সংবাদ শিরোনাম ::
বানারীপাড়ায় টেন্ডার ছাড়াই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ১৪টি গাছ বিক্রি প্রতিমন্ত্রীর জাল সিল-স্বাক্ষরে কোটি টাকার তদবির বাণিজ্যের অভিযোগ মোংলায় চক্রের মূলহোতা গ্রেফতার, উদ্ধার জাল সিল-স্ট্যাম্প ৫২ নম্বর রহমতপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি নির্বাচিত ইঞ্জিনিয়ার ইয়াছির আরাফাত নলছিটিতে ২ ভূমি কর্মকর্তা শোকজ, কানুনগো বদলি গৌরনদীতে সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনার দুইজন গ্রেপ্তার, মানববন্ধন ঝালকাঠিতে জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬ উদযাপনের প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত নলছিটিতে ভোক্তা অধিকারের অভিযান: ৫টি দোকানকে ১৮ হাজার টাকা জরিমানা পটুয়াখালী নৌযান শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক পদে নতুন মুখ: নির্বাচিত হলেন আলোচিত অন্তর বাবুগঞ্জের দুর্গাসাগর থেকে হরিণ চুরির অভিযোগে কেয়ারটেকার ও মালী গ্রেপ্তার ঝালকাঠি প্রেস ক্লাবের দাতা সদস্য কুদ্দুস খান বাংলাদেশ বক্সিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় প্রেসক্লাবের সভাপতি শুভেচ্ছা

বাবুগঞ্জে হাতুড়ি আর লোহার টুংটাং শব্দে মুখরিত কামারপাড়া।

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৩০:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ জুলাই ২০২১ ৯১ বার পড়া হয়েছে

Exif_JPEG_420

আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মোহাম্মাদ আলী ,বাবুগঞ্জ ( বরিশাল) ঃ বরিশালের বাবুগঞ্জে হাতুড়ি আর লোহার টুংটাং শব্দে মুখরিত কামারপাড়া। প্রতিবছরের ন্যায় এবারও ব্যস্ত সময় পার করছেন কামারশিল্পীরা। চলছে হাঁপর টানা, পুড়ছে কয়লা, জ্বলছে লোহা। হাতুড়ি পিটিয়ে কামাররা তৈরি করছেন দা, বঁটি, ছুরি, হাঁসুয়া, কাস্তে চাপাতিসহ ধারালো সব যন্ত্রপাতি।

যদিও করোনা পরিস্থিতিতে তেমন বেঁচা-বিক্রি নেই। তারপরও কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে আশায় বুক বেঁধে ব্যস্ত সময় পার করছেন কামাররা। হাতুড়ি আর লোহার টুংটাং শব্দে এখন মুখরিত বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার কামারপাড়াগুলো।

বাবুগঞ্জ উপজেলায় প্রায় অর্ধশত পরিবার কামার পেশায় যুক্ত থাকলেও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও কাঁচামালের দাম বৃদ্ধির ফলে অনেকেই অন্য পেশা বেছে নিয়েছেন। যারা আছেন তাদেরও বেগ পেতে হচ্ছে। প্রতিদিন ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত লোহায় আগুনের তাপ দিয়ে ও পিটিয়ে কঠোর পরিশ্রমে জিনিস তৈরি করেও সংসার চালানো কঠিন হয়ে গেছে । সারা বছরের তুলনায় কোরবানি ঈদের সময় তাঁদের ব্যস্ততা বাড়লেও এবারের চিত্র কিছুটা ভিন্ন।

গতকাল শনিবার সকালে বাবুগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার ঘুরে দেখা গেছে, কোরবানির কাজে ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন সরঞ্জাম তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তাঁরা।

