সংবাদ শিরোনাম ::
নলছিটিতে ইভটিজিং, মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মাধক বিরোধী অভিযানে ১কেজি গাঁজা ও 202 পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ গ্রেপ্তার ৪… ঝালকাঠিতে সিরাতুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত কাঠালিয়ায় পাথর বোঝাই ট্রাকসহ আয়রন ব্রিজ ধস: আঞ্চলিক সড়কে যান চলাচল বন্ধ, চরম দুর্ভোগ আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি সুইজগেট মিনি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত দীর্ঘ ১৭ বছর দেশের মানুষ স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ করতে পারেনি – জয়নুল আবেদীন এমপি বরিশালে এক পুলিশ সদস্যের স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার পিরোজপুরে ডিবির অভিযানে ১৫০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি আটক পিরোজপুরে ডিবির অভিযানে ২০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি আটক কাঁঠালিয়ায় ৮ পিস ইয়াবাসহ কলেজ ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক আটক ও স্থায়ী বহিষ্কার

রিজেন্ট হাসপাতালের অনিয়ম জেনেও চুপ ছিল মন্ত্রণালয়। আজকের ক্রাইম-নিউজ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:১২:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২০ ১৭১ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অনলাইন ডেস্ক
রিজেন্ট হাসপাতালের অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা আর সেবার নামে ডাকাতি আরও একমাস আগেই এসব তথ্য জমা পড়েছিল মন্ত্রণালয়ে। লিখিতভাবে এসব অভিযোগের কথা জানিয়েছিলেন সেখানে নিয়োগ পাওয়া সরকারি চিকিৎসকরা। পরে তাদের সেখান থেকে সরিয়ে নিলেও শাহেদের রিজেন্টের বিপক্ষে কোনো ব্যবস্থাই নেয়নি মন্ত্রণালয়। যদিও এখন এসবের দায় নিতে চান না সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

রিজেন্টে অভিযানের পরে শাহেদনামায় প্রতিদিনই যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন অধ্যায়।

আর সেই সঙ্গে জমাট বাঁধছে নানা প্রশ্ন।
এই করোনাকালে রিজেন্টের সঙ্গে চুক্তি অনুসারে সেখানে নিয়োগ দেয়া হয় বেশ কয়েকজন সরকারি চিকিৎসক। ১১ মে নিয়োগের দিনেই তাদের কাছে মৌখিক নির্দেশ আসে সেদিনই কর্মস্থলে যোগ দেয়ার।

মধ্যরাতে খোদ শাহেদই চিকিৎসকদের ফোন দেন, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী পরিচয়ে। আর হাসপাতালে যোগদানের পরের অভিজ্ঞতা আরো ভয়াবহ।
জাতীয় হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. শরিফুল ইসলাম বলেন, উনি আমাকে প্রথমেই পরিচয় দেন প্রধানমন্ত্রীর সিনিয়র সচিব হিসেবে। ডাক্তারদের সুরক্ষার ব্যাপারে, করোনা রোগীদের মধ্য দিয়ে হেঁটে যাওয়ার ব্যাপারে, কোনো কিছুতেই আমি অভ্যস্ত ছিলাম না। পরে জানতে পারলাম যে, এখানে এক্সরে মেশিন নাই, প্যাথলজিস্ট নাই; প্যাথলজির কোনো কাজকর্ম চলে না।

এরই মধ্যে শাহেদের বিশেষ চাহিদা মেটাতে আইসিউইতে তাৎক্ষণিক যোগদানের আদেশ পান এনেস্থেশিয়ার এক জুনিয়র কনসালটেন্ট। যদিও কাজ করতে গিয়ে দেখেন নামেই আইসিইউ। বাস্তবে সেখানে এমন সেবা দেয়ার ন্যূনতম সুবিধা ছিল না। ১৫ মে মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ করেন তিনি। তিন দিনের মধ্যে রিজেন্ট থেকে তুলে নেয়া হয় সরকারি সব চিকিৎসককে।

মুগদা জেনারেল হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. শরীফ সামিরুল আলম বলেন, আমি অ্যাপলিকেশন্স লিখেছি ওখানে দেখবেন যে, কোনো ডাক্তার ছিল না, কোনো নার্স ছিল না। সব মিলিয়ে আইসিইউ’র মতো সেটআপটা ওইখানে ছিল না।

এবার সমীকরণটা মেলানো যাক। যদি এই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে চিকিৎসকদের রিজেন্টে নিয়োগের আদেশ তুলে নেয়া হয়। তবে চিঠিতে লেখা হাসপাতালের অনিয়মের বিষয়ে কেন ব্যবস্থা নেয়নি মন্ত্রণালয়। সে সময় দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন দায় এড়ানোর কথা।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন অতিরিক্ত সচিব (হাসপাতাল) সিরাজুল ইসলামকে ফোন করে সময় সংবাদের পরিচয় দেয়ার পর তিনি বলেন, আমি এখন কথা বলবো না।

মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন অতিরিক্ত সচিব হাবিবুর রহমান বলেন, তখন আমি প্রশ্ন তুললাম, বেসরকারি হাসপাতালে আমরা সরকারি ডাক্তার কেন দেবো? তখন আমাকে বলা হলো যে, ওইখানে তো ৩৯তম বিসিএস থেকেও কতজন ডাক্তারকে যেন পদায়ন করা হয়েছে।

