সংবাদ শিরোনাম ::
ঝালকাঠিতে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত ঝালকাঠিতে গাবখান নদীর ভাঙন রোধের দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন নতুন কমিটির উদ্যোগে বদলে যাচ্ছে মিরগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড জামে মসজিদের চিত্র রাজাপুরে মাদক ও দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেফতার ১, ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৬ মাসের কারাদণ্ড বানারীপাড়ায় মাদকের বিরুদ্ধে মানববন্ধন,মাদক কারবারিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি কাঠালিয়ায় মেয়াদোত্তীর্ণ চিকিৎসকের অনুসন্ধানের জের:সাংবাদিকদের আটকে রেখে চাঁদা দাবি, নেপথ্যে ছাত্রলীগ নেতা অপু সুগন্ধার ভাঙনে অস্তিত্ব সংকটে দক্ষিণ ভূতেরদিয়া, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাঁচাতে মানববন্ধনে শত শত শিক্ষার্থী। বানারীপাড়ায় চিকিৎসকের বিরুদ্ধে সাংবাদিককে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে মামলা ডাসার উপজেলা বিএনপি নেতা সালাম খান সরকারি গাছ কাটতে গিয়ে অবরুদ্ধ ঝালকাঠিতে শতবর্ষী গাছ কাটার ৬ মাসেও নেই আইনি ব্যবস্থা, এলাকাবাসীর ক্ষোভ

সুগন্ধার ভাঙনে অস্তিত্ব সংকটে দক্ষিণ ভূতেরদিয়া, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাঁচাতে মানববন্ধনে শত শত শিক্ষার্থী।

সুগন্ধার ভাঙনে অস্তিত্ব সংকটে দক্ষিণ ভূতেরদিয়া, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাঁচাতে মানববন্ধনে শত শত শিক্ষার্থী।

বাবুগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৬:২৩:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬ ৩৮ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বরিশালের বাবুগঞ্জে সুগন্ধা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে কেদারপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ভূতেরদিয়া গ্রাম।

ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বহু বসতভিটা। এবার ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সড়ক, সেতু, মসজিদ-মাদ্রাসা ও বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। এসব রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে ভাঙনকবলিত এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে কেদারপুর সোনার বাংলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ, আছিয়া ওয়াজেদ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ১০৩ নম্বর দক্ষিণ ভূতেরদিয়া আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী-শিক্ষক, ভাঙনকবলিত পরিবারের সদস্যসহ কয়েক শতাধিক মানুষ অংশ নেন।

স্থানীয়রা জানান, চলতি বর্ষা মৌসুমে সুগন্ধা নদীর তীব্র স্রোতে দক্ষিণ ভূতেরদিয়া এলাকায় ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ইতোমধ্যে গ্রামের একটি বড় অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। নদীতীরবর্তী কয়েক শত পরিবার এখন চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বসতভিটা হারানোর পর এবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীতে বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় দিন কাটছে তাঁদের।

মানববন্ধনে কেদারপুর সোনার বাংলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোসা. মারিয়া আক্তার ইতি বলেন, আমাদের ঘরবাড়ি ইতোমধ্যে ভাঙনে নদীতে চলে গেছে। এখন আমাদের স্কুলটিও ভাঙনের ঝুঁকিতে। এমপি স্যারের কাছে অনুরোধ, আমাদের স্কুলটি সুগন্ধার ভাঙন থেকে রক্ষা করুন।

কেদারপুর সোনার বাংলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ মো. মঞ্জুর রহমান টুটুল বিশ্বাস বলেন, বর্ষা এলেই সুগন্ধা নদীর প্রবল স্রোতে এ এলাকায় ভাঙন তীব্র হয়। স্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিবছরই মানুষ বসতভিটা হারাচ্ছেন। এবার ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। দ্রুত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মানুষের বসতভিটা রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ভাঙন যেভাবে এগিয়ে আসছে, তাতে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে একের পর এক বসতভিটা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীগর্ভে চলে যাবে। এমনকি একসময় আপনজনকে দাফন করার জায়গাটুকুও থাকবে না। তাঁরা জরুরি ভিত্তিতে নদীতীর সংরক্ষণকাজ শুরু এবং স্থায়ীভাবে নদীভাঙন প্রতিরোধে প্রকল্প গ্রহণের দাবি জানান।

মানববন্ধনে স্থানীয় সমাজসেবক মো. হাসানুজ্জামান খোকন, কেদারপুর সোনার বাংলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. শাহজাহান, আছিয়া ওয়াজেদ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. ফোরকান হোসেন, শিক্ষক মো. কামাল হোসেন ও সাবেক ইউপি সদস্য মো. রোকোনুজ্জামানসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

