সাফল্যের ২ বছর: চুয়াডাঙ্গা জেলাবাসীর ভালবাসা ও প্রশংসায় এসপি জাহিদুল ইসলাম।
- আপডেট সময় : ০৭:৫৮:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ অক্টোবর ২০২১ ১৬৪ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার: মানবিকতা ও নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় এক অন্যন্য উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম। তিনি চুয়াডাঙ্গার আপামর জনসাধারণের হৃদয়ে ইতিমধ্যে জায়গা করে নিয়েছেন পরিণত হয়েছেন ভালোবাসার পাত্রেও। তার হাতের জাদুর পরশে বদলে বদলে গেছে চুয়াডাঙ্গা জেলার পুলিশ। মানবিক পুলিশিং এর গল্প ও চুয়াডাঙ্গা জেলায় তার অবদান আজকে পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হচ্ছে। উপলক্ষ্য- চুয়াডাঙ্গা বাসীর সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দেওয়ার ২ বছর পূর্তি। পুলিশ হিসেবে জেলার উন্নয়নে বিভিন্ন বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। করোনা মহামারীর মোকাবেলা করতে গিয়ে তার জেলাবাসীর ভালো ভালো পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করার মত যথেষ্ট সময় পায় নাই। আশা করি এবার সেগুলোর বাস্তবায়ন করবেন। ইতিমধ্যে তিনি যে কাজগুলো করেছেন তাতে শুধু চুয়াডাঙ্গা জেলা নয় সারাদেশে প্রশংসায় ভাসছেন।
১) উইমেনস সাপোর্ট সেন্টার: পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম চুয়াডাঙ্গায় এসে দেখলেন – ডিভোর্সে শীর্ষ জেলা গুলোর ভিতরে চুয়াডাঙ্গার নাম। নারীদের নিয়ে শত আইন থাকলেও সেগুলোর মাধ্যমে বিচার পেতে দীর্ঘ সময়, অর্থ খরচ হয় ও বিভিন্ন কারনে বিচার পেতে বিলম্ব হত। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সমাস্যা আপোস বা মধ্যস্ততাকারীর অভাবে ডিভোর্সে রুপ নিত। এতে অনেক বাচ্চা ছেলে মেয়ে তাদের বাবা মায়ের আদর শৈশবেই হারিয়ে ফেলত। এই সমাস্যা গুলো সমধান করার জন্য মানবিক পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম গড়ে তুললেন উইমেনস সাপোর্ট সেন্টার । জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে সমাস্যাগ্রস্ত পরিবার ছুটে আসতো তার কাছে – পুলিশ সুপার সেই সব সমাস্যাগ্রস্ত পরিবারের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনে সমাধান করে এবং তাদের হাতে উপহার ও তুলে দেয়। আজ অবধি ৩৬৪ টি পরিবার এই সেবা গ্রহণের জন্য উইমেনস সাপোর্ট সেন্টারে আসেন।
তার সেবা প্রদানের একটি উদাহরণ –
একদিন এক ছেলে কোনভাবেই তার বউকে নিবে না — এস পি ছেলেটার কিছু বাজে অভ্যাসের কথা শুনে বললেন – এটা আমার মেয়ে, এখন তুমি নিবে কিনা বাদ দিবে ভেবে দেখ! তারপর সেই ছেলে তার বউকে নিয়ে যায়।
২) বাল্য বিবাহ: উইমেন্স সাপোর্ট সেন্টার খুলে বুঝতে পারেন -ডিভোর্স ও সংসারে অশান্তির অন্যতম কারণ অল্প বয়সে মেয়েদের বিবাহ। তারা অল্প বয়সে সবার সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারে না। তাছাড়া এটা আইনের পরিপন্থী কাজ। তাই জেলার সমস্ত কাজীদের সাথে মিটিং করলেন । তাদেরকে কঠোর হুশিয়ারির সাথে ভালভাবে বুঝালেন।
