অপমৃত্যুর লাশ হস্তান্তরে ঘুস দাবি, সংবাদ প্রকাশের পর ওসির বদলি।
- আপডেট সময় : ০৫:৩৭:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ অক্টোবর ২০২১ ১১৬ বার পড়া হয়েছে

আজকের ক্রাইম ডেক্স: বরগুনার মির্জাগঞ্জ থানার ওসি মহিববুল্লাহকে বদলি করা হয়েছে। বেতাগীতে অপমৃত্যুর লাশ হস্তান্তরে মির্জাগঞ্জ থানার ওসির বিরুদ্ধে ঘুস দাবিসহ নিহতের স্বজনদের মারধর ও ২০০১ সালে প্রধানমন্ত্রীর নৌবহরে হামলা চালানোর ঘটনা সংবাদ প্রকাশের পর তাকে বদলি করা হলো।
ওই ঘটনায় একের পর এক তদন্তের পর মির্জাগঞ্জ থানার ওসি মহিববুল্লাহকে বদলির বিষয়টি নিশ্চিত করেন বরগুনা পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর মল্লিক।
তিনি জানান, ওই ঘটনা তদন্তের ভিত্তিতে মির্জাগঞ্জ থানার ওসি মহিববুল্লাহকে পিরোজপুর জেলার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।
একই সঙ্গে মির্জাগঞ্জ থানায় বর্তমান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেনের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন মহিববুল্লাহ। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ জারি করেন পটুয়াখালী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
জানা গেছে, বরগুনার বেতাগীতে গাছ থেকে পড়ে আবুল বাশার নামের এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী গুরুতর আহত হন। নিকটস্থ মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে সংশ্লিষ্ট থানায় জানান। নিহতের স্বজনদের থানায় ডেকে নিয়ে লাশ হস্তান্তরে ঘুস দাবি করেন ওসি মহিববুল্লাহ।
ঘুস দিতে না চাইলে ওই থানার এসআই সাইফুল ইসলাম ময়নাতদন্তে পাঠাতে চাইলে স্বজনদের সাথে লাশ নিয়ে টানাহেঁচড়া শুরু হয়। একপর্যায়ে স্বজনদের মারধরসহ ৩ জনকে আটকও করেন।
পরে পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে ওই দিন সন্ধ্যায় মারা যাওয়া ব্যক্তির লাশ রাত ৩টায় স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেন।
এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পরপরই সমালোচিত হন ওসি মহিববুল্লাহ। উঠে আসে নানা তথ্য।
গত ১৩ সেপ্টেম্বর ও ২ অক্টোবর অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর তদন্তে নামেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এ সময় বেরিয়ে আসে ওসি মহিববুল্লাহ সম্পর্কে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য।
২০০১ সালের বিরোধীদলীয় নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমাবেশে অংশগ্রহণকালে নৌবহরে হামলা চালান তৎকালীন ছাত্রদল নেতা ও বর্তমান ওসি মহিববুল্লাহ।
ওই বিষয়টি নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তদন্ত চলমান আছে বলে নিশ্চিত হওয়া যায়। ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ওসি মহিববুল্লাহকে পিরোজপুর জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে ন্যস্ত করা হয়।
এ ব্যাপারে সদ্যবিদায়ী পুলিশ পরিদর্শক মহিববুল্লাহ বলেন, আমাকে কোনো ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রত্যাহার করা হয়নি। আমি নিজেই বদলির জন্য আবেদন করেছি- এ ব্যাপারে আর কথা বলতে ইচ্ছুক না।

























