সংবাদ শিরোনাম ::
নলছিটিতে ১৭ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার চুয়াডাঙ্গায় জাতীয় নাগরিক পার্টির জুলাই পদযাত্রা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত বিজয়নগর থানার, আহসান উল্লাহ, রাজাপুরে মাদকের আখড়ায় অভিযান: ইয়াবাসহ আটক ২, বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ঝালকাঠিতে রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স খাদ্যে পড়ে আহত ১, পা ভাঙল রোগীর দামুড়হুদার মদনায় বিস্কুট ফ্যাক্টারিতে আগুন ক্ষতি প্রায় ৮ লক্ষাধিক ভরা মৌসুমেও ইলিশের আকাল বৈরী আবহাওয়া, জলবায়ু পরিবর্তন ও অবৈধ জালে সংকটে সুন্দরবন উপকূলের মৎস্য অর্থনীতি সাগরে নেই ট্রলার, আড়তে নেই মাছ বানারীপাড়ায় বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম রকি তেতলা পিজিএস স্কুলের সভাপতি বরিশালে সিভিল সার্জনের অপসারনের দাবীতে কক্ষে তালা বাবুগঞ্জে মাদক, চুরি-ডাকাতি ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক সভা।

রাজাকারের স্ত্রী পেলেন দুর্যোগ সহনীয় ঘর। আজকের ক্রাইম-নিউজ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৩৫:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২০ ১৪১ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অনলাইন ডেস্ক :: বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের খিহালী চকপাড়া গ্রামের চিহ্নিত রাজাকার খোরশেদ আলী ফকির খুদুর স্ত্রী মলিনা বেওয়া সরকারের দেয়া দুর্যোগ সহনীয় ঘর পেয়েছেন। এতে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের মানুষদের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় আবদুস সালাম নামে এক বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রতিকার চেয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদনও করেছেন।

গোবিন্দপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার ও প্রকল্প সভাপতি বেলাল হোসেনের দাবি, খোরশেদ আলী ফকির খুদু চিহ্নিত রাজাকার ছিলেন। যুদ্ধ শেষে মুক্তিযোদ্ধারা তাকে হত্যা করেন। সেই রাজাকারের স্ত্রী মলিনা বেওয়াকে সরকারি বাড়ি দেয়ার জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়। এছাড়াও ওই রাজাকারের পরিবার স্বাবলম্বী এবং এখনও তাদের মাঠে চার বিঘা জমি ও বাড়িতে এক বিঘার মতো জায়গা রয়েছে।

এ কারণে তিনি প্রায় এক মাস এতে স্বাক্ষর করেননি। পরবর্তীতে প্রশাসনের লোকজন ও তার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এসএম হেলালের চাপে স্বাক্ষর দিতে বাধ্য হয়েছেন।

এদিকে একই গ্রামের বাসিন্দা অভিযোগকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম বলেন, আমাদের গ্রামে অনেক হতদরিদ্র রয়েছেন। অথচ রাজাকার খোরশেদ আলী ফকির খুদুর স্ত্রী মলিনা বেওয়াকে সরকারিভাবে ঘর দেয়া হয়েছে। এতে আমিসহ মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের লোকজন দুঃখ পেয়েছেন এবং তারা ক্ষুব্ধ। এ ব্যাপারে তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ করেন তিনি।

স্থানীয়রা জানান, রাজাকার খোরশেদ আলী ফকির খুদুর পরিবার স্বাবলম্বী। তারা সম্পত্তির তথ্য গোপন এবং বড় তদবিরের মাধ্যমে সরকারি বাড়ি পেয়েছেন। বর্তমানে ওই বাড়ি আড়াল করতে ইট দিয়ে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হচ্ছে।

গোবিন্দপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এসএম হেলাল মনোয়ার জানান, তার জন্ম স্বাধীনতার পর। তাই খুদু রাজাকার ছিলেন কি-না তা তার জানা নেই। এছাড়াও এ তালিকা তিনি করেননি এবং তালিকা করতে কাউকে চাপও দেননি।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আশরাফুল আরেফিন জানান, গত ২০১৯-২০ অর্থ বছরে এ উপজেলায় ১৮টি দুর্যোগ সহনীয় ঘর দেয়া হয়েছে। মলিনা বেওয়ার স্বামী ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা বিরোধী ছিলেন কি-না তা জানা নেই। তার পরিবার দরিদ্র হিসেবে আবেদন করায় ঘর দেয়া হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম জাকির হোসেন জানান, মলিনা বেওয়ার স্বামীর ব্যাপারে তার কিছু জানা নেই। বর্তমান অবস্থা দেখে দরিদ্র হিসেবে তাকে ঘর দেয়া হয়েছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আজাহার আলী মন্ডল জানান, রাজাকারের স্বাবলম্বী পরিবার সরকারি ঘর পেতে পারে না। এ ঘটনায় তিনি লিখিত অভিযোগ পেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

রাজাকারের স্ত্রী পেলেন দুর্যোগ সহনীয় ঘর। আজকের ক্রাইম-নিউজ

আপডেট সময় : ০২:৩৫:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২০

অনলাইন ডেস্ক :: বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের খিহালী চকপাড়া গ্রামের চিহ্নিত রাজাকার খোরশেদ আলী ফকির খুদুর স্ত্রী মলিনা বেওয়া সরকারের দেয়া দুর্যোগ সহনীয় ঘর পেয়েছেন। এতে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের মানুষদের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় আবদুস সালাম নামে এক বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রতিকার চেয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদনও করেছেন।

গোবিন্দপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার ও প্রকল্প সভাপতি বেলাল হোসেনের দাবি, খোরশেদ আলী ফকির খুদু চিহ্নিত রাজাকার ছিলেন। যুদ্ধ শেষে মুক্তিযোদ্ধারা তাকে হত্যা করেন। সেই রাজাকারের স্ত্রী মলিনা বেওয়াকে সরকারি বাড়ি দেয়ার জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়। এছাড়াও ওই রাজাকারের পরিবার স্বাবলম্বী এবং এখনও তাদের মাঠে চার বিঘা জমি ও বাড়িতে এক বিঘার মতো জায়গা রয়েছে।

এ কারণে তিনি প্রায় এক মাস এতে স্বাক্ষর করেননি। পরবর্তীতে প্রশাসনের লোকজন ও তার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এসএম হেলালের চাপে স্বাক্ষর দিতে বাধ্য হয়েছেন।

এদিকে একই গ্রামের বাসিন্দা অভিযোগকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম বলেন, আমাদের গ্রামে অনেক হতদরিদ্র রয়েছেন। অথচ রাজাকার খোরশেদ আলী ফকির খুদুর স্ত্রী মলিনা বেওয়াকে সরকারিভাবে ঘর দেয়া হয়েছে। এতে আমিসহ মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের লোকজন দুঃখ পেয়েছেন এবং তারা ক্ষুব্ধ। এ ব্যাপারে তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ করেন তিনি।

স্থানীয়রা জানান, রাজাকার খোরশেদ আলী ফকির খুদুর পরিবার স্বাবলম্বী। তারা সম্পত্তির তথ্য গোপন এবং বড় তদবিরের মাধ্যমে সরকারি বাড়ি পেয়েছেন। বর্তমানে ওই বাড়ি আড়াল করতে ইট দিয়ে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হচ্ছে।

গোবিন্দপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এসএম হেলাল মনোয়ার জানান, তার জন্ম স্বাধীনতার পর। তাই খুদু রাজাকার ছিলেন কি-না তা তার জানা নেই। এছাড়াও এ তালিকা তিনি করেননি এবং তালিকা করতে কাউকে চাপও দেননি।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আশরাফুল আরেফিন জানান, গত ২০১৯-২০ অর্থ বছরে এ উপজেলায় ১৮টি দুর্যোগ সহনীয় ঘর দেয়া হয়েছে। মলিনা বেওয়ার স্বামী ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা বিরোধী ছিলেন কি-না তা জানা নেই। তার পরিবার দরিদ্র হিসেবে আবেদন করায় ঘর দেয়া হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম জাকির হোসেন জানান, মলিনা বেওয়ার স্বামীর ব্যাপারে তার কিছু জানা নেই। বর্তমান অবস্থা দেখে দরিদ্র হিসেবে তাকে ঘর দেয়া হয়েছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আজাহার আলী মন্ডল জানান, রাজাকারের স্বাবলম্বী পরিবার সরকারি ঘর পেতে পারে না। এ ঘটনায় তিনি লিখিত অভিযোগ পেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন।