সংবাদ শিরোনাম ::
ভরা মৌসুমেও ইলিশের আকাল বৈরী আবহাওয়া, জলবায়ু পরিবর্তন ও অবৈধ জালে সংকটে সুন্দরবন উপকূলের মৎস্য অর্থনীতি সাগরে নেই ট্রলার, আড়তে নেই মাছ বানারীপাড়ায় বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম রকি তেতলা পিজিএস স্কুলের সভাপতি বরিশালে সিভিল সার্জনের অপসারনের দাবীতে কক্ষে তালা বাবুগঞ্জে মাদক, চুরি-ডাকাতি ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক সভা। বানারীপাড়ায় চাঁদাবাজি মামলায় জামিনে বের হয়ে বাদীসহ তিনজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম ঝালকাঠিতে গৃহবধূ মলিনা রায় হত্যা: মামলার দ্বিতীয় আসামি ঢাকায় গ্রেফতার সড়কে ঝড়লো সাংবাদিক পুত্রের প্রাণ, বিএমএসএফ’র শোক বাবুগঞ্জে ১ কেজি গাঁজাসহ তিন মাদক কারবারি আটক ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে ত্রিমুখী সংঘর্ষে রিকসা চালক নিহত, আহত-১০ ​ঝালকাঠিতে ‘ফ্রি নিউজ গ্রুপ’-এর সাংবাদিকদের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত

এএসআইকে প্রকাশ্যে মারধর করলেন বামনা থানার ওসি, ভিডিও ভাইরাল।

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৮:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২০ ২১১ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ না করার কারণে বরগুনার বামনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইলিয়াস আলী তালুকদার একই থানার সহকারি উপ-পরিদর্শক (এএসআই) পদমর্যাদার এক পুলিশ সদস্যকে অনেক মানুষের সামনে প্রকাশ্যে থাপ্পড় দিয়েছেন।

পুলিশের গুলিতে নিহত সাবেক মেজর সিনহা মো. রাশেদ খানের সঙ্গে থাকা ভিডিওচিত্রগ্রাহক সাহেদুল ইসলাম সিফাতের নিজ বাড়ি বরগুনার বামনা উপজেলায় তার মুক্তির দাবিতে শনিবার দুপুরে শিক্ষার্থীদের এক কর্মসূচিতে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনার ভিডিওটি এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে গিয়েছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, ওসি ইলিয়াস আলী প্রথমে উত্তেজিত হয়ে থানার এক সাব ইন্সপেক্টরকে চর-থাপ্পর দেন। এসময় চিৎকার করে তিনি বলেন, কী করেন আপনারা? পিটান সবাইকে। পরে ওসি নিজেই শিক্ষার্থীদের পেটাতে শুরু করেন।

এর আগে পুলিশ এসে প্রথমে মানববন্ধনের ব্যানার ও মাইক ছিনিয়ে নেয়। একপর্যায়ে সিফাতের বন্ধুরা মানববন্ধন চালিয়ে গেলে বামনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইলিয়াস আলী তালুকদার ছুটে এসে মানববন্ধনরত শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটা শুরু করেন। এতে ৪ জন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়। আহত শিক্ষার্থীরা হলেন মো. রুবেল, ইমরান, রায়হান এবং মিথুন।

শনিবার দুপুর ১২টায় উপজেলার কলেজ রোডে প্রায় ঘন্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রায় তিনশতাধিক শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা অংশ নেন।

মানববন্ধনে অংশগ্রহনকারী পুলিশের লাঠিচার্জে আহত মো. রুবেল বরিশালটাইমসকে বলেন, আমরা আমাদের বন্ধুর মুক্তির জন্য মানববন্ধনে দাঁড়িয়েছি। আমরা শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করছিলাম। এর আগে আমরা মানববন্ধনের জন্য পুলিশকে জানালে তারা আমাদের মানববনন্ধন করতে দেয়নি। সারা বামনাতে টহল বসিয়ে আমাদের ভয়ভীতি দেখিয়েছে। আজ যখন শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন শুরু করেছি, তখন প্রথমে পুলিশ এসে আমাদের ব্যানার নিয়ে যায়। পরে ওসি ইলিয়াস এসে ওসি প্রদীপের চেয়েও ভয়ংকর রূপ ধারন করে আমাদের ওপর লাঠিচার্জ করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ওসি মানববন্ধনে থাকা শিক্ষার্থী ও সিফাতের নানা এনায়েত কবির হাওলাদারকে অকথ্যভাষায় গালিগালাজ করেছেন।