কাজিরা অভিযোগ করেন – ইউনিয়ন তথ্য সেবা থেকে বয়স বাড়িয়ে মানুষ বিয়ে দেয়- তখন তিনি ইউনিয়ন তথ্যসেবায় কাজ করা উদ্দোক্তাদের সাথেও বসার সিদ্ধান্ত নিলেও করোনা কারণে সম্ভব হয়ে উঠেনি।
৩) ভাঙ্গা সংসার জোড়া : ২৫৮ টি ভাংগা সংসার জোড়া দিয়ে এক অন্যান্য পুলিশিং সেবার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন মানবিক পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম। আরও ৬৪ টি পরিবারকে আইনী সহয়তা দিয়েছেন।
৪) কন্যা সন্তান হলেই পুরুস্কার: সমাজে মেয়েকে ছোট মনে করা হয়। মেয়ে মানেই তাকে বিয়ে দিয়ে বিদায় করতে হবে এমন একটি অবস্থা বিরাজ করছে –
কন্যা সন্তান অভিশাপ নয় বরং আশির্বাদস্বরূপ মহানবী (সা.) সেই চিন্তাধারায় চুয়াডাঙ্গা জেলাব্যাপী কন্যা সন্তান কারো ঘরে জন্ম নিলেই উপহার পাঠিয়ে শুধু জেলা নয় সারা দেশে প্রশংসিত হয়। চুয়াডাঙ্গা জেলায় জন্ম নেওয়া ৭৭৮ টি কন্যা পুলিশ সুপারের দেওয়া পুরুস্কার পেয়েছেন।
৫) মাদকের বিরুদ্ধে ৫ বাহিনীর যৌথ অভিযান: পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, ফায়ার সার্ভিস, আনসার বাহিনী চুয়াডাঙ্গা জেলার মাদকের ঘাটি দর্শনা থানার আকন্দবাড়িয়ায় অপারেশন আকন্দবাড়িয়া ও রেংগেরপোতা পরিচালনা করেন। এবং এই অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন। আর এটা জেলা প্রশাসককে নিয়ে নিজে মাঠে অভিযান পরিচালনা করেন। সব বাহিনীর সাথে নিজে যোগাযোগ করে এই অভিযানের উদ্যোগ নেন।
কিন্তু করোনা মোকাবেলা করতে গিয়ে তা বন্ধ আছে।
৬ ) করোনাকালীন খাদ্য সহায়তা: করোনার মহামারির সময় লকডাউন — চারদিকে কর্মহীন মানুষ। ঘরে ভাত নেই, চিকিৎসার টাকা নেই। চারদিকে হাহাকার। তখন কিছু নেতাকর্মী বাদে অধিকাংশ নেতাকর্মীকে জনগন খুজে পাচ্ছিল না! ঠিক তখনি সাধারণ মানুষের পাশে ছুটে এসে দাড়ালেন মানবিক পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম- খাদ্য সহয়তার জন্য হটলাইন নম্বর চালু করলেন। ক্যাম্পে ক্যাম্পে তালিকা ও খাবার চাহিদা চেয়ে পাঠিয়েছেন। শুধু খাদ্য সহয়তা ই নয় – বাচ্ছার দুধ নাই, ওষুধ নাই –ফোন দিলেই অসহায়ের সহায় হয়ে দাড়িয়েছেন – পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম। তিনি ১০ হাজার পরিবারের মাঝে খাদ্য বিতরণ করেন। প্রায় ২৫০ জনকে ওষুধ কিনে দিয়েছেন। তাছাড়া ২৫০ জনকে বস্ত্র দিয়ে সহয়তা করেছেন।
৭) করোনা প্রতিরোধে ভূমিকা: করোনার সময় তার ভুমিকা ছিল চোখে পড়ার মত – হ্যান্ড স্যানিটাইজার, মাস্ক, লিফলেট বিতরণ করেছেন মুক্ত হস্তে। এসব বিতরণ করতে করতে হাতে টাকা শর্ট পড়লে চুয়াডাঙ্গার এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ধার নিয়ে চুয়াডাঙ্গার মানুষের সেবা করেছেন। ৭০ হাজার মাস্ক বিতরণ, ২৫ হাজার লিফলেট বিতরণ করেছেন। পাশাপাশি জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জনগনকে সচেতন করতে মাইকিং করেছেন।
৮) অক্সিজেন সংকটে জেলাবাসীর পাশে: এই তো কিছুদিন আগে করোনা রোগীদের ব্যাপক অক্সিজেন সংকট দেখা যায়। হাসপাতালে আইসিইউ নাই, অক্সিজেন নাই – অক্সিজেন অভাবে জনগন যখন আতংকে সেই সময় বিভিন্ন রাজনীতিবিদ, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পাশাপাশি পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম চুয়াডাঙ্গাবাসীর পাশে দাড়ান। তিনি সদরে ১০ টি বড় অক্সিজেন সিলিন্ডার, ২ টি দামুড়হুদায় এবং ২ টি আলমডাংগায় প্রদান করেন।
