সংবাদ শিরোনাম ::
ঘোড়াঘাটের সিংড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্ল্যাণ কেন্দ্রটি ৪ বছর ধরে পরিত্যক্ত ,’অস্থায়ী’ ভবনে স্বাস্থ্যসেবা চুয়াডাঙ্গায় মাথাভাঙ্গা নদী থেকে মরদেহ উদ্ধার, পিবিআইয়ের সহায়তায় মিললো পরিচয় ঝালকাঠিতে রেড ক্রিসেন্টের পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও ডেঙ্গু সচেতনতা কর্মসূচি বরিশালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী বাস পুকুরে: কাঁচামাল ব্যবসায়ী নিহত বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ পরিচ্ছন্ন রাখতে কাঠালিয়া পাইলট বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রাণবন্ত পরিচ্ছন্নতা অভিযান তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটময় অবস্থায় পৌঁছেছে ঝালকাঠিতে অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল চুয়াডাঙ্গায় ইয়াবাসহ সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আ.লীগ নেতা আটক ভান্ডারিয়ায় নাম্বারপ্লেটবিহীন মোটরসাইকেলে মোবাইল কোর্ট, ৭ মামলায় ৩২ হাজার টাকা জরিমানা ঢাকা রেঞ্জের নবগত ডিআইজি কে নিয়ে অপপ্রচারের মেতে উঠেছে কুচক্রী মহল নারীসহ ফ্ল্যাটে ওসি আটক, ‘ষষ্ঠ স্ত্রী’র বিস্ফোরক অভিযোগ

নাগরপুরে চাঞ্চল্যকর ক্লুলেস হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন; আসামি গ্রেফতার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:১৯:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ জুলাই ২০২২ ৬২৫ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নাগরপুর( টাংগাইল)প্রতিনিধিঃ টাংগাইলের নাগরপুরে ২৪ ঘন্টার মধ্যে শফিকুল ইসলাম (৪৫) হত্যার মূল রহস্য উদঘাটন করেছে থানা পুলিশ।

নাগরপুর থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায় যে, গত ১৯/৭/২২ তারিখ সকাল ৬.৩০ এর দিকে মানড়া নয়াপাড়া কালভার্টের
নিচে অজ্ঞাত নামা যুবকের রক্তাক্ত লাশ পাওয়া গেলে স্থানীয় লোকজন থানায় খবর দেন। থানা পুলিশ অনুসন্ধান করে অজ্ঞাত নামা ব্যক্তির পরিচয় বের করতে সমর্থ হয়। উক্ত লাশটি শফিকুল ইসলাম (৪৫) নামে স্থানীয় এক ব্যক্তির বলে সনাক্ত করা হয়।

মৃতের স্ত্রী মোছা রাহেলা বেগম বাদী হয়ে এ সংক্রান্তে এজাহার দায়ের করলে নাগরপুর থানার মামলা নং ৮;
১৯/০৭/২০২২; ধারা : পেনাল কোড ৩০২/৩৪/২০১ রুজু হয়।
এজাহারে বাদী জানায় যে, তার স্বামী মৃত শফিকুল ইসলাম টুকটাক কৃষি কাজ করা ও জমি দেখাশোনার কাজ করতো।
গত ১৮/৭/২২ সকাল ৯ টার পর ডিসিস্ট বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। এরপর তার আর কোন খোজ পাওয়া যায়নি।
পরবর্তীতে, গত ১৯/৭/২২ তারিখ সকাল ৬.৩০ এর দিকে মানড়া নয়া পাড়া কালভার্টের নিচে তার লাশ পাওয়া যায়।
অজ্ঞাত নামা ব্যক্তিরা তার
স্বামীকে হত্যা করে লাশ লুকানোর উদ্দেশ্যে কালভার্টের নিচে ফেলে গেছে মর্মে বাদী তার
এজাহারে উল্লেখ করে।
নাগরপুর থানার অফিসার
ইনচার্জ আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান যে, তিনি উক্ত অপরাধের তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে এসআই মনোয়ার হোসেনকে নিয়োগ করে ছিলেন। তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় ও ম্যানুয়াল ইনটেলিজেন্স কাজে লাগিয়ে
তদন্তের মাধ্যমে নাগরপুর থানা পুলিশ এই মামলার রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয়েছে।

