সংবাদ শিরোনাম ::
বানারীপাড়ায় টেন্ডার ছাড়াই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ১৪টি গাছ বিক্রি প্রতিমন্ত্রীর জাল সিল-স্বাক্ষরে কোটি টাকার তদবির বাণিজ্যের অভিযোগ মোংলায় চক্রের মূলহোতা গ্রেফতার, উদ্ধার জাল সিল-স্ট্যাম্প ৫২ নম্বর রহমতপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি নির্বাচিত ইঞ্জিনিয়ার ইয়াছির আরাফাত নলছিটিতে ২ ভূমি কর্মকর্তা শোকজ, কানুনগো বদলি গৌরনদীতে সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনার দুইজন গ্রেপ্তার, মানববন্ধন ঝালকাঠিতে জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬ উদযাপনের প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত নলছিটিতে ভোক্তা অধিকারের অভিযান: ৫টি দোকানকে ১৮ হাজার টাকা জরিমানা পটুয়াখালী নৌযান শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক পদে নতুন মুখ: নির্বাচিত হলেন আলোচিত অন্তর বাবুগঞ্জের দুর্গাসাগর থেকে হরিণ চুরির অভিযোগে কেয়ারটেকার ও মালী গ্রেপ্তার ঝালকাঠি প্রেস ক্লাবের দাতা সদস্য কুদ্দুস খান বাংলাদেশ বক্সিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় প্রেসক্লাবের সভাপতি শুভেচ্ছা

লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসে প্রশিক্ষণ বরাদ্দের অর্থ নয়-ছয়।

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:২৬:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জুলাই ২০২১ ১০০ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মোবারক হোসেন, খাগড়াছড়ি: খাগড়াছড়ি জেলার লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা প্রাণী সম্পদ কার্যালয়ের প্রশিক্ষণের অর্থের বরাদ্দ নয়-ছয় করে কর্মকর্তার পকেটস্থ্য করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তথ্যানুসদ্ধানে জানা যায়, ২০২০-২০২১অর্থ বছরে সরকার কৃত্রিম প্রজনন কার্যক্রম ও ভ্রæণ স্থানন্তর প্রযুক্তি বাস্তবায়ন প্রকল্প(৩য় পর্যায়) ৬৮হাজার টাকা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বরাদ্দ ছাড় করে। উক্ত বরাদ্দ পত্রে বলা হয় ৪০জন খামারী ৩দিনের প্রতিদিন ৩০০টাকা হারে ৯০০টাকা সম্মানী পাবেন। প্রতিদিন ১৫০টাকা হারে খাবার বাবাদ ১৮হাজার টাকা ছাড়াও ব্যাগ, প্যাড, কলম ও ব্যানার ইত্যাদি বাবদ আরো ১৪হাজার টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ দেয়। এছাড়াও প্রশিক্ষকের সম্মানীও রাখা হয়েছিল এ বাজেটে। কিন্তু বরাদ্দ এবং প্রশিক্ষণ কাগজে পত্রেই রয়েছে গেছে। সরকারের লক্ষ্য উদেশ্যে এবং খামারীদের এ বিষয়ে বাস্তবে কোনো ধারনাই পরিলক্ষিত হয় নি।

প্রাণী সম্পদ কার্যালয় কর্তৃক প্রস্তুতকৃত ৪০জনের তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা যায় দুল্যাতলী ইউনিয়নে ১৯জন এবং লক্ষ্মীছড়ি ইউনিয়ন থেকে নেয়া হয়েছে ২১জনকে। এর মধ্যে ছমুড় পাড়া থেকে নেয়া হয়েছে ১০জনের নাম। পুরো উপজেলায় ২৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে ছোট্ট একটি পাড়া থেকে ১০জন খামীর নাম প্রশিক্ষণের তালিকায় অর্ন্তভুক্তি হওয়ায় আসলেই প্রকৃত খামারী তালিকা যাচাই-বাছাই কিংবা সঠিকভাবে করা হয়েছিল কিনা সেটাও তদন্তের দাবি রাখে।

