সংবাদ শিরোনাম ::
ভান্ডারিয়ায় স্বেচ্ছাসেবক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে সম্মাননা স্মারক প্রদান অনুষ্ঠিত হয়েছে বাবুগঞ্জে ‘৭ নং ওয়ার্ড একতা যুবসমাজ’-এর আত্মপ্রকাশ, সামাজিক উন্নয়নে নানা কর্মসূচির ঘোষণা বরিশালে মহসিন মার্কেটে একতরফা’ কমিটি নিয়ে তোলপাড়, সমঝোতার নির্দেশ এমপি সরোয়ারের সুন্দরবনে উত্তাল সাগর, ইলিশের সংকট ও জেলেদের দীর্ঘশ্বাস বাবুগঞ্জে এক গাছেই ১০ জাতের আম দামুড়হুদায় বিলে নিখোঁজ স্কুলছাত্রের মরদেহ উদ্ধার, এলাকায় শোকের ছায়া বাবুগঞ্জে প্রবল বর্ষণে সড়কে ধস, যান চলাচলে বিঘ্ন। যে কারণে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের বার্থী এলাকা মৃত্যুফাঁদে পরিনত ১ মাসের মাথায় উঠে যাচ্ছে নতুন পিচ: ঝালকাঠি পৌরসভায় নিম্নমানের কাজের অভিযোগ ​ সিলেট বিভাগের ৬ নদীর পানি বিপদসীমা ছাড়িয়েছে, প্লাবিত হচ্ছে নিন্ম এলাকা

বরিশালে নিজের মাথা নিজেই ফাটালেন আসামি এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ৬ পুলিশ সদস্য আহত

আজকের ক্রাইম ডেক্স
  • আপডেট সময় : ০৬:২৫:০৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬ ২৪ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় হাজতখানায় নিজের মাথা নিজেই ফাটালেন মাদক ও চুরি মামলার এক আসামি। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের ওপর হামলা ও থানা ভাঙচুর করেছে আসামির পক্ষের বিক্ষুব্ধ লোকজন। হামলায় ডিউটি অফিসারসহ ৬ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে আগৈলঝাড়া থানায় এ নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে মৃদু লাঠিচার্জ করতে হয়।

আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ খান জানান, একাধিক মামলার আসামি রিয়াজ ফকিরকে বুধবার (৮ জুলাই) রাতে উপজেলার আগৈলঝাড়া ফিলিং স্টেশনের সামনে থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। থানায় আনার পর তাকে হাজতখানায় রাখা হয়। সেখানে রিয়াজ ক্ষুব্ধ হয়ে নিজের মাথায় নিজে আঘাত করে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

পরে সেখানকার চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে পাঠানো হয়। শেবাচিম হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তিনি বর্তমানে শঙ্কামুক্ত।

এদিকে, রিয়াজকে গ্রেপ্তারের পর তার আহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার বিকেলে শতাধিক নারী-পুরুষ আগৈলঝাড়া থানায় জড়ো হয়।

একপর্যায়ে তারা উত্তেজিত হয়ে থানায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ভাঙচুর শুরু করে। আকস্মিক এই হামলায় ডিউটি অফিসারসহ ৬ পুলিশ সদস্য আহত হন এবং থানায় ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ মৃদু লাঠিচার্জ করে বিক্ষুব্ধ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

থানায় হামলার এই ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। প্রকাশ্য দিবালোকে থানায় ঢুকে পুলিশের ওপর এমন হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা জানান, অপরাধী যেই হোক না কেন, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। এভাবে খোদ থানায় হামলা চালানো চরম ধৃষ্টতা।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, থানা ভাঙচুর ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

বরিশালে নিজের মাথা নিজেই ফাটালেন আসামি এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ৬ পুলিশ সদস্য আহত

আপডেট সময় : ০৬:২৫:০৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় হাজতখানায় নিজের মাথা নিজেই ফাটালেন মাদক ও চুরি মামলার এক আসামি। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের ওপর হামলা ও থানা ভাঙচুর করেছে আসামির পক্ষের বিক্ষুব্ধ লোকজন। হামলায় ডিউটি অফিসারসহ ৬ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে আগৈলঝাড়া থানায় এ নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে মৃদু লাঠিচার্জ করতে হয়।

আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ খান জানান, একাধিক মামলার আসামি রিয়াজ ফকিরকে বুধবার (৮ জুলাই) রাতে উপজেলার আগৈলঝাড়া ফিলিং স্টেশনের সামনে থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। থানায় আনার পর তাকে হাজতখানায় রাখা হয়। সেখানে রিয়াজ ক্ষুব্ধ হয়ে নিজের মাথায় নিজে আঘাত করে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

পরে সেখানকার চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে পাঠানো হয়। শেবাচিম হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তিনি বর্তমানে শঙ্কামুক্ত।

এদিকে, রিয়াজকে গ্রেপ্তারের পর তার আহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার বিকেলে শতাধিক নারী-পুরুষ আগৈলঝাড়া থানায় জড়ো হয়।

একপর্যায়ে তারা উত্তেজিত হয়ে থানায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ভাঙচুর শুরু করে। আকস্মিক এই হামলায় ডিউটি অফিসারসহ ৬ পুলিশ সদস্য আহত হন এবং থানায় ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ মৃদু লাঠিচার্জ করে বিক্ষুব্ধ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

থানায় হামলার এই ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। প্রকাশ্য দিবালোকে থানায় ঢুকে পুলিশের ওপর এমন হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা জানান, অপরাধী যেই হোক না কেন, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। এভাবে খোদ থানায় হামলা চালানো চরম ধৃষ্টতা।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, থানা ভাঙচুর ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।