সংবাদ শিরোনাম ::
ঘোড়াঘাটের সিংড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্ল্যাণ কেন্দ্রটি ৪ বছর ধরে পরিত্যক্ত ,’অস্থায়ী’ ভবনে স্বাস্থ্যসেবা চুয়াডাঙ্গায় মাথাভাঙ্গা নদী থেকে মরদেহ উদ্ধার, পিবিআইয়ের সহায়তায় মিললো পরিচয় ঝালকাঠিতে রেড ক্রিসেন্টের পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও ডেঙ্গু সচেতনতা কর্মসূচি বরিশালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী বাস পুকুরে: কাঁচামাল ব্যবসায়ী নিহত বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ পরিচ্ছন্ন রাখতে কাঠালিয়া পাইলট বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রাণবন্ত পরিচ্ছন্নতা অভিযান তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটময় অবস্থায় পৌঁছেছে ঝালকাঠিতে অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল চুয়াডাঙ্গায় ইয়াবাসহ সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আ.লীগ নেতা আটক ভান্ডারিয়ায় নাম্বারপ্লেটবিহীন মোটরসাইকেলে মোবাইল কোর্ট, ৭ মামলায় ৩২ হাজার টাকা জরিমানা ঢাকা রেঞ্জের নবগত ডিআইজি কে নিয়ে অপপ্রচারের মেতে উঠেছে কুচক্রী মহল নারীসহ ফ্ল্যাটে ওসি আটক, ‘ষষ্ঠ স্ত্রী’র বিস্ফোরক অভিযোগ

কারাগারে থেকেও মাদক মামলার আসামি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:১৬:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ জুলাই ২০২২ ১১৫ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আজকের ক্রাইম ডেক্স॥ কক্সবাজারের উখিয়ায় ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের পরও নারীসহ একই পরিবারের তিনজনকে মাদকের মিথ্যা মামলায় আসামি করার অভিযোগ উঠেছে এক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। আসামিদের মধ্যে একজন আগে থেকেই কারাবন্দি। বাকিদের একজন কলেজছাত্র ও অপরজন গৃহিণী। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় নানা সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

আসামিরা হলেন- পালংখালীর রহমতেরবিল এলাকার বাসিন্দা কারাবন্দি কামাল উদ্দিন (২৮), তার স্ত্রী তৈয়বা বেগম (২৫) এবং কামাল উদ্দিনের ভাই কক্সবাজার সরকারি কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র জয়নাল উদ্দিন (২২)।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, উখিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কাজী তোবারক হোসেন পুরো পরিবারকে মাদক মামলার আসামি করার ভয় দেখিয়ে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন। তাকে দেড় লাখ টাকা দেওয়ার পরও ওই মামলায় তাদের আসামি করার জন্য আদালতে আবেদন করেন।

ভুক্তভোগী কামাল উদ্দিনের স্ত্রী বলেন, ‘এহেছানুল করিম (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে এক লাখ ইয়াবাসহ র্যাব-১৫ গ্রেফতার করে। এ ঘটনায় মামলার পর তাকে উখিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তা উখিয়া থানার এসআই কাজী তোবারক হোসেন এ মামলায় আমাদের পরিবারের সবাইকে ফাঁসানোর হুমকি দিয়ে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। বারবার বাড়িতে এসে হয়রানি করতেন। এ ঘটনার আগেই ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে আমার স্বামী একটি মামলায় আত্মসমর্পণ করে কারাগারে রয়েছেন।’

তৈয়বা বেগম আরও বলেন, ‘বিষয়টি স্থানীয় চেয়ারম্যানকে জানানো হলে তিনিও পুলিশ কর্মকর্তাকে ডেকে আমাদের হয়রানি না করার অনুরোধ জানান। এরপরও তিনি আমাদের পুরো পরিবারকে মাদক মামলায় জেলে পাঠানোর হুমকি ও ভয় দেখানো অব্যাহত রাখেন। পরে বাধ্য হয়ে ব্যবহৃত গয়না ও বাড়িতে থাকা গরু বিক্রি করে কাজী তোবারকের জন্য আমার আত্মীয় আমির হামজার মাধ্যমে দেড় লাখ টাকা পাঠাই। কিন্তু তিনি টাকা নেওয়ার পরও কারাগারে থাকা আমার স্বামী কামাল উদ্দিন, আমি এবং দেবরকে মাদক মামলায় আসামি করেন।

টাকা পৌঁছে দেওয়া আমির হামজা বলেন, ‘ওই পরিবারকে হয়রানি ও মিথ্যা মামলা না করার শর্তে আমি নিজে উখিয়া থানায় গিয়ে এসআই তোবারককে দেড় লাখ টাকা দিয়েছি। এরপরও ওই পরিবারের তিন সদস্যকে মিথ্যা মামলায় যুক্ত করেছেন তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গফুর উদ্দীন চৌধুরী পরিবারটিকে হয়রানি না করতে এসআই তোবারক হোসেনকে অনুরোধ করার কথা স্বীকার করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল উখিয়ার পালংখালী এলাকা থেকে র্যাব অভিযান চালিয়ে পালংখালীর উত্তর রহমতেরবিল এলাকার এহেছানুল করিমকে এক লাখ ইয়াবাসহ গ্রেফতার করে উখিয়া থানায় হস্তান্তর করে। পরে এ মামলায় ওই তিনজনকে আসামি করার জন্য আদালতে আবেদন করেছেন এসআই তোবারক হোসেন।

