সংবাদ শিরোনাম ::
বানারীপাড়ায় টেন্ডার ছাড়াই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ১৪টি গাছ বিক্রি প্রতিমন্ত্রীর জাল সিল-স্বাক্ষরে কোটি টাকার তদবির বাণিজ্যের অভিযোগ মোংলায় চক্রের মূলহোতা গ্রেফতার, উদ্ধার জাল সিল-স্ট্যাম্প ৫২ নম্বর রহমতপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি নির্বাচিত ইঞ্জিনিয়ার ইয়াছির আরাফাত নলছিটিতে ২ ভূমি কর্মকর্তা শোকজ, কানুনগো বদলি গৌরনদীতে সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনার দুইজন গ্রেপ্তার, মানববন্ধন ঝালকাঠিতে জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬ উদযাপনের প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত নলছিটিতে ভোক্তা অধিকারের অভিযান: ৫টি দোকানকে ১৮ হাজার টাকা জরিমানা পটুয়াখালী নৌযান শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক পদে নতুন মুখ: নির্বাচিত হলেন আলোচিত অন্তর বাবুগঞ্জের দুর্গাসাগর থেকে হরিণ চুরির অভিযোগে কেয়ারটেকার ও মালী গ্রেপ্তার ঝালকাঠি প্রেস ক্লাবের দাতা সদস্য কুদ্দুস খান বাংলাদেশ বক্সিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় প্রেসক্লাবের সভাপতি শুভেচ্ছা

পৃথিবীতে এমন কোনো রোগ নেই, যে রোগের প্রতিষেধক সম্পর্কে আল্লাহ মানুষকে জ্ঞানদান করেননি।

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৫৯:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জুলাই ২০২১ ৬২ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সোহেল সানি

আল্লাহর কাছ থেকে দূরে সরে যাবার কারণেই মানুষ দুরবস্থায় পতিত হয়। আল্লাহ ছাড়া যেমন মানুষের কোন সাহায্যকারী নেই তেমনি দুনিয়ায় এমন কোন রোগ নেই যে রোগের প্রতিষেধক সম্পর্কে মানুষকে জ্ঞান দান করেন নাই। “আল্লাহকে স্মরণের মাধ্যমেই আত্মা প্রশান্তি লাভ করে এবং আল্লাহর কাছ থেকে দূরে সরে যাবার কারণেই মানুষ দুরবস্থায় পতিত হয়। “আল্লাহ ছাড়া যেমন, মানুষের কোনো সাহায্যকারী নেই। তেমনি দুনিয়ায় এমন কোনো রোগ নেই, যে রোগের ঔষধ বা প্রতিষেধক সম্পর্কে আল্লাহ মানুষকে জ্ঞান দান করেননি। পবিত্র কুরআনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অলৌকিক দিকগুলো সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে এ কথা পরিস্কার করে বলা রয়েছে।
এছাড়াও হযরত আবূ হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, হযরত রাসূল (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘আল্লাহ তায়ালা এমন কোনো রোগ অবতীর্ণ করেননি। যার নিরাময়ের উপকরণ তিনি সৃষ্টি করেননি।’ (বোখারি: ৫২৭৬)।
সুরা বাকারার ১৬৮ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, “হে মানব জাতি! পৃথিবীতে যা কিছু বৈধ ও পবিত্র খাদ্য আছে, তা হতে খাও এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না, নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। মদ, শূকরের মাংস ও মৃত প্রাণীর মাংসকে রোগ সৃষ্টির কারণ হিসাবেও উল্লেখ করা হয়েছে।
চিকিৎসা বিজ্ঞানের জনক গ্রিক চিকিৎসক হিপোক্রেটিস, অন্যতম জনক ইবনে সিনা ও মেডিসিনের জনক অসলারের বিভিন্ন সাফল্য তুলে ধরলেও কানাডা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্রূণ বিশেষজ্ঞ কেইথ মোর বলেছেন, “চিকিৎসা বিজ্ঞানে গবেষকরা নতুন নতুন আবিষ্কার করছে আর এটা বুঝতে পারছে না যে, কুরআনে এ সম্পর্কে আগেই বলা হয়েছে।
মরণঘাতী করোনার আক্রমণ প্রতিরোধ অর্থাৎ এ মরণঘাতী রোগ নিরাময়ের গবেষণা এখনও পর্যন্ত কোনো সুখবর বয়ে আনতে পারেনি বিশ্ববাসীর জন্য।
গণমাধ্যমে বিভিন্ন দেশে ওষুধ আবিষ্কারের খবর প্রচারিত হলেও কার্যত এর অস্তিত্ব স্বীকার করা যাচ্ছে না। আমাদের মতো দেশেও কোনো কোনো চিকিৎসকের করোনা প্রতিরোধক ওষুধ আবিষ্কারের বিচ্ছিন্ন খবর জনমনে আশার বদলে কৌতুহলের সৃষ্টি করছে।
প্রতিদিনই করোনার থাবা কেড়ে নিচ্ছে মানুষের প্রাণ। এক দেশ আরেক দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন। স্যাটেলাইটের বদৌলতে পারস্পরিক খবরাখবর জানা গেলেও সার্বিকভাবে বিচ্ছিন্ন। স্যাটেলাইট কোনো ভাইরাসের আক্রমণে স্তদ্ধ হয়ে গেলে বিশ্ব বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।
আর পরিস্থিতি তখন কি হবে চোখ বন্ধ করে ভাবুন না?