বাবুগঞ্জ বাজারের কর্মকার দুলাল মন্ডল বলেন, প্রতি বছর কোরবানির ঈদে দা, বঁটি, ছুরি, হাঁসুয়া, চাপাতিসহ লোহার তৈরি বিভিন্ন জিনিসের চাহিদা বেড়ে যায়। কোরবানির ঈদকে ঘিরে ক্রেতা সাধারণ অনেক ভিড় করতেন দোকানে। এই সময় ভালো আয়-উপার্জন হয় আমাদের।
তবে এবার হতাশা ঘিরে ফেলেছে। করোনা পরিস্থিতির কারণে একেবারেই বেচাকেনা নেই। তারপরে লকডাউনের জন্য লোকজন আসতে পারছে না।
তাছাড়া লোহা ৬ মাস আগে ৭৫ টাকা কেজিতে ক্রয় করতাম আর এখন তা ৯৫ থেকে ১০০ টাকা। শুধু লোহা নয়, কয়লার দামও বেশি। ২ বছর আগে যে কয়লা ক্রয় করতাম ২০০ টাকা তা এখন ৫০০ টাকা দিয়ে ক্রয় করতে হয়। আগের চেয়ে সব কিছুর দাম বেশি হওয়ায় ব্যবসা করতে অনেক টাকার প্রয়োজন। আগে অনেক ক্রেতা লোহা নিয়ে আসতো। আর এখন আমাদের লোহা মজুদ রাখতে হয়। এখন ঋণ নিয়ে ব্যবসা করতে হচ্ছে। আর আয়ও কমে গেছে আগের চেয়ে। তাই অনেকেই এ পেশা ছেড়ে দিয়ে অন্য পেশা বেছে নিয়েছেন।

ঐতিহ্যবাহী বাবুগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী সাধু কর্মকার বলেন, গত কয়েকবছর বছর থেকে লোহার দাম কয়েক গুণ বেড়েছে। আগে কম পুঁজি দিয়ে এ ব্যবসা করেছি। কিন্তু এখন বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে এ ব্যবসা করতে হচ্ছে। আগে লোহার দাম কম থাকায় ব্যবসা ভালো হতো। এখন সারা দিন পরিশ্রম করেও সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। করোনার কারনে সারাদেশে লকডাউন চলছে। বেচাবিক্রি নেই, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে দা, বঁটি, ছুরি, হাঁসুয়া, চাপাতিসহ বিভিন্ন জিনিস তৈরি করতেছি।
বাবুগঞ্জ বাজারে ঈদুল আজহা উপলক্ষে দা, বঁটি, ছুরি বানাতে আসা মোঃ সুমন বলেন, মীরগঞ্জ থেকে এসেছি। লকডাউনে ঘর থেকে বের হলে পুলিশের বিভিন্ন ধরনের প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়। যেহেতু ঈদ ঘনিয়ে আসছে তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাজারে এসেছি।

বাবুগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কামাররা জানান, ঈদ মৌসুমটাই তাদের মূল টার্গেট থাকে। বছরের কয়েকটা দিন ভালো টাকা, ভালো উপার্জন করার চিন্তা করলে এই দিনগুলো ঘিরেই করা হয়। তারপরেও কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে দা, বঁটিসহ বিভিন্ন মালামাল তৈরি করছেন । কিন্তু করোনায় পরিস্থিতি এখন একেবারেই ভিন্ন। তারপরও ঈদকে সামনে রেখে তাঁরা স্বপ্ন দেখছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বাবুগঞ্জে হাতুড়ি আর লোহার টুংটাং শব্দে মুখরিত কামারপাড়া।

আপডেট সময় : ০৫:৩০:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ জুলাই ২০২১

মোহাম্মাদ আলী ,বাবুগঞ্জ ( বরিশাল) ঃ বরিশালের বাবুগঞ্জে হাতুড়ি আর লোহার টুংটাং শব্দে মুখরিত কামারপাড়া। প্রতিবছরের ন্যায় এবারও ব্যস্ত সময় পার করছেন কামারশিল্পীরা। চলছে হাঁপর টানা, পুড়ছে কয়লা, জ্বলছে লোহা। হাতুড়ি পিটিয়ে কামাররা তৈরি করছেন দা, বঁটি, ছুরি, হাঁসুয়া, কাস্তে চাপাতিসহ ধারালো সব যন্ত্রপাতি।

যদিও করোনা পরিস্থিতিতে তেমন বেঁচা-বিক্রি নেই। তারপরও কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে আশায় বুক বেঁধে ব্যস্ত সময় পার করছেন কামাররা। হাতুড়ি আর লোহার টুংটাং শব্দে এখন মুখরিত বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার কামারপাড়াগুলো।

বাবুগঞ্জ উপজেলায় প্রায় অর্ধশত পরিবার কামার পেশায় যুক্ত থাকলেও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও কাঁচামালের দাম বৃদ্ধির ফলে অনেকেই অন্য পেশা বেছে নিয়েছেন। যারা আছেন তাদেরও বেগ পেতে হচ্ছে। প্রতিদিন ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত লোহায় আগুনের তাপ দিয়ে ও পিটিয়ে কঠোর পরিশ্রমে জিনিস তৈরি করেও সংসার চালানো কঠিন হয়ে গেছে । সারা বছরের তুলনায় কোরবানি ঈদের সময় তাঁদের ব্যস্ততা বাড়লেও এবারের চিত্র কিছুটা ভিন্ন।

গতকাল শনিবার সকালে বাবুগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার ঘুরে দেখা গেছে, কোরবানির কাজে ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন সরঞ্জাম তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তাঁরা।

বাবুগঞ্জ বাজারের কর্মকার দুলাল মন্ডল বলেন, প্রতি বছর কোরবানির ঈদে দা, বঁটি, ছুরি, হাঁসুয়া, চাপাতিসহ লোহার তৈরি বিভিন্ন জিনিসের চাহিদা বেড়ে যায়। কোরবানির ঈদকে ঘিরে ক্রেতা সাধারণ অনেক ভিড় করতেন দোকানে। এই সময় ভালো আয়-উপার্জন হয় আমাদের।
তবে এবার হতাশা ঘিরে ফেলেছে। করোনা পরিস্থিতির কারণে একেবারেই বেচাকেনা নেই। তারপরে লকডাউনের জন্য লোকজন আসতে পারছে না।
তাছাড়া লোহা ৬ মাস আগে ৭৫ টাকা কেজিতে ক্রয় করতাম আর এখন তা ৯৫ থেকে ১০০ টাকা। শুধু লোহা নয়, কয়লার দামও বেশি। ২ বছর আগে যে কয়লা ক্রয় করতাম ২০০ টাকা তা এখন ৫০০ টাকা দিয়ে ক্রয় করতে হয়। আগের চেয়ে সব কিছুর দাম বেশি হওয়ায় ব্যবসা করতে অনেক টাকার প্রয়োজন। আগে অনেক ক্রেতা লোহা নিয়ে আসতো। আর এখন আমাদের লোহা মজুদ রাখতে হয়। এখন ঋণ নিয়ে ব্যবসা করতে হচ্ছে। আর আয়ও কমে গেছে আগের চেয়ে। তাই অনেকেই এ পেশা ছেড়ে দিয়ে অন্য পেশা বেছে নিয়েছেন।

ঐতিহ্যবাহী বাবুগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী সাধু কর্মকার বলেন, গত কয়েকবছর বছর থেকে লোহার দাম কয়েক গুণ বেড়েছে। আগে কম পুঁজি দিয়ে এ ব্যবসা করেছি। কিন্তু এখন বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে এ ব্যবসা করতে হচ্ছে। আগে লোহার দাম কম থাকায় ব্যবসা ভালো হতো। এখন সারা দিন পরিশ্রম করেও সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। করোনার কারনে সারাদেশে লকডাউন চলছে। বেচাবিক্রি নেই, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে দা, বঁটি, ছুরি, হাঁসুয়া, চাপাতিসহ বিভিন্ন জিনিস তৈরি করতেছি।
বাবুগঞ্জ বাজারে ঈদুল আজহা উপলক্ষে দা, বঁটি, ছুরি বানাতে আসা মোঃ সুমন বলেন, মীরগঞ্জ থেকে এসেছি। লকডাউনে ঘর থেকে বের হলে পুলিশের বিভিন্ন ধরনের প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়। যেহেতু ঈদ ঘনিয়ে আসছে তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাজারে এসেছি।

বাবুগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কামাররা জানান, ঈদ মৌসুমটাই তাদের মূল টার্গেট থাকে। বছরের কয়েকটা দিন ভালো টাকা, ভালো উপার্জন করার চিন্তা করলে এই দিনগুলো ঘিরেই করা হয়। তারপরেও কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে দা, বঁটিসহ বিভিন্ন মালামাল তৈরি করছেন । কিন্তু করোনায় পরিস্থিতি এখন একেবারেই ভিন্ন। তারপরও ঈদকে সামনে রেখে তাঁরা স্বপ্ন দেখছেন।