সংবাদ শিরোনাম ::
বাবুগঞ্জের চাঁদপাশা ইউপিতে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মাঠে সক্রিয় জামায়াত নেতা রফিকুল ইসলাম। ঝালকাঠিতে ১০ পিস ইয়াবাসহ নারী মাদক কারবারি গ্রেফতার ঝালকাঠিতে স্টেকহোল্ডারদের সাথে নৌ পুলিশের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ভীমরুলি পেয়ারা বাগানে শব্দযন্ত্রের অবৈধ ব্যবহার রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, দুই ট্রলারকে জরিমানা ঝালকাঠির ঐতিহ্যবাহী পেয়ারা বাগান পরিদর্শনে গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক দেখার যেন কেউ নেই ! বানারীপাড়া-বরিশাল সড়কে খানাখন্দে অন্তহীণ জনদুর্ভোগ বাবুগঞ্জে গৃহবধূকে শ্লীলতাহানি ঘটনায় ৩জনকে আসামি করে মামলা কলাপাড়ায় স্কুলের সামনে নিম্নমানের শিশু খাদ্য বিক্রির অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা বরিশালে পূজা উদযাপন পরিষদের সম্মেলন: সম্প্রীতির আহ্বান, গুণীজনদের সম্মাননা মোরেলগঞ্জে জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষায় সংলাপ

অসামাজিক কাজে রাজি না হওয়ায় নুরনাহারকে হত্যা। আজকের ক্রাইম-নিউজ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:০৬:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২০ ১৩৩ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অনলাইন ডেস্ক
খুলনা মহানগরীর লবণচরা এলাকার কথিত ডেসটিনির মাঠে হত্যাকাণ্ডের শিকার নুরনাহার হত্যার রহস্য উন্মোচন করেছে খুলনা সিআইডি। মাত্র ১০ দিনের মাথায় ক্লু লেস এই হত্যার মূল আসামিদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় গোয়েন্দা সংস্থাটি। ১০ দিন আগে নুরনাহার হত্যা মামলার তদন্ত খুলনা সিআইডিকে দেয়া হয়।

গ্রেফতাররা হলেন- জামাল হাওলাদার ও ফারুক মহাজন। বুধবার খুলনার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তরিকুল ইসলামের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন আসামিরা।

সিআইডি খুলনার পুলিশ পরিদর্শক মোছা. মাহমুদা খাতুন জানান, ১৬৪ ধারায় আসামিরা নুরনাহার হত্যার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্তার কথা স্বীকার করেন। অসামাজিক কাজ করতে না দেয়ায় জামাল ও ফারুক জুসের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে তাকে হত্যা করে।

পুলিশ পরিদর্শক আরও জানান, গত ২২ নভেম্বর অজ্ঞাত হত্যাকারীদের হাতে নিহত হন প্রায় ১৬ বছর আগে তালাকপ্রাপ্ত নুরনাহার। এরপর সে নিজেই অসামাজিক কাজ করে আসছে। এরই সূত্র ধরে নুরনাহারের সঙ্গে পরিচয় হয় আসামি জামাল হাওলাদারের।

আসামি জামাল হাওলাদাররে কাছ থেকে ভিকটিম নুরনাহার অনৈতিক কাজের জন্য বিভিন্ন সময়ে টাকা পয়সা নিলেও তার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতেন না। একাধিকার জামালকে হয়রানি করেন। এ কারণে ক্ষুদ্ধ হয়ে জামাল তার গ্রাম্য সর্ম্পকের দুলাভাই ফারুক মহাজনকে সঙ্গে নিয়ে নুরনাহারকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। ফারুক মহাজন ৫নং ঘাট এলাকায় সিমেন্টের বস্তা থেকে ব্যাগ বানানোর কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। ফারুককে ৫ হাজার টাকা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জামাল তাকে সহযোগী হিসেবে কাজ করতে রাজি করান। সেই মোতাবেক গত ২২ নভেম্বর জামাল বাইসাইকেল চালিয়ে ফারুকের ৫ নম্বর ঘাটের বাড়িতে গিয়ে সিমেন্টের ব্যাগের মুখ সেলাই করার সূতা সংগ্রহ করেন। তারপর ফারুককে সাইকেলে উঠিয়ে নিয়ে জামাল সোনাডাঙ্গায় এসে সাইকেলটি একটি গ্যারেজে রেখে ২ জন মিলে অটোরিকশায় গল্লামারি মোড়ে যান। সেখানে গিয়ে নিহত ভিকটিম নুরনাহারকে ফোন দিয়ে ডেকে নিয়ে তিনজন মিলে অটোরিকশায় করে ছাচিবুনিয়া মোড়ে যান। সেখানে গিয়ে আসামি জামাল টাকা দিয়ে ফারুককে দুটি জুস ও আপেল কিনে আনতে বলেন।

