সংবাদ শিরোনাম ::
বিজয়নগর উপজেলা আমতলী বাজারের vision এর নতুন শো রুমের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে, বাবুগঞ্জে নদী ভাঙন প্রতিরোধে জরুরি কাজের উদ্বোধন বাবুগঞ্জের চাঁদপাশা ইউপিতে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মাঠে সক্রিয় জামায়াত নেতা রফিকুল ইসলাম। ঝালকাঠিতে ১০ পিস ইয়াবাসহ নারী মাদক কারবারি গ্রেফতার ঝালকাঠিতে স্টেকহোল্ডারদের সাথে নৌ পুলিশের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ভীমরুলি পেয়ারা বাগানে শব্দযন্ত্রের অবৈধ ব্যবহার রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, দুই ট্রলারকে জরিমানা ঝালকাঠির ঐতিহ্যবাহী পেয়ারা বাগান পরিদর্শনে গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক দেখার যেন কেউ নেই ! বানারীপাড়া-বরিশাল সড়কে খানাখন্দে অন্তহীণ জনদুর্ভোগ বাবুগঞ্জে গৃহবধূকে শ্লীলতাহানি ঘটনায় ৩জনকে আসামি করে মামলা কলাপাড়ায় স্কুলের সামনে নিম্নমানের শিশু খাদ্য বিক্রির অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা

যৌতুক মামলা করার দায়ে ‘ভুয়া স্ত্রী’র কারাদণ্ড। আজকের ক্রাইম-নিউজ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৪৮:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ মার্চ ২০২১ ১২২ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আজকের ক্রাইম ডেক্স
স্বামী দাবি করে মিথ্যা যৌতুক মামলা করার অভিযোগে শামসুন্নাহার (৩০) নামে এক নারীকে দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭। ট্রাইব্যুনালের বিচারক কামরুন্নাহার বৃহস্পতিবার (৪ মার্চ) এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশের পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ময়মনসিংহে আবদুল হান্নান নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে যৌতুক না দেওয়ায় নির্যাতনের অভিযোগে ২০১৯ সালের ১৯ মে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এ নালিশি মামলা করেন শামসুন্নাহার নামে এক নারী। সে সময়ে আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্তের জন্য ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন (সিএমএম) ম্যাজিস্ট্রেট আদালতকে নির্দেশ দেন।
পরে সিএমএম আদালতের একজন ম্যাজিস্ট্রেট ওই নারীসহ তিনজন সাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ড করেন। তাদের জবানবন্দির ওপর ভিত্তি করে আদালত আবদুল হান্নানের বিরুদ্ধে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচার বিভাগীয় প্রতিবেদন জমা দেন। পরে প্রতিবেদন আমলে নিয়ে আদালত আসামি হান্নানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। আদালতের পরোয়ানা পাওয়ার পর আসামি হান্নানকে ২০১৯ সালের ৫ ডিসেম্বর গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এক মাস কারাগারে থাকার পর গত বছরের ৭ জানুয়ারি আসামি হান্নান জামিনে মুক্ত হন।

এ বিষয়ে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আফরোজা ফারহানা আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, ওই মামলার আজ (বৃহস্পতিবার) অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ধার্য ছিল। এ সময় মামলার বাদী শামসুন্নাহার আদালতে হাজির হয়ে বলেন, তিনি মামলার আসামি আবদুল হান্নানকে চেনেন না। হান্নান তার স্বামীও নন। অন্যের প্ররোচনায় এই মিথ্যা মামলা করেছিলেন। আদালতের কাছে এই জবানবন্দি দেওয়ার পর আদালত আসামি হান্নানকে এ মামলা থেকে অব্যাহতি দেন।
একই সঙ্গে হান্নানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শামসুন্নাহারের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। ওই মামলায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। পরে মিথ্যা মামলা করার দায়ে শামসুন্নাহারকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত।
মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়া আসামি আবদুল হান্নান গণমাধ্যমের কাছে দাবি করেন, তিনি ময়মনসিংহের বাসিন্দা। সেখানে তার একটি ফ্ল্যাক্সিলোডের ব্যবসা রয়েছে। যে নারী তাকে স্বামী হিসেবে দাবি করে মিথ্যা যৌতুকের মামলা করেছিলেন, তাকে তিনি কোনোভাবেই চেনেন না। অথচ তার মামলায় তিনি এক মাস জেলও খাটলেন।
মামলার বিবরণীতে আরও জানা যায়, দণ্ডপ্রাপ্ত ওই নারী একটি কাবিননামা আদালতে জমা দেন। এই ভুয়া কাবিননামায় লেখা আছে, হান্নানের সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল ২০১৬ সালের ১০ জুন। দেনমোহরের পরিমাণ এক লাখ টাকা। এছাড়া আদালতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসা সনদ জমা দেওয়া হয়। এখানে রোগী হিসেবে ওই নারীর নাম রয়েছে। তিনি ভর্তি হন ২০১৯ সালের ১৯ মে। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান পরদিন ২০ মে।
ওই নারী জানান, আলমগীর নামের একজনের প্ররোচনায় তিনি এই মামলা করেন। বিনিময়ে তিনি পান মাত্র এক হাজার টাকা।
শামসুন্নাহারের আইনজীবী মুনমুন নাহার চৌধুরী সংবাদমাধ্যমকে জানান, আলমগীর নামে এক ব্যক্তি তার কাছে এসে বলেছিলেন, তার বোনকে (শামসুন্নাহার) যৌতুকের জন্য স্বামী মারধর করেছেন। তখন আলমগীর কাবিননামা, চিকিৎসা সনদসহ ওই নারীকে হাজির করেন। পরে ওই নারী হান্নানের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওই নারী ও আলমগীরের আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে তিনি মামলা ছেড়ে দেন।
আইনজীবী মুনমুন নাহার চৌধুরী আরও জানান, আলমগীর নামের ওই ব্যক্তি মারা গেছেন।
শামসুন্নাহার জানান, তিনি বিয়ে করেছেন ২০১৪ সালে। রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় তিনি স্বামী-সন্তান নিয়ে বসবাস করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