মার্কিন সিনেট কক্ষে পবিত্র কুরআন থেকে তেলওয়াত, স্পেন, ইতালি, চীনসহ বিভিন্ন শক্তিধর অমুসলিম রাষ্ট্রের আকাশ বাতাস পবিত্র আযানের ধ্বনিতে অনুরণনের সৃষ্টি করেছে। জাতিসংঘের ইউনেস্কো কর্তৃক কুরআনকে সবচেয়ে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ রূপে স্বীকৃতিদানের পরও কী চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা কুরআন গবেষণার মাধ্যমে করোনা নামক মরণব্যাধি নিরাময়ের পথ খুঁজছেন?
আমরা চোখ রাখতে পারি কুরআনে রোগ নিরাময় সম্পর্কে কি বলছে সেদিকে। যে মূহুর্তে করোনার ছোবল সেই সময়ে মুসলিম উম্মাহর জন্য মাহে রমজান। মানে রোজার মাস। পবিত্র কুরআনে রোগ হতে মুক্ত থাকার বিষয়ে নামাজ আদায়ের পাশাপাশি রোজাকেও গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সেই বিষয়ে পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। কুরআন অধ্যয়ন, নামাজ আদায় ও দোয়া কামনাসহ অন্যান্য ইবাদতের মাধ্যমে নিজের আত্মাকে পরিশুদ্ধ রাখতে বলা হয়েছে। আল্লাহ বলেছেন, “আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দিবো। ”
কুরআনে সুরা রূম – এ একে অপরের প্রতি ভালোবাসা ও সহমর্মিতার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। সুরা রূম এর ২১ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, “আল্লাহ তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য হতে তোমাদের সঙ্গিনীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের নিকট শান্তি পাও এবং তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও সহানুভূতি সৃষ্টি করেছেন।
আমরা কুরআনে চিকিৎসক ও রোগীর মধ্যকার সম্পর্ক বিষয়ে বলা হয়েছে। চিকিৎসকের আচার- ব্যবহার রোগীকে অর্ধেক সুস্থ করে তোলে।
কানাডা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্রূণ বিশেষজ্ঞ কেইথ মোর বলেন, চিকিৎসা শাস্ত্রের গবেষকরা নতুন নতুন বিষয় আবিষ্কার করছে আর এটা বুঝতে পারছে না যে, কুরআনে এ সম্পর্কে আগেই বলা হয়েছে। মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় রোজাও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখে। মদ, শূকরের গোশত ও মৃত প্রাণীর গোশতকে রোগের অন্যতম কারণ বলে কুরআনে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
পারস্পরিক বন্ধন ও সুসম্পর্ক মানুষকে মানসিক দিক থেকে সুস্থ ও ভারসাম্যপূর্ণ থাকতে সহায়তা করে। পবিত্র কুরআনে সুরা মো’ মেনুনের ১২, ১৩ ও ১৪ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ” নিশ্চয়ই আমি মানুষকে মৃত্তিকার উপাদান হতে সৃষ্টি করেছি। অতঃপর আমি তাকে শুক্র বিন্দু রূপে এক নিরাপদ আধারে স্থাপন করি। পরে আমি শুক্র বিন্দুকে জমাট রক্তে পরিণত করি। অতঃপর জমাট রক্তকে মাংসপিন্ডে পরিণত করি এবং মাংসপিন্ডকে অস্থি-পঞ্জারে, অতঃপর অস্থিপঞ্জরকে মাংস দ্বারা ঢেকে দেই। অবশেষে আমি তাকে চরম সৃষ্টিতে পরিণত করি। অতএব আল্লাহ মহান, যিনি সর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তা।
রোগ প্রতিরোধের জন্য কুরআনে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা পাওয়া যায়। কুরআনে অনেক খাদ্য গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। খাদ্যের প্রভাবের কথা মানুষের মনমানসিকতার ওপর স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে।
মহানবী (সাঃ) বলেছেন,” ক্ষুধার্ত না হলে খেতে বসো না এবং পেট পরিপূর্ণ হবার আগেই খাওয়া শেষ করো। তিনি এমন সব খাদ্যদ্রব্যের নাম উল্লেখ করেন, যা ব্যথা উপশমসহ নানা রোগ থেকে মুক্ত রাখে।
রোগ নিরাময়ের ক্ষেত্রে মধুর মতো এতো বেশি কার্যকর আর কোনো উপাদান নেই। আল্লাহর প্রেরিত রাসূলে হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) এর এ কথাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানও স্বীকার করেছে। এর সত্যতা মিলে কুরআনের সুরা নহলের ৬৯ নম্বর আয়াতে। এতে বলা হয়েছে, “মৌমাছির উদর হতে বিবিধ বর্ণ বিশিষ্ট পানীয় নির্গত হয়। এতে মানুষের জন্য ব্যাধির প্রতীকার আছে। নহল মানে মৌমাছি। ফুলের মধু আহরণ ও চাক তৈরিসহ মৌমাছির বিভিন্ন কর্মপ্রণালী সম্পর্কে বর্ণনা রয়েছে।
Sohel Sunny
Sohel sent Today at 5:39 PM
কুরআনের সুরা বাকারার ১৬৮ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, “হে মানব জাতি! পৃথিবীতে যা কিছু বৈধ ও পবিত্র খাদ্য আছে, তা হতে খাও এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না, নিশ্চয়ই শয়তান তোমাদের শত্রু।
প্রসঙ্গতঃ প্রতিদিন সকাল সন্ধ্যায় সাত বার সুরা তাওবাহর শেষের আয়াতটি পাঠ করলে পাঠকারী রোগ, বিপদ ও পেরেশানি মুক্ত থাকে এবং হায়াত বাড়ে।
আয়াতটি হলো “হাসবিয়াল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়া আ’লাইহি তাকয়াক্কালতু ওয়া হুয়া রাব্বুল আরশিল আযীম” (অর্থ আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট, তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ্ নেই। তাঁর উপর ভরসা করছি এবং তিনি মহান আরশের অধিপতি)
শবে মেঘরাজ রাতে ইব্রাহীম (আঃ) নবীজী (সাঃ) কে যে যে বিষয়টিতে অসীয়ত করেছেন তাহলো, “লা হাওলা ওয়ালা কুউওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ” যার অর্থঃ কারো শক্তি নেই (দুঃখ কষ্ট দূর করার ও বিপদ আপদে বাঁচাবার) এবং কারো ক্ষমতা নেই (সুখ ও সম্পদ প্রদানের) একমাত্র আল্লাহ ছাড়া।
ইয়া হাইউ ইয়া কাইউম বিরাহমাতিকা আসতাগীছু (অর্থ হে চিরঞ্জীব, হে চিরস্থায়ী, তোমার রহমতের উপর ভরসা করে সাহায্য চাই) মহানবী (সাঃ) এই দু’আ বিশেষ ভাবে পছন্দ করতেন। হযরত আলী (রাঃ) বলেন, বদরের যুদ্ধে আমি নবীজীকে দেখতে চাই, তিনি কি করছেন। গিয়ে দেখলাম, তিনি সেজদায় পড়ে রয়েছেন আর বলছেন, “ইয়া হাইয়্যু-ইয়া কাইউম”।
“আল্লাহুম্মাজ্ আলনী ফি আইনী ছাগিরা – ওয়া আইয়্যুনিন নাসি কাবীরা ” (অর্থঃ হে আল্লাহ আমার চোখে আমি যেন নিজেকে ছোট দেখি, আর মানুষের চোখে যেন আমি বড় হই)
ঐতিহাসিক হুদায়বিয়ার সন্ধিকালে কাফেরার সন্ধিপত্রে নবীজীর (সাঃ) নামে সাথে রাসূল (সাঃ) বিশেষণ যোগ করতে আপত্তি জানালে নবীজী (সাঃ) নিজে ছোট হয়ে অপমানজনক ঔ চুক্তিতে সম্মত হয়েছিলেন। পরক্ষণেই এ বিষয়ে কুরআনের আয়াত নাজিল হয় এবং দুবছর পরেই মক্কা বিজয় হয়।
