ভারত থেকে দর্শনা এলো ১৮ রেলকোচ

ভারত থেকে দর্শনা এলো ১৮ রেলকোচ

মাহমুদ হাসান রনি,চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট সময় : ১১:০৯:৫৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬ ২২ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশ রেলওয়েতে চুক্তির আওতায় ভারত থেকে আমদানিকৃত প্রথম চালানের ১৮টি লিংক হফম্যান বুশ (LHB) ব্রডগেজ রেলকোচ দর্শনা হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। এর মাধ্যমে দেশের দূরপাল্লার ট্রেনের কোচ বৃদ্ধির পাশাপাশি যাত্রী সেবার মান আরএ বৃদ্ধি পাবে। রেল কতৃপক্ষ বলেন, ​বাংলাদেশ রেলওয়ের চাহিদা ও আধুনিক পরিচালনব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই কোচগুলো বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে। ভারতের রেল ইন্ডিয়া টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক সার্ভিসেস লিমিটেড (রাইটস)—এর সঙ্গে বাংলাদেশ রেলওয়ের সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশকে মোট ২০০টি এলএইচবি ব্রডগেজ রেলকোচ সরবরাহ করার কথা রয়েছে। তারই অংশ হিসেবে প্রথম চালানের এই ১৮টি কোচ এসে পৌঁছাচ্ছে।
​এর আগে ১২ অক্টোবর ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের কাপুরথালা রেল কোচ কারখানা থেকে এই প্রথম রেকটি যাত্রা শুরু করে। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে কোচগুলো পশ্চিমবঙ্গের রানাঘাট রেলস্টেশন হয়ে পশ্চিমবঙ্গের গেদে চেকপোস্ট পার হয়ে দর্শনা আন্তর্জাতিক রেলওয়ে জংশন দিয়ে এগুলো বাংলাদেশে প্রবেশ করে।
​দর্শনা আন্তর্জাতিক রেলওয়ে স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, রানাঘাট থেকে রওয়ানা হয়ে দুপুরে কোচগুলো দর্শনা জয়নগর সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। দর্শনা স্টেশনে পৌঁছানোর পর দ্রুতগতিতে কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স, প্রাথমিক পরিদর্শন এবং আনুষঙ্গিক দাপ্তরিক সব প্রাতিষ্ঠানিক কাজ সম্পন্ন করা হয়।
​নিরাপত্তা ও দাপ্তরিক আনুষ্ঠানিকতা শেষে কোচগুলোর চূড়ান্ত গন্তব্য নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা রওনা হয়। সেখানে প্রাথমিক সংযোগ, কার্যক্ষমতা পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রক্রিয়াকরণ শেষে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কোচগুলোকে যাত্রীবাহী ট্রেনের বহরে যুক্ত করা হবে বলে জানা গেছে।
​বাংলাদেশ রেলওয়ের চাহিদা অনুযায়ী বিশেষভাবে ডিজাইন করা এই প্রথম রেকে মোট ১৮টি কোচ রয়েছে।​শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত শয্যাযান ও সাধারণ এসি কোচ: ৩টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত শয্যাযান (AC Sleeper/WEC) এবং ২টি সাধারণ এসি কোচ (WJC)। ৩টি আধুনিক শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত চেয়ার কোচ (WJCC)। ১১টি সাধারণ চেয়ার কোচ (WEC category)। ​ট্রেন চলাকালীন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য থাকছে ২টি জেনারেটর কারসহ পাওয়ার কার (WJPCLR)।
​
​রেল সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এলএইচবি (LHB) প্রযুক্তির কোচগুলো ঐতিহ্যবাহী প্রচলিত কোচগুলোর তুলনায় অনেক বেশি আধুনিক, নিরাপদ ও আরামদায়ক। জার্মানির প্রযুক্তিতে তৈরি এসব কোচ ওজনে হালকা হওয়ায় অধিক গতিতে চলতে সক্ষম। এছাড়া দুর্ঘটনাপ্রবণ সময়ে কোচগুলো একে অপরের ওপর উঠে যাওয়ার ঝুঁকি কম থাকায় এগুলো অধিক নিরাপদ হিসেবে স্বীকৃত।

​নতুন এসব অত্যাধুনিক কোচ বহরে যুক্ত হওয়ায় রেলওয়ের দীর্ঘদিনের আসন সংকট অনেকাংশে দূর হবে। বিশেষ করে পশ্চিমাঞ্চলের দূরপাল্লার রুটে যাত্রীদের ভ্রমণ আরও আরামদায়ক, স্বস্তিদায়ক ও নিরাপদ হবে বলে আশা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।

​দর্শনা আন্তর্জাতিক রেলস্টেশনের স্টেশন ম্যানেজার মামুনর রশিদ এবং সহকারী স্টেশন ম্যানেজার তরিকুল ইসলাম কোচগুলো গ্রহণ করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ভারত থেকে দর্শনা এলো ১৮ রেলকোচ