এ বিষয়ে মির্জাপুর-নাগরপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার এস. এম. মনসুর মূসা জানান যে, মৃত শফিকুল ইসলাম কিছুদিন
পূর্বে স্থানীয় মোরশেদা আক্তার নামক এক মহিলার সাথে জোর পূর্বক শারীরীক সম্পর্ক স্থাপন করে। মোরশেদা
আক্তারের স্বামী প্রায় এক বছর যাবত বিদেশে থাকেন। গত ১৮/৫/২২ বিকেল ৫ টার দিকে শফিকুল আবারো
মোরশেদার বাড়িতে যায়। উল্লেখ্য যে, ডিসিস্ট বিভিন্ন রোগে ভুগছিলো এবং অসুস্থ ছিলো। বাড়িতে তখন কেউ
ছিলো না। শফিকুল মোরশেদার সাথে সেদিনও অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করে। মোরশেদা বাধা দিলে
টিউবওয়েলের পাড়ে তাদের মাঝে ধস্তাধস্থি হয়। মোরশেদা এক পর্যায়ে শফিকুলের মুখকাপড় দিয়ে চেপে ধরে রাখে ও টিউবওয়েলের মেঝেতে আঘাত করে। ভিকটিমের মৃত্যু ঘটলে পাশের টয়লেটের মধ্যে লাশ লুকিয়ে রাখে। মোরশেদা
বিষয়টি তার দেবর বারেক ও ভাসুর ফুলচানকে জানায়। তারা লাশ লুকানোর সিদ্ধান্ত নেয়। রাত আনুমানিক ১২ টার
দিকে লাশ কেচ টের বস্তায় ভরে বারেকের অটোরিক্সাতে করে এনে উল্লিখিত কাল ভার্টের নিচে ফেলে দিয়ে যায়।

এ বিষয়ে নাগরপুর থানার অফিসার-ইন-চার্জ আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান যে, ১৯/৭/২২ তারিখে রাত ১১ টার দিকে এসআই
মনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে নাগরপুর থানার একটি দল হত্যাকান্ডে জড়িত মোরশেদা আক্তারকে গ্রেফতার করেছে।

গ্রেফতারকৃত আসামীকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হলে সে
ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে নিজেকে জড়িয়ে ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।

মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা নাগরপুর থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই মনোয়ার হোসেন মুঠোফোনে জানান, হত্যাকান্ডে সংশ্লিষ্ট আলামত অটো গাড়ি উদ্ধার করা হয়েছে এবং অপর দুই আসামী বারেক ও ফুলচানকে গ্রেফতার করে জবানবন্দির জন্য বৃহস্পতিবার(২১ জুলাই) টাংগাইল কোর্টে প্রেরণ করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

নাগরপুরে চাঞ্চল্যকর ক্লুলেস হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন; আসামি গ্রেফতার

আপডেট সময় : ১২:১৯:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ জুলাই ২০২২

নাগরপুর( টাংগাইল)প্রতিনিধিঃ টাংগাইলের নাগরপুরে ২৪ ঘন্টার মধ্যে শফিকুল ইসলাম (৪৫) হত্যার মূল রহস্য উদঘাটন করেছে থানা পুলিশ।

নাগরপুর থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায় যে, গত ১৯/৭/২২ তারিখ সকাল ৬.৩০ এর দিকে মানড়া নয়াপাড়া কালভার্টের
নিচে অজ্ঞাত নামা যুবকের রক্তাক্ত লাশ পাওয়া গেলে স্থানীয় লোকজন থানায় খবর দেন। থানা পুলিশ অনুসন্ধান করে অজ্ঞাত নামা ব্যক্তির পরিচয় বের করতে সমর্থ হয়। উক্ত লাশটি শফিকুল ইসলাম (৪৫) নামে স্থানীয় এক ব্যক্তির বলে সনাক্ত করা হয়।

