সংবাদ শিরোনাম ::
জুলাই আন্দোলনের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে বাবুগঞ্জে জামায়াতের সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল বাবুগঞ্জে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত মাদারীপুরে ড্রাম বিস্ফোরণে শিশু শ্রমিকের করুণ মৃত্যু চাঞ্চল্যকর ঘটনা: চোরের আঙুল কামড়ে ছিঁড়ে ফেললেন গৃহবধূ, মোবাইল নিয়ে চম্পট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে ঝালকাঠিতে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও স্মারক সংবর্ধনা বরিশালে প্রবাসীর স্ত্রীর ঘর থেকে জামায়াতকর্মী আটক সভাপতি-আব্দুস সালাম, সাধারণ সম্পাদক- মনোয়ার হোসেন। বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি বাবুগঞ্জ উপজেলা শাখার ৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা সবুজ বাংলাদেশ গড়তে ঝালকাঠিতে ১ হাজার ৫শ গাছের চারা বিতরণ করেন জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট শাহাদাৎ হোসেন ৮২ নং পূর্ব চাঁদপাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি মনোনীত হলেন আইটি বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষানুরাগী ইঞ্জিনিয়ার তৌহিদুল ইসলাম মেমনগর বি.ডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পুনরায় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেলেন প্রভাষক মো. মশিউর রহমান

৯ বছরের শিশুর কাঁধে ছয় সদস্যের পরিবারের দায়িত্ব

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:০২:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ অক্টোবর ২০২১ ৮৭ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আজকের ক্রাইম ডেক্স
নয় বছরের শিশুটি কাজ করে বেকারিতে। মাসে পায় ৩০০০ টাকা। এই টাকা দিয়েই চলে ছয়জনের পুরো সংসার। অন্যের বাড়িতে কাজ করে মা যা আয় করেন তাতে সংসারের খরচ মেটানো সম্ভব হয় না।

শিশুটির নাম তামিম। যে বয়সে হাতে থাকার কথা বই-খাতা, ঘুরে বেড়ানোর সময় হৈ চৈ করে সেই সময়ে তামিমকে কাঁধে নিতে হয়েছে সংসারের দায়িত্ব।

মো. তামিম ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ার নাওগাঁও ইউনিয়নের হরিরামবাড়ী এলাকার জুলহাস ও তাসলিমা দম্পতির বড় ছেলে। স্ত্রী-সন্তানকে রেখে তামিমের বাবা বিয়ে করেছেন অন্যত্র। এরপর থেকে আর সংসারের কোনো খোঁজ নেন না তিনি। তাই এই বয়সেই সংসারের দায়িত্ব নিতে হয়েছে তামিমকে।

জানা যায়, পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে তামিম সবার বড়। মা তাসলিমাসহ ছয়জনের সংসার তাদের। নিজের থাকার মত কোনো জমি তাদের নেই। তাই বসবাস নানার বাড়িতেই।

তামিমের মা তাসলিমা সাংবাদিকদের জানান, তামিম স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় পড়ালেখা করতো। তামিমের বাবা জুলহাস দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালাতেন। গত বছরের ডিসেম্বরে জুলহাস আরেকটি বিয়ে করে অন্যত্র চলে যান। এরপর থেকেই সংসার চালাতে হিমশিম খেতে থাকেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘সংসার চালানোর জন্য আমি মানুষের বাড়িতে বাড়িতে কাজ করি। সংসারের অভাব অনটনের কারণে ছেলেকে মাদরাসা থেকে এনে স্থানীয় টেকির বাজার একটি বেকারিতে কাজে দিয়েছি। সেখান থেকে মাসে ৩০০০ টাকা দেয়। এই টাকা দিয়েই আমার সংসার চলে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার থাকার মতো কোনো জায়গা নেই। বাবার বাড়িতে আমাকে একটি ঘর করে দিয়েছে, সেখানেই থাকি। বৃষ্টি হলেই সেই ঘরে পানি পড়ে।’

এ বিষয়ে তামিমের বলে, ‘বাবা বিয়ে করে আমাদের ফেলে চলে গেছে। আমাদের কোন খোঁজখবর নেয় না। তাই বাধ্য হয়ে সংসার চালানোর জন্য মাদরাসা ছেড়ে বেকারিতে কাজ নিয়েছি। এখানে আমাকে মাসে ৩০০০ টাকা দেয়। এই টাকা মায়ের হাতে তুলে দেই।’

