সংবাদ শিরোনাম ::
দামুড়হুদায় ১৫শ বস্তা সার জব্দ, অবৈধ পন্থায় মজুদ, গোডাউন সিলগালা পিরোজপুরে মন্দিরের ভূমিতে জামায়াত নেতার ধান চাষ! দখলের অভিযোগ মিথ্যা ডায়েরির প্রতিবাদ: নিরপেক্ষ তদন্তের দাবী গ্রামবাসীর ঘোড়াঘাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিশেষজ্ঞ নেই ৩ মাসে ১৮৮ কি স্বাভাবিক প্রসব বন্ধ সিজারিয়ান রাজনীতি ও সমাজসেবায় দীর্ঘ পথচলা, জনসেবার প্রত্যয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থী পারভেজ মৃধা। বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ, ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা উজিরপুরে যুবদল কর্মী হত্যাকান্ডের ঘটনায় ৯ জন গ্রেপ্তার বিরামপুরের বিনাইল ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার প্রত্যাশা সাবদার হোসেনের, চাইলেন দোয়া ও সমর্থন দর্শনা ইমিগ্রেশনে ভারতে যাওয়ার পথে ছাত্রলীগ নেতা আটক জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে পুলিশের ওপর হামলা, গোপালগঞ্জে আহত ২

রোগীর নামে ওষুধ তুলে বিক্রির অভিযোগ, নারী আটক

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:১২:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মার্চ ২০২৪ ৫৫ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আজকের ক্রাইম ডেক্স : ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁদপুর সরকারি জেনারেল (সদর) হাসপাতালে নামে বেনামে রোগীর নাম দিয়ে টিকেট কেটে ওষুধ নিয়ে তা বিক্রি এবং চিকিৎসকদের কক্ষে ঢুকে আপত্তিকর আচরণ করায় নাজমা বেগম (৪৫) নামে এক নারীকে আটক করা হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুরে হাসপাতালের ২০৭ নম্বর কক্ষ থেকে আনসার সদস্যরা তাকে আটক করে চাঁদপুর সদর মডেল থানা পুলিশে সোপর্দ করে।

জানা যায়, ওই নারী শহরের চেয়ারম্যানঘাট এলাকার বাসিন্দা। একসময় তিনি আইনজীবীর সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। বর্তমানে তিনি সদর মডেল থানা, সাব রেজিস্ট্রি অফিস ও সরকারি হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে প্রতারণা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের আনসার (পিসি) সুরুজ্জামান বলেন, হাসপাতালের ২১৫ নম্বর কক্ষে মেডিকেল কর্মকর্তা আনজুম আরা ফেন্সি ও ২০৭ নম্বর কক্ষে মেডিকেল কর্মকর্তা নূরুন্নাহার রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন। ওই সময় সিরিয়াল ভেঙে নাজমা বেগম তাদের কক্ষে ঢুকে নির্দিষ্ট কয়েকটি ওষুধের নাম লিখে দেওয়ার জন্য চাপ দেন। চিকিৎসক ওষুধের নাম লিখতে রাজি না হওয়ায় নাজমা বেগম তার সঙ্গে অশালীন ও আপত্তিকর আচরণ করেন।

পরে হাসপাতালের স্টাফ ও আনসার সদস্যরা এগিয়ে এলে তাদেরও তিনি গালমন্দ করেন। এরপর তাকে চাঁদপুর সদর মডেল থানা পুলিশ ও আনসারদের সহায়তায় আটক করা হয়। এ সময় ওই নারীর কাছ থেকে নাজমা, সালমা, সালেহাসহ বিভিন্ন নামের একাধিক হাসপাতালের টিকেট ও ওষুধ পাওয়া যায়।

সদর হাসপাতালের একাধিক কর্মচারী জানান, বিভিন্ন সময়ে হাসপাতালে চিকিৎসকদের কক্ষে ঢুকে কখনো নাজমা, কখনো সালমাসহ বিভিন্ন পরিচয় দেয়। হাসপাতাল থেকে বিভিন্ন নামে ওষুধ নিয়ে তা অন্যখানে বিক্রি করেন। রোগীদের কাছ থেকে কৌশলে টাকা- পয়সা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও আছে তার বিরুদ্ধে।

চাঁদপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকারিয়া হোসেন জানান, ভ্রাম্যমাণ আদালতে নাজমা বেগম নামে ওই নারীকে উপস্থিত করা হয়। তার সঙ্গে কথা বলে মনে হয়েছে মানসিক সমস্যা আছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো ভিডিও ফুটেজ দেখাতে পারেনি। যে কারণে কোনো ধরনের আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বলেছি, যদি পরবর্তীতে ওই নারী হাসপাতালের কার্যক্রমে কোনো ধরনের বাধা প্রদান করে তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

রোগীর নামে ওষুধ তুলে বিক্রির অভিযোগ, নারী আটক

আপডেট সময় : ১০:১২:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মার্চ ২০২৪

আজকের ক্রাইম ডেক্স : ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁদপুর সরকারি জেনারেল (সদর) হাসপাতালে নামে বেনামে রোগীর নাম দিয়ে টিকেট কেটে ওষুধ নিয়ে তা বিক্রি এবং চিকিৎসকদের কক্ষে ঢুকে আপত্তিকর আচরণ করায় নাজমা বেগম (৪৫) নামে এক নারীকে আটক করা হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুরে হাসপাতালের ২০৭ নম্বর কক্ষ থেকে আনসার সদস্যরা তাকে আটক করে চাঁদপুর সদর মডেল থানা পুলিশে সোপর্দ করে।

জানা যায়, ওই নারী শহরের চেয়ারম্যানঘাট এলাকার বাসিন্দা। একসময় তিনি আইনজীবীর সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। বর্তমানে তিনি সদর মডেল থানা, সাব রেজিস্ট্রি অফিস ও সরকারি হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে প্রতারণা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের আনসার (পিসি) সুরুজ্জামান বলেন, হাসপাতালের ২১৫ নম্বর কক্ষে মেডিকেল কর্মকর্তা আনজুম আরা ফেন্সি ও ২০৭ নম্বর কক্ষে মেডিকেল কর্মকর্তা নূরুন্নাহার রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন। ওই সময় সিরিয়াল ভেঙে নাজমা বেগম তাদের কক্ষে ঢুকে নির্দিষ্ট কয়েকটি ওষুধের নাম লিখে দেওয়ার জন্য চাপ দেন। চিকিৎসক ওষুধের নাম লিখতে রাজি না হওয়ায় নাজমা বেগম তার সঙ্গে অশালীন ও আপত্তিকর আচরণ করেন।

পরে হাসপাতালের স্টাফ ও আনসার সদস্যরা এগিয়ে এলে তাদেরও তিনি গালমন্দ করেন। এরপর তাকে চাঁদপুর সদর মডেল থানা পুলিশ ও আনসারদের সহায়তায় আটক করা হয়। এ সময় ওই নারীর কাছ থেকে নাজমা, সালমা, সালেহাসহ বিভিন্ন নামের একাধিক হাসপাতালের টিকেট ও ওষুধ পাওয়া যায়।

সদর হাসপাতালের একাধিক কর্মচারী জানান, বিভিন্ন সময়ে হাসপাতালে চিকিৎসকদের কক্ষে ঢুকে কখনো নাজমা, কখনো সালমাসহ বিভিন্ন পরিচয় দেয়। হাসপাতাল থেকে বিভিন্ন নামে ওষুধ নিয়ে তা অন্যখানে বিক্রি করেন। রোগীদের কাছ থেকে কৌশলে টাকা- পয়সা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও আছে তার বিরুদ্ধে।

চাঁদপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকারিয়া হোসেন জানান, ভ্রাম্যমাণ আদালতে নাজমা বেগম নামে ওই নারীকে উপস্থিত করা হয়। তার সঙ্গে কথা বলে মনে হয়েছে মানসিক সমস্যা আছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো ভিডিও ফুটেজ দেখাতে পারেনি। যে কারণে কোনো ধরনের আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বলেছি, যদি পরবর্তীতে ওই নারী হাসপাতালের কার্যক্রমে কোনো ধরনের বাধা প্রদান করে তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।