সংবাদ শিরোনাম ::
বানারীপাড়ায় টেন্ডার ছাড়াই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ১৪টি গাছ বিক্রি প্রতিমন্ত্রীর জাল সিল-স্বাক্ষরে কোটি টাকার তদবির বাণিজ্যের অভিযোগ মোংলায় চক্রের মূলহোতা গ্রেফতার, উদ্ধার জাল সিল-স্ট্যাম্প ৫২ নম্বর রহমতপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি নির্বাচিত ইঞ্জিনিয়ার ইয়াছির আরাফাত নলছিটিতে ২ ভূমি কর্মকর্তা শোকজ, কানুনগো বদলি গৌরনদীতে সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনার দুইজন গ্রেপ্তার, মানববন্ধন ঝালকাঠিতে জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬ উদযাপনের প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত নলছিটিতে ভোক্তা অধিকারের অভিযান: ৫টি দোকানকে ১৮ হাজার টাকা জরিমানা পটুয়াখালী নৌযান শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক পদে নতুন মুখ: নির্বাচিত হলেন আলোচিত অন্তর বাবুগঞ্জের দুর্গাসাগর থেকে হরিণ চুরির অভিযোগে কেয়ারটেকার ও মালী গ্রেপ্তার ঝালকাঠি প্রেস ক্লাবের দাতা সদস্য কুদ্দুস খান বাংলাদেশ বক্সিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় প্রেসক্লাবের সভাপতি শুভেচ্ছা

ভোলায় বরাদ্দের কম চাল নিতে অস্বীকৃতি, ১১ জেলেকে কানধরে উঠবস।

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:১১:২০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ জুলাই ২০২১ ১০৪ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভোলা প্রতিনিধি:: ভোলার চরফ্যাশনের চরমানিকা ইউনিয়নে জেলেদের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে চেয়ারম্যান হাজি শফিউল্যাহ হাওলাদারের বিরুদ্ধে।

অনিয়মের প্রতিবাদ করায় উপকারভোগীর তালিকাভুক্ত ১১ জেলেকে কানধরে উঠবস করানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন নারী মেম্বার রহিমা বেগম।

অনিয়মের অভিযোগে আপাতত চাল বিরতণ বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন।

এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান হাজি শফিউল্যাহ হাওলাদার জানান, সামুদ্রিক মৎস্য আহরণে নিয়োজিত জেলেদের পুনর্বাসনে চরমানিকা ইউনিয়নের ৬২৩ জেলের অনুকূলে ৫৬ কেজি করে চাল বরাদ্দ করা হয়েছে। উপকারভোগী প্রত্যেক জেলে ৫০ কেজির এক বস্তাসহ আরও ৬ কেজি করে মোট ৫৬ কেজি চাল পাবেন।

চরমানিকা ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বাররা জানান, পরিষদের প্রত্যেক সাধারণ সদস্যের ওয়ার্ডে ৫০ জন করে ৯ ওয়ার্ডে মোট ৪৫০ জন, সংরক্ষিত ৩ জন সদস্যের প্রত্যেক ওয়ার্ডে ২৮টি করে ৮৪ জন এবং চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রাখা হয়েছে ৮৯ জন উপকারভোগীর বরাদ্দকৃত চাল।

কিন্তু সংরক্ষিত-২ (৪, ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের) নারী মেম্বার রহিমা বেগম অভিযোগ করেন, প্রত্যেক উপকারভোগীকে চেয়ারম্যান মাত্র ১৫ কেজি করে চাল দিচ্ছেন। বিষয়টি তিনি তাৎক্ষণিক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করলে ঘটনাস্থলে যান বিতরণকাজের তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা তুষারকান্তি দে। তদারকি কর্মকর্তা নিয়ম মেনে প্রত্যেক জেলেকে ৫৬ কেজি করে চাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও চেয়ারম্যানের বাধার কারণে তা আর হয়নি। ফলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে চাল বতরণ বন্ধ রাখা হয়।

দ্বিতীয় দিন আবারও জেলেদের ১৫ কেজি করে চাল দেয়া শুরু করেন চেয়ারম্যান হাজি শফিউল্যাহ। এ সময় নারী মেম্বার রহিমা বেগমের তালিকাভুক্ত ১১ জেলে ১৫ কেজি করে চাল গ্রহণে অস্বীকার করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে চেয়ারম্যান হাজি শফিউল্যাহ ওই উপকারভোগী জেলে এবং নারী মেম্বার রহিমা বেগমের সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন এবং জেলেদের পরিষদের মধ্যে কানধরে উঠবস করতে বাধ্য করেন।

বিষয়টি জানার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবারও চাল বিতরণ স্থগিত করেন।

অভিযোগ প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান হাজি শফিউল্যাহ বলেন, নারী মেম্বার রহিমা বেগম একজন বিধবার ভিজিডি চাল নিয়মিত নিজে ভোগ করছেন। এ বছর ওই চাল বন্ধ করে দেওয়ায় তিনি ক্ষুদ্ধ হয়ে আমার বিরুদ্ধে এমন উদ্ভট অভিযোগ তুলেছেন।

