সংবাদ শিরোনাম ::
নলছিটিতে ১৭ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার চুয়াডাঙ্গায় জাতীয় নাগরিক পার্টির জুলাই পদযাত্রা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত বিজয়নগর থানার, আহসান উল্লাহ, রাজাপুরে মাদকের আখড়ায় অভিযান: ইয়াবাসহ আটক ২, বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ঝালকাঠিতে রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স খাদ্যে পড়ে আহত ১, পা ভাঙল রোগীর দামুড়হুদার মদনায় বিস্কুট ফ্যাক্টারিতে আগুন ক্ষতি প্রায় ৮ লক্ষাধিক ভরা মৌসুমেও ইলিশের আকাল বৈরী আবহাওয়া, জলবায়ু পরিবর্তন ও অবৈধ জালে সংকটে সুন্দরবন উপকূলের মৎস্য অর্থনীতি সাগরে নেই ট্রলার, আড়তে নেই মাছ বানারীপাড়ায় বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম রকি তেতলা পিজিএস স্কুলের সভাপতি বরিশালে সিভিল সার্জনের অপসারনের দাবীতে কক্ষে তালা বাবুগঞ্জে মাদক, চুরি-ডাকাতি ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক সভা।

অশীতিপর সেই আলফাজ সরদারের দায়িত্ব নিলেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার। আজকের ক্রাইম-নিউজ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:২২:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২০ ১৩৪ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাহাদ সুমন,বিশেষ প্রতিনিধি॥ বানারীপাড়ার সেই অশীতিপর ‘ঝালাইকার’ আলফাজ উদ্দিন সরদারের দায়িত্ব নিলেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার ড. অমিতাভ সরকার। ‘অশীতিপর বৃদ্ধ আলফাজ সরদারের জীবন-সংগ্রাম…’ শিরোণামে দৈনিক কালেরকন্ঠ ও আজকের বার্তাসহ বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকায় প্রকাশিত মানবিক প্রতিবেদন পড়ে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার ড.অমিতাভ সরকার বানারীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ আব্দুল্লাহ সাদীদকে ওই বৃদ্ধের বিষয়ে খোঁজখবর নিতে বলেন এবং তাকে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে নিয়ে এসে তার দুঃখ-দুর্দশা লাঘবের নির্দেশ দেন। ওই নির্দেশ পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ আব্দুল্লাহ সাদীদ বৃদ্ধ আলফাজ উদ্দিন সরদারের সঙ্গে দেখা করে বিভাগীয় কমিশনারের পক্ষে তাৎক্ষনিক আর্থিক সহায়তা করেন। এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ আব্দুল্লাহ সাদীদ বলেন অশীতিপর আলফাজ উদ্দিন সরদারের চিকিৎসা ও ব্যবসায় সহায়তা