সংবাদ শিরোনাম ::
দিনাজপুরের বিরামপুরে দিনব্যাপী জব কেয়ার চাকুরী মেলা অনুষ্ঠিত ঝালকাঠিতে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও সমাবেশ ঝালকাঠি জেলা পরিষদের জমি ইজারা নিয়ে গণশুনানি, অবৈধ দখল উচ্ছেদের ঘোষণা বিষখালী নদীতে মৎস্য অভিযান, আটক ৫ ৪০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ, ৫ জনের কারাদণ্ড অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে ‘অর্ণব’, চার বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত ভাণ্ডারিয়ায় সরকারি গাছ কাটার মামলার ১ নম্বর আসামি গ্রেপ্তার ভাণ্ডারিয়ায় মাদক ও অপরাধ প্রতিরোধ মঞ্চ থেকে ইউএনওকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও লিফলেট প্রদান বরিশালে থানার সংখ্যা দ্বিগুণের পরিকল্পনা, হবে আরও ৪ থানা বরিশালে কিশোরী ধর্ষণ মামলার প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা বিদ্যালয় প্রশ্নপত্র ফাঁসে পরীক্ষা স্থগিত, তদন্ত কমিটি গঠন

একাধিকবার সরলতার সুযোগে মেয়েটির জীবন লম্পট শেষ করেছে।

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:২৮:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৯ ১৯২ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মোঃ তহিরুল ইসলাম নিজস্ব প্রতিনিধি::-

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে এক কিশোরীকে ১৪ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। একাধিকবার ধর্ষণের ফলে ওই কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। পরে সন্তান প্রসবের দুদিন পর শিশুটি মারা যায়। এ ব্যাপারে থানায় মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ পৌরসভার ডালবাড়ী এলাকার প্রদ্যুতনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ওই ছাত্রীকে প্রায় সাত মাস আগে বিয়ের প্রলোভনে কয়েকবার ধর্ষণ করে একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হাবিবুর রহমানের ছেলে মোঃ রায়হান। রায়হান দেওয়ানগঞ্জ টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের ছাত্র। ধর্ষণের ফলে মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে মেয়ের বাবা এলাকাবাসীর কাছে বিচার প্রার্থনা করেন। ওই সময় রায়হানের বাবা স্কুল শিক্ষক হাবিবুর রহমান মেয়ের গর্ভের সন্তান প্রসবের পর দুজনের বিয়ে সম্পন্ন করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। এমনকি ঘটনাটি গোপন রাখার অনুরোধ করেন। এরই একপর্যায়ে গত মঙ্গলবার রাতে ওই মেয়েটি দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কন্যাসন্তান প্রসব করে। এরপর কর্তব্যরত চিকিৎসক নবজাতক শিশু ও তার মায়ের শারীরিক অবস্থা গুরুতর দেখে রাতেই তাদের জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করেন। পরে মেয়েটির স্বজনরা নবজাতক শিশু ও তার মাকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। দুদিন পর বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি হাসপাতালেই মারা যায়। পরে তার বাবা মেয়ের বিয়ে ও সুচিকিৎসার দাবি জানালে স্কুল শিক্ষক হাবিবুর রহমান কিছুই করতে পারবেন না বলে জানান। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত রায়হান এবং তার বাবা স্কুল শিক্ষক হাবিবুর রহমান পলাতক। শুক্রবার মৃত কন্যাশিশুসহ ওই কিশোরী ও তার পরিবারের সদস্যরা বিচারের আশায় দেওয়ানগঞ্জ পৌরসভার মেয়র শাহ নেওয়াজ শাহান শাহের বাসায় যান। পরে পৌর মেয়র দেওয়ানগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ওসি ফোন করে এ ব্যাপারে আইনগত পদক্ষেপ নেয়ার জন্য বলেন।
ওই কিশোরীর বাবা বলেন আমার মেয়েটি খুবই সহজ সরল। এ সরল তার সুযোগে মেয়েটির জীবন যে লম্পট শেষ করেছে আমি তার শাস্তি চাই। আমার মেয়েটির শারীরিক অবস্থাও ভালো নয়। দেওয়ানগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি এমএম মইনুল ইসলাম বলেন শুক্রবার একটি মৃত শিশু কোলে নিয়ে ওই কিশোরী তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে থানায় মামলা করতে আসে। এ ব্যাপারে থানায় একটি ধর্ষণের মামলা হয়েছে। আলামত সংগ্রহের জন্য মৃত শিশুটিকে সংরক্ষণ করতে হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