যৌতুক মামলা করার দায়ে ‘ভুয়া স্ত্রী’র কারাদণ্ড। আজকের ক্রাইম-নিউজ

আপডেট সময় : ০৫:৪৮:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ মার্চ ২০২১

আজকের ক্রাইম ডেক্স
স্বামী দাবি করে মিথ্যা যৌতুক মামলা করার অভিযোগে শামসুন্নাহার (৩০) নামে এক নারীকে দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭। ট্রাইব্যুনালের বিচারক কামরুন্নাহার বৃহস্পতিবার (৪ মার্চ) এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশের পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ময়মনসিংহে আবদুল হান্নান নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে যৌতুক না দেওয়ায় নির্যাতনের অভিযোগে ২০১৯ সালের ১৯ মে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এ নালিশি মামলা করেন শামসুন্নাহার নামে এক নারী। সে সময়ে আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্তের জন্য ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন (সিএমএম) ম্যাজিস্ট্রেট আদালতকে নির্দেশ দেন।
পরে সিএমএম আদালতের একজন ম্যাজিস্ট্রেট ওই নারীসহ তিনজন সাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ড করেন। তাদের জবানবন্দির ওপর ভিত্তি করে আদালত আবদুল হান্নানের বিরুদ্ধে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচার বিভাগীয় প্রতিবেদন জমা দেন। পরে প্রতিবেদন আমলে নিয়ে আদালত আসামি হান্নানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। আদালতের পরোয়ানা পাওয়ার পর আসামি হান্নানকে ২০১৯ সালের ৫ ডিসেম্বর গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এক মাস কারাগারে থাকার পর গত বছরের ৭ জানুয়ারি আসামি হান্নান জামিনে মুক্ত হন।

এ বিষয়ে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আফরোজা ফারহানা আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, ওই মামলার আজ (বৃহস্পতিবার) অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ধার্য ছিল। এ সময় মামলার বাদী শামসুন্নাহার আদালতে হাজির হয়ে বলেন, তিনি মামলার আসামি আবদুল হান্নানকে চেনেন না। হান্নান তার স্বামীও নন। অন্যের প্ররোচনায় এই মিথ্যা মামলা করেছিলেন। আদালতের কাছে এই জবানবন্দি দেওয়ার পর আদালত আসামি হান্নানকে এ মামলা থেকে অব্যাহতি দেন।
একই সঙ্গে হান্নানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শামসুন্নাহারের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। ওই মামলায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। পরে মিথ্যা মামলা করার দায়ে শামসুন্নাহারকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত।
মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়া আসামি আবদুল হান্নান গণমাধ্যমের কাছে দাবি করেন, তিনি ময়মনসিংহের বাসিন্দা। সেখানে তার একটি ফ্ল্যাক্সিলোডের ব্যবসা রয়েছে। যে নারী তাকে স্বামী হিসেবে দাবি করে মিথ্যা যৌতুকের মামলা করেছিলেন, তাকে তিনি কোনোভাবেই চেনেন না। অথচ তার মামলায় তিনি এক মাস জেলও খাটলেন।
মামলার বিবরণীতে আরও জানা যায়, দণ্ডপ্রাপ্ত ওই নারী একটি কাবিননামা আদালতে জমা দেন। এই ভুয়া কাবিননামায় লেখা আছে, হান্নানের সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল ২০১৬ সালের ১০ জুন। দেনমোহরের পরিমাণ এক লাখ টাকা। এছাড়া আদালতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসা সনদ জমা দেওয়া হয়। এখানে রোগী হিসেবে ওই নারীর নাম রয়েছে। তিনি ভর্তি হন ২০১৯ সালের ১৯ মে। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান পরদিন ২০ মে।
ওই নারী জানান, আলমগীর নামের একজনের প্ররোচনায় তিনি এই মামলা করেন। বিনিময়ে তিনি পান মাত্র এক হাজার টাকা।
শামসুন্নাহারের আইনজীবী মুনমুন নাহার চৌধুরী সংবাদমাধ্যমকে জানান, আলমগীর নামে এক ব্যক্তি তার কাছে এসে বলেছিলেন, তার বোনকে (শামসুন্নাহার) যৌতুকের জন্য স্বামী মারধর করেছেন। তখন আলমগীর কাবিননামা, চিকিৎসা সনদসহ ওই নারীকে হাজির করেন। পরে ওই নারী হান্নানের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওই নারী ও আলমগীরের আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে তিনি মামলা ছেড়ে দেন।
আইনজীবী মুনমুন নাহার চৌধুরী আরও জানান, আলমগীর নামের ওই ব্যক্তি মারা গেছেন।
শামসুন্নাহার জানান, তিনি বিয়ে করেছেন ২০১৪ সালে। রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় তিনি স্বামী-সন্তান নিয়ে বসবাস করেন।