সেখানে যে একটা ঝামেলা হচ্ছে সেটা তো আপনারা বুঝতে পারছিলেন, এই প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, না, ওটা আমি তখন বুঝতে পারিনি।

এদিকে এ নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আর অধিদপ্তরের হাসপাতাল শাখার পরিচালক। তিনি রাজি হননি কথা বলতেও।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

রিজেন্ট হাসপাতালের অনিয়ম জেনেও চুপ ছিল মন্ত্রণালয়। আজকের ক্রাইম-নিউজ

আপডেট সময় : ০১:১২:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২০

অনলাইন ডেস্ক
রিজেন্ট হাসপাতালের অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা আর সেবার নামে ডাকাতি আরও একমাস আগেই এসব তথ্য জমা পড়েছিল মন্ত্রণালয়ে। লিখিতভাবে এসব অভিযোগের কথা জানিয়েছিলেন সেখানে নিয়োগ পাওয়া সরকারি চিকিৎসকরা। পরে তাদের সেখান থেকে সরিয়ে নিলেও শাহেদের রিজেন্টের বিপক্ষে কোনো ব্যবস্থাই নেয়নি মন্ত্রণালয়। যদিও এখন এসবের দায় নিতে চান না সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

রিজেন্টে অভিযানের পরে শাহেদনামায় প্রতিদিনই যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন অধ্যায়।

আর সেই সঙ্গে জমাট বাঁধছে নানা প্রশ্ন।
এই করোনাকালে রিজেন্টের সঙ্গে চুক্তি অনুসারে সেখানে নিয়োগ দেয়া হয় বেশ কয়েকজন সরকারি চিকিৎসক। ১১ মে নিয়োগের দিনেই তাদের কাছে মৌখিক নির্দেশ আসে সেদিনই কর্মস্থলে যোগ দেয়ার।

মধ্যরাতে খোদ শাহেদই চিকিৎসকদের ফোন দেন, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী পরিচয়ে। আর হাসপাতালে যোগদানের পরের অভিজ্ঞতা আরো ভয়াবহ।
জাতীয় হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. শরিফুল ইসলাম বলেন, উনি আমাকে প্রথমেই পরিচয় দেন প্রধানমন্ত্রীর সিনিয়র সচিব হিসেবে। ডাক্তারদের সুরক্ষার ব্যাপারে, করোনা রোগীদের মধ্য দিয়ে হেঁটে যাওয়ার ব্যাপারে, কোনো কিছুতেই আমি অভ্যস্ত ছিলাম না। পরে জানতে পারলাম যে, এখানে এক্সরে মেশিন নাই, প্যাথলজিস্ট নাই; প্যাথলজির কোনো কাজকর্ম চলে না।

এরই মধ্যে শাহেদের বিশেষ চাহিদা মেটাতে আইসিউইতে তাৎক্ষণিক যোগদানের আদেশ পান এনেস্থেশিয়ার এক জুনিয়র কনসালটেন্ট। যদিও কাজ করতে গিয়ে দেখেন নামেই আইসিইউ। বাস্তবে সেখানে এমন সেবা দেয়ার ন্যূনতম সুবিধা ছিল না। ১৫ মে মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ করেন তিনি। তিন দিনের মধ্যে রিজেন্ট থেকে তুলে নেয়া হয় সরকারি সব চিকিৎসককে।

মুগদা জেনারেল হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. শরীফ সামিরুল আলম বলেন, আমি অ্যাপলিকেশন্স লিখেছি ওখানে দেখবেন যে, কোনো ডাক্তার ছিল না, কোনো নার্স ছিল না। সব মিলিয়ে আইসিইউ’র মতো সেটআপটা ওইখানে ছিল না।

এবার সমীকরণটা মেলানো যাক। যদি এই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে চিকিৎসকদের রিজেন্টে নিয়োগের আদেশ তুলে নেয়া হয়। তবে চিঠিতে লেখা হাসপাতালের অনিয়মের বিষয়ে কেন ব্যবস্থা নেয়নি মন্ত্রণালয়। সে সময় দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন দায় এড়ানোর কথা।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন অতিরিক্ত সচিব (হাসপাতাল) সিরাজুল ইসলামকে ফোন করে সময় সংবাদের পরিচয় দেয়ার পর তিনি বলেন, আমি এখন কথা বলবো না।

মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন অতিরিক্ত সচিব হাবিবুর রহমান বলেন, তখন আমি প্রশ্ন তুললাম, বেসরকারি হাসপাতালে আমরা সরকারি ডাক্তার কেন দেবো? তখন আমাকে বলা হলো যে, ওইখানে তো ৩৯তম বিসিএস থেকেও কতজন ডাক্তারকে যেন পদায়ন করা হয়েছে।

সেখানে যে একটা ঝামেলা হচ্ছে সেটা তো আপনারা বুঝতে পারছিলেন, এই প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, না, ওটা আমি তখন বুঝতে পারিনি।

এদিকে এ নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আর অধিদপ্তরের হাসপাতাল শাখার পরিচালক। তিনি রাজি হননি কথা বলতেও।