৯) পুলিশ ক্লিয়ারেন্স – ওয়ান স্টপ সার্ভিস: পুলিশ ক্লিয়ারেন্স এর অতীত খুব ই খারাপ, ৪/৫ হাজারের নিচে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স হত না । পুলিশ ক্লিয়ারেন্স করতে গিয়ে জনগণ থানায় তদবির, আবার এস বি অফিসে তদবির — থানা থেকে কাগজ দ্রুত ডি এস বি অফিসে পাঠাতে অর্থ লেনদেন হওয়ার কথা শুনে এবং জনগণের হয়রানি কমাতে থানায় যাওয়া বন্ধ করে দিলেন — এস পি অফিসে চালু করলেন ওয়ান স্টপ সার্ভিস। তিনি বললেন, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স করতে কোথাও যাওয়ার দরকার নাই। এস পি অফিসে এসে আবেদন করুন অথবা যেকোন কম্পিউটারের দোকান থেকে আবেদন করলেই পেয়ে যাবেন পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট । পুলিশ আপনার বাড়ি গিয়ে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র গিয়ে নিয়ে আসবে।
১০) প্রতিবন্ধীদের পাশে পুলিশ সুপার: জেলার প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর পাশেও মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন – চুয়াডাঙ্গা মানবিক পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম। এক প্রতিবন্ধীর মেয়ের বিয়েতে অর্থ দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই হুইল চেয়ার ও আর্থিক সাহায্য চেয়ে আবেদন করলে বা ফোন করলে পুলিশ সুপার সাহায্যর হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। আজ অবধি ৬ টি হুইলচেয়ার দিয়েছেন এবং এক প্রতিবন্ধীকে ব্যবসা করতে কিছু মুলধন দেন।
১১) ছাত্রছাত্রীদের পাশে পুলিশ সুপার – স্কুলিং পুলিশ: জেলায় এসেই স্কুলিং পুলিশ চালুর উদ্যোগ নেন – পুলিশ সুপার। চুয়াডাঙ্গা জেলার সমস্ত জি পি এ ফাইভ ও এ গ্রেড প্রাপ্তদের উৎসাহ দিতে সংবর্ধনার আয়োজন করেন। ৭৭৮ জন ছাত্রছাত্রীকে ফুল, ক্রেস্ট, বই, চারাগাছ দিয়ে সংবর্ধনা জানান। ছাত্রছাত্রীদের মাঝে নিজ ফান্ড থেকে ১০০০+ অসমাপ্ত আত্মজীবনী বই বিতরণ করেন। গরীব ছাত্রছাত্রীদের গাইড বই খাতা কিনে দেন। ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে ব্যাপক ভাবে কাজ করার পরিকল্পনা নিয়ে যখন চিন্তা শুরু করলেন ঠিক তখনি করোনা এসে স্কুল কলেজ বন্ধ হয়ে সব পরিকল্পনা পন্ড করে দিল। তিনি এটা নিয়ে নতুন করে শুরু করবেন।
১২) জনগণের দোরগোড়ায় এসপির সেবা: পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম চুয়াডাঙ্গায় এসেই তার মোবাইল নাম্বার হটলাইন নাম্বার হিসাবে লিফলেট করে জনগণের মাঝে ছড়িয়ে দেয়। জেলার প্রত্যক এলাকায় তার লোকজন তৈরী হয়ে যায় — এতে করে পুলিশ ও গোয়েন্দা সবাই চাপে পড়ে যায়। কোথাও কিছু ঘটলে সবার আগে তথ্য পেয়ে যান। ধর্মপ্রাণ মুসুল্লীদের মনের কথা জানতে তাদেরকে আইন শৃংখলা রক্ষার অংশ করতে প্রতি শুক্রবার জুম্মার নামাজে আকস্মিক জেলার এক মসজিদে হাজির হয়ে তাদের কথা শুনা শুরু করেছিলেন কিন্তু করোনা মহামারির কারণে তা বন্ধ হয়ে যায়।