“আসআলুল্লাহাল আ’জীম রাব্বুল আ’রশিল আজীম আইইয়াশফীয়াকা”। (অর্থঃ মহান আল্লাহপাকের কাছে মহান আরশের মালিকের কাছে আমি আপনার রোগ মুক্তি কামনা করছি)
নবীজী অসুস্থ রোগীকে দেখতে গেলে সাত বার এই দু’আ পড়তেন।
১১৪টি সুরা সম্বলিত পবিত্র কুরআনে প্রসিদ্ধ মতানুসারে শব্দ সংখ্যা ৮৬ হাজার ৪৩০টি এবং অক্ষর সংখ্যা ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৩৭০টি। না গদ্য না পদ্য ধরনের প্রাঞ্জল ও সহজবোধ্য কুরআনের আভিধানিক অর্থ – সর্বাধিক পঠিতব্য। ক্বারউন এবং ক্বারনুণ – মূল আরবী শব্দ থেকে যার উৎপত্তি। জিব্রাইল আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় আকৃতিতে আসতেন, তিনি মানুষের আকৃতি নিয়ে, সত্য স্বপ্নযোগে ঘন্টা ধ্বনি (মৌমাছির গুঞ্জনের মতো), অন্তরে ফুঁৎকার দিয়ে, পর্দার অন্তরাল থেকে এবং সাত সরাসরি আল্লাহ পাকের কাছ থেকে।
প্রায় ১৫ বছর সাধনা মগ্ন নবীজী আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে যখন জিব্রাইল এসে বললেন, “ইকরা”- পড়ুন – তিনি ওযর জানিয়ে বললেন, আমি তো পড়তে জানিনা। উম্মীদ হওয়া সত্ত্বেও আল্লাহ পাক পাঠ করাতে সক্ষম। পালনেওয়ালার নামে শুরু করতে বলে- সৃষ্টির ধ্রুব সত্যটি ১ম আয়াতে তুলে ধরা হয়।
অস্তিত্ব দান করাই সৃষ্টির প্রতি রাব্বুল আলামিনের প্রথম অনুগ্রহ। অতঃপর সৃষ্টির নানা স্তর পার হয়ে মাটি ও উপাদান চতুষ্টয় দিয়ে যার সূচনা – বীর্য ও যার পরে জমাট রক্তের পালা আসে এবং পর্যায়ক্রমে মাংসপিণ্ড ও অস্থি প্রভৃতি সৃষ্টি করা হয়। এসবের মধ্যে জমাট রক্ত হলো প্রকৃত প্রস্তাবে একটি মধ্যবর্তী অবস্থা -যার উল্লেখ দ্বিতীয় আয়াতে রয়েছে। শিক্ষাই মানুষকে অন্যান্য সব প্রাণীকুল থেকে স্বতন্ত্র তথা সেরা সৃষ্টি হিসেবে চিহ্নিত করেছে। শিক্ষার এ ক্ষেত্রে কলমের সাহায্যের শিক্ষাকেই বলা হয়েছে। মানবজাতির সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষক মোহাম্মদুর রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মহান আল্লাহ সর্বপ্রথম কলম সৃষ্টি করে তাকে লেখার নির্দেশ দেন। রোজ কেয়ামত পর্যন্ত যে যা কিছু করে যা যা কিছু হয় বা হবে কলম সব লিখে রাখে। যা আল্লাহ পাকের কাছে আরশে আজিমে রক্ষিত রয়েছে। আল্লাহ আদিকালে যখন সবকিছু সৃষ্টি করেন – তখন তাঁর আরশের কাছে রক্ষিত কিতাবে একথাও লিপিবদ্ধ করেন- “আল্লাহর রহমত – আমার ক্রোধের ওপর প্রবল থাকবে। (সুরা মারেফুল কুরআন)। প্রসিদ্ধ মতে ৬১০ সালের ১৭ আগস্ট সোমবার (১৭ রমজান) পঞ্চ আয়াত নাজিলের পর দীর্ঘকাল ওহী অবতরণ বন্ধ থাকে। যাকে বিচ্ছেদ কাল বলা হয়। অতঃপর ধারাবাহিকভাবে নাজিল হওয়া শুরু হয় আড়াই বছর পর সুরা মুদ্দাসসির এর প্রথম পাঁচটি আয়াত দিয়ে।
যেখানে “পবিত্র হয়ে আপন পালনকর্তার মহীমা” তথা সার্বভৌম ক্ষমতার ঘোষণা দেয়ার জন্য রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নির্দেশ দেয়া হয়। লাওহে মাহফুজ থেকে কদরের রাতে যেখানে কুরআন শরীফ এনে রাখা হয় তাকে বায়তুল ইযযা বলে। সেখান থেকে ২২ বছর ৫ মাস ১৪ দিনে পাঁচ থেকে ১০ আয়াত আকারে তিরিশ পারায় ৬৬৬৬ আয়াতসহ মহানতম গ্রন্থ পবিত্র কুরআন নাজিল হয়। সাতটি পদ্ধতিতে ওহি নাজিল হতো। যা জিব্রাইল আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমে আগেই উল্লেখ করা হয়েছে।