ভারত থেকে দর্শনা এলো ১৮ রেলকোচ

আপডেট সময় : ১১:০৯:৫৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশ রেলওয়েতে চুক্তির আওতায় ভারত থেকে আমদানিকৃত প্রথম চালানের ১৮টি লিংক হফম্যান বুশ (LHB) ব্রডগেজ রেলকোচ দর্শনা হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। এর মাধ্যমে দেশের দূরপাল্লার ট্রেনের কোচ বৃদ্ধির পাশাপাশি যাত্রী সেবার মান আরএ বৃদ্ধি পাবে। রেল কতৃপক্ষ বলেন, ​বাংলাদেশ রেলওয়ের চাহিদা ও আধুনিক পরিচালনব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই কোচগুলো বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে। ভারতের রেল ইন্ডিয়া টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক সার্ভিসেস লিমিটেড (রাইটস)—এর সঙ্গে বাংলাদেশ রেলওয়ের সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশকে মোট ২০০টি এলএইচবি ব্রডগেজ রেলকোচ সরবরাহ করার কথা রয়েছে। তারই অংশ হিসেবে প্রথম চালানের এই ১৮টি কোচ এসে পৌঁছাচ্ছে।
​এর আগে ১২ অক্টোবর ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের কাপুরথালা রেল কোচ কারখানা থেকে এই প্রথম রেকটি যাত্রা শুরু করে। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে কোচগুলো পশ্চিমবঙ্গের রানাঘাট রেলস্টেশন হয়ে পশ্চিমবঙ্গের গেদে চেকপোস্ট পার হয়ে দর্শনা আন্তর্জাতিক রেলওয়ে জংশন দিয়ে এগুলো বাংলাদেশে প্রবেশ করে।
​দর্শনা আন্তর্জাতিক রেলওয়ে স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, রানাঘাট থেকে রওয়ানা হয়ে দুপুরে কোচগুলো দর্শনা জয়নগর সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। দর্শনা স্টেশনে পৌঁছানোর পর দ্রুতগতিতে কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স, প্রাথমিক পরিদর্শন এবং আনুষঙ্গিক দাপ্তরিক সব প্রাতিষ্ঠানিক কাজ সম্পন্ন করা হয়।
​নিরাপত্তা ও দাপ্তরিক আনুষ্ঠানিকতা শেষে কোচগুলোর চূড়ান্ত গন্তব্য নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা রওনা হয়। সেখানে প্রাথমিক সংযোগ, কার্যক্ষমতা পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রক্রিয়াকরণ শেষে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কোচগুলোকে যাত্রীবাহী ট্রেনের বহরে যুক্ত করা হবে বলে জানা গেছে।
​বাংলাদেশ রেলওয়ের চাহিদা অনুযায়ী বিশেষভাবে ডিজাইন করা এই প্রথম রেকে মোট ১৮টি কোচ রয়েছে।​শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত শয্যাযান ও সাধারণ এসি কোচ: ৩টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত শয্যাযান (AC Sleeper/WEC) এবং ২টি সাধারণ এসি কোচ (WJC)। ৩টি আধুনিক শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত চেয়ার কোচ (WJCC)। ১১টি সাধারণ চেয়ার কোচ (WEC category)। ​ট্রেন চলাকালীন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য থাকছে ২টি জেনারেটর কারসহ পাওয়ার কার (WJPCLR)।
​
​রেল সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এলএইচবি (LHB) প্রযুক্তির কোচগুলো ঐতিহ্যবাহী প্রচলিত কোচগুলোর তুলনায় অনেক বেশি আধুনিক, নিরাপদ ও আরামদায়ক। জার্মানির প্রযুক্তিতে তৈরি এসব কোচ ওজনে হালকা হওয়ায় অধিক গতিতে চলতে সক্ষম। এছাড়া দুর্ঘটনাপ্রবণ সময়ে কোচগুলো একে অপরের ওপর উঠে যাওয়ার ঝুঁকি কম থাকায় এগুলো অধিক নিরাপদ হিসেবে স্বীকৃত।

​নতুন এসব অত্যাধুনিক কোচ বহরে যুক্ত হওয়ায় রেলওয়ের দীর্ঘদিনের আসন সংকট অনেকাংশে দূর হবে। বিশেষ করে পশ্চিমাঞ্চলের দূরপাল্লার রুটে যাত্রীদের ভ্রমণ আরও আরামদায়ক, স্বস্তিদায়ক ও নিরাপদ হবে বলে আশা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।

​দর্শনা আন্তর্জাতিক রেলস্টেশনের স্টেশন ম্যানেজার মামুনর রশিদ এবং সহকারী স্টেশন ম্যানেজার তরিকুল ইসলাম কোচগুলো গ্রহণ করেন।