১৩) বেকার যুবকদের পাশে পুলিশ সুপার: অনেক বেকার যুবক পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এসে বলেছে – স্যার আমার চাকরি নাই, আমার আত্মহত্যা করার মত অবস্থা। পুলিশ সুপার ঢাকার বিভিন্ন কোম্পানিতে বলে চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। অনেক মেয়েকে চুয়াডাঙ্গা বিগবাজার, বিভিন্ন শো রুম, প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য সুপারিশ করেছেন। গরীব মেধাবী ছেলেমেয়েদের চাকরির বা বি সি এস এর বই কিনে দিয়েছেন। পাশাপাশি চাকরিপ্রাপ্ত নব্য বি সি এস ক্যাডারদের সংবর্ধনা দিয়েছেন।
১৪) জমি জায়গা নিয়ে দীর্ঘ দিনের বিরোধের সমাধান: চুয়াডাঙ্গা কোর্ট এ যত মামলা হয় তার অধিকাংশ ই জমিজায়গা বা জমির আইল নিয়ে মারামারি। মাঝে মাঝে জমিজায়গা নিয়ে ভাইয়ে ভাইয়ে মারামারি। দীর্ঘদিন আদালত ঘুরে ঘুরে তারা আপোষ করতে পুলিশ স্যপারের দ্বারস্ত হয়। পুলিশ সুপার হাসি মুখে বলে — জমি জায়গার কেস দেখে এসিল্যান্ড -আদালত দেখে । আমার কাছে কেন? অনেকে বলে স্যার — অনেক বছর ঘুরে ঘুরে হয়রান কিংবা স্যার মামলা চালানোর টাকা নাই। মজার ব্যাপার হচ্ছে উত্তর যায় ই হোক –তিনি সকলের সমাস্যার সমাধান করার চেস্টা করেন।
১৫) চুয়াডাঙ্গা জেলার পরিবেশ রক্ষায় অবদান: চুয়াডাঙ্গা জেলায় এসে দেখলেন চুয়াডাঙ্গা বজ্রপাতে সারাদেশে দ্বিতীয়! প্রতি বছর অসংখ্য কৃষক বজ্রপাতে মারা যায়. অনেক বছর ধরেই এই ঘটনা চলমান কেউ এর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। পুলিশ সুপার বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় তাল গাছ রোপণের উদ্যোগ গ্রহণ করলেন এবং সেটা এখনো চলমান। এখন পর্যন্ত ১০০০ তাল বীজ লাগিয়েছেন। আজ থেকে 20 বছর পরে যখন তালের চারাগুলো আকাশ ছুয়ে যাবে তখন পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম পুলিশের চাকরিতে না থাকলেও কিন্তু তার এই অবদান সগৌরবে মাথা তুলে তার কথা স্বরণ করিয়ে দেবে – চুয়াডাঙ্গাবাসীকে। চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সার্জেন্ট মৃত্যুঞ্জয় বিশ্বাসের পাখিদের প্রতি ভালোবাসা দেখে তিনি তাকে উৎসাহ প্রদান করেন প্রতিটি থানা ও ক্যাম্পে পাখির বাসা করে দেন।
১৬) জেলার প্রত্যন্ত ক্যাম্পে রাত্রিকালে আকস্মিক পরিদর্শন: চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে পুলিশ বিভাগের আমূল পরিবর্তন নিয়ে আসেন জেলা বাসীর কাছে পুলিশকে এক নতুন রুপে তুলে ধরেন। তিনি নিজে পুলিশদের বিভিন্ন সমাস্যা ও জনগণের সমাস্যা দেখার জন্য জেলা শহর থেকে দুরবর্তী ক্যাম্পে রাতের বেলা হুট করে হাজির হন।
১৭) স্বেচ্ছাসেবী ও সামাজিক সংগঠন গুলোর ভাল কাজে উৎসাহ: বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবকদের উৎসাহ দিতে – কখনো রক্ত দিতে, কখনো তাল গাছ লাগাতে কিংবা জেলা শহর থেকে ৫০ কিঃমি দূরে জীবননগরের মিনাজপুর বিলের ভিতরে বাশের সাকো বা ব্রিজ বানাতে তিনি ছুটে গেছেন। চুয়াডাঙ্গা আঞ্চলিক ভাষা পরিষদ, এয়ারনেস আর্মি, গ্রিন মুভমেন্ট – এই রকম জেলার অনেকগুলো সংগঠনে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে তাদের ভাল কাজে পৃষ্ঠপোষকতা করেন।
