সংবাদ শিরোনাম ::
জুলাই আন্দোলনের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে বাবুগঞ্জে জামায়াতের সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল বাবুগঞ্জে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত মাদারীপুরে ড্রাম বিস্ফোরণে শিশু শ্রমিকের করুণ মৃত্যু চাঞ্চল্যকর ঘটনা: চোরের আঙুল কামড়ে ছিঁড়ে ফেললেন গৃহবধূ, মোবাইল নিয়ে চম্পট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে ঝালকাঠিতে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও স্মারক সংবর্ধনা বরিশালে প্রবাসীর স্ত্রীর ঘর থেকে জামায়াতকর্মী আটক সভাপতি-আব্দুস সালাম, সাধারণ সম্পাদক- মনোয়ার হোসেন। বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি বাবুগঞ্জ উপজেলা শাখার ৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা সবুজ বাংলাদেশ গড়তে ঝালকাঠিতে ১ হাজার ৫শ গাছের চারা বিতরণ করেন জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট শাহাদাৎ হোসেন ৮২ নং পূর্ব চাঁদপাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি মনোনীত হলেন আইটি বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষানুরাগী ইঞ্জিনিয়ার তৌহিদুল ইসলাম মেমনগর বি.ডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পুনরায় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেলেন প্রভাষক মো. মশিউর রহমান

জীবিত থেকেও এক জেলার শতাধিক মানুষ ‘মৃত।

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৩৫:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১৩৩ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আজকের ক্রাইম ডেক্স: জীবিত থাইকেও যদি জাতীয় পরিচয়পত্র তালিকায় মৃত থাকি, তাইলে মরে যাওয়া ভালো ছিল। তালিকায় মৃত দেখানোর কারণে করোনার টিকা নিতে পারতাছি না, ব্যাংক থেকে ঋণ উঠাইতে পারতাছি না, ছেলেমেয়েকে স্কুলে ভর্তি নিতাছে না, শুধু ভোগান্তিতে পড়তে হইতাছে।’ কথাগুলো বলেছেন ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার রাজীবপুরের স্বল্পা চরপাড়া এলাকার জসিম উদ্দিনের ছেলে কৃষিশ্রমিক মোফাজ্জল হোসেন (৩৫)।

২০১৯ সালে মৃত ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে সর্বশেষ জাতীয় পরিচয়পত্র হালনাগাদের সময় মোফাজ্জল হোসেনকে মৃত দেখানো হয়। মোফাজ্জল হোসেন জানান, পাঁচ বছর আগে তার বড় ভাই তোফাজ্জল হোসেন মারা যান। সর্বশেষ ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময় বড় ভাইয়ের সঙ্গে তাকেও স্থানীয় তথ্য সংগ্রহকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জাতীয় পরিচয়পত্রের হালনাগাদের তালিকায় মৃত দেখিয়েছেন। দুই বছর আগে ব্যাংকে ঋণ নিতে যাওয়ার পর ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তার জাতীয় পরিচয়পত্র খুঁজে দেখেন মৃত। এরপর ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অফিসে গিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে সংশোধনের আবেদন করেন। বারবার নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করে দুই বছরেও সমাধান হয়নি সমস্যা। তালিকায় মৃত দেখানোর কারণে করোনার টিকাসহ অনলাইনের কোনও সেবা নিতে পারছেন না তিনি।

শুধু মোফাজ্জল নন, ২০১৯ সালে ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময় জেলার শতাধিক জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখানো হয়েছে। এসব ব্যক্তি নির্বাচন অফিসে আবেদন করে দিনের পর দিন ঘুরছেন। কিন্তু কোনও সমাধান পাচ্ছেন না।

একই সমস্যায় পড়েছেন ঈশ্বরগঞ্জের মরিচারচর গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে জুবায়ের হোসেন (৩৫)। তিনি জানান, এক মাস আগে মোবাইলে বিকাশ অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য বাজারের দোকানে যান। জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর দিয়ে অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য বারবার চেষ্টা করেও খুলতে পারেননি। পরে বিকাশ এজেন্ট জানান তার আইডি কার্ডে সমস্যা আছে। পরে উপজেলা নির্বাচন অফিসে গিয়ে আইডি কার্ডের সমস্যার কথা জানান। সেখানের কর্মকর্তা সার্ভারে তল্লাশি করে জানান তালিকায় তাকে মৃত দেখানো হয়েছে। এই কথা শোনার পর জুবায়ের হতবাক হয়ে যান। নির্বাচন কর্মকর্তার পরামর্শে সংশোধনের জন্য আবেদন করেন। কিন্তু আজও তার আইডি কার্ড সংশোধন হয়নি।

