সংবাদ শিরোনাম ::
অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে ‘অর্ণব’, চার বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত ভাণ্ডারিয়ায় সরকারি গাছ কাটার মামলার ১ নম্বর আসামি গ্রেপ্তার ভাণ্ডারিয়ায় মাদক ও অপরাধ প্রতিরোধ মঞ্চ থেকে ইউএনওকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও লিফলেট প্রদান বরিশালে থানার সংখ্যা দ্বিগুণের পরিকল্পনা, হবে আরও ৪ থানা বরিশালে কিশোরী ধর্ষণ মামলার প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা বিদ্যালয় প্রশ্নপত্র ফাঁসে পরীক্ষা স্থগিত, তদন্ত কমিটি গঠন ফেসবুক লাইভে বিএনপি সরকারের সমালোচনা, সেই নারী উদ্যোক্তা কারাগারে ঘোড়াঘাটে মাদকবিরোধী অভিযানের ঘটনায় সন্দেহজনক দোষারোপ করে প্রতিবেশী দম্পতিকে মারধর ঝালকাঠিতে ফুটপাত দখল ও অবৈধ অটোরিকশা স্ট্যান্ড উচ্ছেদের দাবিতে মানববন্ধন কেডিসিতে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে আবু নাসের রহমাতুল্লাহ

হারুনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত শিগগিরই শুরু হবে। আজকের ক্রাইম নিউজ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৪৩:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৮ নভেম্বর ২০১৯ ১৬০ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অনলাইন ডেস্ক::বিভিন্ন অভিযোগের মুখে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদকে সরিয়ে আনা হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেন, ‘এসপি হারুনকে বিভিন্ন অভিযোগের কারণে সরিয়ে আনা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত শিগগিরই শুরু হবে।’ বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠক শেষে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে নারায়ণগঞ্জের সাবেক এসপি হারুনের চাঁদাবাজি ও ব্যবসায়ীকে উঠিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এদিকে অভিযোগের মুখে এসপি হারুনকে প্রত্যাহারের কথা বলা হলেও এখনও কাউকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেননি তিনি। নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপারের জন্য বরাদ্দ করা সরকারি গাড়ি এবং মোবাইলফোনও তিনি ব্যবহার করছেন বলে জেলা পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন।

ফায়ার সার্ভিসের অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন এসপি হারুন
ফায়ার সার্ভিসের অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন এসপি হারুন
এছাড়া বুধবার (৬ নভেম্বর) নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের পূর্বাচলে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স সার্ভিস সপ্তাহের অনুষ্ঠানেও এসপি হারুনকে দেখা গেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে এসপি হারুনও তাকে স্বাগত জানান।

উল্লেখ্য, গত ১ নভেম্বর রাতে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী পারটেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান এমএ হাশেমের ছেলে শওকত আজিজ রাসেলের স্ত্রী ফারা রাসেল ও ছেলে আনাব আজিজকে বাসা থেকে তুলে আনার অভিযোগ ওঠে এসপি হারুন ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিমের বিরুদ্ধে। শওকত আজিজ রাসেলকে ফাঁসানোর জন্য গাড়িতে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে বলে নাটক সাজিয়ে দুই নম্বর জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সংবাদ সম্মেলন করেন এসপি হারুন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ১ নভেম্বর রাত পৌনে ১টায় নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড চৌরঙ্গী ফিলিং স্টেশনের সামনে থেকে শওকত আজিজ রাসেলের গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যসহ চালক সুমনকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয় গাড়িতে থাকা শওকত আজিজ রাসেলের স্ত্রী ফারা রাসেল ও ছেলে আনাব আজিজকে। পরে দুপুরের দিকে পারটেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান এমএ হাশেম ও বড় ছেলে আজিজ আল কায়সার টিটু এসপি অফিস থেকে ছেলের বউ ও নাতিকে মুচলেকা দিয়ে ছাড়িয়ে নেন। তবে শওকত আজিজ রাসেল ও ড্রাইভার সুমনকে আসামি করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় অস্ত্র ও মাদক আইনে দুটি মামলা দায়ের করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। কিন্তু বিপত্তি বাধে শওকত আজিজ রাসেলের বাসার সিসিটিভি ফুটেজ বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে। বিষয়টি খোলাসা হয় যে চৌরঙ্গী ফিলিং স্টেশন থেকে নয়, শওকত আজিজ রাসেলের বাসা থেকে স্ত্রী ও ছেলেকে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। এরই মধ্যে দুই মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন শওকত আজিজ রাসেল। তবে ছয় দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে আছেন রাসেলের ড্রাইভার সুমন।

তবে বাসা থেকে শওকত আজিজের স্ত্রী সন্তানকে তুলে নেওয়া হয়নি বলে বাংলা ট্রিবিউনের কাছে দাবি করেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ। তিনি বলেন, অস্ত্রটি উদ্ধারের জন্য শওকত আজিজের বাসায় অভিযান চালাই। অভিযান চালানোর পূর্বে গুলশানের ডিসিকে জানাই। এরপর বাসায় অভিযান চালালে শওকত আজিজকে পাওয়া যায়নি। তার ছেলে পূর্ণবয়স্ক, বয়স ২৫। আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যেতে চাই। তখন তার মা আমাদের সঙ্গে যেতে চান। উনার আগ্রহের কারণে আমরা ছেলের সঙ্গে মাকেও নিয়ে যাই। পরদিন মুচলেকা রেখে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। মুচলেকাতেও ছেলের সঙ্গে মা স্বেচ্ছায় আসার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে জামিন পেয়ে বাংলা ট্রিবিউনকে শওকত আজিজ রাসেল জানান, চার কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন এসপি হারুন। চাঁদা না দেওয়ায় নারায়ণগঞ্জে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। চাঁদা না দেওয়ার কারণেই ঢাকা ক্লাবের সামনে থেকে তার গাড়ি গায়েব করে দেয় পুলিশ। তার একদিন পর গায়েব হন তার স্ত্রী ও সন্তান। তাকে ফাঁসানোর জন্য গাড়িতে বিপুল পরিমাণ মাদক ও গুলি রেখে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। আর তার বিরুদ্ধে দায়ের করা হয় অস্ত্র ও মাদক আইনে মামলা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

হারুনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত শিগগিরই শুরু হবে। আজকের ক্রাইম নিউজ

আপডেট সময় : ০৫:৪৩:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৮ নভেম্বর ২০১৯

অনলাইন ডেস্ক::বিভিন্ন অভিযোগের মুখে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদকে সরিয়ে আনা হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেন, ‘এসপি হারুনকে বিভিন্ন অভিযোগের কারণে সরিয়ে আনা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত শিগগিরই শুরু হবে।’ বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠক শেষে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে নারায়ণগঞ্জের সাবেক এসপি হারুনের চাঁদাবাজি ও ব্যবসায়ীকে উঠিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এদিকে অভিযোগের মুখে এসপি হারুনকে প্রত্যাহারের কথা বলা হলেও এখনও কাউকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেননি তিনি। নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপারের জন্য বরাদ্দ করা সরকারি গাড়ি এবং মোবাইলফোনও তিনি ব্যবহার করছেন বলে জেলা পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন।

ফায়ার সার্ভিসের অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন এসপি হারুন
ফায়ার সার্ভিসের অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন এসপি হারুন
এছাড়া বুধবার (৬ নভেম্বর) নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের পূর্বাচলে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স সার্ভিস সপ্তাহের অনুষ্ঠানেও এসপি হারুনকে দেখা গেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে এসপি হারুনও তাকে স্বাগত জানান।

উল্লেখ্য, গত ১ নভেম্বর রাতে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী পারটেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান এমএ হাশেমের ছেলে শওকত আজিজ রাসেলের স্ত্রী ফারা রাসেল ও ছেলে আনাব আজিজকে বাসা থেকে তুলে আনার অভিযোগ ওঠে এসপি হারুন ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিমের বিরুদ্ধে। শওকত আজিজ রাসেলকে ফাঁসানোর জন্য গাড়িতে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে বলে নাটক সাজিয়ে দুই নম্বর জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সংবাদ সম্মেলন করেন এসপি হারুন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ১ নভেম্বর রাত পৌনে ১টায় নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড চৌরঙ্গী ফিলিং স্টেশনের সামনে থেকে শওকত আজিজ রাসেলের গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যসহ চালক সুমনকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয় গাড়িতে থাকা শওকত আজিজ রাসেলের স্ত্রী ফারা রাসেল ও ছেলে আনাব আজিজকে। পরে দুপুরের দিকে পারটেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান এমএ হাশেম ও বড় ছেলে আজিজ আল কায়সার টিটু এসপি অফিস থেকে ছেলের বউ ও নাতিকে মুচলেকা দিয়ে ছাড়িয়ে নেন। তবে শওকত আজিজ রাসেল ও ড্রাইভার সুমনকে আসামি করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় অস্ত্র ও মাদক আইনে দুটি মামলা দায়ের করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। কিন্তু বিপত্তি বাধে শওকত আজিজ রাসেলের বাসার সিসিটিভি ফুটেজ বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে। বিষয়টি খোলাসা হয় যে চৌরঙ্গী ফিলিং স্টেশন থেকে নয়, শওকত আজিজ রাসেলের বাসা থেকে স্ত্রী ও ছেলেকে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। এরই মধ্যে দুই মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন শওকত আজিজ রাসেল। তবে ছয় দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে আছেন রাসেলের ড্রাইভার সুমন।

তবে বাসা থেকে শওকত আজিজের স্ত্রী সন্তানকে তুলে নেওয়া হয়নি বলে বাংলা ট্রিবিউনের কাছে দাবি করেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ। তিনি বলেন, অস্ত্রটি উদ্ধারের জন্য শওকত আজিজের বাসায় অভিযান চালাই। অভিযান চালানোর পূর্বে গুলশানের ডিসিকে জানাই। এরপর বাসায় অভিযান চালালে শওকত আজিজকে পাওয়া যায়নি। তার ছেলে পূর্ণবয়স্ক, বয়স ২৫। আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যেতে চাই। তখন তার মা আমাদের সঙ্গে যেতে চান। উনার আগ্রহের কারণে আমরা ছেলের সঙ্গে মাকেও নিয়ে যাই। পরদিন মুচলেকা রেখে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। মুচলেকাতেও ছেলের সঙ্গে মা স্বেচ্ছায় আসার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে জামিন পেয়ে বাংলা ট্রিবিউনকে শওকত আজিজ রাসেল জানান, চার কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন এসপি হারুন। চাঁদা না দেওয়ায় নারায়ণগঞ্জে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। চাঁদা না দেওয়ার কারণেই ঢাকা ক্লাবের সামনে থেকে তার গাড়ি গায়েব করে দেয় পুলিশ। তার একদিন পর গায়েব হন তার স্ত্রী ও সন্তান। তাকে ফাঁসানোর জন্য গাড়িতে বিপুল পরিমাণ মাদক ও গুলি রেখে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। আর তার বিরুদ্ধে দায়ের করা হয় অস্ত্র ও মাদক আইনে মামলা।