প্রদান এবং তাকে গৃহনির্মাণ করে দেওয়া সহ তার পরিবারের যাবতীয় দায়িত্ব নেওয়া হবে। এদিকে মানবেতর জীবন-যাপন করা অশীতিপর বৃদ্ধ আলফাজ উদ্দিন সরদারের পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ায় বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার ড. অমিতাভ সরকারের মহানুভবতাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বানারীপাড়া প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দসহ সচেতন মহল। প্রসঙ্গত জীবন সায়হেৃ দাঁড়ানো আলফাজ উদ্দিন সরদারকে একজন “ঝালাইকার” হিসেবেই সবাই চেনে। তার বয়স প্রায় নব্বই ছুঁই ছুঁই। বানারীপাড়া পৌর শহরে থানা ও প্রধান ডাকঘরের সামনের ফুটপাতে ৩৮ বছর ধরে লোহার/প্লাস্টিকের তৈরি গৃহস্থালির ভাঙাচোরা জিনিসপত্র ঝালাইয়ের কাজ করছেন তিনি। আগে লোহা-লক্কর ও রাবারের জুতা-স্যান্ডেলের কাজও করতেন। এখন আর লোহা-লক্কর ও জুতো-স্যান্ডেল কেউ নিয়ে আসে না। এখন শুধু প্লাস্টিকের ব্যবহার্য জিনিসপত্রই ঝালাই করেন। তাও আবার সংখ্যায় খুবই নগন্য। কারণ প্লাস্টিকের কোনো কিছু ভেঙে গেলে মেরামত করে আর কেউ ব্যবহার করতে চান না। এ কাজ এখন বিলুপ্তির পথে। লোহার/প্লাস্টিকের তৈরি গৃহস্থালির ভাঙাচোরা জিনিসপত্র ঝালাইয়ের কাজ সুনিপুনভাবে করে জোড়া লাগাতে পারলেও নিজের পোড়া কপাল জোড়া লাগাতে পারেননি তিনি। তাইতো জীবনের শুরু থেকে শেষ বেলায় এসেও দুমুঠো ভাতের জন্য জীবিকার প্রয়োজনে তাকে ফুটপাতে ঝালাইকার হিসেবে লড়াই-সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে আলফাজ উদ্দিন সরদার জানান,এখন আর আগের মতো আয় হয় না। প্রতিদিন ৫০টাকা থেকে ১০০টাকা আবার কখনো কখনো ২০০টাকাও আয় হয়। আগে যখন লোহা-লক্কর ঝালাইয়ের কাজ করতেন তখন ৬০০ থেকে ৭০০টাকা আয় হতো। সামান্য এ আয়েই স্ত্রী পরিজন নিয়ে তার অনাহারে-অর্ধাহারে মানবেতর জীবন চলে। সংসারে তার নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা। ছেলে-মেয়েরাও যার যার সংসার নিয়ে ব্যস্ত। ৫ সন্তানের জনক হয়েও এ বয়সে তাকে কাজ করতে হচ্ছে। আলফাজ উদ্দিন সরদারের বাড়ি বানারীপাড়া সদর ইউনিয়নের ব্রাহ্মণকাঠি গ্রামে। স্ত্রী, ২ ছেলে, ৩ মেয়ে রয়েছে তার। তিনি আর্থিকভাবে নিতান্তই অস্বচ্ছল। বয়সের ভারে একদম ন্যূজ। চলতে ফিরতে কষ্ট হয়। শারীরিক অবস্থাও ভালো না। কিডনির সমস্যা ও শ্বাসকষ্টে ভুগছেন তিনি। অনেকটা কংকালসারে পরিণত হয়েছে তার শরীর। নিয়মিত ঔষধ খেতে হয় তাকে। ঔষধ কেনার টাকা নেই তার। টাকার অভাবে চিকিৎসাও করাতে পারছেন না তিনি। ###