১৮) প্রশাসনিক কাঠামো উন্নয়নে অবদান: পুলিশ সুপার চুয়াডাঙ্গা যোগদানের পর দেখলেন চুয়াডাঙ্গায় চারটি থানা- যার কারণে প্রশাসনিক বাজেট কম আসে। তখন তিনি দর্শনায় থানা উদ্ভোধনের প্রস্তাবে সমর্থন দেন এবং পুলিশিং সেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে আলমডাংগার বড় গাংনীতে, সদরের সরোজগঞ্জে, জীবননগরের আন্দুলবাড়িয়ায় থানা গঠনের প্রস্তাব দেন এবং যার কার্যক্রম চলমান এবং তাছাড়া আলমডাঙ্গার জামজামি তে পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছেন। ইতিমধ্যে দামুড়হুদা, দর্শনা, জীবননগর থানার সার্কেল অফিস দর্শনায় স্থাপন করেন।
১৯) কৃষকের পাশে পুলিশ সুপার: গত বছর করোনা মহামারীর সময় কৃষকরা অর্থ অভাবে ধান কাটতে পারছিল না । এদিকে বৃষ্টির পানিতে ধান নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। মানবিক পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম সমস্ত থানা ও ক্যাম্পে কৃষকদের ধান কেটে দেওয়ার নির্দেশ দিলেন। পাশাপাশি করোনা আক্রান্ত হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা কিছু কৃষকের ভুট্টা কেটে দেওয়ার নির্দেশ দিলেন।
২০) গরীব শীতার্তদের পাশে পুলিশ সুপার: চুয়াডাঙ্গার আবহাওয়ায় প্রচুর শীত। শীত কালে মাঝেমাঝে দেশের সর্বনিম্ন তপমাত্রা এখানে বিরাজ করে। নিজ উদ্দোগে পুলিশ সুপার গত শীতে প্রায় ৪ শত কম্বল গরীব জনগোষ্ঠীর মাঝে বিতরণ করেন। তাছাড়া অতিথি হয়ে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে কম্বল বিতরণে করে তাদের উৎসাহ প্রদান করেছেন।
২১) এতিমের পাশে পুলিশ সুপার: এতিমদের পুলিশে চাকরি দিয়ে এর আগেও অনেক পুলিশ সুপার প্রশংসিত হয়েছেন। পুলিশে নিয়োগের সুযোগ না পেলেও অন্যভাবে এতিমের প্রতি তার ভালবাসা প্রকাশ পেয়েছে। পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম তার ছেলে ও মেয়ের জন্মদিন পালন করেন এতীমখানার শিশুদের সাথে।
শুধু তাই নয় বছরে দুই ঈদে সরকারি শিশু পরিবারে এতিমদের মাঝে ইদের পোশাক ও ভাল খাবারের ব্যবস্থা করেন।
২২) সহকর্মী ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি ভালবাসা: শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও চুয়াডাঙ্গা নিহত পুলিশ সদস্যদের পরিবারের মাঝে ইদ উপহার সামগ্রী প্রদান করেন। করোনায় কোন পুলিশ সদস্য আক্রান্ত হলে ফল ও ভাল খাবারের ব্যবস্থা করেন। পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে প্রাপ্ত আম বা ফল সমস্ত পুলিশ সদস্যদের মাঝে বন্ঠন করে দেন। সহকর্মী পুলিশ কনস্টেবলদের চাকরি থেকে অবসরের দিন নিজের গাড়ি ফুল দিয়ে সজ্জিত করে তার গ্রামের বাড়ি পৌঁছে দিয়ে এক অন্যান্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
২৩) জেলার অটো ও ভ্যান শ্রমিকের পাশে পুলিশ সুপার: তিনি করোনা মহামারীর সময় ভ্যান চালকদের খাদ্য সহয়তায় অগ্রাধিকার দেন।