সিফাতের নানা বামনা সদর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. এনায়েত কবির হাওলাদার বলেন, পুলিশের আজকের ভূমিকা খুবই দুঃখজনক। আমি এখন আমার নাতিকে নিয়ে সংশয়ে আছি।

এ ব্যাপারে বামনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইলিয়াস আলী তালুকদার বরিশালটাইমসকে বলেন, ‘আমাদের অনুমতি না নিয়ে কতিপয় দুষ্কৃতিকারী সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে এবং রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করতেছে এমন সংবাদ পেয়ে আমি মানববন্ধনটি বন্ধ করে দেই’।

তবে সহকর্মীকে দেয়া থাপ্পড়ের বিষয়টি ওসি ইলিয়াস আলী অস্বীকার করেন।

এদিকে কক্সবাজারের টেকনাফে পুলিশের গুলিতে নিহত সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খানের তথ্যচিত্র নির্মাণের সহযোগী ছিলেন সিফাত ও শিপ্রা। ঘটনাস্থল থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। পরে দুটি মামলায় বর্তমানে তারা কারাগারে আছেন। তাদের মুক্তি দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন সহপাঠীরা। এতে যোগ দিয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও।

স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী সাহেদুল ইসলাম সিফাত ও শিপ্রা রানী দেবনাথের মুক্তির দাবিতে স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা কর্মসূচি পালন করছে। পাশাপাশি তাদের মুক্তি ও নিরাপত্তাসহ চার দফা দাবি জানিয়েছেন তারা। শনিবার রাজধানীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধেশ্বরী ক্যাম্পাসের সামনে এক মানববন্ধন ও মিছিল থেকে এসব দাবি উঠে আসে। বিশ্ববিদ্যালয়টির ফিল্ম ও মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগ এবং স্ট্যামফোর্ড ফিল্ম স্টুডেন্ট সিনে ফোরামের উদ্যাগে এই কর্মসূচি পালিত হয়।

কর্মসূচিতে তুলে ধরা চার দফা হল- আটক দুই শিক্ষার্থীর মুক্তি, মেজর (অবসরপ্রাপ্ত) সিনহা মো. রাশেদ খানের হত্যার ঘটনার সুষ্ঠু বিচার, দুই শিক্ষার্থীকে মামলা থেকে অব্যাহতি, দুই শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারকে সামাজিকভাবে নিরাপত্তা প্রদান।

শিক্ষার্থীরা বলেন, সিফাত-শিপ্রার বিরুদ্ধে পুলিশ যেসব অভিযোগ তুলেছে তা মিথ্যা ও সাজানো গল্প। তাদের ফাঁসানো হয়েছে। তারা সেখানে একটা তথ্যচিত্র বানানোর জন্য গিয়েছিল। এই প্রজেক্টে শিপ্রা পরিচালক ও সিফাত সিনেমাটোগ্রাফার হিসেবে ছিলেন। বর্তমানে আমরা তাদের জীবননাশের আশঙ্কা করছি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

এএসআইকে প্রকাশ্যে মারধর করলেন বামনা থানার ওসি, ভিডিও ভাইরাল।

আপডেট সময় : ০৪:৩৮:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২০

শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ না করার কারণে বরগুনার বামনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইলিয়াস আলী তালুকদার একই থানার সহকারি উপ-পরিদর্শক (এএসআই) পদমর্যাদার এক পুলিশ সদস্যকে অনেক মানুষের সামনে প্রকাশ্যে থাপ্পড় দিয়েছেন।

পুলিশের গুলিতে নিহত সাবেক মেজর সিনহা মো. রাশেদ খানের সঙ্গে থাকা ভিডিওচিত্রগ্রাহক সাহেদুল ইসলাম সিফাতের নিজ বাড়ি বরগুনার বামনা উপজেলায় তার মুক্তির দাবিতে শনিবার দুপুরে শিক্ষার্থীদের এক কর্মসূচিতে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনার ভিডিওটি এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে গিয়েছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, ওসি ইলিয়াস আলী প্রথমে উত্তেজিত হয়ে থানার এক সাব ইন্সপেক্টরকে চর-থাপ্পর দেন। এসময় চিৎকার করে তিনি বলেন, কী করেন আপনারা? পিটান সবাইকে। পরে ওসি নিজেই শিক্ষার্থীদের পেটাতে শুরু করেন।