লেখকঃ সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

পৃথিবীতে এমন কোনো রোগ নেই, যে রোগের প্রতিষেধক সম্পর্কে আল্লাহ মানুষকে জ্ঞানদান করেননি।

আপডেট সময় : ০৬:৫৯:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জুলাই ২০২১

সোহেল সানি

আল্লাহর কাছ থেকে দূরে সরে যাবার কারণেই মানুষ দুরবস্থায় পতিত হয়। আল্লাহ ছাড়া যেমন মানুষের কোন সাহায্যকারী নেই তেমনি দুনিয়ায় এমন কোন রোগ নেই যে রোগের প্রতিষেধক সম্পর্কে মানুষকে জ্ঞান দান করেন নাই। “আল্লাহকে স্মরণের মাধ্যমেই আত্মা প্রশান্তি লাভ করে এবং আল্লাহর কাছ থেকে দূরে সরে যাবার কারণেই মানুষ দুরবস্থায় পতিত হয়। “আল্লাহ ছাড়া যেমন, মানুষের কোনো সাহায্যকারী নেই। তেমনি দুনিয়ায় এমন কোনো রোগ নেই, যে রোগের ঔষধ বা প্রতিষেধক সম্পর্কে আল্লাহ মানুষকে জ্ঞান দান করেননি। পবিত্র কুরআনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অলৌকিক দিকগুলো সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে এ কথা পরিস্কার করে বলা রয়েছে।
এছাড়াও হযরত আবূ হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, হযরত রাসূল (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘আল্লাহ তায়ালা এমন কোনো রোগ অবতীর্ণ করেননি। যার নিরাময়ের উপকরণ তিনি সৃষ্টি করেননি।’ (বোখারি: ৫২৭৬)।
সুরা বাকারার ১৬৮ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, “হে মানব জাতি! পৃথিবীতে যা কিছু বৈধ ও পবিত্র খাদ্য আছে, তা হতে খাও এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না, নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। মদ, শূকরের মাংস ও মৃত প্রাণীর মাংসকে রোগ সৃষ্টির কারণ হিসাবেও উল্লেখ করা হয়েছে।
চিকিৎসা বিজ্ঞানের জনক গ্রিক চিকিৎসক হিপোক্রেটিস, অন্যতম জনক ইবনে সিনা ও মেডিসিনের জনক অসলারের বিভিন্ন সাফল্য তুলে ধরলেও কানাডা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্রূণ বিশেষজ্ঞ কেইথ মোর বলেছেন, “চিকিৎসা বিজ্ঞানে গবেষকরা নতুন নতুন আবিষ্কার করছে আর এটা বুঝতে পারছে না যে, কুরআনে এ সম্পর্কে আগেই বলা হয়েছে।
মরণঘাতী করোনার আক্রমণ প্রতিরোধ অর্থাৎ এ মরণঘাতী রোগ নিরাময়ের গবেষণা এখনও পর্যন্ত কোনো সুখবর বয়ে আনতে পারেনি বিশ্ববাসীর জন্য।
গণমাধ্যমে বিভিন্ন দেশে ওষুধ আবিষ্কারের খবর প্রচারিত হলেও কার্যত এর অস্তিত্ব স্বীকার করা যাচ্ছে না। আমাদের মতো দেশেও কোনো কোনো চিকিৎসকের করোনা প্রতিরোধক ওষুধ আবিষ্কারের বিচ্ছিন্ন খবর জনমনে আশার বদলে কৌতুহলের সৃষ্টি করছে।
প্রতিদিনই করোনার থাবা কেড়ে নিচ্ছে মানুষের প্রাণ। এক দেশ আরেক দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন। স্যাটেলাইটের বদৌলতে পারস্পরিক খবরাখবর জানা গেলেও সার্বিকভাবে বিচ্ছিন্ন। স্যাটেলাইট কোনো ভাইরাসের আক্রমণে স্তদ্ধ হয়ে গেলে বিশ্ব বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।
আর পরিস্থিতি তখন কি হবে চোখ বন্ধ করে ভাবুন না?
