সংবাদ শিরোনাম ::
জুলাই আন্দোলনের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে বাবুগঞ্জে জামায়াতের সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল বাবুগঞ্জে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত মাদারীপুরে ড্রাম বিস্ফোরণে শিশু শ্রমিকের করুণ মৃত্যু চাঞ্চল্যকর ঘটনা: চোরের আঙুল কামড়ে ছিঁড়ে ফেললেন গৃহবধূ, মোবাইল নিয়ে চম্পট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে ঝালকাঠিতে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও স্মারক সংবর্ধনা বরিশালে প্রবাসীর স্ত্রীর ঘর থেকে জামায়াতকর্মী আটক সভাপতি-আব্দুস সালাম, সাধারণ সম্পাদক- মনোয়ার হোসেন। বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি বাবুগঞ্জ উপজেলা শাখার ৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা সবুজ বাংলাদেশ গড়তে ঝালকাঠিতে ১ হাজার ৫শ গাছের চারা বিতরণ করেন জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট শাহাদাৎ হোসেন ৮২ নং পূর্ব চাঁদপাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি মনোনীত হলেন আইটি বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষানুরাগী ইঞ্জিনিয়ার তৌহিদুল ইসলাম মেমনগর বি.ডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পুনরায় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেলেন প্রভাষক মো. মশিউর রহমান

উজিরপুরে আলোচিত সোহাগ হত্যা মামলায় দু’জনের ফাঁসি, ৪ জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড।

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:০৭:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ ৬৬ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাহাদ সুমন,বিশেষ প্রতিনিধি॥
বরিশালের উজিরপুরের আলোচিত কলেজ ছাত্র ও পোশাক ব্যবসায়ী সোহাগ সেরনিয়াবাত হত্যা মামলার রায়ে ২ আসামিকে ফাঁসি এবং ৪ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ১০ জনকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়। বরিশালের জননিরাপত্তা বিঘœকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক টিএম মুসা বুধবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ইমরান ছাড়া অপর সকল আসামি কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন উজিরপুরের পৌর সভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা জিয়াউল হক লালন মহুরী এবং একই উপজেলার আটিপাড়া গ্রামের রিয়াদ সরদার। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলো লালন মহুরীর ভাই মামুন হাওলাদার ও ইমরান হাওলাদার, বিপ্লব পাটনী এবং ওয়াসিম সরদার। খালাসপ্রাপ্তরা হলেন তারেক হাওলাদার,বাবু দাস, শিমুল, সুজন মল্লিক, সোহাগ তালুকদার, আলতাফ হোসেন, সজিব, সুমন মোল্লা, আলমগীর ও বিপ্লব দাস। মামলার নথি সুত্রে জানা গেছে, পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সোহাগ সেরনিয়াবাত স্থানীয় একটি কলেজে দ্বাদশ শ্রেণীতে লেখাপড়ার পাশাপাশি উজিরপুর সদরে আলিফ ওয়ান ফ্যাশন নামে একটি পোশাকের দোকান দেয়। সে সৌদি আরবেও কিছুদিন ছিল। আসামিরা ২ লাখ টাকা চাঁদার দাবিতে সোহাগের দোকান ভাংচুর করে। এরপরও চাঁদা না দেয়ায় সোহাগের উপর ক্ষুব্ধ ছিলো তারা। ২০১৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে সোহাগ দোকান বন্ধ করে মোটরসাইকেল যোগে তার একছোট ভাই জাহাঙ্গীরকে স্থানীয় কালীখোলা নামিয়ে বন্ধু সাইফুলকে সাথে নিয়ে নিজ বাড়ির দিকে ফিরছিলো। পৌর শহরের ভিআইপি রোডের হাঁসি ভিলা এলাকা অতিক্রমকালে সোহাগের মোটরসাইকেলের গতি রোধ করে পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা আসামীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে পালিয়ে যায়। আশংকাজনক অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় পরদিন ৫ সেপ্টেম্বর সোহাগের মামা খোরশেদ আলম নান্টু বাদী হয়ে উজিরপুর থানায় ১৩ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই বছরের ১১ নভেম্বর বরিশাল জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক শাহাবুদ্দিন চৌধুরী ১৬ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে এই মামলার অভিযোগপত্র জমা দেন। পরে জননিরাপত্তা বিঘœকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে ৩১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে বিচারক ওই রায় ঘোষণা করেন। নিহতের বাবা ফারুক হোসেন সেরনিয়াবাত বলেন, ‘রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। তবে যারা বেকসুর খালাস পেয়েছেন তারাও হত্যায় জড়িত ছিলেন। রায়ের পূর্ণাঙ্গ আদেশের কপি পেলে তা নিয়ে আমি উচ্চ আদালতে আপিল করবো। আশা করি হত্যায় জড়িত থাকার অপরাধে উচ্চ আদালত তাদের শাস্তি দিবে।’ নিহ সোহাগের মা শাহনাজ পারভীন বলেন, রায়ে খুশি হয়েছি। তবে খালাসপ্রাপ্ত ১০ জনের সাজা দিলে আরও ভালো হতো। তারাও আমার ছেলের হত্যায় জড়িত ছিল।’ বাদীর আইনজীবী আনিসুর রহমান বলেন, ‘অপরাধ করলে শাস্তি পেতেই হবে, যা এই রায়ের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে।’রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী লস্কর নুরুল হকও এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে আসামি পক্ষের আইনজীবী কাজী মুনিরুল হাসান বলেন, এই মামলার কোন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী নেই। রায়ে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাবেন। ###