এর আগে পুলিশ এসে প্রথমে মানববন্ধনের ব্যানার ও মাইক ছিনিয়ে নেয়। একপর্যায়ে সিফাতের বন্ধুরা মানববন্ধন চালিয়ে গেলে বামনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইলিয়াস আলী তালুকদার ছুটে এসে মানববন্ধনরত শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটা শুরু করেন। এতে ৪ জন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়। আহত শিক্ষার্থীরা হলেন মো. রুবেল, ইমরান, রায়হান এবং মিথুন।

শনিবার দুপুর ১২টায় উপজেলার কলেজ রোডে প্রায় ঘন্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রায় তিনশতাধিক শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা অংশ নেন।

মানববন্ধনে অংশগ্রহনকারী পুলিশের লাঠিচার্জে আহত মো. রুবেল বরিশালটাইমসকে বলেন, আমরা আমাদের বন্ধুর মুক্তির জন্য মানববন্ধনে দাঁড়িয়েছি। আমরা শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করছিলাম। এর আগে আমরা মানববন্ধনের জন্য পুলিশকে জানালে তারা আমাদের মানববনন্ধন করতে দেয়নি। সারা বামনাতে টহল বসিয়ে আমাদের ভয়ভীতি দেখিয়েছে। আজ যখন শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন শুরু করেছি, তখন প্রথমে পুলিশ এসে আমাদের ব্যানার নিয়ে যায়। পরে ওসি ইলিয়াস এসে ওসি প্রদীপের চেয়েও ভয়ংকর রূপ ধারন করে আমাদের ওপর লাঠিচার্জ করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ওসি মানববন্ধনে থাকা শিক্ষার্থী ও সিফাতের নানা এনায়েত কবির হাওলাদারকে অকথ্যভাষায় গালিগালাজ করেছেন।

সিফাতের নানা বামনা সদর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. এনায়েত কবির হাওলাদার বলেন, পুলিশের আজকের ভূমিকা খুবই দুঃখজনক। আমি এখন আমার নাতিকে নিয়ে সংশয়ে আছি।

এ ব্যাপারে বামনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইলিয়াস আলী তালুকদার বরিশালটাইমসকে বলেন, ‘আমাদের অনুমতি না নিয়ে কতিপয় দুষ্কৃতিকারী সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে এবং রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করতেছে এমন সংবাদ পেয়ে আমি মানববন্ধনটি বন্ধ করে দেই’।

তবে সহকর্মীকে দেয়া থাপ্পড়ের বিষয়টি ওসি ইলিয়াস আলী অস্বীকার করেন।

এদিকে কক্সবাজারের টেকনাফে পুলিশের গুলিতে নিহত সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খানের তথ্যচিত্র নির্মাণের সহযোগী ছিলেন সিফাত ও শিপ্রা। ঘটনাস্থল থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। পরে দুটি মামলায় বর্তমানে তারা কারাগারে আছেন। তাদের মুক্তি দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন সহপাঠীরা। এতে যোগ দিয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও।

স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী সাহেদুল ইসলাম সিফাত ও শিপ্রা রানী দেবনাথের মুক্তির দাবিতে স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা কর্মসূচি পালন করছে। পাশাপাশি তাদের মুক্তি ও নিরাপত্তাসহ চার দফা দাবি জানিয়েছেন তারা। শনিবার রাজধানীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধেশ্বরী ক্যাম্পাসের সামনে এক মানববন্ধন ও মিছিল থেকে এসব দাবি উঠে আসে। বিশ্ববিদ্যালয়টির ফিল্ম ও মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগ এবং স্ট্যামফোর্ড ফিল্ম স্টুডেন্ট সিনে ফোরামের উদ্যাগে এই কর্মসূচি পালিত হয়।

কর্মসূচিতে তুলে ধরা চার দফা হল- আটক দুই শিক্ষার্থীর মুক্তি, মেজর (অবসরপ্রাপ্ত) সিনহা মো. রাশেদ খানের হত্যার ঘটনার সুষ্ঠু বিচার, দুই শিক্ষার্থীকে মামলা থেকে অব্যাহতি, দুই শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারকে সামাজিকভাবে নিরাপত্তা প্রদান।

শিক্ষার্থীরা বলেন, সিফাত-শিপ্রার বিরুদ্ধে পুলিশ যেসব অভিযোগ তুলেছে তা মিথ্যা ও সাজানো গল্প। তাদের ফাঁসানো হয়েছে। তারা সেখানে একটা তথ্যচিত্র বানানোর জন্য গিয়েছিল। এই প্রজেক্টে শিপ্রা পরিচালক ও সিফাত সিনেমাটোগ্রাফার হিসেবে ছিলেন। বর্তমানে আমরা তাদের জীবননাশের আশঙ্কা করছি।