সংবাদ শিরোনাম ::
জুলাই আন্দোলনের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে বাবুগঞ্জে জামায়াতের সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল বাবুগঞ্জে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত মাদারীপুরে ড্রাম বিস্ফোরণে শিশু শ্রমিকের করুণ মৃত্যু চাঞ্চল্যকর ঘটনা: চোরের আঙুল কামড়ে ছিঁড়ে ফেললেন গৃহবধূ, মোবাইল নিয়ে চম্পট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে ঝালকাঠিতে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও স্মারক সংবর্ধনা বরিশালে প্রবাসীর স্ত্রীর ঘর থেকে জামায়াতকর্মী আটক সভাপতি-আব্দুস সালাম, সাধারণ সম্পাদক- মনোয়ার হোসেন। বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি বাবুগঞ্জ উপজেলা শাখার ৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা সবুজ বাংলাদেশ গড়তে ঝালকাঠিতে ১ হাজার ৫শ গাছের চারা বিতরণ করেন জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট শাহাদাৎ হোসেন ৮২ নং পূর্ব চাঁদপাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি মনোনীত হলেন আইটি বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষানুরাগী ইঞ্জিনিয়ার তৌহিদুল ইসলাম মেমনগর বি.ডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পুনরায় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেলেন প্রভাষক মো. মশিউর রহমান

ভরণপোষণ দেন না পুলিশ স্বামী: ২ সন্তানকে এসপি অফিসে ফেলে গেলেন স্ত্রী।

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:১৪:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১৭৪ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আজকের ক্রাইম ডেক্স:: ঝালকাঠিতে আয়ান ও আরাফ নামের ১৬ মাসের দুই যমজ ছেলে সন্তানকে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে ফেলে গেলেন এক পুলিশ সদস্যের স্ত্রী। স্বামী ভরণপোষণ ও চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন না করায় রোববার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শিশু দুটিকে রেখে চলে যান মা সুমাইয়া আক্তার।

থানা পুলিশ ও শিশুদের মা কাছ থেকে জানা যায়, শিশু দুটির বাবা ইমরান হোসেন কাঁঠালিয়া থানায় পুলিশ কনস্টেবল। বর্তমানে তিনি এক মাসের প্রশিক্ষণের জন্য জামালপুরে অবস্থান করছেন। তার বাড়ি বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার মালুহার গ্রামে। ২০১৯ সালের মে মাসে ঝালকাঠি সদরের খাওক্ষির গ্রামের সুমাইয়া আক্তারের সঙ্গে বিয়ে হয় কনস্টেবল ইমরানের। দাম্পত্য কলহের জেরে এ বছরের মার্চ মাসে স্ত্রীকে তালাক নোটিশ পাঠান ইমরান। তালাক নোটিশ পেয়ে স্বামীর বিরুদ্ধে যৌতুক মামলা করেন সুমাইয়া।

শিশু দুটির মা সুমাইয়ার দাবি তালাক নোটিশ পাঠানোর আরও আগে থেকে তার এবং সন্তানদের কোন ভরণপোষণ দিচ্ছেনা ইমরান।

সুমাইয়া আক্তার মোবাইল ফোনে সাংবাদিকদের জানান, গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হয়ে শিশু আয়ান ও আরাফ ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে ভর্তি ছিল। রোববার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে চিকিৎসকরা শিশু ২টির বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে বলেন। এতে প্রায় ৬ হাজার টাকার প্রয়োজন ছিল। বিষয়টি তিনি তার স্বামী কনস্টেবল ইমরানকে জানান। কিন্তু ইমরান টাকা দিতে অপরগতা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও জানান, বাধ্য হয়ে শিশু দুটিকে নিয়ে পুলিশ সুপার ফাতিহা ইয়াসমিনের সাক্ষাতে জন্য যাই। কিন্তু প্রধান ফটকের সামনে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ইমরান মিয়া ও মো. সুমন নামে দুই পুলিশ সদস্য তাকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়নি। তাই বাধ্য হয়ে শিশু সন্তানদের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে রেখে চলে এসেছি। ওদের লালন পালন করতে আমার কোন আপত্তি নেই। কিন্তু খরচ চালাবো কি করে।

কনস্টেবল ইমরান মোবাইল ফোনে জানান, প্রতি মাসে শিশু দুটির ভরণপোষণের জন্য আমি ৩ হাজার টাকা সুমাইয়ার ব্যাংক হিসেবে পাঠাই। আমি আমার সাধ্য অনুযায়ী তাদের খোঁজখবর নিই। কিন্তু মা হয়ে সে কীভাবে সন্তানদের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে ফেলে গেল?

ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. খলিলুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, শিশুদের দাদা-দাদিকে খবর দেয়া হলে তারা এসে রাতে শিশু দুটিকে নিয়ে গেছে। আমরা দুই পরিবারের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি মিটিয়ে ফেলার চেষ্টা করছি।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ভরণপোষণ দেন না পুলিশ স্বামী: ২ সন্তানকে এসপি অফিসে ফেলে গেলেন স্ত্রী।

আপডেট সময় : ০৫:১৪:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১

আজকের ক্রাইম ডেক্স:: ঝালকাঠিতে আয়ান ও আরাফ নামের ১৬ মাসের দুই যমজ ছেলে সন্তানকে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে ফেলে গেলেন এক পুলিশ সদস্যের স্ত্রী। স্বামী ভরণপোষণ ও চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন না করায় রোববার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শিশু দুটিকে রেখে চলে যান মা সুমাইয়া আক্তার।

থানা পুলিশ ও শিশুদের মা কাছ থেকে জানা যায়, শিশু দুটির বাবা ইমরান হোসেন কাঁঠালিয়া থানায় পুলিশ কনস্টেবল। বর্তমানে তিনি এক মাসের প্রশিক্ষণের জন্য জামালপুরে অবস্থান করছেন। তার বাড়ি বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার মালুহার গ্রামে। ২০১৯ সালের মে মাসে ঝালকাঠি সদরের খাওক্ষির গ্রামের সুমাইয়া আক্তারের সঙ্গে বিয়ে হয় কনস্টেবল ইমরানের। দাম্পত্য কলহের জেরে এ বছরের মার্চ মাসে স্ত্রীকে তালাক নোটিশ পাঠান ইমরান। তালাক নোটিশ পেয়ে স্বামীর বিরুদ্ধে যৌতুক মামলা করেন সুমাইয়া।

শিশু দুটির মা সুমাইয়ার দাবি তালাক নোটিশ পাঠানোর আরও আগে থেকে তার এবং সন্তানদের কোন ভরণপোষণ দিচ্ছেনা ইমরান।

সুমাইয়া আক্তার মোবাইল ফোনে সাংবাদিকদের জানান, গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হয়ে শিশু আয়ান ও আরাফ ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে ভর্তি ছিল। রোববার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে চিকিৎসকরা শিশু ২টির বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে বলেন। এতে প্রায় ৬ হাজার টাকার প্রয়োজন ছিল। বিষয়টি তিনি তার স্বামী কনস্টেবল ইমরানকে জানান। কিন্তু ইমরান টাকা দিতে অপরগতা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও জানান, বাধ্য হয়ে শিশু দুটিকে নিয়ে পুলিশ সুপার ফাতিহা ইয়াসমিনের সাক্ষাতে জন্য যাই। কিন্তু প্রধান ফটকের সামনে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ইমরান মিয়া ও মো. সুমন নামে দুই পুলিশ সদস্য তাকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়নি। তাই বাধ্য হয়ে শিশু সন্তানদের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে রেখে চলে এসেছি। ওদের লালন পালন করতে আমার কোন আপত্তি নেই। কিন্তু খরচ চালাবো কি করে।

কনস্টেবল ইমরান মোবাইল ফোনে জানান, প্রতি মাসে শিশু দুটির ভরণপোষণের জন্য আমি ৩ হাজার টাকা সুমাইয়ার ব্যাংক হিসেবে পাঠাই। আমি আমার সাধ্য অনুযায়ী তাদের খোঁজখবর নিই। কিন্তু মা হয়ে সে কীভাবে সন্তানদের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে ফেলে গেল?

ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. খলিলুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, শিশুদের দাদা-দাদিকে খবর দেয়া হলে তারা এসে রাতে শিশু দুটিকে নিয়ে গেছে। আমরা দুই পরিবারের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি মিটিয়ে ফেলার চেষ্টা করছি।’