বাকেরগঞ্জে দূর্নীতি ও অনিয়মে ধুঁকে ধুঁকে চলছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
- আপডেট সময় : ০১:৪২:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ অগাস্ট ২০২২ ৯৪ বার পড়া হয়েছে

মোঃ বশির আহাম্মেদ
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ব্যপক দুর্নীতি ও অনিয়মে জর্জরিত হয়ে কোন রকম ধুঁকে ধুকেঁ চলছে সেবা কার্যক্রম। প্রায় সকল যন্ত্রপাতি রহস্য জনক কারনে অকেজো হয়ে পড়ে আছে। যা-ও দু-একটি চলছে তাও ব্যবহারে চলছে চরম দুর্নীতি ও অনিয়ম। আউটডোর আয়ের অর্থ সরকারি কোষাগারে নামেমাত্র জমা দিয়ে বাকি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠছে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দেওয়া হিসাবের সঙ্গে ল্যাব, টিকিট কাউন্টার, ইমারজেন্সি ও অ্যাম্বুলেন্সের আয়ের বাস্তব হিসাবের সমন্বয়ে রয়েছে আকাশ পাতাল গরমিল। অভিযোগ উঠছে, ল্যাব টেকনিশিয়ান মার্জান আফরিন, অ্যাম্বুলেন্সচালক বাদল সিনিয়াবাদ, টিকিট কাউন্টারে দায়িত্বরত দেবশ্রী বিশ্বাস, ক্যাশিয়ার বীনা রানীদের বিরুদ্ধে। এদের সিন্ডিকেটে বছরে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করছেন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আয় থেকে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ল্যাব টেকনিশিয়ান মার্জান আফরিন ল্যাব দিয়ে বছরে কয়েক লাখ টাকা আয় করলেও সরকারি কোষাগারে জমা দিচ্ছেন ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। এছাড়াও বেসরকারি ক্লিনিকের সঙ্গে তার রয়েছে অঘোষিত চুক্তি। যা দিয়েও তিনি বছরে আয় করছেন কয়েক লাখ টাকা। এতে প্রতারিত হচ্ছেন সাধারণ রোগী। অন্য দিকে সরকার বঞ্চিত হচ্ছেন রাজস্ব থেকে। টিকিট কাউন্টারেও চলছে দেবশ্রী বিশ্বাসের একক আধিপত্য এক নামে একাধিক টিকিট, ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিদের কাছে টিকিট বিক্রয়, খুচরা টাকার কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে রোগীদের কাছ থেকে ৩ টাকার পরিবর্তে ৫ থেকে ১০ টাকা আদায় করে ভুয়া হিসাব দেখিয়ে লুটপাট করছেন লাখ লাখ টাকা। অ্যাম্বুলেন্স আয়েও রয়েছে গরমিল। কিলোমিটার প্রতি ২০ টাকা নির্ধারিত হলেও বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালের দূরত্ব ২০ কিমি.। কিলোমিটার হিসাবে ভাড়া আসে ৪শ টাকা। কিন্তু এ রুটে কন্ট্রাক্টে ভাড়া আদায় করছেন ১ হাজার থেকে ১৫শ টাকা অ্যাম্বুলেন্সচালক বাদল সিনিয়াবাদ। এছাড়াও ইমারজেন্সিতেও বকশিশের নামে রোগীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছেন বছরে কয়েক লাখ টাকা। রোগী ভর্তির টাকায়ও রয়েছে গরমিল।
সম্প্রতি সরেজমিন আউটডোর আয়ের হিসাবের বিষয়ে জানতে চাইলে তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন বীনা রানী দে। এ অর্থবছরের চূড়ান্ত হিসাবেও ভুয়া ভাউচার দিয়ে কয়েক লাখ টাকা আত্মসাৎ করছেন সংশ্লিষ্টরা। স্থানীয়দের ধারণা, লুটপাটের মহা উৎসবের ঘটনা ফাঁস হওয়ার আশঙ্কায় আয়ের হিসাব দিতে গড়িমসি করছেন ক্যাশিয়ার বীনা রানী দে। এছাড়াও দীর্ঘদিন যাবত এস্রে আলতা স্নো মেসি, এমারজেন্সি রুমের জেনারেটর আইপিএস নষ্ট হয়ে পড়ে আছে মেরামত করার কোন প্রচেষ্টা নেই।