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

উজিরপুরে আলোচিত সোহাগ হত্যা মামলায় দু’জনের ফাঁসি, ৪ জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড।

আপডেট সময় : ০৬:০৭:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১

রাহাদ সুমন,বিশেষ প্রতিনিধি॥
বরিশালের উজিরপুরের আলোচিত কলেজ ছাত্র ও পোশাক ব্যবসায়ী সোহাগ সেরনিয়াবাত হত্যা মামলার রায়ে ২ আসামিকে ফাঁসি এবং ৪ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ১০ জনকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়। বরিশালের জননিরাপত্তা বিঘœকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক টিএম মুসা বুধবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ইমরান ছাড়া অপর সকল আসামি কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন উজিরপুরের পৌর সভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা জিয়াউল হক লালন মহুরী এবং একই উপজেলার আটিপাড়া গ্রামের রিয়াদ সরদার। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলো লালন মহুরীর ভাই মামুন হাওলাদার ও ইমরান হাওলাদার, বিপ্লব পাটনী এবং ওয়াসিম সরদার। খালাসপ্রাপ্তরা হলেন তারেক হাওলাদার,বাবু দাস, শিমুল, সুজন মল্লিক, সোহাগ তালুকদার, আলতাফ হোসেন, সজিব, সুমন মোল্লা, আলমগীর ও বিপ্লব দাস। মামলার নথি সুত্রে জানা গেছে, পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সোহাগ সেরনিয়াবাত স্থানীয় একটি কলেজে দ্বাদশ শ্রেণীতে লেখাপড়ার পাশাপাশি উজিরপুর সদরে আলিফ ওয়ান ফ্যাশন নামে একটি পোশাকের দোকান দেয়। সে সৌদি আরবেও কিছুদিন ছিল। আসামিরা ২ লাখ টাকা চাঁদার দাবিতে সোহাগের দোকান ভাংচুর করে। এরপরও চাঁদা না দেয়ায় সোহাগের উপর ক্ষুব্ধ ছিলো তারা। ২০১৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে সোহাগ দোকান বন্ধ করে মোটরসাইকেল যোগে তার একছোট ভাই জাহাঙ্গীরকে স্থানীয় কালীখোলা নামিয়ে বন্ধু সাইফুলকে সাথে নিয়ে নিজ বাড়ির দিকে ফিরছিলো। পৌর শহরের ভিআইপি রোডের হাঁসি ভিলা এলাকা অতিক্রমকালে সোহাগের মোটরসাইকেলের গতি রোধ করে পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা আসামীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে পালিয়ে যায়। আশংকাজনক অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় পরদিন ৫ সেপ্টেম্বর সোহাগের মামা খোরশেদ আলম নান্টু বাদী হয়ে উজিরপুর থানায় ১৩ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই বছরের ১১ নভেম্বর বরিশাল জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক শাহাবুদ্দিন চৌধুরী ১৬ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে এই মামলার অভিযোগপত্র জমা দেন। পরে জননিরাপত্তা বিঘœকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে ৩১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে বিচারক ওই রায় ঘোষণা করেন। নিহতের বাবা ফারুক হোসেন সেরনিয়াবাত বলেন, ‘রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। তবে যারা বেকসুর খালাস পেয়েছেন তারাও হত্যায় জড়িত ছিলেন। রায়ের পূর্ণাঙ্গ আদেশের কপি পেলে তা নিয়ে আমি উচ্চ আদালতে আপিল করবো। আশা করি হত্যায় জড়িত থাকার অপরাধে উচ্চ আদালত তাদের শাস্তি দিবে।’ নিহ সোহাগের মা শাহনাজ পারভীন বলেন, রায়ে খুশি হয়েছি। তবে খালাসপ্রাপ্ত ১০ জনের সাজা দিলে আরও ভালো হতো। তারাও আমার ছেলের হত্যায় জড়িত ছিল।’ বাদীর আইনজীবী আনিসুর রহমান বলেন, ‘অপরাধ করলে শাস্তি পেতেই হবে, যা এই রায়ের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে।’রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী লস্কর নুরুল হকও এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে আসামি পক্ষের আইনজীবী কাজী মুনিরুল হাসান বলেন, এই মামলার কোন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী নেই। রায়ে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাবেন। ###