বেকারির মালিক সারোয়ার আলম জাগো নিউজকে জানান, গত সাত মাস ধরে তামিম তার বেকারিতে কাজ করেন। সে নিয়মিত বেকারির কর্মচারী ও তার খাবার এনে দেয় বাড়ি থেকে। এছাড়া সে অন্য কোনো কাজ করে না। এই কাজের জন্যই তাকে ৩০০০ টাকা দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আয়েশা হক জানান, খোঁজ খবর নিয়ে তামিমসহ পরিবারের অন্যান্য শিশুদের লেখাপড়ার ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়াও সংসার যেন ভাল ভাবে চলে সেই ব্যবস্থাও করা হবে বলেও জানান তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

৯ বছরের শিশুর কাঁধে ছয় সদস্যের পরিবারের দায়িত্ব

আপডেট সময় : ০৫:০২:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ অক্টোবর ২০২১

আজকের ক্রাইম ডেক্স
নয় বছরের শিশুটি কাজ করে বেকারিতে। মাসে পায় ৩০০০ টাকা। এই টাকা দিয়েই চলে ছয়জনের পুরো সংসার। অন্যের বাড়িতে কাজ করে মা যা আয় করেন তাতে সংসারের খরচ মেটানো সম্ভব হয় না।

শিশুটির নাম তামিম। যে বয়সে হাতে থাকার কথা বই-খাতা, ঘুরে বেড়ানোর সময় হৈ চৈ করে সেই সময়ে তামিমকে কাঁধে নিতে হয়েছে সংসারের দায়িত্ব।

মো. তামিম ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ার নাওগাঁও ইউনিয়নের হরিরামবাড়ী এলাকার জুলহাস ও তাসলিমা দম্পতির বড় ছেলে। স্ত্রী-সন্তানকে রেখে তামিমের বাবা বিয়ে করেছেন অন্যত্র। এরপর থেকে আর সংসারের কোনো খোঁজ নেন না তিনি। তাই এই বয়সেই সংসারের দায়িত্ব নিতে হয়েছে তামিমকে।

জানা যায়, পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে তামিম সবার বড়। মা তাসলিমাসহ ছয়জনের সংসার তাদের। নিজের থাকার মত কোনো জমি তাদের নেই। তাই বসবাস নানার বাড়িতেই।

তামিমের মা তাসলিমা সাংবাদিকদের জানান, তামিম স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় পড়ালেখা করতো। তামিমের বাবা জুলহাস দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালাতেন। গত বছরের ডিসেম্বরে জুলহাস আরেকটি বিয়ে করে অন্যত্র চলে যান। এরপর থেকেই সংসার চালাতে হিমশিম খেতে থাকেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘সংসার চালানোর জন্য আমি মানুষের বাড়িতে বাড়িতে কাজ করি। সংসারের অভাব অনটনের কারণে ছেলেকে মাদরাসা থেকে এনে স্থানীয় টেকির বাজার একটি বেকারিতে কাজে দিয়েছি। সেখান থেকে মাসে ৩০০০ টাকা দেয়। এই টাকা দিয়েই আমার সংসার চলে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার থাকার মতো কোনো জায়গা নেই। বাবার বাড়িতে আমাকে একটি ঘর করে দিয়েছে, সেখানেই থাকি। বৃষ্টি হলেই সেই ঘরে পানি পড়ে।’

এ বিষয়ে তামিমের বলে, ‘বাবা বিয়ে করে আমাদের ফেলে চলে গেছে। আমাদের কোন খোঁজখবর নেয় না। তাই বাধ্য হয়ে সংসার চালানোর জন্য মাদরাসা ছেড়ে বেকারিতে কাজ নিয়েছি। এখানে আমাকে মাসে ৩০০০ টাকা দেয়। এই টাকা মায়ের হাতে তুলে দেই।’

বেকারির মালিক সারোয়ার আলম জাগো নিউজকে জানান, গত সাত মাস ধরে তামিম তার বেকারিতে কাজ করেন। সে নিয়মিত বেকারির কর্মচারী ও তার খাবার এনে দেয় বাড়ি থেকে। এছাড়া সে অন্য কোনো কাজ করে না। এই কাজের জন্যই তাকে ৩০০০ টাকা দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আয়েশা হক জানান, খোঁজ খবর নিয়ে তামিমসহ পরিবারের অন্যান্য শিশুদের লেখাপড়ার ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়াও সংসার যেন ভাল ভাবে চলে সেই ব্যবস্থাও করা হবে বলেও জানান তিনি।