ক্যাম্প ও থানা এলাকার সকল ভ্যান ও অটো চালকদের নিয়ম করে রাতে ডিউটি করতে হয় যা দীর্ঘ দিন ধরেই চলে আসছে । পুলিশ সুপার তাদের ঝড় বৃষ্টিতে ডিউটি করতে দেখে এবং তাদের কথা চিন্তা করে পুলিশের নিজস্ব ডিউটি গাড়ি কেনার উদ্যোগ নেন। ইতিমধ্যে ১০ টি গাড়ি কিনেছেন কিন্তু অটো ও ভ্যানচালকদের এই দায়িত্ব থেকে মুক্তি দিতে আরও ২৯ টি গাড়ি লাগবে – যা কেনার চেষ্টায় আছেন।
২৪) মাদক ব্যবসায়ীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সহয়তা: মাদক পাচারের মজুর ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চাইলেও মামলা, হয়রানীর কারণে ফিরতে পারছিল না। যেসব ব্যবসায়ী পুলিশ সুপারের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে পুলিশ সুপার তাদের মাথায় টুপি দিয়ে শপথ করিয়ে ভাল জীবনে ফেরার সুযোগ করে দিয়েছেন। যারা কি কাজ করে খাবে ভেবে পাচ্ছিল না তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী বিভিন্ন কোম্পানি ও সুপার শপে চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।
২৫) বিট পুলিশিং: পুলিশি সেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে পুলিশের মাননীয় আইজিপি ড. বেনজির আহমেদের নির্দেশে চুয়াডাঙ্গা জেলাকে ৫৩ টা বিটে ভাগ করেন। প্রতি বিটে একজন থানার এস আই কে নিযুক্ত করেন – যাতে করে মানুষকে থানায় ছুটে আসতে না হয়।
২৬) সাইবার পুলিশিং: বাস্তব জগতের চেয়ে বিশাল বড় জগৎ সাইবার জগৎ। এই জগৎ এর অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও অনুসন্ধানের জন্য প্রয়োজন সাইবার জগত সম্পর্কে জানা দক্ষ পুলিশ। এ এস আই রজিবুলকে প্রধান করে সাইবার ক্রাইম কন্ট্রোল বিভাগ ইতিমধ্যে বৃদ্ধ মহিলার বয়স্ক ভাতা টাকা উদ্ধার, বিকাশ ও রকেট প্রতারণা, হারানো মোবাইল ও ল্যাপটপ উদ্ধার, সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কেস সমাধান করতে সমর্থ হয়েছে। এই বিভাগের মাধ্যমে জেলায় সাইবার ক্রাইমের ঘটনাও পর্যবেক্ষন করা হচ্ছে বলে – পুলিশ সুপার জানান।
২৭) ব্যাংক ডাকাতি এবং হত্যা মামলার দ্রুত সমাধান: চুয়াডাঙ্গা ছোট জেলা কিন্তু সীমান্তবর্তী বলে এখানে অপরাধ বেশি। এই যুগে এসেও চুয়াডাঙ্গার উথলী সোনালী ব্যাংকে দিনে দুপুরে ডাকাতি হয়, খুব দ্রুত সেই রহস্যময় কেস সমাধান ও আসামি গ্রেফতার করেন। তাছাড়া বেশ কিছু আলোচিত হত্যা রহস্য দ্রুত উদঘাটন করেন।
দুর্দিনের মহামারী করোনা ভাইরাসে নিজের জীবনকে বাজি রেখে চুয়াডাঙ্গা জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে রাত দিন অক্লান্ত পরিশ্রম করে বিভিন্ন মানুষের দুঃখ দুর্দশা লাগব করেছেন, এখনো রাত দিন করে চলেছেন। পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলামের এমন চলমান প্রশংসনীয় উদ্দ্যোগকে স্হানীয় জনগন, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও বিভিন্ন স্তরের মানুষ সাধুবাদ জানিয়েছেন।
এলাকাবাসী আশা করছেন, পুলিশের আইজিপি ড. বেনজির আহমেদ চুয়াডাঙ্গার সুযোগ্য পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলামকে সর্বোচ্চ মেধা ও সৃষ্টিশীল কাজ করার পর্যাপ্ত সময় দিবেন। যেন জেলাবাসীর আশার বাতিঘর জেলাকে একটি মাদক মুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত জেলা হিসাবে গড়ে দিয়ে যেতে পারে।

