জুবায়ের আরও জানান, এ ধরনের ঘটনা কীভাবে ঘটলো বুঝতে পারছেন না। মৃত দেখানোর কারণে করোনার টিকার নিবন্ধনসহ অনলাইনে কাজ করতে পারছেন না।

এদিকে, করোনার গণটিকা নিতে গিয়ে উপজেলার মরিচারচর গ্রামের দিনমজুর শিপন মিয়া (৩২) জানতে পারেন মৃত। বারবার চেষ্টা করেও টিকা নিতে পারেননি। পরে উপজেলা নির্বাচন অফিসে গিয়ে জানতে পারেন, সর্বশেষ ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময় তাকে মৃত দেখানো হয়েছে।

শিপন মিয়া জানান, ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তালিকা করতে গাফিলতি করেছেন। এ জন্য তার নাম মৃতদের তালিকায় উঠেছে। এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর এলাকার মানুষ তাকে নিয়ে হাসাহাসি করছেন। পরিচয়পত্রের সমস্যার কারণে করোনার টিকা নিতে পারেননি। এ ছাড়া জমি রেজিস্ট্রিসহ কোনও সেবাই নিতে পারছেন না। সংশোধনের জন্য নির্বাচন অফিসে বারবার ঘুরেও দেড় বছরেও না হওয়ায় হতাশ শিপন।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. সারওয়ার জাহান বলেন, জেলায় এ পর্যন্ত শতাধিক ব্যক্তিকে জাতীয় পরিচয়পত্রে মৃত দেখানো হয়েছে মর্মে সংশোধনের আবেদন করেছেন। তাদের আবেদন ঢাকার প্রধান নির্বাচন কমিশনার কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের জনবল কম থাকায় মাঠপর্যায়ে ২০১৯ সালে মৃত ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময় এলাকাভিত্তিক তথ্য সংগ্রহের জন্য প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সহযোগিতা নেওয়া হয়। তথ্য সংগ্রহের সময় শিক্ষকরা ভুলবশত মৃত ব্যক্তির পাশাপাশি জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখিয়ে তালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন। এ কারণে এমন সমস্যা দেখা দিয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশনের সার্ভারে একটি সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট করা হচ্ছে; যার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান এবং সংশোধন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকেই করা যাবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের কাজ শেষ হবে। সেই সঙ্গে জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখানোর যে সমস্যা তা দ্রুতই সমাধান করা যাবে।

জেলা মানবাধিকার কমিশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট এএইচএম খালেকুজ্জামান বলেন, ‘জীবিত ব্যক্তিকে জাতীয় পরিচয়পত্রে মৃত দেখানোর বিষয়টি মানবাধিকার লঙ্ঘন। এ ধরনের কাজের সঙ্গে জড়িতরা শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। সরকার ইচ্ছা করলেই এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারেন। ভোগান্তিতে পড়া ব্যক্তিদের সমস্যা সমাধানে নির্বাচন কমিশন দ্রুত ব্যবস্থা নেবে বলে আশা করছি।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

জীবিত থেকেও এক জেলার শতাধিক মানুষ ‘মৃত।

আপডেট সময় : ০২:৩৫:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১

আজকের ক্রাইম ডেক্স: জীবিত থাইকেও যদি জাতীয় পরিচয়পত্র তালিকায় মৃত থাকি, তাইলে মরে যাওয়া ভালো ছিল। তালিকায় মৃত দেখানোর কারণে করোনার টিকা নিতে পারতাছি না, ব্যাংক থেকে ঋণ উঠাইতে পারতাছি না, ছেলেমেয়েকে স্কুলে ভর্তি নিতাছে না, শুধু ভোগান্তিতে পড়তে হইতাছে।’ কথাগুলো বলেছেন ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার রাজীবপুরের স্বল্পা চরপাড়া এলাকার জসিম উদ্দিনের ছেলে কৃষিশ্রমিক মোফাজ্জল হোসেন (৩৫)।

২০১৯ সালে মৃত ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে সর্বশেষ জাতীয় পরিচয়পত্র হালনাগাদের সময় মোফাজ্জল হোসেনকে মৃত দেখানো হয়। মোফাজ্জল হোসেন জানান, পাঁচ বছর আগে তার বড় ভাই তোফাজ্জল হোসেন মারা যান। সর্বশেষ ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময় বড় ভাইয়ের সঙ্গে তাকেও স্থানীয় তথ্য সংগ্রহকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জাতীয় পরিচয়পত্রের হালনাগাদের তালিকায় মৃত দেখিয়েছেন। দুই বছর আগে ব্যাংকে ঋণ নিতে যাওয়ার পর ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তার জাতীয় পরিচয়পত্র খুঁজে দেখেন মৃত। এরপর ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অফিসে গিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে সংশোধনের আবেদন করেন। বারবার নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করে দুই বছরেও সমাধান হয়নি সমস্যা। তালিকায় মৃত দেখানোর কারণে করোনার টিকাসহ অনলাইনের কোনও সেবা নিতে পারছেন না তিনি।

শুধু মোফাজ্জল নন, ২০১৯ সালে ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময় জেলার শতাধিক জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখানো হয়েছে। এসব ব্যক্তি নির্বাচন অফিসে আবেদন করে দিনের পর দিন ঘুরছেন। কিন্তু কোনও সমাধান পাচ্ছেন না।

একই সমস্যায় পড়েছেন ঈশ্বরগঞ্জের মরিচারচর গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে জুবায়ের হোসেন (৩৫)। তিনি জানান, এক মাস আগে মোবাইলে বিকাশ অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য বাজারের দোকানে যান। জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর দিয়ে অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য বারবার চেষ্টা করেও খুলতে পারেননি। পরে বিকাশ এজেন্ট জানান তার আইডি কার্ডে সমস্যা আছে। পরে উপজেলা নির্বাচন অফিসে গিয়ে আইডি কার্ডের সমস্যার কথা জানান। সেখানের কর্মকর্তা সার্ভারে তল্লাশি করে জানান তালিকায় তাকে মৃত দেখানো হয়েছে। এই কথা শোনার পর জুবায়ের হতবাক হয়ে যান। নির্বাচন কর্মকর্তার পরামর্শে সংশোধনের জন্য আবেদন করেন। কিন্তু আজও তার আইডি কার্ড সংশোধন হয়নি।

জুবায়ের আরও জানান, এ ধরনের ঘটনা কীভাবে ঘটলো বুঝতে পারছেন না। মৃত দেখানোর কারণে করোনার টিকার নিবন্ধনসহ অনলাইনে কাজ করতে পারছেন না।

এদিকে, করোনার গণটিকা নিতে গিয়ে উপজেলার মরিচারচর গ্রামের দিনমজুর শিপন মিয়া (৩২) জানতে পারেন মৃত। বারবার চেষ্টা করেও টিকা নিতে পারেননি। পরে উপজেলা নির্বাচন অফিসে গিয়ে জানতে পারেন, সর্বশেষ ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময় তাকে মৃত দেখানো হয়েছে।

শিপন মিয়া জানান, ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তালিকা করতে গাফিলতি করেছেন। এ জন্য তার নাম মৃতদের তালিকায় উঠেছে। এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর এলাকার মানুষ তাকে নিয়ে হাসাহাসি করছেন। পরিচয়পত্রের সমস্যার কারণে করোনার টিকা নিতে পারেননি। এ ছাড়া জমি রেজিস্ট্রিসহ কোনও সেবাই নিতে পারছেন না। সংশোধনের জন্য নির্বাচন অফিসে বারবার ঘুরেও দেড় বছরেও না হওয়ায় হতাশ শিপন।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. সারওয়ার জাহান বলেন, জেলায় এ পর্যন্ত শতাধিক ব্যক্তিকে জাতীয় পরিচয়পত্রে মৃত দেখানো হয়েছে মর্মে সংশোধনের আবেদন করেছেন। তাদের আবেদন ঢাকার প্রধান নির্বাচন কমিশনার কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের জনবল কম থাকায় মাঠপর্যায়ে ২০১৯ সালে মৃত ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময় এলাকাভিত্তিক তথ্য সংগ্রহের জন্য প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সহযোগিতা নেওয়া হয়। তথ্য সংগ্রহের সময় শিক্ষকরা ভুলবশত মৃত ব্যক্তির পাশাপাশি জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখিয়ে তালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন। এ কারণে এমন সমস্যা দেখা দিয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশনের সার্ভারে একটি সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট করা হচ্ছে; যার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান এবং সংশোধন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকেই করা যাবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের কাজ শেষ হবে। সেই সঙ্গে জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখানোর যে সমস্যা তা দ্রুতই সমাধান করা যাবে।

জেলা মানবাধিকার কমিশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট এএইচএম খালেকুজ্জামান বলেন, ‘জীবিত ব্যক্তিকে জাতীয় পরিচয়পত্রে মৃত দেখানোর বিষয়টি মানবাধিকার লঙ্ঘন। এ ধরনের কাজের সঙ্গে জড়িতরা শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। সরকার ইচ্ছা করলেই এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারেন। ভোগান্তিতে পড়া ব্যক্তিদের সমস্যা সমাধানে নির্বাচন কমিশন দ্রুত ব্যবস্থা নেবে বলে আশা করছি।’