এ বিষয় জানতে চাওয়া হলে ভেটেনারী সার্জন ও উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সুপর্ণা দে সিম্পু বলেন, আমি তো কাজটি ভালোর জন্য করতে চেয়েছি এখন দেখছি খারাব হচ্ছে। টাকাটা ফেরত দিলেই ভালো হতো। করোনার দোহাই দিয়ে প্রশিক্ষণ করা যাচ্ছিল না বলে এ প্রতিনিধিকে বুঝানোর চেষ্টা করেন। শুধু তাই নয়, পুকুর চুরির মত বড় বড় ঘটনা যখন ঘটছে। আমারটাতো ছোট একটা দুর্নীতি এটা লিখি কি হবে বলে মন্তব্য করেন ওই কর্মকর্তা। এ প্রতিনিধির এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আসলে এখন প্রশিক্ষণের জন্য কাউকে ডাকলে আসবে না, কারণ তারা ভাতা পেয়ে গেছে। তাহলে কী প্রশিক্ষণের লক্ষ্য উদ্দ্যেশ্য কি ব্যহত হলো এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি আর উত্তর খুঁজে পান নি। তবে আগামীতে এ ৪০জনকে সুযোগ সুবিধা দেয়া হবে বলে আশ্বস্থ্য করেন। প্রশিক্ষণ আয়োজন করতে পারেন নি বলে দু:খ প্রকাশ করে ভুল স্বীকার করেন। প্রত্যেক প্রশিক্ষণার্থী তাদের প্রাপ্য অফিসে এসে স্বাক্ষর করে বুঝে নিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

প্রশিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন উক্ত অফিসের উপসহকারি কর্মকর্তা মংশে মারমা তাকে জিগ্যেস করা হয়েছিল প্রশিক্ষণ তো হয় নি তাহলে আপনী কি সম্মানী পেয়েছেন? তিনি একটি ক্লাশের জন্য ৮৫০টাকা পেয়েছেন বলে জানান।

এদিকে একাধীকবার মুঠোফোনে কল দিয়ে না লেখার অুনরোধ জানিয়ে ম্যানেজ করার চেষ্টা ব্যার্থ হয়ে তাঁর স্বামী টিটু শিকদারকে পাঠালে টাকা গ্রহণের প্রস্তাবও ফিরিয়ে দেন এ প্রতিনিধি।

লক্ষ্মীছড়ি সদর ইউপি চেয়ারম্যান প্রবিল কুমার চাকমার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার থেকে তালিকা নেয়া হয় নি প্রশিক্ষণের বিষয়ে আমি অবগত নই।

উল্লেখ্য সুপর্ণা দে ২০১৯ সালের ১৯ এপ্রিল মাসে ভেটেনারী সার্জন পদে লক্ষ্মীছড়ি উপজেলায় যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকেই বিভিন্ন সময়ে কর্মস্থলে অনুপস্থিতি ছিল লক্ষ্যনীয়। কর্মস্থলে অনুপস্থিতির বিষয়টি উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় সভায় একাধীকাবর আলোচনায় ওঠে আসে। এছাড়াও উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিজ কার্যালয়ে ডেকে নিয়েও নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিতিসহ সরকারি বিধিমালা অনুস্মরণ করতে মৌখিক নির্দেশ দেন। দুই বছরের অধীককাল ধরে এ কর্মকর্তা লক্ষ্মীছড়ি প্রাণী সম্পদ বিভাগের প্রশিক্ষণসহ নানা কার্যক্রম পরিচালনা করলেও সংবাদ কর্মীরা ছিলো বরাবরই উপেক্ষিত।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসে প্রশিক্ষণ বরাদ্দের অর্থ নয়-ছয়।

আপডেট সময় : ০৪:২৬:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জুলাই ২০২১

মোবারক হোসেন, খাগড়াছড়ি: খাগড়াছড়ি জেলার লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা প্রাণী সম্পদ কার্যালয়ের প্রশিক্ষণের অর্থের বরাদ্দ নয়-ছয় করে কর্মকর্তার পকেটস্থ্য করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তথ্যানুসদ্ধানে জানা যায়, ২০২০-২০২১অর্থ বছরে সরকার কৃত্রিম প্রজনন কার্যক্রম ও ভ্রæণ স্থানন্তর প্রযুক্তি বাস্তবায়ন প্রকল্প(৩য় পর্যায়) ৬৮হাজার টাকা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বরাদ্দ ছাড় করে। উক্ত বরাদ্দ পত্রে বলা হয় ৪০জন খামারী ৩দিনের প্রতিদিন ৩০০টাকা হারে ৯০০টাকা সম্মানী পাবেন। প্রতিদিন ১৫০টাকা হারে খাবার বাবাদ ১৮হাজার টাকা ছাড়াও ব্যাগ, প্যাড, কলম ও ব্যানার ইত্যাদি বাবদ আরো ১৪হাজার টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ দেয়। এছাড়াও প্রশিক্ষকের সম্মানীও রাখা হয়েছিল এ বাজেটে। কিন্তু বরাদ্দ এবং প্রশিক্ষণ কাগজে পত্রেই রয়েছে গেছে। সরকারের লক্ষ্য উদেশ্যে এবং খামারীদের এ বিষয়ে বাস্তবে কোনো ধারনাই পরিলক্ষিত হয় নি।

