে উঠে গেছে, বরের সাথে তিনজন ছিল, ওই তিনজনকে নিয়ে গ্যাঞ্জাম। তারা বলতেছিল, আরও মাংস দেও। গ্যাঞ্জাম করে মারামারি করল।’

তবে বর সবুজ আলীর দাবি, ”মাংস নিয়ে না, হাত ধোয়া নিয়ে কথাবার্তার জের ধরে ঘটনাটা ঘটেছে। তারপর কী থেকে কী হয়ে গেল, বুঝলাম না। যাদের কারণে ঝামেলা হয়েছে, তারা ঘনিষ্ঠ কোন স্বজন নন।’

বর সবুজ আলী বলেন,”সেখানে যা ঘটেছে, তাতে আমাদের দুইজনের তো কোন অন্যায় নেই। বিয়ে বাড়িতে একদুই কথা হয়। কিন্তু সেটা যে এতদূর চলে যাবে, তা ভাবি নাই। আমরা বিয়ে করেছি, ভালো আছি।’

তিনি আরও জানান, সেই ঝামেলার পর যখন দুই পরিবারের মুরুব্বি, গ্রামের মাতবর মিলে বৈঠকে বসেন, সেই সময়েও তিনি চেয়েছেন যে, তার স্ত্রীকে তিনি বাড়িতে নিয়ে যাবেন। কিন্তু তার শ্বশুর রাজি হননি। তবে সেদিন রাতে তিনি ঘুমাতে পারেননি।

তিনি বলেন, ‘ঝগড়ার সময় আমার কথা কেউ শোনেনি। আমি তখনি বলছিলাম, আমার বউকে আমি নিয়ে যাব।’

‘আমি অনলাইনে, ফেসবুকে এরকম ঘটনার কথা শুনেছি, কিন্তু আমার জীবনেই যে এরকম একটা ঘটনা ঘটবে, কখনো ভাবি নাই। এখন মেয়ের পক্ষেও সবাই ভালো আছে, আমরাও ভালো আছি।’ বলেন সবুজ আলী

কনে সুমি খাতুন জানান, সেদিন তার খুব খারাপ লাগছিল। সারারাত কান্নাকাটি করছিলেন। স্বজনরা তাকে বোঝাচ্ছিলেন যে, যা হওয়ার হয়েছে। তখন তার অভিমানও হয়েছিল, কিন্তু তিনি বারবার বলেছেন, আমি ওর (সবুজ আলী) কাছে যাব। পরে সন্ধ্যায় এক কাপড়ে তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে চলে আসেন বলে জানান।

এ বিষয়ে কনে সুমির বাবা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সে চলে গেছে তার ভাগ্য নিয়ে, এখন আমি আর কি বলবো। সে বড়দের কথা শুনলো না। একদিক থেকে অবশ্য ভালোই হয়েছে। যার সাথে বিয়ে হয়েছিল, তার সাথেই আবার বিয়ে হইছে।’