ভাঙন প্রতিরোধের বিষয়ে বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জাবেদ ইকবাল বলেন, প্রতি বর্ষা মৌসুমে জেলার বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করে। গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও স্থাপনা রক্ষায় পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয়দের দাবি, শুধু আশ্বাসে নয়, সুগন্ধা নদীর ভাঙন থেকে দক্ষিণ ভূতেরদিয়া গ্রামের বসতভিটা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় দ্রুত দৃশ্যমান ও স্থায়ী পদক্ষেপ নিতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

সুগন্ধার ভাঙনে অস্তিত্ব সংকটে দক্ষিণ ভূতেরদিয়া, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাঁচাতে মানববন্ধনে শত শত শিক্ষার্থী।

সুগন্ধার ভাঙনে অস্তিত্ব সংকটে দক্ষিণ ভূতেরদিয়া, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাঁচাতে মানববন্ধনে শত শত শিক্ষার্থী।

আপডেট সময় : ০৬:২৩:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

বরিশালের বাবুগঞ্জে সুগন্ধা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে কেদারপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ভূতেরদিয়া গ্রাম।

ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বহু বসতভিটা। এবার ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সড়ক, সেতু, মসজিদ-মাদ্রাসা ও বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। এসব রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে ভাঙনকবলিত এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে কেদারপুর সোনার বাংলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ, আছিয়া ওয়াজেদ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ১০৩ নম্বর দক্ষিণ ভূতেরদিয়া আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী-শিক্ষক, ভাঙনকবলিত পরিবারের সদস্যসহ কয়েক শতাধিক মানুষ অংশ নেন।

স্থানীয়রা জানান, চলতি বর্ষা মৌসুমে সুগন্ধা নদীর তীব্র স্রোতে দক্ষিণ ভূতেরদিয়া এলাকায় ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ইতোমধ্যে গ্রামের একটি বড় অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। নদীতীরবর্তী কয়েক শত পরিবার এখন চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বসতভিটা হারানোর পর এবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীতে বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় দিন কাটছে তাঁদের।

মানববন্ধনে কেদারপুর সোনার বাংলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোসা. মারিয়া আক্তার ইতি বলেন, আমাদের ঘরবাড়ি ইতোমধ্যে ভাঙনে নদীতে চলে গেছে। এখন আমাদের স্কুলটিও ভাঙনের ঝুঁকিতে। এমপি স্যারের কাছে অনুরোধ, আমাদের স্কুলটি সুগন্ধার ভাঙন থেকে রক্ষা করুন।

কেদারপুর সোনার বাংলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ মো. মঞ্জুর রহমান টুটুল বিশ্বাস বলেন, বর্ষা এলেই সুগন্ধা নদীর প্রবল স্রোতে এ এলাকায় ভাঙন তীব্র হয়। স্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিবছরই মানুষ বসতভিটা হারাচ্ছেন। এবার ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। দ্রুত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মানুষের বসতভিটা রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ভাঙন যেভাবে এগিয়ে আসছে, তাতে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে একের পর এক বসতভিটা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীগর্ভে চলে যাবে। এমনকি একসময় আপনজনকে দাফন করার জায়গাটুকুও থাকবে না। তাঁরা জরুরি ভিত্তিতে নদীতীর সংরক্ষণকাজ শুরু এবং স্থায়ীভাবে নদীভাঙন প্রতিরোধে প্রকল্প গ্রহণের দাবি জানান।

মানববন্ধনে স্থানীয় সমাজসেবক মো. হাসানুজ্জামান খোকন, কেদারপুর সোনার বাংলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. শাহজাহান, আছিয়া ওয়াজেদ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. ফোরকান হোসেন, শিক্ষক মো. কামাল হোসেন ও সাবেক ইউপি সদস্য মো. রোকোনুজ্জামানসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

ভাঙন প্রতিরোধের বিষয়ে বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জাবেদ ইকবাল বলেন, প্রতি বর্ষা মৌসুমে জেলার বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করে। গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও স্থাপনা রক্ষায় পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয়দের দাবি, শুধু আশ্বাসে নয়, সুগন্ধা নদীর ভাঙন থেকে দক্ষিণ ভূতেরদিয়া গ্রামের বসতভিটা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় দ্রুত দৃশ্যমান ও স্থায়ী পদক্ষেপ নিতে হবে।