উপজেলা স্বাস্হ্য কমপ্লেক্সে ৮-১০ জন ডাক্তার থাকলেও রোগিদের সেবা দিচ্ছেন মাত্র হাতে গোনা দুএকজন সরেজমিনে দেখা যায় বেলা ১;৩০ সের পরে নতুন ভবনের দুপাশ দিয়েই মুল ফটকের কেসিগেট তালাবদ্ধ পুরাতন ভবনের ফটক খোলা থাকলেও এমারজেন্সি ডাক্তার ব্যতিত নেই কোন ডাক্তার।
হাতে গোনা দু’তিন জন নার্স ও ব্রাদার দিয়েই চলছে রুগীদের সেবা’র কার্যক্রম, আবাসিক মেডিকেল অফিসার আরএমও( চলতি দায়িত্ব) ডাক্তার ফজলে রাব্বি সার্বক্ষণিক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থাকার কথা থাকলেও তিনি সকাল ১০ টায় এসে দুপুর ১টার ভিতরেই বরিশালে চলে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া কলসকাঠি বাজার সহ বিভিন্ন স্থানে তার রয়েছে একাধিক ফার্মেসীতে ভিজিটিং চিকিৎসা বানিজ্য, এ বিষয় আবাসিক চিকিৎসক ডাক্তার ফজলে রাব্বি মুঠোফোনে জানান তিনি আরএমও নন পরবর্তীতে সত্যতা শিকার করেন। তিনি আরএমও চলতি দায়িত্বে, বরিশাল কখন গিয়াছেন এমন প্রশ্নের জবাবে জানান তিনি দুপুর ২;৩০সে বরিশালে চলে গেছেন এবং রাতে ফিরবেন না।এছাড়াও তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীরা বিভিন্ন রোগিদের ডাক্তারের চিকিৎসার প্রত্যায়ন দেয়ার নামে ১থেকে ২ হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে সরেজমিনে দেখা জায় উপজেলার দুধল ইউপির আফরোজা বেগম ও তার ছেলে ডাক্তারের চিকিৎসা প্রত্যায়ন নিতে দুজন চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীকে টাকা দিতে মজার বিষয় হলো ডাক্তার রুগীকে না দেখেই চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের মাধ্যমে প্রত্যায়ন দিয়ে দিচ্ছেন রুগীকে। এছাড়াও উপজেলার পৌর শহর ও গ্রাম গঞ্জে অবৈধ ক্লিনিক ও ডেন্টাল ক্লিনিক থেকে মাসওয়া আদায় করছেন তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীরা। এবিষয়ে বাকেরগঞ্জ উপজেলা ড্রাগএন্ড কেমিস্ট্রি ও পল্লী চিকিৎসকের সভাপতি মিজান মল্লিক জানান একাধিক ডাক্তার ও ব্রাদাররা বিভিন্ন ক্লিনিকে সেয়ার থাকায় প্রায় সকল রুগীকে বাহিরে টেস্ট করানোহয়। এবং তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীরা বিভিন্ন ডেন্টাল থেকে টাকার বিনিময়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতে খবর পৌছিয়ে তাদের রক্ষা করে।
বাকেরগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার ভূমি আবুজর মোঃ ইজাজুল হক সংবাদ মাধ্যম কে জানান, আমরা উপজেলা প্রশাসন একাধিকবার অবৈধ ক্লিনিক ও ডেন্টাল ক্লিনিক কে মোবাইল কোটের আওতায় আনার চেষ্টা করলেও অজানা কারণে অভিযানের পূর্বেই বেশিরভাগ ডেন্টাল ক্লিনিক বন্ধ করে পালিয়ে জায়,তাই দুচার টিকে আইনের আওতায় আনলেও বেশিরভাগই থাকে ধরাছোঁয়ার বাইরে।
এ বিষয় জানতে চাইলে বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শংকর প্রসাদ অধিকারী জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনিয়মের সুযোগ নেই অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেব।
তবে এস্রে মিসিন জেনারেটর ও আইপিএস দীর্ঘদিন যাবত নষ্ট হয়ে পড়ে আছে।
