মার্কিন সিনেট কক্ষে পবিত্র কুরআন থেকে তেলওয়াত, স্পেন, ইতালি, চীনসহ বিভিন্ন শক্তিধর অমুসলিম রাষ্ট্রের আকাশ বাতাস পবিত্র আযানের ধ্বনিতে অনুরণনের সৃষ্টি করেছে। জাতিসংঘের ইউনেস্কো কর্তৃক কুরআনকে সবচেয়ে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ রূপে স্বীকৃতিদানের পরও কী চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা কুরআন গবেষণার মাধ্যমে করোনা নামক মরণব্যাধি নিরাময়ের পথ খুঁজছেন?
আমরা চোখ রাখতে পারি কুরআনে রোগ নিরাময় সম্পর্কে কি বলছে সেদিকে। যে মূহুর্তে করোনার ছোবল সেই সময়ে মুসলিম উম্মাহর জন্য মাহে রমজান। মানে রোজার মাস। পবিত্র কুরআনে রোগ হতে মুক্ত থাকার বিষয়ে নামাজ আদায়ের পাশাপাশি রোজাকেও গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সেই বিষয়ে পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। কুরআন অধ্যয়ন, নামাজ আদায় ও দোয়া কামনাসহ অন্যান্য ইবাদতের মাধ্যমে নিজের আত্মাকে পরিশুদ্ধ রাখতে বলা হয়েছে। আল্লাহ বলেছেন, “আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দিবো। ”
কুরআনে সুরা রূম – এ একে অপরের প্রতি ভালোবাসা ও সহমর্মিতার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। সুরা রূম এর ২১ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, “আল্লাহ তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য হতে তোমাদের সঙ্গিনীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের নিকট শান্তি পাও এবং তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও সহানুভূতি সৃষ্টি করেছেন।
আমরা কুরআনে চিকিৎসক ও রোগীর মধ্যকার সম্পর্ক বিষয়ে বলা হয়েছে। চিকিৎসকের আচার- ব্যবহার রোগীকে অর্ধেক সুস্থ করে তোলে।
কানাডা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্রূণ বিশেষজ্ঞ কেইথ মোর বলেন, চিকিৎসা শাস্ত্রের গবেষকরা নতুন নতুন বিষয় আবিষ্কার করছে আর এটা বুঝতে পারছে না যে, কুরআনে এ সম্পর্কে আগেই বলা হয়েছে। মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় রোজাও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখে। মদ, শূকরের গোশত ও মৃত প্রাণীর গোশতকে রোগের অন্যতম কারণ বলে কুরআনে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
পারস্পরিক বন্ধন ও সুসম্পর্ক মানুষকে মানসিক দিক থেকে সুস্থ ও ভারসাম্যপূর্ণ থাকতে সহায়তা করে। পবিত্র কুরআনে সুরা মো’ মেনুনের ১২, ১৩ ও ১৪ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ” নিশ্চয়ই আমি মানুষকে মৃত্তিকার উপাদান হতে সৃষ্টি করেছি। অতঃপর আমি তাকে শুক্র বিন্দু রূপে এক নিরাপদ আধারে স্থাপন করি। পরে আমি শুক্র বিন্দুকে জমাট রক্তে পরিণত করি। অতঃপর জমাট রক্তকে মাংসপিন্ডে পরিণত করি এবং মাংসপিন্ডকে অস্থি-পঞ্জারে, অতঃপর অস্থিপঞ্জরকে মাংস দ্বারা ঢেকে দেই। অবশেষে আমি তাকে চরম সৃষ্টিতে পরিণত করি। অতএব আল্লাহ মহান, যিনি সর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তা।
রোগ প্রতিরোধের জন্য কুরআনে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা পাওয়া যায়। কুরআনে অনেক খাদ্য গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। খাদ্যের প্রভাবের কথা মানুষের মনমানসিকতার ওপর স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে।
মহানবী (সাঃ) বলেছেন,” ক্ষুধার্ত না হলে খেতে বসো না এবং পেট পরিপূর্ণ হবার আগেই খাওয়া শেষ করো। তিনি এমন সব খাদ্যদ্রব্যের নাম উল্লেখ করেন, যা ব্যথা উপশমসহ নানা রোগ থেকে মুক্ত রাখে।
রোগ নিরাময়ের ক্ষেত্রে মধুর মতো এতো বেশি কার্যকর আর কোনো উপাদান নেই। আল্লাহর প্রেরিত রাসূলে হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) এর এ কথাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানও স্বীকার করেছে। এর সত্যতা মিলে কুরআনের সুরা নহলের ৬৯ নম্বর আয়াতে। এতে বলা হয়েছে, “মৌমাছির উদর হতে বিবিধ বর্ণ বিশিষ্ট পানীয় নির্গত হয়। এতে মানুষের জন্য ব্যাধির প্রতীকার আছে। নহল মানে মৌমাছি। ফুলের মধু আহরণ ও চাক তৈরিসহ মৌমাছির বিভিন্ন কর্মপ্রণালী সম্পর্কে বর্ণনা রয়েছে।
Sohel Sunny
Sohel sent Today at 5:39 PM
কুরআনের সুরা বাকারার ১৬৮ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, “হে মানব জাতি! পৃথিবীতে যা কিছু বৈধ ও পবিত্র খাদ্য আছে, তা হতে খাও এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না, নিশ্চয়ই শয়তান তোমাদের শত্রু।
প্রসঙ্গতঃ প্রতিদিন সকাল সন্ধ্যায় সাত বার সুরা তাওবাহর শেষের আয়াতটি পাঠ করলে পাঠকারী রোগ, বিপদ ও পেরেশানি মুক্ত থাকে এবং হায়াত বাড়ে।
আয়াতটি হলো “হাসবিয়াল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়া আ’লাইহি তাকয়াক্কালতু ওয়া হুয়া রাব্বুল আরশিল আযীম” (অর্থ আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট, তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ্ নেই। তাঁর উপর ভরসা করছি এবং তিনি মহান আরশের অধিপতি)
শবে মেঘরাজ রাতে ইব্রাহীম (আঃ) নবীজী (সাঃ) কে যে যে বিষয়টিতে অসীয়ত করেছেন তাহলো, “লা হাওলা ওয়ালা কুউওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ” যার অর্থঃ কারো শক্তি নেই (দুঃখ কষ্ট দূর করার ও বিপদ আপদে বাঁচাবার) এবং কারো ক্ষমতা নেই (সুখ ও সম্পদ প্রদানের) একমাত্র আল্লাহ ছাড়া।
ইয়া হাইউ ইয়া কাইউম বিরাহমাতিকা আসতাগীছু (অর্থ হে চিরঞ্জীব, হে চিরস্থায়ী, তোমার রহমতের উপর ভরসা করে সাহায্য চাই) মহানবী (সাঃ) এই দু’আ বিশেষ ভাবে পছন্দ করতেন। হযরত আলী (রাঃ) বলেন, বদরের যুদ্ধে আমি নবীজীকে দেখতে চাই, তিনি কি করছেন। গিয়ে দেখলাম, তিনি সেজদায় পড়ে রয়েছেন আর বলছেন, “ইয়া হাইয়্যু-ইয়া কাইউম”।
“আল্লাহুম্মাজ্ আলনী ফি আইনী ছাগিরা – ওয়া আইয়্যুনিন নাসি কাবীরা ” (অর্থঃ হে আল্লাহ আমার চোখে আমি যেন নিজেকে ছোট দেখি, আর মানুষের চোখে যেন আমি বড় হই)
ঐতিহাসিক হুদায়বিয়ার সন্ধিকালে কাফেরার সন্ধিপত্রে নবীজীর (সাঃ) নামে সাথে রাসূল (সাঃ) বিশেষণ যোগ করতে আপত্তি জানালে নবীজী (সাঃ) নিজে ছোট হয়ে অপমানজনক ঔ চুক্তিতে সম্মত হয়েছিলেন। পরক্ষণেই এ বিষয়ে কুরআনের আয়াত নাজিল হয় এবং দুবছর পরেই মক্কা বিজয় হয়।
“আসআলুল্লাহাল আ’জীম রাব্বুল আ’রশিল আজীম আইইয়াশফীয়াকা”। (অর্থঃ মহান আল্লাহপাকের কাছে মহান আরশের মালিকের কাছে আমি আপনার রোগ মুক্তি কামনা করছি)