দেড় লাখ টাকা চাঁদা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে অভিযুক্ত এসআই তোবারক হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘ওই তিনজন তার সঙ্গে জড়িত বলে ইয়াবাসহ গ্রেফতার এহেছানুল করিম জবানবন্দি দেওয়ায় তাদের আসামি করা হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজার পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জমান বলেন, ‘কারাগারে থাকা ব্যক্তিকে আসামি করা ঠিক হয়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

এসপি আরও বলেন, ‘আরেকটি অভিযোগের কারণে উখিয়া থানার এসআই তোবারক হোসেনকে এরই মধ্যে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

কারাগারে থেকেও মাদক মামলার আসামি

আপডেট সময় : ০২:১৬:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ জুলাই ২০২২

আজকের ক্রাইম ডেক্স॥ কক্সবাজারের উখিয়ায় ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের পরও নারীসহ একই পরিবারের তিনজনকে মাদকের মিথ্যা মামলায় আসামি করার অভিযোগ উঠেছে এক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। আসামিদের মধ্যে একজন আগে থেকেই কারাবন্দি। বাকিদের একজন কলেজছাত্র ও অপরজন গৃহিণী। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় নানা সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

আসামিরা হলেন- পালংখালীর রহমতেরবিল এলাকার বাসিন্দা কারাবন্দি কামাল উদ্দিন (২৮), তার স্ত্রী তৈয়বা বেগম (২৫) এবং কামাল উদ্দিনের ভাই কক্সবাজার সরকারি কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র জয়নাল উদ্দিন (২২)।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, উখিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কাজী তোবারক হোসেন পুরো পরিবারকে মাদক মামলার আসামি করার ভয় দেখিয়ে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন। তাকে দেড় লাখ টাকা দেওয়ার পরও ওই মামলায় তাদের আসামি করার জন্য আদালতে আবেদন করেন।

ভুক্তভোগী কামাল উদ্দিনের স্ত্রী বলেন, ‘এহেছানুল করিম (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে এক লাখ ইয়াবাসহ র্যাব-১৫ গ্রেফতার করে। এ ঘটনায় মামলার পর তাকে উখিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তা উখিয়া থানার এসআই কাজী তোবারক হোসেন এ মামলায় আমাদের পরিবারের সবাইকে ফাঁসানোর হুমকি দিয়ে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। বারবার বাড়িতে এসে হয়রানি করতেন। এ ঘটনার আগেই ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে আমার স্বামী একটি মামলায় আত্মসমর্পণ করে কারাগারে রয়েছেন।’

তৈয়বা বেগম আরও বলেন, ‘বিষয়টি স্থানীয় চেয়ারম্যানকে জানানো হলে তিনিও পুলিশ কর্মকর্তাকে ডেকে আমাদের হয়রানি না করার অনুরোধ জানান। এরপরও তিনি আমাদের পুরো পরিবারকে মাদক মামলায় জেলে পাঠানোর হুমকি ও ভয় দেখানো অব্যাহত রাখেন। পরে বাধ্য হয়ে ব্যবহৃত গয়না ও বাড়িতে থাকা গরু বিক্রি করে কাজী তোবারকের জন্য আমার আত্মীয় আমির হামজার মাধ্যমে দেড় লাখ টাকা পাঠাই। কিন্তু তিনি টাকা নেওয়ার পরও কারাগারে থাকা আমার স্বামী কামাল উদ্দিন, আমি এবং দেবরকে মাদক মামলায় আসামি করেন।

টাকা পৌঁছে দেওয়া আমির হামজা বলেন, ‘ওই পরিবারকে হয়রানি ও মিথ্যা মামলা না করার শর্তে আমি নিজে উখিয়া থানায় গিয়ে এসআই তোবারককে দেড় লাখ টাকা দিয়েছি। এরপরও ওই পরিবারের তিন সদস্যকে মিথ্যা মামলায় যুক্ত করেছেন তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গফুর উদ্দীন চৌধুরী পরিবারটিকে হয়রানি না করতে এসআই তোবারক হোসেনকে অনুরোধ করার কথা স্বীকার করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল উখিয়ার পালংখালী এলাকা থেকে র্যাব অভিযান চালিয়ে পালংখালীর উত্তর রহমতেরবিল এলাকার এহেছানুল করিমকে এক লাখ ইয়াবাসহ গ্রেফতার করে উখিয়া থানায় হস্তান্তর করে। পরে এ মামলায় ওই তিনজনকে আসামি করার জন্য আদালতে আবেদন করেছেন এসআই তোবারক হোসেন।

দেড় লাখ টাকা চাঁদা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে অভিযুক্ত এসআই তোবারক হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘ওই তিনজন তার সঙ্গে জড়িত বলে ইয়াবাসহ গ্রেফতার এহেছানুল করিম জবানবন্দি দেওয়ায় তাদের আসামি করা হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজার পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জমান বলেন, ‘কারাগারে থাকা ব্যক্তিকে আসামি করা ঠিক হয়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

এসপি আরও বলেন, ‘আরেকটি অভিযোগের কারণে উখিয়া থানার এসআই তোবারক হোসেনকে এরই মধ্যে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে।