অসামাজিক কাজে রাজি না হওয়ায় নুরনাহারকে হত্যা। আজকের ক্রাইম-নিউজ
- আপডেট সময় : ০৬:০৬:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২০ ১৩৪ বার পড়া হয়েছে

অনলাইন ডেস্ক
খুলনা মহানগরীর লবণচরা এলাকার কথিত ডেসটিনির মাঠে হত্যাকাণ্ডের শিকার নুরনাহার হত্যার রহস্য উন্মোচন করেছে খুলনা সিআইডি। মাত্র ১০ দিনের মাথায় ক্লু লেস এই হত্যার মূল আসামিদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় গোয়েন্দা সংস্থাটি। ১০ দিন আগে নুরনাহার হত্যা মামলার তদন্ত খুলনা সিআইডিকে দেয়া হয়।
গ্রেফতাররা হলেন- জামাল হাওলাদার ও ফারুক মহাজন। বুধবার খুলনার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তরিকুল ইসলামের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন আসামিরা।
সিআইডি খুলনার পুলিশ পরিদর্শক মোছা. মাহমুদা খাতুন জানান, ১৬৪ ধারায় আসামিরা নুরনাহার হত্যার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্তার কথা স্বীকার করেন। অসামাজিক কাজ করতে না দেয়ায় জামাল ও ফারুক জুসের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে তাকে হত্যা করে।
পুলিশ পরিদর্শক আরও জানান, গত ২২ নভেম্বর অজ্ঞাত হত্যাকারীদের হাতে নিহত হন প্রায় ১৬ বছর আগে তালাকপ্রাপ্ত নুরনাহার। এরপর সে নিজেই অসামাজিক কাজ করে আসছে। এরই সূত্র ধরে নুরনাহারের সঙ্গে পরিচয় হয় আসামি জামাল হাওলাদারের।
আসামি জামাল হাওলাদাররে কাছ থেকে ভিকটিম নুরনাহার অনৈতিক কাজের জন্য বিভিন্ন সময়ে টাকা পয়সা নিলেও তার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতেন না। একাধিকার জামালকে হয়রানি করেন। এ কারণে ক্ষুদ্ধ হয়ে জামাল তার গ্রাম্য সর্ম্পকের দুলাভাই ফারুক মহাজনকে সঙ্গে নিয়ে নুরনাহারকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। ফারুক মহাজন ৫নং ঘাট এলাকায় সিমেন্টের বস্তা থেকে ব্যাগ বানানোর কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। ফারুককে ৫ হাজার টাকা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জামাল তাকে সহযোগী হিসেবে কাজ করতে রাজি করান। সেই মোতাবেক গত ২২ নভেম্বর জামাল বাইসাইকেল চালিয়ে ফারুকের ৫ নম্বর ঘাটের বাড়িতে গিয়ে সিমেন্টের ব্যাগের মুখ সেলাই করার সূতা সংগ্রহ করেন। তারপর ফারুককে সাইকেলে উঠিয়ে নিয়ে জামাল সোনাডাঙ্গায় এসে সাইকেলটি একটি গ্যারেজে রেখে ২ জন মিলে অটোরিকশায় গল্লামারি মোড়ে যান। সেখানে গিয়ে নিহত ভিকটিম নুরনাহারকে ফোন দিয়ে ডেকে নিয়ে তিনজন মিলে অটোরিকশায় করে ছাচিবুনিয়া মোড়ে যান। সেখানে গিয়ে আসামি জামাল টাকা দিয়ে ফারুককে দুটি জুস ও আপেল কিনে আনতে বলেন।
পরে ৩ জনে মিলে হাঁটতে হাঁটতে ডেসটিনিরি মাঠ বলে পরিচিতি নির্জন এলাকায় নিয়ে জুস ও আপেল খান। জুসের মধ্যে আসামি জামাল ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেয়ায় নুরনাহার কিছুক্ষণ পর অচেতন হয়ে পড়েন। এরপর জামাল সঙ্গে থাকা সুতা দিয়ে গলায় ফাঁস দেন। আসামি ফারুক নুরনাহারের পা চেপে ধরে রাখেন।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ডিসেম্বর সন্দেহভাজন আসামি ফারুক মহাজন ও ২৯ ডিসেম্বর জামালকে গ্রেফতার করা হয়।


