একাধিকবার সরলতার সুযোগে মেয়েটির জীবন লম্পট শেষ করেছে।

আপডেট সময় : ০৫:২৮:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৯

মোঃ তহিরুল ইসলাম নিজস্ব প্রতিনিধি::-

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে এক কিশোরীকে ১৪ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। একাধিকবার ধর্ষণের ফলে ওই কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। পরে সন্তান প্রসবের দুদিন পর শিশুটি মারা যায়। এ ব্যাপারে থানায় মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ পৌরসভার ডালবাড়ী এলাকার প্রদ্যুতনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ওই ছাত্রীকে প্রায় সাত মাস আগে বিয়ের প্রলোভনে কয়েকবার ধর্ষণ করে একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হাবিবুর রহমানের ছেলে মোঃ রায়হান। রায়হান দেওয়ানগঞ্জ টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের ছাত্র। ধর্ষণের ফলে মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে মেয়ের বাবা এলাকাবাসীর কাছে বিচার প্রার্থনা করেন। ওই সময় রায়হানের বাবা স্কুল শিক্ষক হাবিবুর রহমান মেয়ের গর্ভের সন্তান প্রসবের পর দুজনের বিয়ে সম্পন্ন করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। এমনকি ঘটনাটি গোপন রাখার অনুরোধ করেন। এরই একপর্যায়ে গত মঙ্গলবার রাতে ওই মেয়েটি দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কন্যাসন্তান প্রসব করে। এরপর কর্তব্যরত চিকিৎসক নবজাতক শিশু ও তার মায়ের শারীরিক অবস্থা গুরুতর দেখে রাতেই তাদের জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করেন। পরে মেয়েটির স্বজনরা নবজাতক শিশু ও তার মাকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। দুদিন পর বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি হাসপাতালেই মারা যায়। পরে তার বাবা মেয়ের বিয়ে ও সুচিকিৎসার দাবি জানালে স্কুল শিক্ষক হাবিবুর রহমান কিছুই করতে পারবেন না বলে জানান। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত রায়হান এবং তার বাবা স্কুল শিক্ষক হাবিবুর রহমান পলাতক। শুক্রবার মৃত কন্যাশিশুসহ ওই কিশোরী ও তার পরিবারের সদস্যরা বিচারের আশায় দেওয়ানগঞ্জ পৌরসভার মেয়র শাহ নেওয়াজ শাহান শাহের বাসায় যান। পরে পৌর মেয়র দেওয়ানগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ওসি ফোন করে এ ব্যাপারে আইনগত পদক্ষেপ নেয়ার জন্য বলেন।
ওই কিশোরীর বাবা বলেন আমার মেয়েটি খুবই সহজ সরল। এ সরল তার সুযোগে মেয়েটির জীবন যে লম্পট শেষ করেছে আমি তার শাস্তি চাই। আমার মেয়েটির শারীরিক অবস্থাও ভালো নয়। দেওয়ানগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি এমএম মইনুল ইসলাম বলেন শুক্রবার একটি মৃত শিশু কোলে নিয়ে ওই কিশোরী তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে থানায় মামলা করতে আসে। এ ব্যাপারে থানায় একটি ধর্ষণের মামলা হয়েছে। আলামত সংগ্রহের জন্য মৃত শিশুটিকে সংরক্ষণ করতে হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।