মৃতের স্ত্রী মোছা রাহেলা বেগম বাদী হয়ে এ সংক্রান্তে এজাহার দায়ের করলে নাগরপুর থানার মামলা নং ৮;
১৯/০৭/২০২২; ধারা : পেনাল কোড ৩০২/৩৪/২০১ রুজু হয়।
এজাহারে বাদী জানায় যে, তার স্বামী মৃত শফিকুল ইসলাম টুকটাক কৃষি কাজ করা ও জমি দেখাশোনার কাজ করতো।
গত ১৮/৭/২২ সকাল ৯ টার পর ডিসিস্ট বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। এরপর তার আর কোন খোজ পাওয়া যায়নি।
পরবর্তীতে, গত ১৯/৭/২২ তারিখ সকাল ৬.৩০ এর দিকে মানড়া নয়া পাড়া কালভার্টের নিচে তার লাশ পাওয়া যায়।
অজ্ঞাত নামা ব্যক্তিরা তার
স্বামীকে হত্যা করে লাশ লুকানোর উদ্দেশ্যে কালভার্টের নিচে ফেলে গেছে মর্মে বাদী তার
এজাহারে উল্লেখ করে।
নাগরপুর থানার অফিসার
ইনচার্জ আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান যে, তিনি উক্ত অপরাধের তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে এসআই মনোয়ার হোসেনকে নিয়োগ করে ছিলেন। তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় ও ম্যানুয়াল ইনটেলিজেন্স কাজে লাগিয়ে
তদন্তের মাধ্যমে নাগরপুর থানা পুলিশ এই মামলার রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয়েছে।

এ বিষয়ে মির্জাপুর-নাগরপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার এস. এম. মনসুর মূসা জানান যে, মৃত শফিকুল ইসলাম কিছুদিন
পূর্বে স্থানীয় মোরশেদা আক্তার নামক এক মহিলার সাথে জোর পূর্বক শারীরীক সম্পর্ক স্থাপন করে। মোরশেদা
আক্তারের স্বামী প্রায় এক বছর যাবত বিদেশে থাকেন। গত ১৮/৫/২২ বিকেল ৫ টার দিকে শফিকুল আবারো
মোরশেদার বাড়িতে যায়। উল্লেখ্য যে, ডিসিস্ট বিভিন্ন রোগে ভুগছিলো এবং অসুস্থ ছিলো। বাড়িতে তখন কেউ
ছিলো না। শফিকুল মোরশেদার সাথে সেদিনও অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করে। মোরশেদা বাধা দিলে
টিউবওয়েলের পাড়ে তাদের মাঝে ধস্তাধস্থি হয়। মোরশেদা এক পর্যায়ে শফিকুলের মুখকাপড় দিয়ে চেপে ধরে রাখে ও টিউবওয়েলের মেঝেতে আঘাত করে। ভিকটিমের মৃত্যু ঘটলে পাশের টয়লেটের মধ্যে লাশ লুকিয়ে রাখে। মোরশেদা
বিষয়টি তার দেবর বারেক ও ভাসুর ফুলচানকে জানায়। তারা লাশ লুকানোর সিদ্ধান্ত নেয়। রাত আনুমানিক ১২ টার
দিকে লাশ কেচ টের বস্তায় ভরে বারেকের অটোরিক্সাতে করে এনে উল্লিখিত কাল ভার্টের নিচে ফেলে দিয়ে যায়।

এ বিষয়ে নাগরপুর থানার অফিসার-ইন-চার্জ আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান যে, ১৯/৭/২২ তারিখে রাত ১১ টার দিকে এসআই
মনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে নাগরপুর থানার একটি দল হত্যাকান্ডে জড়িত মোরশেদা আক্তারকে গ্রেফতার করেছে।

গ্রেফতারকৃত আসামীকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হলে সে
ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে নিজেকে জড়িয়ে ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।

মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা নাগরপুর থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই মনোয়ার হোসেন মুঠোফোনে জানান, হত্যাকান্ডে সংশ্লিষ্ট আলামত অটো গাড়ি উদ্ধার করা হয়েছে এবং অপর দুই আসামী বারেক ও ফুলচানকে গ্রেফতার করে জবানবন্দির জন্য বৃহস্পতিবার(২১ জুলাই) টাংগাইল কোর্টে প্রেরণ করা হয়েছে।