চেয়ারম্যানের অভিযোগ প্রসঙ্গে রহিমা বেগম বলেন, আমি দুবারের নির্বাচিত নারী মেম্বার। থাকি সরকারি খাস জমিতে। নিজের কোনো সম্পদ নেই। সম্পদ সাধারণ মানুষের ভালোবাসা। আমি ভিজিডির চাল খেতে যাবো কেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন জানান, উপকারভোগী প্রত্যেক জেলে ৫৬ কেজি করে চাল পাবেন। কোনো কারণে এই চাল কম দেয়ার সুযোগ নেই। আগামী ২/১ দিনের মধ্যে চাল বিতরণ করা হবে এবং উপকারভোগী প্রত্যেক জেলের ৫৬ কেজি করে চাল পাওয়া নিশ্চিত করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ভোলায় বরাদ্দের কম চাল নিতে অস্বীকৃতি, ১১ জেলেকে কানধরে উঠবস।

আপডেট সময় : ১১:১১:২০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ জুলাই ২০২১

ভোলা প্রতিনিধি:: ভোলার চরফ্যাশনের চরমানিকা ইউনিয়নে জেলেদের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে চেয়ারম্যান হাজি শফিউল্যাহ হাওলাদারের বিরুদ্ধে।

অনিয়মের প্রতিবাদ করায় উপকারভোগীর তালিকাভুক্ত ১১ জেলেকে কানধরে উঠবস করানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন নারী মেম্বার রহিমা বেগম।

অনিয়মের অভিযোগে আপাতত চাল বিরতণ বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন।

এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান হাজি শফিউল্যাহ হাওলাদার জানান, সামুদ্রিক মৎস্য আহরণে নিয়োজিত জেলেদের পুনর্বাসনে চরমানিকা ইউনিয়নের ৬২৩ জেলের অনুকূলে ৫৬ কেজি করে চাল বরাদ্দ করা হয়েছে। উপকারভোগী প্রত্যেক জেলে ৫০ কেজির এক বস্তাসহ আরও ৬ কেজি করে মোট ৫৬ কেজি চাল পাবেন।

চরমানিকা ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বাররা জানান, পরিষদের প্রত্যেক সাধারণ সদস্যের ওয়ার্ডে ৫০ জন করে ৯ ওয়ার্ডে মোট ৪৫০ জন, সংরক্ষিত ৩ জন সদস্যের প্রত্যেক ওয়ার্ডে ২৮টি করে ৮৪ জন এবং চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রাখা হয়েছে ৮৯ জন উপকারভোগীর বরাদ্দকৃত চাল।

কিন্তু সংরক্ষিত-২ (৪, ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের) নারী মেম্বার রহিমা বেগম অভিযোগ করেন, প্রত্যেক উপকারভোগীকে চেয়ারম্যান মাত্র ১৫ কেজি করে চাল দিচ্ছেন। বিষয়টি তিনি তাৎক্ষণিক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করলে ঘটনাস্থলে যান বিতরণকাজের তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা তুষারকান্তি দে। তদারকি কর্মকর্তা নিয়ম মেনে প্রত্যেক জেলেকে ৫৬ কেজি করে চাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও চেয়ারম্যানের বাধার কারণে তা আর হয়নি। ফলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে চাল বতরণ বন্ধ রাখা হয়।

দ্বিতীয় দিন আবারও জেলেদের ১৫ কেজি করে চাল দেয়া শুরু করেন চেয়ারম্যান হাজি শফিউল্যাহ। এ সময় নারী মেম্বার রহিমা বেগমের তালিকাভুক্ত ১১ জেলে ১৫ কেজি করে চাল গ্রহণে অস্বীকার করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে চেয়ারম্যান হাজি শফিউল্যাহ ওই উপকারভোগী জেলে এবং নারী মেম্বার রহিমা বেগমের সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন এবং জেলেদের পরিষদের মধ্যে কানধরে উঠবস করতে বাধ্য করেন।

বিষয়টি জানার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবারও চাল বিতরণ স্থগিত করেন।

অভিযোগ প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান হাজি শফিউল্যাহ বলেন, নারী মেম্বার রহিমা বেগম একজন বিধবার ভিজিডি চাল নিয়মিত নিজে ভোগ করছেন। এ বছর ওই চাল বন্ধ করে দেওয়ায় তিনি ক্ষুদ্ধ হয়ে আমার বিরুদ্ধে এমন উদ্ভট অভিযোগ তুলেছেন।

চেয়ারম্যানের অভিযোগ প্রসঙ্গে রহিমা বেগম বলেন, আমি দুবারের নির্বাচিত নারী মেম্বার। থাকি সরকারি খাস জমিতে। নিজের কোনো সম্পদ নেই। সম্পদ সাধারণ মানুষের ভালোবাসা। আমি ভিজিডির চাল খেতে যাবো কেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন জানান, উপকারভোগী প্রত্যেক জেলে ৫৬ কেজি করে চাল পাবেন। কোনো কারণে এই চাল কম দেয়ার সুযোগ নেই। আগামী ২/১ দিনের মধ্যে চাল বিতরণ করা হবে এবং উপকারভোগী প্রত্যেক জেলের ৫৬ কেজি করে চাল পাওয়া নিশ্চিত করা হবে।