প্রাণী সম্পদ কার্যালয় কর্তৃক প্রস্তুতকৃত ৪০জনের তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা যায় দুল্যাতলী ইউনিয়নে ১৯জন এবং লক্ষ্মীছড়ি ইউনিয়ন থেকে নেয়া হয়েছে ২১জনকে। এর মধ্যে ছমুড় পাড়া থেকে নেয়া হয়েছে ১০জনের নাম। পুরো উপজেলায় ২৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে ছোট্ট একটি পাড়া থেকে ১০জন খামীর নাম প্রশিক্ষণের তালিকায় অর্ন্তভুক্তি হওয়ায় আসলেই প্রকৃত খামারী তালিকা যাচাই-বাছাই কিংবা সঠিকভাবে করা হয়েছিল কিনা সেটাও তদন্তের দাবি রাখে।

এ বিষয় জানতে চাওয়া হলে ভেটেনারী সার্জন ও উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সুপর্ণা দে সিম্পু বলেন, আমি তো কাজটি ভালোর জন্য করতে চেয়েছি এখন দেখছি খারাব হচ্ছে। টাকাটা ফেরত দিলেই ভালো হতো। করোনার দোহাই দিয়ে প্রশিক্ষণ করা যাচ্ছিল না বলে এ প্রতিনিধিকে বুঝানোর চেষ্টা করেন। শুধু তাই নয়, পুকুর চুরির মত বড় বড় ঘটনা যখন ঘটছে। আমারটাতো ছোট একটা দুর্নীতি এটা লিখি কি হবে বলে মন্তব্য করেন ওই কর্মকর্তা। এ প্রতিনিধির এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আসলে এখন প্রশিক্ষণের জন্য কাউকে ডাকলে আসবে না, কারণ তারা ভাতা পেয়ে গেছে। তাহলে কী প্রশিক্ষণের লক্ষ্য উদ্দ্যেশ্য কি ব্যহত হলো এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি আর উত্তর খুঁজে পান নি। তবে আগামীতে এ ৪০জনকে সুযোগ সুবিধা দেয়া হবে বলে আশ্বস্থ্য করেন। প্রশিক্ষণ আয়োজন করতে পারেন নি বলে দু:খ প্রকাশ করে ভুল স্বীকার করেন। প্রত্যেক প্রশিক্ষণার্থী তাদের প্রাপ্য অফিসে এসে স্বাক্ষর করে বুঝে নিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

প্রশিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন উক্ত অফিসের উপসহকারি কর্মকর্তা মংশে মারমা তাকে জিগ্যেস করা হয়েছিল প্রশিক্ষণ তো হয় নি তাহলে আপনী কি সম্মানী পেয়েছেন? তিনি একটি ক্লাশের জন্য ৮৫০টাকা পেয়েছেন বলে জানান।

এদিকে একাধীকবার মুঠোফোনে কল দিয়ে না লেখার অুনরোধ জানিয়ে ম্যানেজ করার চেষ্টা ব্যার্থ হয়ে তাঁর স্বামী টিটু শিকদারকে পাঠালে টাকা গ্রহণের প্রস্তাবও ফিরিয়ে দেন এ প্রতিনিধি।

লক্ষ্মীছড়ি সদর ইউপি চেয়ারম্যান প্রবিল কুমার চাকমার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার থেকে তালিকা নেয়া হয় নি প্রশিক্ষণের বিষয়ে আমি অবগত নই।

উল্লেখ্য সুপর্ণা দে ২০১৯ সালের ১৯ এপ্রিল মাসে ভেটেনারী সার্জন পদে লক্ষ্মীছড়ি উপজেলায় যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকেই বিভিন্ন সময়ে কর্মস্থলে অনুপস্থিতি ছিল লক্ষ্যনীয়। কর্মস্থলে অনুপস্থিতির বিষয়টি উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় সভায় একাধীকাবর আলোচনায় ওঠে আসে। এছাড়াও উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিজ কার্যালয়ে ডেকে নিয়েও নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিতিসহ সরকারি বিধিমালা অনুস্মরণ করতে মৌখিক নির্দেশ দেন। দুই বছরের অধীককাল ধরে এ কর্মকর্তা লক্ষ্মীছড়ি প্রাণী সম্পদ বিভাগের প্রশিক্ষণসহ নানা কার্যক্রম পরিচালনা করলেও সংবাদ কর্মীরা ছিলো বরাবরই উপেক্ষিত।