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

অশীতিপর সেই আলফাজ সরদারের দায়িত্ব নিলেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার। আজকের ক্রাইম-নিউজ

আপডেট সময় : ০১:২২:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২০

রাহাদ সুমন,বিশেষ প্রতিনিধি॥ বানারীপাড়ার সেই অশীতিপর ‘ঝালাইকার’ আলফাজ উদ্দিন সরদারের দায়িত্ব নিলেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার ড. অমিতাভ সরকার। ‘অশীতিপর বৃদ্ধ আলফাজ সরদারের জীবন-সংগ্রাম…’ শিরোণামে দৈনিক কালেরকন্ঠ ও আজকের বার্তাসহ বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকায় প্রকাশিত মানবিক প্রতিবেদন পড়ে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার ড.অমিতাভ সরকার বানারীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ আব্দুল্লাহ সাদীদকে ওই বৃদ্ধের বিষয়ে খোঁজখবর নিতে বলেন এবং তাকে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে নিয়ে এসে তার দুঃখ-দুর্দশা লাঘবের নির্দেশ দেন। ওই নির্দেশ পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ আব্দুল্লাহ সাদীদ বৃদ্ধ আলফাজ উদ্দিন সরদারের সঙ্গে দেখা করে বিভাগীয় কমিশনারের পক্ষে তাৎক্ষনিক আর্থিক সহায়তা করেন। এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ আব্দুল্লাহ সাদীদ বলেন অশীতিপর আলফাজ উদ্দিন সরদারের চিকিৎসা ও ব্যবসায় সহায়তা প্রদান এবং তাকে গৃহনির্মাণ করে দেওয়া সহ তার পরিবারের যাবতীয় দায়িত্ব নেওয়া হবে। এদিকে মানবেতর জীবন-যাপন করা অশীতিপর বৃদ্ধ আলফাজ উদ্দিন সরদারের পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ায় বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার ড. অমিতাভ সরকারের মহানুভবতাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বানারীপাড়া প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দসহ সচেতন মহল। প্রসঙ্গত জীবন সায়হেৃ দাঁড়ানো আলফাজ উদ্দিন সরদারকে একজন “ঝালাইকার” হিসেবেই সবাই চেনে। তার বয়স প্রায় নব্বই ছুঁই ছুঁই। বানারীপাড়া পৌর শহরে থানা ও প্রধান ডাকঘরের সামনের ফুটপাতে ৩৮ বছর ধরে লোহার/প্লাস্টিকের তৈরি গৃহস্থালির ভাঙাচোরা জিনিসপত্র ঝালাইয়ের কাজ করছেন তিনি। আগে লোহা-লক্কর ও রাবারের জুতা-স্যান্ডেলের কাজও করতেন। এখন আর লোহা-লক্কর ও জুতো-স্যান্ডেল কেউ নিয়ে আসে না। এখন শুধু প্লাস্টিকের ব্যবহার্য জিনিসপত্রই ঝালাই করেন। তাও আবার সংখ্যায় খুবই নগন্য। কারণ প্লাস্টিকের কোনো কিছু ভেঙে গেলে মেরামত করে আর কেউ ব্যবহার করতে চান না। এ কাজ এখন বিলুপ্তির পথে। লোহার/প্লাস্টিকের তৈরি গৃহস্থালির ভাঙাচোরা জিনিসপত্র ঝালাইয়ের কাজ সুনিপুনভাবে করে জোড়া লাগাতে পারলেও নিজের পোড়া কপাল জোড়া লাগাতে পারেননি তিনি। তাইতো জীবনের শুরু থেকে শেষ বেলায় এসেও দুমুঠো ভাতের জন্য জীবিকার প্রয়োজনে তাকে ফুটপাতে ঝালাইকার হিসেবে লড়াই-সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে আলফাজ উদ্দিন সরদার জানান,এখন আর আগের মতো আয় হয় না। প্রতিদিন ৫০টাকা থেকে ১০০টাকা আবার কখনো কখনো ২০০টাকাও আয় হয়। আগে যখন লোহা-লক্কর ঝালাইয়ের কাজ করতেন তখন ৬০০ থেকে ৭০০টাকা আয় হতো। সামান্য এ আয়েই স্ত্রী পরিজন নিয়ে তার অনাহারে-অর্ধাহারে মানবেতর জীবন চলে। সংসারে তার নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা। ছেলে-মেয়েরাও যার যার সংসার নিয়ে ব্যস্ত। ৫ সন্তানের জনক হয়েও এ বয়সে তাকে কাজ করতে হচ্ছে। আলফাজ উদ্দিন সরদারের বাড়ি বানারীপাড়া সদর ইউনিয়নের ব্রাহ্মণকাঠি গ্রামে। স্ত্রী, ২ ছেলে, ৩ মেয়ে রয়েছে তার। তিনি আর্থিকভাবে নিতান্তই অস্বচ্ছল। বয়সের ভারে একদম ন্যূজ। চলতে ফিরতে কষ্ট হয়। শারীরিক অবস্থাও ভালো না। কিডনির সমস্যা ও শ্বাসকষ্টে ভুগছেন তিনি। অনেকটা কংকালসারে পরিণত হয়েছে তার শরীর। নিয়মিত ঔষধ খেতে হয় তাকে। ঔষধ কেনার টাকা নেই তার। টাকার অভাবে চিকিৎসাও করাতে পারছেন না তিনি। ###