পরে ৩ জনে মিলে হাঁটতে হাঁটতে ডেসটিনিরি মাঠ বলে পরিচিতি নির্জন এলাকায় নিয়ে জুস ও আপেল খান। জুসের মধ্যে আসামি জামাল ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেয়ায় নুরনাহার কিছুক্ষণ পর অচেতন হয়ে পড়েন। এরপর জামাল সঙ্গে থাকা সুতা দিয়ে গলায় ফাঁস দেন। আসামি ফারুক নুরনাহারের পা চেপে ধরে রাখেন।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ডিসেম্বর সন্দেহভাজন আসামি ফারুক মহাজন ও ২৯ ডিসেম্বর জামালকে গ্রেফতার করা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

অসামাজিক কাজে রাজি না হওয়ায় নুরনাহারকে হত্যা। আজকের ক্রাইম-নিউজ

আপডেট সময় : ০৬:০৬:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২০

অনলাইন ডেস্ক
খুলনা মহানগরীর লবণচরা এলাকার কথিত ডেসটিনির মাঠে হত্যাকাণ্ডের শিকার নুরনাহার হত্যার রহস্য উন্মোচন করেছে খুলনা সিআইডি। মাত্র ১০ দিনের মাথায় ক্লু লেস এই হত্যার মূল আসামিদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় গোয়েন্দা সংস্থাটি। ১০ দিন আগে নুরনাহার হত্যা মামলার তদন্ত খুলনা সিআইডিকে দেয়া হয়।

গ্রেফতাররা হলেন- জামাল হাওলাদার ও ফারুক মহাজন। বুধবার খুলনার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তরিকুল ইসলামের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন আসামিরা।

সিআইডি খুলনার পুলিশ পরিদর্শক মোছা. মাহমুদা খাতুন জানান, ১৬৪ ধারায় আসামিরা নুরনাহার হত্যার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্তার কথা স্বীকার করেন। অসামাজিক কাজ করতে না দেয়ায় জামাল ও ফারুক জুসের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে তাকে হত্যা করে।

পুলিশ পরিদর্শক আরও জানান, গত ২২ নভেম্বর অজ্ঞাত হত্যাকারীদের হাতে নিহত হন প্রায় ১৬ বছর আগে তালাকপ্রাপ্ত নুরনাহার। এরপর সে নিজেই অসামাজিক কাজ করে আসছে। এরই সূত্র ধরে নুরনাহারের সঙ্গে পরিচয় হয় আসামি জামাল হাওলাদারের।

আসামি জামাল হাওলাদাররে কাছ থেকে ভিকটিম নুরনাহার অনৈতিক কাজের জন্য বিভিন্ন সময়ে টাকা পয়সা নিলেও তার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতেন না। একাধিকার জামালকে হয়রানি করেন। এ কারণে ক্ষুদ্ধ হয়ে জামাল তার গ্রাম্য সর্ম্পকের দুলাভাই ফারুক মহাজনকে সঙ্গে নিয়ে নুরনাহারকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। ফারুক মহাজন ৫নং ঘাট এলাকায় সিমেন্টের বস্তা থেকে ব্যাগ বানানোর কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। ফারুককে ৫ হাজার টাকা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জামাল তাকে সহযোগী হিসেবে কাজ করতে রাজি করান। সেই মোতাবেক গত ২২ নভেম্বর জামাল বাইসাইকেল চালিয়ে ফারুকের ৫ নম্বর ঘাটের বাড়িতে গিয়ে সিমেন্টের ব্যাগের মুখ সেলাই করার সূতা সংগ্রহ করেন। তারপর ফারুককে সাইকেলে উঠিয়ে নিয়ে জামাল সোনাডাঙ্গায় এসে সাইকেলটি একটি গ্যারেজে রেখে ২ জন মিলে অটোরিকশায় গল্লামারি মোড়ে যান। সেখানে গিয়ে নিহত ভিকটিম নুরনাহারকে ফোন দিয়ে ডেকে নিয়ে তিনজন মিলে অটোরিকশায় করে ছাচিবুনিয়া মোড়ে যান। সেখানে গিয়ে আসামি জামাল টাকা দিয়ে ফারুককে দুটি জুস ও আপেল কিনে আনতে বলেন।

পরে ৩ জনে মিলে হাঁটতে হাঁটতে ডেসটিনিরি মাঠ বলে পরিচিতি নির্জন এলাকায় নিয়ে জুস ও আপেল খান। জুসের মধ্যে আসামি জামাল ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেয়ায় নুরনাহার কিছুক্ষণ পর অচেতন হয়ে পড়েন। এরপর জামাল সঙ্গে থাকা সুতা দিয়ে গলায় ফাঁস দেন। আসামি ফারুক নুরনাহারের পা চেপে ধরে রাখেন।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ডিসেম্বর সন্দেহভাজন আসামি ফারুক মহাজন ও ২৯ ডিসেম্বর জামালকে গ্রেফতার করা হয়।