নবীজী অসুস্থ রোগীকে দেখতে গেলে সাত বার এই দু’আ পড়তেন।
১১৪টি সুরা সম্বলিত পবিত্র কুরআনে প্রসিদ্ধ মতানুসারে শব্দ সংখ্যা ৮৬ হাজার ৪৩০টি এবং অক্ষর সংখ্যা ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৩৭০টি। না গদ্য না পদ্য ধরনের প্রাঞ্জল ও সহজবোধ্য কুরআনের আভিধানিক অর্থ – সর্বাধিক পঠিতব্য। ক্বারউন এবং ক্বারনুণ – মূল আরবী শব্দ থেকে যার উৎপত্তি। জিব্রাইল আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় আকৃতিতে আসতেন, তিনি মানুষের আকৃতি নিয়ে, সত্য স্বপ্নযোগে ঘন্টা ধ্বনি (মৌমাছির গুঞ্জনের মতো), অন্তরে ফুঁৎকার দিয়ে, পর্দার অন্তরাল থেকে এবং সাত সরাসরি আল্লাহ পাকের কাছ থেকে।
প্রায় ১৫ বছর সাধনা মগ্ন নবীজী আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে যখন জিব্রাইল এসে বললেন, “ইকরা”- পড়ুন – তিনি ওযর জানিয়ে বললেন, আমি তো পড়তে জানিনা। উম্মীদ হওয়া সত্ত্বেও আল্লাহ পাক পাঠ করাতে সক্ষম। পালনেওয়ালার নামে শুরু করতে বলে- সৃষ্টির ধ্রুব সত্যটি ১ম আয়াতে তুলে ধরা হয়।
অস্তিত্ব দান করাই সৃষ্টির প্রতি রাব্বুল আলামিনের প্রথম অনুগ্রহ। অতঃপর সৃষ্টির নানা স্তর পার হয়ে মাটি ও উপাদান চতুষ্টয় দিয়ে যার সূচনা – বীর্য ও যার পরে জমাট রক্তের পালা আসে এবং পর্যায়ক্রমে মাংসপিণ্ড ও অস্থি প্রভৃতি সৃষ্টি করা হয়। এসবের মধ্যে জমাট রক্ত হলো প্রকৃত প্রস্তাবে একটি মধ্যবর্তী অবস্থা -যার উল্লেখ দ্বিতীয় আয়াতে রয়েছে। শিক্ষাই মানুষকে অন্যান্য সব প্রাণীকুল থেকে স্বতন্ত্র তথা সেরা সৃষ্টি হিসেবে চিহ্নিত করেছে। শিক্ষার এ ক্ষেত্রে কলমের সাহায্যের শিক্ষাকেই বলা হয়েছে। মানবজাতির সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষক মোহাম্মদুর রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মহান আল্লাহ সর্বপ্রথম কলম সৃষ্টি করে তাকে লেখার নির্দেশ দেন। রোজ কেয়ামত পর্যন্ত যে যা কিছু করে যা যা কিছু হয় বা হবে কলম সব লিখে রাখে। যা আল্লাহ পাকের কাছে আরশে আজিমে রক্ষিত রয়েছে। আল্লাহ আদিকালে যখন সবকিছু সৃষ্টি করেন – তখন তাঁর আরশের কাছে রক্ষিত কিতাবে একথাও লিপিবদ্ধ করেন- “আল্লাহর রহমত – আমার ক্রোধের ওপর প্রবল থাকবে। (সুরা মারেফুল কুরআন)। প্রসিদ্ধ মতে ৬১০ সালের ১৭ আগস্ট সোমবার (১৭ রমজান) পঞ্চ আয়াত নাজিলের পর দীর্ঘকাল ওহী অবতরণ বন্ধ থাকে। যাকে বিচ্ছেদ কাল বলা হয়। অতঃপর ধারাবাহিকভাবে নাজিল হওয়া শুরু হয় আড়াই বছর পর সুরা মুদ্দাসসির এর প্রথম পাঁচটি আয়াত দিয়ে।
যেখানে “পবিত্র হয়ে আপন পালনকর্তার মহীমা” তথা সার্বভৌম ক্ষমতার ঘোষণা দেয়ার জন্য রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নির্দেশ দেয়া হয়। লাওহে মাহফুজ থেকে কদরের রাতে যেখানে কুরআন শরীফ এনে রাখা হয় তাকে বায়তুল ইযযা বলে। সেখান থেকে ২২ বছর ৫ মাস ১৪ দিনে পাঁচ থেকে ১০ আয়াত আকারে তিরিশ পারায় ৬৬৬৬ আয়াতসহ মহানতম গ্রন্থ পবিত্র কুরআন নাজিল হয়। সাতটি পদ্ধতিতে ওহি নাজিল হতো। যা জিব্রাইল আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমে আগেই উল্লেখ করা হয়েছে।

লেখকঃ সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট।